পাঁচ আগস্টের পর থেকে দেশের নানা প্রান্তের মাজার এবং এর সাথে জুড়ে থাকা মানুষদের নানাভাবে আক্রান্ত হতে দেখে আসছি আমরা। এদেরকে সরাসরি যেমন হামলা করা হয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাবলিক ট্রায়াল দেখতে পাওয়া গেছে নানা সময়ে। সেই জায়গায় হাসনাত শোয়েবের এই কাজ প্রশংসার দাবিদার।
লেখকের কবিতার সাথে পরিচয় আগে থেকেই ছিল। তাছাড়া মাজার নিয়ে ফেসবুকে তার লেখাও পড়েছি। তবে, এই বইটাতে আরও বিস্তৃত আকারে আলাপ করেছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❝সেদিন অনেকক্ষণ মাজারে বসে ছিলাম। বৃষ্টি আর মাজারের পরিবেশ মিলিয়ে যে আবেশ মনের ভেতর ছড়িয়ে পড়েছিল তার তুলনা বা ব্যাখ্যা হয় না। মনে হচ্ছিল আমি বোধহয় অন্য কোনো পৃথিবীতে চলে এসেছি। কিংবা মাজারটাই অন্য কোনো পৃথিবীতে ঢুকে গেছে। বারবার মনে হচ্ছিল, সময়টা থেমে যাক, আমি এখানেই থেকে যাই বাকিজীবন। এমন নানা কিছু বারবার মনের ভেতর উঁকি দিচ্ছিল। অদ্ভুত এক রুহানি ঘ্রাণ আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বারবার। এর মধ্যে কিছু ভক্ত মিলাদ পড়া শুরু করলে ঘোর এবং ঘ্রাণ যেন তুরীয় এক অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। বৃষ্টি যতক্ষণ পড়েছে, মিলাদও চলেছে ততক্ষণ। যিনি পড়ছিলেন তার সুরটা সম্ভবত মৃত্যুর বিছানায়ও আমার মনে পড়বে। এমন কণ্ঠ আর কখনো কোথাও শুনিনি। মাঝেমধ্যে আমি ভাবি, যিনি পড়েছিলেন তিনি কি সত্যি এই দুনিয়ার কেউ ছিলেন, নাকি অন্য কোনো জগতের বাসিন্দা। এই ঘটনা কি বাস্তবে ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখেছি সেটি ভেবেও বিস্মিত হই। এই যে মনের এমন আর্দ্র হওয়া, এই যে একটা চিরস্থায়ী ঘোরের ভেতর ঢুকে পড়া, এটাও কি কোনো কারামত নয়? আমার কাছে তো এরচেয়ে বড় কারামত আর হয় না!❞
❝মিলাদুন্নবী আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এটি কিন্তু ইসলামের প্রাচীন ঘটনাগুলোর একটিও বটে। এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রচুর তর্কবিতর্ক চলে আসছে। বিভিন্ন পক্ষের বড় বড় পণ্ডিত-বুজুর্গ ব্যক্তিরা এই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। সবাই যার যার মতো দলিল দিয়েছেন। তবে এই বিরোধিতাটুকু খুবইপরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে কীভাবে শিরক আর বিদাআতের ফাঁদে ফেলে বিষয়টাকে বোতলবন্দী করা যায়। এ লক্ষ্যে বেশ সফলও হয়েছে বিরোধীতাকারীরা। এ ক্ষেত্রে তাদের গুরু ছিলেন ইমাম ইবনে তাইমিয়া। এই গোষ্ঠীর অতিরিক্ত শুদ্ধতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামের রুহানি ভাবনা। শিরক-বিদায়াত মুক্ত করে তাওহিদ প্রতিষ্ঠার নামেই করা হয়েছে এসব কাজ। যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার প্রকাশ থেকে দূরে রেখে, এক ধরনের কট্টরপন্থী ও আচারসর্বস্ব ধর্মের প্রতিষ্ঠা। যেমন মদীনা মুনাওয়ারা বলা যাবে না কিংবা রাসুলকে সালাম জানিয়ে মিলাদ পড়া যাবে না, এমন ফতোয়াও দেওয়া হয়েছে। এমন না যে, এগুলোকে স্রেফ দার্শনিক মতবাদ হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, বরং জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যা খুশি তাই করেছে। অথচ প্রেম ও ভালোবাসা ছাড়া ধর্ম শুধুই একটা কাঠামো মাত্র, যা শেষ পর্যন্ত মানুষকে যান্ত্রিকতার দিকে ঠেলে দেয়। ধর্মের যে আচার সেটি পরিপূর্ণতা পায় স্রষ্টার প্রতি এবং যিনি স্রষ্টার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে। এটুকু বোঝার জন্য অনেক বড় আলেম না হলেও চলে। কিন্তু বিরোধীরা এটা বোঝেনি বা বোঝার কোনো চেষ্টাই করেনি। বরং ধর্মকে এক ধরনের কট্টরপন্থায় পর্যবসিত করেছে, যার খেসারত এখনো মুসলমানদের দিতে হচ্ছে।❞
লেখককে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব তার ভাষা নেই। এমন ধারার লেখা পাওয়া যায় নাহ বললেই চলে, রকমারি রিসেন্টলি সরিয়ে ফেলছে। এটা ঘটবে জানতাম। হাসনাত শোয়েব ভাইয়ের আগের দুইটা লেখা পড়ছিলাম নয়তো এমনও হতে পারতো এই বইয়ের কথাও জানতাম নাহ আমি, ঠিক যেমন বইয়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি বই-ই রকমারিতে পাওয়া যায়নি, পাওয়া যায়নি অন্য কোন বইয়ের প্ল্যাটফর্মেও অথবা কোন প্রকাশনীতে, কিছু প্রিন্ট আউট কিছু নট এভেলেবেল যদিও অনেকগুলোই পিডিএফ পেয়েছি। যাইহোক এগুলো যে পরিকল্পিত সেটা আর বোঝার বাকি থাকার কথা নয়। লেখকের মতো আমিও চাই-"স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মাজার দুর্দান্ত কোনো ঘটনা হিসেবে আমাদের সাহিত্যে আসুক। এর অপরিমেয় সম্ভাবনার জায়গা এখনো অব্যবহৃত থেকে গেছে। এরপরও আমার বিশ্বাস আগামী দিনের সাহিত্যের নতুন কোনো অমর উপন্যাস বেরিয়ে আসবে মাজার দরগাহ কিংবা খানকার বারান্দা থেকেই। পাশাপাশি এক সময় চারণকবিরা হাটে-ঘাটে বাজারে গিয়ে পুঁথির আকারে নাটকীয়ভঙ্গিতে ওলি-আউলিয়াদের যে গল্প শোনাত, সেই দিনও আবার ফিরে আসুক। এক সময় এসব ঘটনা নিয়ে রচিত কবিতা ছোট ছোট বই আকারে ছাপানো হতো। হাটের দিন এসব কিনতেও পাওয়া যেত। নতুন রূপে এগুলোকে আমাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।"
১। ইসলামের প্রসার ও মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রচারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করার প্রবণতা থেকে মাজার প্রথার সূচনা ঘটে। বিশেষত উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতের সময় ইসলামি স্থাপত্যের বিকাশের সঙ্গে পীর-আওলিয়াদের কবরের ওপর নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণের রেওয়াজ শুরু হয়। এ সময় মসজিদের পাশে বা ভেতরে তাদের কবর স্থাপন করা হতো এবং স্থানগুলো ধীরে ধীরে ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রতীকে পরিণত হয়। ইরাকের কারবালায় হজরত ইমাম হোসেন (র.), বাগদাদের বড় পীর হজরত আব্দুল কাদির জিলানী (র.), ভারতের হজরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া (র.) ও হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিস্তি (র.), বাংলাদেশের সিলেটের হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.), হবিগঞ্জের মুরারবন্দে হজরত শাহ সৈয়দ নাসির উদ্দীন (র.), হজরত শাহ বোগদাদী (র.), বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী (র.) এবং চট্টগ্রামের হজরত বায়েজিদ বোস্তামী (র.)—এদের মাজারসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য সুফী-সাধকের কবর ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় প্রেরণার উৎস হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে। উপমহাদেশে বাগদাদকেন্দ্রিক খেলাফত ও পরবর্তী মোগল আমলে সুফিবাদের বিকাশ ঘটে। আধ্যাত্মিক চর্চায় নিবেদিত এ সাধকরাই মূলত এসব পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রচার চালান। সাধারণ মুসলমান তাদের জীবনাচরণ ও মূল্যবোধ গ্রহণ করতে শুরু করেন, ফলে মাজারগুলো সম্মানিত ধর্মীয় স্মৃতিস্থানে রূপ নেয়।
২। সউদী আরবের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (১৭০৩–১৭৯২) ছিলেন একজন সালাফি পণ্ডিত এবং ওয়াহাবি মতবাদের প্রবর্তক। তার নামানুসারেই এ ধারার নামকরণ। তিনি ইমাম ইবনে তাইমিয়ার চিন্তাধারাকে ভিত্তি করে একটি সংস্কারবাদী মত প্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্যোগ ছিল কট্টরধর্মী, কেউ কেউ এটিকে ইউরোপের প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে সন্তপূজা, মৃতদের জন্য প্রার্থনা বা পবিত্র নিদর্শনের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের বিরোধিতা করা হয়। একইভাবে আব্দুল ওয়াহাবের সংস্কার কার্যক্রমের অন্যতম দিক ছিল মাজারবিরোধিতা।
৩। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই মাজারপন্থী ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও জুলাই ২০২৪–পরবর্তী সময়ে পেট্রো-ডলার প্রভাবিত গোষ্ঠীর মাজারে হামলা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম অধ্যায়গুলোর একটি। এ প্রেক্ষাপটে লেখক মাজার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছেন। কারামত নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে তিনি মাজারকে দেখেছেন আশ্রয়স্থল, অর্থনৈতিক প্রবাহের কেন্দ্র, অসহায়ের সহায়, উৎসব ও সংস্কৃতির অংশ, সম্প্রীতির প্রতীক এবং প্রকৃতির অভয়ারণ্য হিসেবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পীর বদর আউলিয়া, মোহছেন আউলিয়াসহ বিভিন্ন মাজারের ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছেন, দেশের বাইরের সুফী-সাধকদের ভূমিকাও আলোচিত হয়েছে। নারী সুফিদের নিয়ে অধ্যায়টি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।
৪। বইয়ের শেষাংশে কানু ফকির, অর্থাৎ আলী রজা, বাংলা সাহিত্যজগতের এক কিংবদন্তিকে নিয়ে প্রবন্ধটি অনন্য, যিনি ৩৬টি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন, প্রায় ৭৫০টি রাগ-রাগিণীতে শের ও গজল রচনা করেছেন এবং বহু পুঁথি লিখেছেন, যার মধ্যে পাঁচটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। যে ব্যাক্তিকে নিয়ে শহীদুল্লাহ, আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদসহ অনেকে গবেষণা করেছেন—এই আলোচনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
৫। লেখকের ভাষা নিঃসন্দেহে প্রাঞ্জল, পরিশীলিত ও হৃদয়গ্রাহী।গদ্যের সাবলীল প্রবাহে রচিত এই গ্রন্থটিতে মাঝে মাঝে ফিকশনাল আবহের উপস্থিতি থাকলেও তা বিন্দুমাত্র বিক্ষেপ সৃষ্টি করেনি, বরং আখ্যানকে করে তুলেছে আরও জীবন্ত, অনুভবনির্ভর ও গভীরতর। ভাষার মাধুর্য এবং আধ্যাত্মিক আবেশ এমনভাবে মিশে গেছে, পাঠক অনায়াসেই এক ধ্যানমগ্ন অভিজ্ঞতার ভেতর প্রবেশ করবেন। তবুও বইটির পরিসর তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হওয়ায় আরও বিস্তৃত কাহিনি, লোককথা ও কিংবদন্তির প্রত্যাশা জাগে। এই সম্ভাবনাময় লেখকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও সমৃদ্ধ রচনার অপেক্ষা থাকল।
বইটির সবচেয়ে চমৎকার দিক হলো, লেখক মাজারকে কেবল অন্ধভক্তি বা ইট-পাথরের স্থাপনা হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি খুব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে মাজারকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মাজারগুলো যে শত বছর ধরে গ্রামীণ অর্থনীতি, মেলা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক মানুষের জীবিকার এক বড় অবলম্বন, তা বইটিতে দারুণভাবে উঠে এসেছে।
একই সাথে, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে মাজারের ওপর নেমে আসা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিরুদ্ধে এই বইটি একটি নীরব কিন্তু জোরালো সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। লেখক দেখিয়েছেন, মাজারের যে 'ভাষা', তা আসলে মানবতা, প্রেম এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের মনস্তাত্ত্বিক আশ্রয়স্থল।
কিছু বিষয়ে অতৃপ্তি রয়ে গেল :
১. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: বইটির নাম এবং বিষয়বস্তু থেকে আশা ছিল পুরো অবিভক্ত বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) সুফি ঐতিহ্যের একটা সামগ্রিক রূপ দেখার। কিন্তু বইটিতে মূলত চট্টগ্রামের মাজার ও আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই আলোচনা বেশি আবর্তিত হয়েছে, উপরন্তু চট্টগ্রামের অন্যান্য সুফিরা যতটা স্পেস পেয়েছে সে তুলনায় সুলতানুল আরেফীন বায়েজিদ বোস্তামী (রাঃ) ততটা স্পেস পায় নি। এছাড়াও সিলেট, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া কিংবা পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় সুফি কেন্দ্রগুলোকে সমানভাবে যুক্ত করা গেলে বইটির ক্যানভাস আরও বড় হতো।
২. রেফারেন্স ও তাত্ত্বিক গভীরতার অভাব: বিষয়বস্তু হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার দাবি রাখে।
বইটির বিষয়বস্তু এতটাই গুরুগম্ভীর যে, মন বারবার আরও একটু গভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আর ঐতিহাসিক রেফারেন্স খুঁজছিল। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে আলোচনাটা একটু উপরি-উপরি রয়ে গেছে, রেফারেন্সের ব্যবহার আরেকটু জোরালো হতে পারতো।
সেই তুলনায় বইটিতে রেফারেন্স বা তথ্যসূত্রের ব্যবহার কিছুটা কম মনে হয়েছে তার যথেষ্ট কারণ-ও রয়েছে যেটা লেখক বিভিন্ন জায়গায় স্বীকার করেছেন। তবে অনেক স্থানেই নিজের সাবজেক্টিভ বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে অনেক কন্ট্রোভার্সিয়াল বিষয়ে মতামত দিয়েছেন যেগুলো অবশ্যই প্রপার সাইটেশনের দাবি রাখে ।
শেষ কথা:
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক মাজার ভাঙার সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলার লোকজ মনস্তত্ত্ব, সুফি ঐতিহ্য ও মাজারের সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব বুঝতে বইটি পড়া প্রয়োজন। তবে বইটিকে কেবল 'চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক' গণ্ডি থেকে বের করে যদি আরও বিস্তৃত ক্যানভাসে উপস্থাপন করা যেতো, তবে এটি একটি মাস্টারপিস হতে পারতো। বইটা পড়া শেষে মাজার নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা হলেও পরিবর্তন হবে, একইসাথে বইয়ের বিভিন্ন স্থানে লেখকের ছুড়ে দেওয়া কিছু প্রশ্ন আপনার মনস্তত্ত্বকে নাড়া দিবে- আর এখানেই হয়তো বইটির স্বার্থকতা। Happy Reading ✨