'বিষের বাঁশি' কে বলা যেতে পারে অগ্নিবীণার দ্বিতীয় খণ্ড। অগ্নিবীণা ছাপাতে গিয়ে দেখা গেলো বই মোটা হয়ে যাচ্ছে আর দামে (সর্বোচ্চ ১ টাকা) কুলাচ্ছে না। সে সময় মানুষ দুই টাকা বা তিন টাকা দিয়ে মোটা কবিতার বই কিনবে এটা ভাবাই যেতনা কেননা নজরুলের সব শ্রেণির পাঠক ছিল আর তাঁদের কথা ভেবে অর্ধেক অগ্নিবীণা নামে ছাপা হল আর বাকি অর্ধেক পরে দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে ছাপার প্লান করা হল। পরে নানাবিধ কারনে 'অগ্নিবীণা দ্বিতীয় খণ্ড' নাম না রেখে 'বিষের বাঁশি' রাখা হল। ১৯২৩ সালে জেল থেকেই 'দোলনচাঁপা' বের করেছিলেন, জেল থেকে বের হয়ে ১৯২৪ সালের শেষের দিকে 'বিষের বাঁশি' প্রকাশিত হয়। 'দোলন চাঁপা' আর 'বিষের বাঁশি' দুইটি বইয়ের মাঝখানে কয়েক মাসের গ্যাপ দেখা যাচ্ছে, আসলে এই সময় তিনি বিয়ে করেন ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত গিরিবালা দেবীর কন্যা প্রমিলা দেবী কে। এই বিতর্কিত বিয়ের উদ্যোগতা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের গডমাদার মিসেস এম রহমান ওরফে মাসুদা খাতুন। 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি নজরুল তাঁর গডমাদার কেই উৎসর্গ করেছেন।
'বিষের বাঁশিতে' বরাবরের মত যথেষ্ট পরিমান বিষ আছে আর বাঁশ তো আছেই। আর সেই বাঁশের সুন্দর সুরেলা বাঁশিও আছে। সুরেলা বলছি এই জন্য যে এই বইতে কবিতার সাথে কয়েকটি গান আছে। গানগুলো রীতিমত বিদ্রূপাত্মক। আর বরাবরের মত রুটিন অনুযায়ী এই বইটিও সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
হায়রে নজরুল!