২৭১৮ সাল পৃথিবীর উপরিপৃষ্টের অনেক নিচে ভূগর্ভের অভ্যন্তরে হিমিস নামের এক রোবট ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সৃষ্টি করে লালমানবদের। মানুষের মতো দেখতে লালমানবদের অল্পদিনে সে পৃথিবীর উপরিপৃষ্ঠে বসবাসরত সত্যিকারের মানুষদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলে। শুরু হয় লালমানব অর মানুষের মধ্যেকার বিভীষিকাময় যুদ্ধ। একে একে ধ্বংস হতে থাকে মানবসমাজ, নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে থাকে মানবসভ্যতা। মানবজাতির এরকম বিপর্যয় দেখে কুটিল হাসি হাসে রোবট হিমিস। সে তো এরকমই চাচ্ছিল! পৃথিবীর প্রায় সবকিছু এখন তার হাতের মুঠোয়। সে হতে চলেছে পৃথিবীর হর্তাকর্তা, মানুষের নিয়ন্ত্রক!
এদিকে পৃথিবীর বিজ্ঞানীরাও বসে নেই। তারা হিমিসকে ধ্বংসের জন্য একটার পর একটা পরিকল্পনা করে। কিন্তু প্রত্যেকবারই তারা ব্যর্থ হতে থঅকে। একসময় বুঝতে পারে অতি ধূর্ত আর চালাক রোবট হিমিসকে এত সহজে ধ্বংস করা যাবে না। হিমিসকে ধ্বংস করতে হলে তাদের প্রয়োজন হবে লালমানবদের। কিন্তু লালমানবেরা কি পৃথিবীর মানুষকে সাহায্য করবে? না, করবে না। কারণ লালমানবেরা তো হিমিসের পক্ষের, হিমিসের হুকুমের দাস।
সেক্ষেত্রে কি হিমিস সত্যি পৃথিবী দখল করে নেবে? সত্যি আধিপত্য বিস্তার করবে সমগ্র পৃথিবীতে?
মোশতাক আহমেদ (English: Mustak Ahmed) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট হতে এম ফার্ম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে এমবিএ এবং ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলোজিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কর্ম জীবনে তিনি একজন চাকুরীজীবি। তাঁর লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে তিনি অধিক আগ্রহী হলেও গোয়েন্দা এবং ভৌতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালভাসা,অতৃপ্ত আত্না, নীল মৃত্যু, লাল শৈবাল, জকি, মীম, প্রেতাত্মা, রোবো, পাইথিন, শিশিলিন ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ- রিবিট, কালোমানুষ, রিবিট এবং ওরা, রিবিটের দুঃখ, শান্তিতে রিবিট, হিমালয়ে রিবিট। প্যারাসাইকোলজি- মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতরে জোনাকি ইত্যাদি। ভ্রমণ উপন্যাস- বসন্ত বর্ষার দিগন্ত, লাল ডায়েরি, জকি। স্মৃতিকথা- এক ঝলক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ- নক্ষত্রের রাজারবাগ, মুক্তিযোদ্ধা রতন। তিনি কালি কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ পুরস্কার পেয়েছেন।
আকারে বেশ ছোট হওয়ার কারণে এটাকে উপন্যাস বলা সম্ভবত ঠিক হবে না। তবে বড় আকারে একটা সাইন্স ফিকশন গল্প হিসেবে ঠিক আছে। পড়তে ভালো লেগেছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় টানাই পড়ে গিয়েছি। গল্পের প্লট ও লেখার ফ্লো যথেষ্ট ভালো। লাল মানবের চরিত্র, বিশেষ করে নিয়ন ও মানুষ নিয়ার চরিত্র খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
তবে বইয়ের ফিনিশে এসে উনি বেশ তাড়াহুড়া করেছেন। বিশেষ করে হিমিসের মৃত্যুর ঘটনাটা খুব হালকা হয়ে গিয়েছে। এত বড় বিধ্বংসী একটা রোবট এত সহজে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনাটা খুব সাধারণ লেগেছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এই শেষ ঘটনাটা পুরো গল্পের মেরিট অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছে। একটা লেখার ফিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাঠকরা দিন শেষে এটার কথাই মনে রাখে।
বানান ভুল নেই বললেই চলে। তাছাড়াও চরিত্র চিত্রায়ন ও ঘটনার পরস্পরা আমার কাছে ভালো লেগেছে। শুধু শেষের ঘটনাটা এসে কেমন জানি লাগলো।