পল্লী কবি জসীমউদ্দিন প্রকৃতি ও মানুষের কাছাকাছি কাটিয়েছেন জীবনের অনেকটা সময়।
কাছ থেকে দেখেছেন জীবন, জীবনের গুরুত্ববহ অর্থ। হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করেছেন মানুষের অভাববোধ, ক্ষুধার তাড়না। এজন্যই বোধহয় তিনি মানুষের কবি।
লিখেছেন চমৎকার সব কাব্যগ্রন্থ। তারমধ্যে উল্লেখ যোগ্য - এক পয়সার বাঁশী।
এক পয়সার বাঁশী কাব্যগ্রন্থে - আসমানী, খোসমানী, গল্পবুড়ো, পূর্ণিমা, মা ও খোকন সহ চমৎকার সব কবিতায় ভরপুর।
লেখক দেখিয়েছেন জীবনের কত রঙ। আসমানীর অভাবের তোরণে ভেসে যাওয়া জীবন।
কতশত আসমানী চোখের সামনে ঘুরঘুর করে, তা আমরা ক'জন ই বা চোখ মেলে দেখতে পাই।
পরবর্তী কবিতা খোসমানী। খোসমানী এক অতি চঞ্চলা কিশোরী, যার রুপ ও সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির সাথে জুড়ে আছে। যার প্রতিটি দিন ই কাটে বেশ হাসি খুশি সুখময় জীবনের রঙে।
আসমানী কবিতার শেষ লাইনে কবি প্রশ্ন করেছিলেন - আসমানী আর খোসমানীর মধ্যে পাঠক কাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেবে!
প্রসঙ্গক্রমে - ১৯১৩ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈষাণ গোপালপুর ইউনিয়নের ভানুরজঙ্গা গ্রামে আসমানীর জন্ম। আরমান মল্লিকের মেয়ে আসমানীর মাত্র ৯ বছর বয়সে বিয়ে হয় পাশের রসুলপুর গ্রামের মমিন মণ্ডলের ছেলে হাসাম মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি দুই ছেলে ও ছয় মেয়ের জননী।
আসমানীর শ্বশুর মানিকগঞ্জের পীর রহিম উদ্দিনের ভক্ত ছিলেন। রহিম উদ্দিন বেশির ভাগ সময় আসমানীর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। সেখানে জীর্ণ কুটিরে তিনি প্রায়ই মুর্শিদী গানের আসর বসাতেন। আর এই গানের টানে কবি জসীমউদ্দিন আসমানীদের বাড়িতে ছুটে যেতেন। সেখানেই আসমানীর সঙ্গে কবির পরিচয় হয়। সে সময় ওই বাড়ির পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে তিনি কবিতাটি রচনা করেন। কবির রচিত কবিতার পংক্তিগুলো আসমানীকে বাংলাসাহিত্যে অমর করে রেখেছে।