রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিশ্বকবি। মানবতার কবি। তাঁর লেখনীতে তিনি বাঙালির জীবনযাপন, সংস্কৃতিকে যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি বাঙালির চিরদিনের হাসি - কান্না, আনন্দ-বেদনার কাব্যও তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে তুলে ধরেছেন সারা বিশ্বের শিক্ষা ও সংস্কৃতির তুলনামূলক ধারণাও। সভ্যতার সকল সঙ্কটে রবীন্দ্রভাবনা এক বিশাল সমাধানের উৎস - চারিদিকের অন্ধকারে এক বিরাট আলোর প্রদীপ। তাঁর নানা রচনায় বাঙালির স্বকীয়তা, আত্মনির্ভরতার চিন্তা ও চেতনার বীজ তিনি বুনে গেছেন। তিনি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও দারিদ্র বিষয়ে কালজয়ী সব ভাবনা ভেবেছেন। শিল্প- সাহিত্যের নানা প্রাঙ্গণে বিচরণ করেও জীবনভর বঞ্চিত মানুষের মুক্তির কথা ভেবেছেন রবীন্দ্রনাথ। কৃষকের অবমাননা, নারীর দুঃখ ও বঞ্চনার কথা তিনি শুনেছেন পদ্মাপাড়ের বোটে বসে। নিয়ত চেষ্টা করেছেন সাম্য প্রতিষ্ঠার। গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসন, কৃষির আধুনিকায়ন, মহাজনীলগ্নির হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর প্রয়াস, সমবায় উদ্যোগ, বাংলায় প্রথম কৃষিব্যাংক স্থাপন, শিক্ষা উন্নয়ন চিন্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বহুমাত্রিক শিল্পের নানা উপায় নিয়ে তিনি ভেবেছেন। শুধু ভেবেছেন বললে ভুল হবে, সুযোগ পেলেই এসব ভাবনার বাস্তব রূপায়নেরও চেষ্টা করেছেন। সমকালীন বিশ্বায়নের এই যুগে রবীন্দ্রনাথের এই স্বদেশী চিন্তা-চেতনা আমাদের উন্নয়ন ভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবান্বিত করার ক্ষমতা রাখে। রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শ বছর পার হলেও এখনো তিনি সমান প্রাসঙ্গিক। তাই তাঁকে নতুন করে চেনার, জানার, বোঝার আগ্রহের কমতি নেই। রবীন্দ্রনাথের উদারনৈতিক স্বদেশ ও জনকল্যাণ ভাবনার আলোকে দেশ ও দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, রবীন্দ্রগবেষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। রবীন্দ্রনাথের আর্থ সামাজিক ভাবনার আলোকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত লেখা, বক্তৃতা ও নতুন কিছু লেখা সম্পাদিত হয়ে রচিত হয়েছে ড. আতিউর রহমানের সংকলিত এই নতুন বইটি। বাংলাদেশ, দেশের প্রকৃতি ও গণমানুষকে নিয়ে যারা নিরন্তর ভাবেন তাঁদের জন্যে এ বইটি মূল্যবান এক দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
Atiur Rahman (born 13 December 1953) is a Bangladeshi economist and author, currently serving as the Governor of Bangladesh Bank, the central bank of the country.