দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী কুয়াশাআচ্ছন্ন এক গ্রাম, আলহাজরেদপুর। যুগের পর যুগ ধরে কুয়াশা-ঢাকা এই গ্রামটিতে একের পর এক অজানা কারণে হয় মানুষ নিখোঁজ হয়েছে, নয়তো তাদের খণ্ডবিখণ্ড লাশ খুঁজে পেয়েছে গ্রামবাসী। কেউ কখনও কোনো সমাধানে আসতে পারেনি, অন্তত সেদিনের পর থেকে নয়, যেদিন নদীতে ভেসে এসেছিল সেই কফিনটি। যে কফিনটিই নিয়ে এসেছিল এই অসমাপ্ত কুয়াশা। এই কুয়াশা-ঢাকা গ্রামের রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া অজানা হিংস্রতাকে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকতে চেয়েছিল স্কুল-শিক্ষিকা মারিয়া ও তার ছাত্রী লামিয়া, এনজিও কর্মী রাহিন ও তার রুমমেট সিলভি, ফটোগ্রাফার ইরফান ও তার মডেল মাইশা। কিন্তু নিজেদের অজান্তেই এই কুয়াশা ধীরে ধীরে তাদের জীবনেও অবস্থান নিতে থাকে। ঘুরে ফিরে তাদের গন্তব্য লেখা থাকে আলহাজরেদপুরের অভ্যন্তরে। কিছু একটা আছে সেই গ্রামে, যা তাদের ডাকছে; তাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছেপূরণের অপেক্ষায়। অথবা, কেউ একজন। কে সে? কে সে রহস্যময়ী মেয়েটি, নীল স্বচ্ছ কাপড় আর ত্রিকোণ টুপির আড়ালে? কী তার নাম? কেনই বা সে চোখের কোণে উদয় হয়, যখন কেউ তাকে খেয়াল করছে না? আর কী সুতোয় বাঁধা মেয়েটি এই গ্রামের সাথে? . . . . . স্বাগতম, ডা. ফাউস্টের যুগে! We all fade into the fog. You will fade too.
Aspiring supernatural-thriller author from Bangladesh who is willing to explore different genre's of fiction to provide thrilling tales to his readers. His published books are: 1. দ্য রেড ডোর 2. ইউক্লিড 3. অসমাপ্ত ক্যানভাস 4. এক হাজার সূর্যের নিচে 5. ডাস্কমেইডেন 6. ক্রিমসন 7. দ্য ব্ল্যাক ফ্লেইম And many more to come!
কুয়াশাচ্ছন্ন চমৎকার আবহ, কিন্তু দুর্বল লজিক আর জোরপূর্বক অ্যাডাল্ট কনটেন্টের গ্যাঁড়াকল!
জুনায়েদ ইসলাম ভাইয়ের 'ওফেলিয়া' বইটি শেষ করার পর বেশ একটা মিশ্র অনুভূতি নিয়ে রিভিউটা লিখতে বসলাম। ৫৫৯ পৃষ্ঠার এই বিশাল বইটার কিছু দিক যেমন পাঠক হিসেবে আমার মন ছুঁয়েছে, ঠিক তেমনই কিছু বড় খামতি আর লজিকের অভাব আমাকে চরম বিরক্ত করেছে। নিচে ভালো-মন্দ দুটো দিকই একটু ডিটেইলসে শেয়ার করছি:
ভালো লাগার দিকগুলো: আবহ নির্মাণ (World Building): বইটার সবচেয়ে বড় শক্তি এর কুয়াশাচ্ছন্ন আর গা ছমছমে পরিবেশ। সত্যি বলতে, পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেই আলহাজরেদপুর গ্রামের সেই রহস্যময় কুয়াশার গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছি। লেখক এই আবহটা দারুণ ফুটিয়ে তুলেছেন।
চরিত্রের বিন্যাস: মারিয়া, লামিয়া, রাহিন, এবিগেইল সিলভি, মাইশা কিংবা ইরফানের মতো চরিত্রগুলোর সাইকোলজি এবং তারা কীভাবে নিজেদের অজান্তেই এই রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়ল—সেই জার্নিটা বেশ চমৎকার ছিল।
ধরে রাখার ক্ষমতা: ৫৫৯ পৃষ্ঠার এত বড় ক্যানভাস, অথচ গল্পের রহস্যটা এমনভাবে ধরে রাখা হয়েছে যে একঘেয়ে লাগেনি। সাধারণত এত মোটা বই আমি শেষ করতে পারি না, কিন্তু এই বইটার শেষ পর্যন্ত কী হবে—সেই কৌতূহলটা লেখক ধরে রাখতে পেরেছেন।
যেসব দিক হতাশ করেছে (নেগেটিভ দিক): ১. অতিরিক্ত ইঁদুর-বেড়ালের দৌড়ানি: অশরীরী আত্মা ভর করার পর যে ইঁদুর-বেড়ালের দৌড়ানি বা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখানো হয়েছে, তা শেষের দিকে এসে একটু বেশিই অতিরিক্ত মনে হয়েছে। কিছু জায়গায় কাহিনীটা টেনে বড় করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, যা বেশ বিরক্তিকর লেগেছে।
২. নাম 'ওফেলিয়া' কিন্তু সে-ই উপেক্ষিত: বইয়ের নাম রাখা হলো 'ওফেলিয়া', অথচ ক্লাইম্যাক্সে এসে তার ভূমিকাই সবচেয়ে সীমিত! দেখে মনে হলো চরিত্রটাকে জোর করে পরবর্তী পার্ট বা দ্বিতীয় বইয়ের জন্য বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, যা পাঠক হিসেবে একদম ভালো লাগেনি। এছাড়া ওফেলিয়ার কোনো ব্যাকস্টোরি বা অরিজিনই দেওয়া হয়নি—ওফেলিয়া হওয়ার আগে তার নাম কী ছিল, বা কেন সে 'ওফেলিয়া উইচ' হলো, এগুলোর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই।
৩. জোর করে ঢুকানো লজিকবিহীন অ্যাডাল্ট কনটেন্ট (সবচেয়ে বাজে লেগেছে): কাহিনীর প্রয়োজনে এবং লজিক্যালি যদি বইয়ে কোনো অ্যাডাল্ট কনটেন্ট থাকে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই বইটাতে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই জবরদস্তিমূলকভাবে কিছু ইন্টিমেট সিন ঢুকানো হয়েছে। যেমন:
৪. নিম্নমানের ইলাস্ট্রেশন: বইটাতে যেসব ইলাস্ট্রেশন ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের। বর্তমান যুগে AI দিয়ে যেখানে এত সুন্দর সুন্দর কাজ করে নেওয়া যায়, সেখানে এমন মানের ইলাস্ট্রেশন দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াটাই অনেক ভালো ছিল।
শেষ কথা: জুনায়েদ ইসলাম ভাইয়ের লেখার হাত নিঃসন্দেহে ভালো, ওনার গল্প পড়তে একদমই ক্লান্তি আসে না। কিন্তু লেখকের কাছে অনুরোধ থাকবে—গল্পের মান ও মজা নষ্ট করে এমন লজিকবিহীন জোরপূর্বক অ্যাডাল্ট কনটেন্ট লেখা দয়া করে বন্ধ করুন। তার চেয়ে বরং ব্যাকস্টোরি আর কাহিনীর লজিকের দিকে মনোযোগ দিলে বইটি আরও অনেক বেশি পূর্ণতা পেত।