Jump to ratings and reviews
Rate this book

মুসলিমবঙ্গ

Rate this book
আমরা এক অদ্ভুত সময়ের বাসিন্দা। চেনা পৃথিবী বিদায় নিচ্ছে, আর অনিশ্চিত নতুন ভবিষ্যৎ জন্মযন্ত্রণায় ছটফট করছে।
প্রগাঢ় পরিবর্তনের ধাক্কা আছড়ে পড়েছে এই বদ্বীপেও। পরাশক্তিদের রেষারেষি, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ আর অভ্যন্তরীণ অবক্ষয়ের মুখে এই কওম ও যমীনের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।
এই ক্রান্তিকালে আমাদের নিজস্ব প্রকল্প কী?
আমরা কি হারিয়ে যাব? অথবা অন্যের উচ্ছিষ্ট খেয়ে তেলাপোকার মতো কোনোমতে বেঁচে থাকাকেই ভাববো সফলতা? নাকি নিজেদের আপন পথ গড়ে নেওয়ার হিম্মত দেখাবো?
বিদ্যমান ব্যবস্থা মৃত; সমাধান দিতে সে অক্ষম। পুরোনো পথ আর ধার করা পঁচা-গলা তন্ত্রমন্ত্র আমাদের কেবল পরাজয় আর লাঞ্ছনাই উপহার দিয়েছে। বারবার প্রচেষ্টা, রক্তের নাযরানা আর কুরবানির পরও তিন শতাব্দীর অপমানের অধ্যায় শেষ হয়নি।
অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে বিদ্যমানতার আমূল রূপান্তর অনিবার্য। গোলামির জিঞ্জির ভেঙে, তিন শতকের গ্লানি মুছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটাই পথ: তাওহীদের বুনিয়াদের ওপর এক নতুন সত্তার অভ্যুদয়—মুসলিমবঙ্গ। এই বই সেই রূপান্তরের রূপরেখা।
ইতিহাস আমাদের দুয়ারে দাঁড়িয়ে। আমরা কি যুগসন্ধির দায় মেটাতে প্রস্তুত?

440 pages, Hardcover

Published March 1, 2026

Loading...
Loading...

About the author

আসিফ আদনান

17 books97 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (72%)
4 stars
3 (27%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Ibnul Fiaaz Dhrubo.
137 reviews4 followers
May 15, 2026
সাহাবী রিবঈ ইবনু আমর (রা.) পারস্য সেনাপতি রুস্তমকে বলেছিলেন: “আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, মানুষকে দাসদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর গোলামির দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে, নানা ধর্মের অবিচার থেকে বের করে ইসলামের আদলের দিকে নিয়ে যাবার জন্যে।”

আমরা স্বপ্ন দেখি- একদিন মানুষের গড়া সব তন্ত্র-মন্ত্র ভেঙে তাওহিদের প্রতিষ্ঠা হবে সর্বত্র। স্বপ্ন দেখা ভালো। কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখলেই কি সেটা পূরণ হয়ে যায়? না। বরং তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়, কাজ করতে হয় একনিষ্ঠভাবে।

কিন্তু তাওহিদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার রূপকল্প কী হবে? কোন পদ্ধতিতে হবে? উপযুক্ত সময় কখন?

এর উত্তর খুঁজে বের করতে গিয়ে অনেকেই চরমপন্থার সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু তথাকথিত এই জিহাদি তামান্না নিয়ে মার-মার, কাট-কাট, ঠুস-ঠাস দিয়ে তা সম্ভব হবে না। জিনিসটা বাস্তবসম্মতও না। একমাত্র নববি পন্থাই হলো সেই পন্থা যার মাধ্যমে তাওহিদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। আর এই পন্থায় সবার আগে দরকার দাওয়াত ও তারবিয়াত। এরপর বাকি যা কিছু লাগে।

আমাদের স্বপ্নটা অনেক বড়। তার জন্য দরকার উপযুক্ত গাইডলাইন ও মোটিভেশন। ‘মুসলিমবঙ্গ’কে আমার সেরকমই একটা বই মনে হয়েছে। বইটার কিছু উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট তুলে ধরছি নিচে:-

১. আপনি যখন আপনার স্বপ্ন পূরণের ধাপগুলো শুরু করবেন তার আগে আপনার নিজেকে নিজের অবস্থান বুঝে নিতে হবে। তা না হলে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করতে পারবেন না এবং আপনার স্বপ্নও পূরণ হবে না। তাওহিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এগোতে হলে আমাদেরকেও ইতিহাসের টাইমলাইনে আমাদের বর্তমান অবস্থানটা বুঝে নিতে হবে। বইয়ের প্রথম অধ্যায়টাতে আমরা আসলে কোন সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি আর আমাদের দায় এখানে কতটুকু সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

২. আপনার মোটিভেশন কী? গাইডলাইন কোথায়? বাজারের সস্তা মোটিভেশন বিক্রেতাদের মতো লেখক এখানে কোনো আবেগঘন কিছু লিখেন নি। বরং গাইডলাইন ও মোটিভেশনের ক্ষেত্রে তিনি আমাদের দেখানোর চেষ্টা করেছেন সাইয়্যিদ কুতুব শহিদ, ফকির মজনু শাহ, হাজী শরিয়তউল্লাহ, মীর নিসার আলী তিতুমীর (রহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখদের অবস্থান ও কর্মপদ্ধতি কী কী ছিল।

৩. আপনার আদর্শ কী? আপনার কর্মপন্থা সঠিক কি না আপনি কী দিয়ে যাচাই করবেন? এর একমাত্র রূপরেখা পাওয়া যাবে নবি-রাসূলদের দাওয়াতের কর্মপদ্ধতিতে। নববি চিন্তাধারার আলোকে তাওহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আকীদার গঠন কেমন হবে তা নিয়ে বিস্তারিত না হলেও প্রয়োজনীয় কিছু কথা এখানে লেখা হয়েছে।

৪. বিপ্লব কী? বিপ্লবের রূপরেখা কী? বিপ্লবের উপযুক্ত সময় কখন? ইতিহাসের বিভিন্ন বিপ্লবের উদাহরণ টেনে বিপ্লব সম্পর্কে বিশদ একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। সেই সাথে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান কোনো বিপ্লব ছিল কি না, এর কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা, সফলতা ও ব্যর্থতা কী কী ছিল- একজন পাঠক এসব আলোচনা থেকে খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন।

৫. প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সমস্যা ও এ পদ্ধতিতে আমাদের স্বপ্ন পূরণ আদৌ সম্ভব কি না বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকে “টুল (Tool)” হিসেবে ব্যবহার করার স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।

৬. শেষে আমাদের এই উপমহাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আপাতত করণীয় কী হবে সেই বিষয়ে অল্পকথায় আলোচনা করেছেন যা ছিল মূলত পূর্ববর্তী সকল আলোচনার সারকথা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনা থেকেই চারিদিকে দ্বীন কায়েম করেছিলেন। তাই মদিনার প্রতি আমাদের আলাদা একটা টান আছে। এজন্যই বোধ হয় কেউ কেউ আমাদের এই আবেগকে পুঁজি করে মদিনার সনদ দিয়ে দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখায়। চিন্তা করে দেখেন- মদিনার সনদের কথা বললে আমরা কিন্তু খুশিই হচ্ছি। তার মানে আমরাও চাই যে সেই আদর্শ আমাদের মধ্যে বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু আমরা এরকম শুধু স্বপ্নই দেখি আর আকাশ-কুসুম কল্পনা করি; এর পরে আমাদের আর কোনো মিশন-ভিশন থাকে না।

বইটি থেকে পাঠক সেই মিশন ও ভিশনের সন্ধান পাবেন ইনশাআল্লাহ। এজন্য এই মিশন ও ভিশন পূরণের স্বার্থে ‘মুসলিমবঙ্গ’কে আমার কাছে চিন্তার একটা ট্রেনিং সেশন বলেই মনে হয়েছে।
Profile Image for Arcturus Milon.
1 review
May 28, 2026
"সত্যকে চেনা একটা দায়িত্ব; আর সেটাকে সমাজে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা আরেকটা স্বতন্ত্র দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালন করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, আর প্রস্তুতির মাধ্যমে। কেবল নিষ্ক্রিয় প্রত্যাখ্যান থেকে দিনবদল হয় না।"

----------------------------------------------------

The way the author structured the whole narrative throughout the book is quite striking. It begins with a story-like, almost fictional introduction that immediately grips the reader's attention. But that story then fades and blends seamlessly into the theme of the book itself: setting the questions for the deep crises the Muslim Ummah in Bengal is facing, and what in turn needs to be done.

Additional note: The way the author thinks and analyzes reflects evidently in his writing. It is structured, organized, logical, but emotional too - but in the right place, in the right amount.

If you are someone who who doesn't typically read non-fiction, then the flash lessons on the history of Islam in the Bengal region, and the frequent mentions of colonialism, post-colonialism, and secularism, might appear repetitve to you. But those repetitions will also answer your questions like -
"Why did I not know about this?"
"Why weren't/aren't these taught in school?"

I remember seeing some people critiquing the book's message as to why a certain "fight" isn't possible on these grounds yet. I would suggest those people to re-read the book. All the how's and why's - read it all again, don't skip over any parts, and pay attention. The first two chapters already elaborate on the necessity of changing the way we think and understanding our responsibilities (as Muslims).

The ending of the book wraps up in a similar story-like flow like the introduction, but with a much more serious tone, which leaves both an unsettling and liberating feeling. Liberating because the reader is now equipped with the necessary ideas and knowledge on what needs to be done to establish the মুসলিমবঙ্গ, and unsettling because now the weight of responsibility on the shoulders is heavier than ever.

----------------------------------------------------

"মহান আল্লাহ সাক্ষী, আমি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।"

May Allah accept all the blood, sweat, and tears that went behind this chef d'oeuvre (till now).
18 reviews
April 30, 2026
Shows a very clear way for something the Bengali people has been dreaming for long.
Profile Image for Mahmud.
3 reviews
June 2, 2026
'মুসলিম বঙ্গ':

*প্রথম অধ্যায়, যুগসন্ধি*: এই অধ্যায়ে

লেখক 'আসিফ আদনান' বাংলদেশের আসন্ন সংকট ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশ কীভাবে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর স্বার্থে দাবার ঘুটি হয়ে বসে আছে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থা যে এটির সমাধান দিতে অক্ষম, সেটি ব্যখ্যা করা হয়েছে। পশ্চিমাদের,আন্তর্জাতিক আইনের,NGO,জাতিসংঘের দ্বিমুখীতা, তাদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বের এককেন্দ্রিক(unipolar) থেকে বহু কেন্দ্রিক(multipolar) হয়ে যাওয়া,পশ্চিমাদের ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বাদ-মতবাদ,তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি। এই সকল সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।
*দ্বিতীয় অধ্যায়, খাঁচা*: এই অধ্যায়ে
লেখক বুঝিয়েছেন যে, ইসলামপন্থিরা যে কীভাবে একটি 'খাঁচায়' আটকে আছে। ব্যখ্যা করা হয়েছে কীভাবে একদল শাসক ঘোষ্ঠী পশ্চিমা ও সেক্যুলার এলিট দের দালালি করে। বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্বেষ, বিশ্বে ও পশ্চিমাতে,ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষ, ইসলামবিদ্বেষের শিকড় ও কারণ ও উদ্দেশ্য। যে মিথ্যা, বিজাতীয় সংস্কৃতি ও সিস্টেম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের মাঝে,

ব্যক্তিগত পরিষরে ইসলাম কে ঠেলে দেওয়া, কেউ ইসলামি শাসন,শরিয়াহ্
চাইলে তাকে 'জঙ্গি' বলে দমন-নিপীড়ন করা, এটির বৈধতা দেওয়া।
মিডিয়া, সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থায়
ইসলামি শাসন,শরিয়াহ্ চাওয়াকে কীভাবে 'সন্ত্রাসী' রূপ দেওয়া হয়েছে, হালাল কে হারাম
ও হারাম কে হালাল করা হয়েছে। কীভাবে ও কেন এই তাগুত,সেক্যুলার,জাহিলি কাঠামোতে ইসলামকে 'উগ্রবাদ' হিসেবে ব্যখ্যা করা হয় ও এর কারণ। আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো কীভাবে ও কেন সৈরাচার হয়ে উঠে। সেক্যলারিজমের আড়ালে তাদের আসল উদ্দেশ্য।

*তৃতীয় অধ্যায় 'বুনিয়াদ'*: এই অধ্যায়ে
লেখক দেখিয়েছিলেন যে, কীভাবে মানুষকে এসব মানুষকে জিনিস বোঝাতে হবে, নববী দাওয়াহর আলোকে, কীভাবে মানুষের মনোজগতে বিপ্লব ঘটাতে হবে, কীভাবে হক ও বাতিল',
'ইসলাম ও তাগুত' কে মানুষের
সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
কেন ইসলাম ও আধুনিক তন্ত্র-মন্ত্র,ইসলাম ও জাহিলিয়াত এর দ্বন্দ ,ইসলাম ও সেক্যলারিজমের দ্বন্দ্ব আমাদের দাওয়াহ'র কেন্দ্র হবে। আধুনিক জাহিলী রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো কীভাবে নিজেকে প্রভূ ও ইলাহ দাবি করে,'তাগুত' কী, সেটা ব্যখ্যা করা হয়েছে। কেন আধুনিক 'সেক্যুলার' রাষ্ট্র নামেই 'সেক্যুলার'। বস্তুত এটি ইসলাম কে সংকচিত করার একটা উপায়।

কীভাবে সামাজিক শক্তি ও সামাজিক
আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, এর প্রকৃত সংজ্ঞা। সর্বোপরি, লেখক এই অধ্যায়ে কীভাবে 'বুনিয়াদ' গড়তে হবে,সেটা দেখিয়েছেন। 'বুনিয়াদ' কী কী ধাপে আগাবে ও কীভাবে আগাবে সেটি ব্যখ্যা করা হয়েছে। কীভাবে এই পথ কঠিন ও অনিশ্চিত,কীভাবে এই দীর্ঘ মেয়াদি,অনিশ্চিত পথেই বুনিয়াদ গড়তে হবে।

*চতুর্থ অধ্যায়, অগ্রপশ্চাত*: এই অধ্য��য়ে লেখক দেখিয়েছেন

কীভাবে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন অথবা গণ আন্দোলন সফল হয়েছিল বিশেষ করে "ফরায়েজী আন্দোলন"।

'ফরায়েজীদের' মানুষকে দ্বীনের পথে

পুনর্জাগরণ, বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে তাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রে ভিতরেই কার্যত আরেক ইসলামি,শরিয়াহ্ শাসিত রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। কীভাবে তারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ,ব্রিটিশদের অনুগত জমিদার শ্রেণির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, তারা কীভাবে বুনিয়াদ গড়েছেন, কেন ইনকিলাব ও সশস্ত্র সংগ্রাম তারা গড়ে তুলেননি তাদের পতনের কারণ, তাদের থেকে আমাদের শিক্ষা।

*পঞ্চম অধ্যায়, 'জিজ্ঞাসা':* এই অধ্যায় শুরু হয়েছে ৩টি প্রশ্ন দিয়ে:
১। সামাজিক আন্দোলন, সামাজিক প্রতিরোধ এগুলো এখনো কার্যকরী? বুনিয়াদ- ইনকিলাব কীভাবে হবে?

২। গনতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা কেন সম্ভব নয়?

৩। ইনকিলাব তৈরি হবে কীভাবে?
লেখক প্রথম দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই অধ্যায়ে। লেখক দেখিয়েছেন কেন সামাজিক শক্তি ও সামাজিক আন্দোলন এই বর্তমান আধুনিক যুগেও কার্যকর। লেখক ঐতিহাসিক/ ইতিহাস থেকে ও রেফারেন্স দিয়েছেন। এছাড়াও লেখক দেখিয়েছেন, গণতন্ত্র দিয়ে কেনো ইসলাম প্রতিষ্ঠা কার্যত ভাবে অসম্ভব। গণতন্ত্রের ভিত্তি বা বুনিয়াদই হচ্ছে মানুষের তৈরি আইন বাস্তবায়ন। সেটা হোক সাধারণ মানুষ কিংবা 'ডিপস্টেট নেটওয়ার্ক। এটির মানে দাঁড়ায়, আল্লাহর আইন- বিধান ছেড়ে নিজের মতো আইন বানানো।

এটি সরাসরি আল্লাহর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা। এটি আকিদাহ গত দিক দিয়েও কুফরি এবং তাগুত। লেখক এটি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এ ছাড়াও লেখক দেখিয়েছেন, এই সংসদীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে আসলে কীভাবে আমেরিকা/যায়নবাদী/ ডিপস্টেট এলিট গোষ্ঠীর ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক আদর্শ, বাদ-মতবাদ, মূল্যবোধ গ্রহণ করতে হয় এবং ইসলামের আদর্শ ফেলে দিতে হয়। লেখক 'গণতন্ত্রের ভ্রান্তিবিলাস' এবং ভেল্কিবাজীও ব্যাখ্যা করেছেন।
গণতন্ত্রের যেইখানে জন্ম, সেখানেই যে কার্যত গণতন্ত্র নেই, সেটি ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। গণতন্ত্রের নামে কীভাবে যায়নবাদী, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক ও টেক জায়ান্টদের বিশাল এলিট শ্রেণির 'ডিপস্টেট নেটওয়ার্ক' বিভিন্ন স্তরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করে, সেটি দেখিয়েছেন। লেখক পুরো আধুনিক গণতান্ত্রিক অবকাঠামোর মুখোশ উম্নোচন করেছেন এই অধ্যায়ে।

এ অধ্যায়ে লেখক আরো দেখিয়েছেন,গনতন্ত্র এবং ইসলামি 'শূরা' ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোগত পার্থক্য।

*ষষ্ঠ অধ্যায়, দিকদর্শন*: এ অধ্যায়ে লেখক পঞ্চম অধ্যায়ের তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন। এই অধ্যায়ে লেখক বিভিন্ন ধারার ও পদ্ধতির বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন: নিরস্ত্র ও সশস্ত্র গণঅভ্যূথান গেরিলা, হাইব্রিড বিপ্লব ইত্যাদি। আলেম-উলামা দের তিনি বিভিন্ন বিপ্লবের রূপরেখা নিয়ে ও আলোচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিপ্লব, বিপ্লবের পদ্ধতি ও প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা ও করেছেন। যেমন,
প্রথম ও দ্বিতীয় আফগান ইসলামি ইমারত, ইরানি শিয়া বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, নেপাল বিপ্লব ইত্যাদি।
তিনি গেরিলা বিপ্লব সফল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত ও সামনে এনেছেন, তিনি দেখিয়েছেন, আফগানিস্তানে সবগুলো শর্তই কীভাবে ছিলো। লেখক, আমাদের করণীয় কি সেটাও ব্যখ্যা করেছেন, আমাদের অনেকেই মনে করে, আমরা ইনকিলাবি পর্যায়ে আছি। না, আমরা এখনো বুনিয়াদি পর্যায়েই আছি। আমাদের আগে পরিপূর্ণভাবে বুনিয়াদ গড়তে হবে। দাওয়াহ, মেরুকরণ ইতাদি। তারপর, সামাজিক শক্তি ও সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। নিজেদের বিকল্প কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। তারপর,
আন্দোলনের সক্ষমতা, ভূপ্রাকৃতি, ইত্যাদি অবস্থা বিবেচনা করে ইনকিলাবের পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে ও অগ্রসর হতে হবে, কিন্তু যদি ইনকিলাবের ভিত্তি, অর্থাৎ বুনিয়াদ দুর্বল হয়, তাহলে শুরুতেই বিপ্লব থেমে যাবে। যদি বুনিয়াদ শক্তিশালী হয়, তাহলে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিপ্লব টিকে থাকবে। লেখক ভবিষতের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন, এবং দেখিয়েছেন, সব ক্ষেত্রেই বুনিয়াদ কীভাবে লাভজনক, ক্ষতির আশংকা নেই। সর্বোপরি,লেখক এই অধ্যায়ে মুসলিমবঙ্গ কায়েমের রূপরেখা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন

*সপ্তম অধ্যায়,মুসলিমবঙ্গ: অস্তিত্বের নিয়তি*:
এই অধ্যায়ে লেখক পূর্ববর্তী অধ্যায় গুলোর ছোটো সামারি করেছেন। এই অধ্যায় টি বেশ রক্ত গরম করার মতো,অর্থাৎ উদ্দীপিত করার মতো।
লেখক এর শেষ বাক্য এই বইয়ে: "আল্লাহ্ সাক্ষী , আমি পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি"
প্রমাণ করে এই বই কতটা গুরত্ব
পূর্ণ। এ বই উম্মাহর পথ চলার পাথেয়।
আল্লাহ এই বই,বইয়ের লেখক ও পাঠক দের কবুল করুক। তাদের পাঠক থেকে কর্মীতে রুপান্তর করুক, আমিন।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews