Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
ব্যস , পরিচয় পর্বের পালা আরেকটা প্রহর গড়ানোর পূর্বেই রণে ভঙ্গ দিয়ে অধিকাংশ বাঙালি দুখু মিয়ার সংক্রান্ত দৌড়ে হাঁপিয়ে হাল ছেড়ে কারার ঐ লৌহ কপাটের কড়া খুলে কাঠবিড়ালীর পেয়ারা লিচু নিয়ে খুকুর সাথে খোশমেজাজে দুরন্তপনায় দুর্দান্ত দসি্য ছেলের সাথে সম্পর্কের ইতি ওখানেই।
রোজকার জীবনে নজরুল কে নিয়ে নৈবেদ্য নিবেদনের নজিরবিহীন অঘটনের আলোকপাত চোখে তেমন অবশ্য পড়ে না।একে বাঙালি মায় মুসলিম ; বিতর্কিত জীবনে সঙ্গীনি হিন্দু ধর্মের, সন্তানদের নামেও সম্প্রীতির মেলবন্ধনের বদলে লোকে ধৃষ্টতার দৃষ্টান্ত ভেবে পারতপক্ষে মুখে আনে না তাদের কথা।এহেন লোকের সৃষ্টি সংরক্ষণ সম্প্রচারনের সুচিন্তা বছরান্তে জন্ম মৃত্যু দিবসে দু তিনখানা নাটকে আর এক আধটা আলাপের বৈঠকে দুই কলি গেয়ে গৃহস্থের দায় মোচন হয় আর কি।
দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষা বাঙালীর বাগধারা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাতৃস্নেহের জহর আশীবিষে অশেষে দেওয়ার মতো সাহস শক্তি জোহরা বুকে পদ্মগোখরার জন্য অপত্য নিঃস্বার্থ ভালবাসা জাগানোর অসীম অসম চিন্তা নজরুল বিনে কারই বা হতে পারে!
অগ্নিগিরির আঁচে নূরজাহান আর সবুরের সাথে জিনের বাদশা-চান ভানুর বিচ্ছেদ বিলাসের গহীনগিরি পেরিয়ে কখনো হাসিতে কখনো বা কত না অশ্রুজলে হারিয়ে গেছে কত গল্প চরিত্রের মুখপাত্ররা।
শ্রাবনের ধারায় বা বৈশাখের বিষন্ন দুপুরে শিউলি মালা ভাসিয়ে বিলাসিতা করার মতো খুচরো সময় শখ আমাদের নেই। শুধু জানি কালির দাগ মুছে যায় কিন্তু একফোঁটা জলে যে যন্ত্রনা জিইয়ে রাখে সেতো শুধু যার চোখে চোখ পড়ে সেই জানে।
ভালো থাকুন নজরুল,শেষ জীবনে নিউরোসিফিলিস নিয়ে প্রায়ই নির্বাসনে থেকে জীবন থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই আরবের পথে নবীর নামের জপে বুলবুলিকে বাংলা গজলে খাতার পাতায় রেখে যাওয়ার জন্য এপারে না হোক ওপারে যেন আপনার সৃষ্টির সুঘ্রাণ মৌ মৌ করে চারিদিকে।
চারটে গল্প চার রকম ভালোবাসার। এত সুগন্ধিময়, আদুরে ভালোবাসার গল্প খুব কম পড়েছি। ভিন্ন পরিবেশে ভিন্নভাবে বলা গল্পগুলো একসুরে বেঁধে গেছে প্রীতির জায়গায় এসে– মুখচোরা ছেলেটির নির্ভীক হয়ে উঠা, দস্যি ছোঁড়াটার রাতারাতি চাষা বনে যাওয়া, সন্তানের অকালমৃত্যুতে মায়ের বুভুক্ষু হৃদয়, ভালোবেসে শুধু শিউলি ভাসিয়েই জীবন কাটিয়ে দেওয়া–কেন? ভালোবাসা ছাড়া কিচ্ছু নয়!
তবে ভালোবাসা জিনিসটি কেমন? শুনুন লেখকের কাছে, “ও যেন স্পর্শাতুর কামিনী ফুল, আমি যেন ভীরু ভোরের হাওয়া – যত ভালোবাসা, তত ভয়! ও বুঝি ছুঁলেই ধুলায় ঝরে পড়বে। এ যেন পরির দেশের স্বপ্নমায়া, চোখ চাইলেই স্বপ্ন টুটে যাবে। এ যেন মায়া মৃগ, ধরতে গেলেই হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে!”
এত সুন্দর, তবু বিরহ নামক বেরসিক এক বিচ্ছেদ সবকিছু ছিন্ন করে দেয়। সেটার ধরনই-বা কেমন? “কেউ কারুর মন যাচাই করিনি। কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসার কথাও উদয় হয়নি মনে। একজন অসীম আকাশ – একজন অতল সাগর। কোনো কথা নেই – প্রশ্ন নেই, শুধু এ ওর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। কেউ নিষেধ করলে না, কেউ এসে পথ আগলে দাঁড়াল না! সেও যেন জানে– আমাকে চলে আসতেই হবে, আমিও যেন জানি– আমাকে যেতেই হবে। নদীর স্রোতই যেন সত্য – অসহায় দুই কূল এ ওর পানে তাকিয়ে আছে। অভিলাষ নাই, আছে শুধু অসহায় অশ্রু-চোখে চেয়ে থাকা।”
মূলত কবি হলেও উপন্যাস, গল্প, নাটক- সবক্ষেত্রেই নজরুলের বিচরণ লক্ষণীয়। তিনি তিনটি গল্পগ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো "শিউলিমালা"। এ গল্পগ্রন্থে ৪টি গল্প আছে- পদ্ম গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নিপুরুষ ও শিউলি-মালা।
#পদ্ম_গোখরোঃ গল্পটি পড়ে দুটি জিনিস শিখেছি- ১। কিছু কিছু সময়ে মানুষ লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না। তাতে নিজের পরম আত্মীয়ের ক্ষতি হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। ২। একজন মায়ের জন্যে মাতৃত্বের স্বাদ কতটা আকাঙ্ক্ষিত তা এই গল্পটির মাধ্যমে আবারো বুঝলাম।
#জিনের_বাদশাঃ আপনার যদি খুব মন খারাপ থাকে, তবে এই গল্পটি পড়ুন। নিশ্চিত থাকুন আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। এই গল্পটি নিয়ে আর কিছু না বলি। তাহলে মজা নষ্ট হয়ে যাবে।
#অগ্নিপুরুষঃ "টাক আর টাকা দুটোকেই লুকিয়ে রাখতে হয়, নইলে লোকে বড় নজর দেয়।"
এমনি সূক্ষ্ণ হাসির খোরাক পাবেন "অগ্নিপুরুষ" গল্পে। গল্পের শেষভাগে সবুরের অগ্নিমূর্তিটা চোখের সামনে ভাসছে। তবে নূরজাহানের বাবার তাকে ঘরজামাই বানানোর চিন্তাধারাটা পছন্দ হয়নি।
#শিউলি-মালাঃ প্রেম শুধু স্পর্শ বা একসাথে সময় কাটানো ছাড়াও হতে পারে। যদিও গল্পটিতে আজ্হার ও শিউলির প্রেম পরিণতি লাভ করেনি, তবে নজরুলের ভাষা ব্যবহার ও উপমা প্রয়োগ আমাকে মুগ্ধ করেছে।
সবশেষে বলবো, নজরুলের লেখা কঠিন বলে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা আছে। যদিও কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা নয়, তবে "শিউলি-মালা" গল্পগ্রন্থটি পড়ে তেমন কঠিন লাগেনি। মজা নিয়ে পড়েছি। সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ।
পদ্ম-গোখরো জিনের বাদ্শা অগ্নি-গিরি শিউলি-মালা এ চারটি গল্প নিয়েই শিউলি মালা নামের ৬৪পৃষ্টার একটি ছোট্ট গল্পগ্রন্থ। নজরুলের বিদ্রোহ হাতে এবং কঠিন শব্দের মাঝখানেও যে, এত সহজ-সরল ভাষায় গ্রাম্যীয় জীবনের বৈশিষ্টও রোমাঞ্চকর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে, তা অবশ্যই পড়ার আগে বুঝানো অসাধ্য হয়ে পড়বে। ভাষার ব্যাবহারও উপমার প্রয়োগ দেখে মনে হয়, এ যেন বিদ্রোহী কবিকে নতুন আঙ্গিকে আবিষ্কার করলাম।
শিউলিমালা:- চারটি গল্প নিয়ে একটি অসম্ভব সুন্দর বই।
আমার খুব কষ্ট হয় গল্পের শেষে মিল যদি না থাকে। আপনারা কেন এত সুন্দর গল্প লিখেন যাতে মিল নেই? নজরুল সাহেব আপনি বেঁচে নেই কিন্তু আপনার হৃদয় কি ব্যথিত হয়না নূরজাহান, চানু, শিউলিমালা, জোহরার বেদনা দেখে? কবি, তুমি তো বিশ্ব প্রেমিক। প্রেমের মিলন না হওয়া তোমাকে কি ব্যথা দেয় না। আমি পাঠক কত সহ্য করব এই বেদনা। হৃদয় বলে আমারও একটা বস্তু আছে, কতবার আঘাত সহ্য করবে? একটু হৃদয় ক্ষত জুড়ালে পুনরায় আঘাত করা, কিসের কবি ধর্ম? চোখের জলে লেখা গল্প দিয়ে আমার যে জীবন শেষ হল!
কবির সার্থকতা তো এটিই যে, পাঠককে তিনি এক নজর অন্য দিকে নজর দিতে দেন না। কখনও আমি শিউলিমালার কান্না দেখি, ককখনো নূরজাহানের বক্ষ বিদীর্ণ করা রাজ্যের বেদনা চোখের সামনে দেখি। এত দুঃখে মানুষ কি করে বাঁচে কবি? তুমি তো জবাব দিবে না কিন্তু আমি যে হন্যে হয়ে খুঁজি, কোথায় গেলে তাদের মিলন হবে!
প্রতিটি গল্প অসাধারণ। সংক্ষিপ্ত সার্রমম হল,
১। পদ্ম-গোখরো:- আরিফ এবং জোহরার বিয়ের পর তার দরিদ্র সংসারে আসে ধন রত্নের আবির্ভাব। কিন্তু ধনের সাথে জোহরা পায় তার দুটি সন্তান জাত সাপ পদ্ম-গোখরা। সে তাদের দুধ দেয়, তাদের নিয়ে শুয়ে থাকে আর পরিবারের সবাই ভয়ে তটস্থ। বিভিন্ন ঘটনা পরিবারে ক্রমান্বয়ে ঘটে যাওয়ার ফলে জোহরা ভেঙে পড়ে, আরিফও ভেঙে পড়ে। তবুও পদ্ম-পদ্ম-গোখরা তারা জোহরাকে মায়ের মত ভালোবাসে। একদিন জোহরার বাবা মাফ চাইতে আসলে মেয়ের কাছে আসলে পদ্ম-পদ্ম-গোখরার ছোবলে মারা যায় এবং পদ্ম- -গোখরা তার বাবার লাঠির আঘাতে মারা যায়।
২। জিনের বাদশা:- একজন দুষ্টু ছেলে যে প্রেমে পড়ে চাঁদ বানুর। শত চেষ্টা করেও চাঁদ বানুকে সে পায় না। সে চাঁদ বানুর স্মৃতি নিয়ে যেন পাহাড় হয়ে পড়ে। তার এই পরিবর্তনে সবাই অবাক হয়ে দেখে, কিছু বলে না শুধু আফসোস করে। হায়রে!
৩। অগ্নি-গিরি:- সবুর আর নূরজাহানের অকথিত ভালোবাসার ইতিহাস। সবুরকে গ্রামের সবাই চ্যাতায় সারাদিন ঘরে থাকে বলে। নূরজাহান তা সইতে না পেরে বলে প্রতিবাদ করতে। সে বলে, আপনি কেমন তরো পুরুষ? কিছুই গায়ে লাগে না? সে এই কথায় উজ্জীবিত হয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে, তার হাতে খুন হয় এক বালক। যার কারণে তার সাঁত বছরের জেল হয়।
৪। শিউলিমালা:- এর মতো সুন্দর গল্প নেই। প্রতি চরণ স্বর্ণমুদ্রা। আজহার শিলং গিয়ে প্রেমে পড়েছিল শিউলির। কিন্তু কখনো তাকে বলা হয় নি সে তাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু প্রতি বছর শিউলি ফুটলে খুব যত্ন করে নদীর জলে শিউলি ফুল ভাসিয়ে দেন। সে ককখনো হয়তো পাবে।
"শিউলিমালা" কাজী নজরুল ইসলামের একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে সর্বমোট ৪ টি গল্প রয়েছেঃ পদ্মগোখরা, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।
জিনের বাদশাঃ সাধারণ হাস্যরসাত্মক গল্প। প্রেমিকার বাবার মনজয়ের জন্য জিনের ছদ্মবেশ ধরে কিছু কার্যকলাপ এর উপজীব্য।
বাকি তিনটেই রোমান্টিক ঘরানার। পদ্মগোখরাঃ অনেকটা রূপকথার মত এর গড়ন। স্বর্ণের কলসির নিচে পাওয়া দুটো শাপ এবং তাদের প্রতি গৃহিণীর মাতৃস্নেহ নিয়ে লেখা। পাশাপাশি দারিদ্র্যতার কবলে পড়ে মানুষের জীবন বাচাঁনোর আকুতির দিকটিও কিছুটা ফুটে উঠে।আরেকটা কথা, "পদ্মগোখরা" গল্প অবলম্বনে খান আতাউর রহমান 'সুখ- দুঃখ'(১৯৭১) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
অগ্নিগিরিঃ গৃহশিক্ষক সবুজ কে নিয়ে লেখা। আজকাল নাটক-ফাটকে গৃহশিক্ষকদের যে চরিত্র তুলে ধরা হয়, তা যদি সত্যি হয়, আমার মনে হয় প্রাইভেট টিউটরদের এই গল্পটা পড়া উচিত। অন্তত, চরিত্রগঠনের ব্যাপারে কিছু শিখতে পারবে। (মজা করে বললাম..☺)
শিউলিমালাঃ আমার মতে, এই গ্রন্থের সেরা গল্প। তাই, কিছু বললাম না এটার ব্যাপারে।
এ গ্রন্থের নামগল্প 'শিউলিমালা' বাদে সবগুলো গল্পই গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে এবং সেগুলোর চরিত্রগুলোর কথোপকথনেও সরল আঞ্চলিকতার চিহ্ন মেলে। আর 'শিউলিমালা' গল্পে বেশ আধুনিকতা(বিশেষত কলকাতা কেন্দ্রিক লেখকদের অনুরূপ) দেখতে পেয়েছি। গল্পে ভাষা বিশ্লেষণে বৈচিত্র্যময় শব্দায়ন এবং প্রবাদ আর উপমা ব্যবহারের চলে- নজরুলের স্বকীয়তা চোখে পড়ে। উদাঃ - ছিল ঢেকি হল তুল, কাটতে কাটতে নির্মূল - মানুষ মরে মিঠাতে, পাখি মরে আঠাতে - জীবনে সেই আমার প্রথম আর শেষ হার! আর সেই হারই আমার গলার হার হয়ে রইল। [... আরো অনেক কিছু]
ব্যক্তিগতভাবে, শিউলিমালা ছাড়া অন্য তিনটে গল্প খুবই সাধারণ মানের মনে হয়েছে, তবে শিউলিমালা গল্পটির চরিত্রায়ন এবং সংলাপ খুবই স্বতন্ত্র ছিল এবং পড়ার পড়ে মনে বেদনার দাগ কেটেছে।
বইটা পড়ে অবাক হয়েছি এটা দেখে যে, নজরুলের কবিতাগুলো যেখানে বিদ্রোহ/তীক্ষ্ণভাষার হয়, সেই ধাঁচ গল্পে একেবারেই অনুপস্থিত। মূলত প্রেমপ্রধান(বিয়োগাত্মক) চিত্রই এগুলোতে ফুটে উঠেছে। নজরুলের গল্পের সব নায়করাই শেষে উঠে বেদনাপিয়াসী, দুঃখকে বরণ করে নিয়ে কেমন উদাসীনতার খেয়ালে জীবনকে মাতিয়ে দেয়। যেন জানিয়ে দেয়, এই জীবন সবকিছুর উপরে। কারো জন্যেই জীবন থেকে থাকে না।
" শিউলি-মালা " কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গল্পগ্রন্থ।
শিউলি-মালা এমনই এক গল্প যেখানে লেখক জানিয়েছেন; যাকে চাইলেই পাওয়া যায়, তাকে না পাওয়ার পরিপূর্ণ বেদনার ব্যথা ঠিক যেনো এক ভরদুপুর তবে তা এক জীবন সমান দীর্ঘ। গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, স্নেহ, আবেগের যুগল সম্মেলন।
শিউলিফুল আর আশ্বিন এই যুগ্ম ভাবাবেশ বেশ পরিপাটি হয়ে গল্পটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
আর লেখক। তিনি তো স্বয়ং কাজী নজরুল। বইটি পড়তে পড়তে লেখকের বিদ্রোহী কবি খেতাব চাপা পড়েছে দাবা খেলার চালে। সর্বক্ষেত্রে লেখকের জ্ঞানের প্রসার এই ছোটখানি গল্পে ভীষণ ভাবে পরিলক্ষিত হয়।
শিউলি ফুল, যা তার শুভ্রতা দিয়ে সকলের নজর কাড়ে, যার মাতাল করা ঘ্রাণে চাঁদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। শিউলির মালা জড়িয়ে থাকে যে মুঠো। অথচ, সে শিউলি আশ্বিনের শেষে ঝরে যায়...! যে সবটুকু থেকেও কারোর পুরোটা হয়না। গল্পের নামকরণেয় সার্থকতা আছে। .. সবশেষে বলি, বইটা পড়বেন বলে আশা রাখছি।
'রিক্তের বেদন' পড়ে বুঝেছিলাম তাঁর কবিতাই শুধু না, গল্প লেখার হাতও পাকা। 'শিউলিমালার' গল্প গুলো 'রিক্তের বেদন' থেকে অনেক আলাদা। বিশেষত লেখার ধরন। চলিতরীতির ব্যবহার ও আঞ্চলিকতার ব্যবহার এই গ্রন্থের আগের গল্পগুলোতে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। ছোট ছোট চারটি গল্প রয়েছে এই বইয়ে। আমার ছোট পরিসরের গল্প বেশ ভাল লাগে যদি লেখক ভাল করে পরিবেশন করেন। নজরুল সেই হিসেবে দশে দশই পাবেন আমার কাছে।
আহহহা! হৃদয় দিয়ে পড়লাম৷ অনেকদিন পর গল্প পড়ে অন্য জগতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম, আবেশিত হচ্ছিলাম। মনে পড়লো আমি তো কাজী নজরুল ইসলামের লেখা পড়ছি। হৃদয়ের গহীনতম স্থানে আবেগ অনুভূত হয়েছে অগ্নিগিরি, শিউলিমালা গল্প পড়ে৷ কি অসধারণ অনুভুতি বুঝে উঠতে পারছি না৷
*আজকের সন্ধ্যাটা আশ্চর্য ভালো মানুষ সেজেছে তো।*
*চোখে যার চোখ পড়ে তার যন্ত্রণা বুঝি অনুভূতির বাইরে।* ❤️
দ্বিতীয়বার পড়লাম। প্রথমবার পড়েছিলাম সেই 2020 এর লকডাউনে। যতবারই পড়ি গল্পগুলো মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। 'শিউলি-মালা' গ্রন্থটিতে চারটি গল্প রয়েছে__ ১.পদ্মগোখরা ২.জিনের বাদশা ৩.অগ্নি-গিরি ৪.শিউলি-মালা সবগুলোই অমায়িক সুন্দর। তার মাঝে জিনের বাদশা আমাকে বেশি আকর্ষণ করেছে।
Loved the book, specially how the stories were short yet still so splendid, couldn't keep my cool until i finished them all. All of the 4 stories were very interesting and so different from each other, couldn't concentrate on anything else while reading them.
নজরুলের শৈল্পিক স্বভাবের অপূর্ব প্রাণতা পাঠককে বাধ্য করবে আরেকবার সাহিত্যসিন্ধুতে মুক্ত খুঁজতে। একটি বিষয় লক্ষ করা যাবে-- আর তা হচ্ছে, বিদ্রোহী কবিতার আমিত্ববোধ তাঁকে ছাড়িয়ে যায়নি তাঁর গল্পেও।ভালোবাসার কবি কীভাবে বড্ড প্রেমিক হয়ে উঠেছেন।