Rajat invested a lifetime designing and developing Heuristic Tools of Learning (Science subjects such as Math, Physics and Chemistry), before embarking on In Dystopia, a novel taking shape within his for over three decades. Although he spent almost four decades in the Technology Sector, there is yet a backstory to his passion for writing; when he was fourteen, he wrote his first novella. During all his Academic Years he wrote, adapted, acted and directed many stage plays. In short, he never stopped writing, albeit as a hobby. However, twenty years ago he sold his Technology Business and became a professional writer. He lives in Singapore with his wife and children. He is also an avid Tennis and 8-ball Pool player.
বাংলা সাহিত্যে ‘মফঃস্বল’ চিরকালই এক অদ্ভুত রোমান্টিসিজম ও বিষাদের জন্ম দিয়েছে। এটি পুরোপুরি গ্রাম নয়, আবার পুরোপুরি মেট্রোপলিটন শহরও নয় - এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থান করা এক লিমিনাল স্পেস বা সন্ধিক্ষণের পরিসর। ‘মফঃস্বলের ভেজা আলখাল্লা’ বইটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে এমন একটা সময়ে যখন নগরায়ণ ও বিশ্বায়নের আগ্রাসন মফঃস্বলের পুরোনো, আটপৌরে গড়নটা কে একটু একটু করে ভেঙে দিচ্ছে। বইটির ২০ টি ছোট ও মাঝারি দৈর্ঘ্যের গল্প শুধুমাত্র কিছু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গল্প বলেনি বরং একটি অবলুপ্ত হতে বসা জনপদের স্যাঁতস্যাঁতে ছবি এঁকেছে। যেখানে পুরোনো বনেদি বাড়ির শ্যাওলা ধরা দেওয়াল আর মরচে পড়া টিনের চালের পাশেই মাথা তুলছে কংক্রিট আর কাঁচের বহুতল। এই রূপান্তরের মাঝে মধ্যবিত্তের যে দমবন্ধ করা অস্তিত্বের সংকট ও নীরব স্থবিরতা পড়ে থাকে, লেখক রজত দাস তাকেই কলমের আঁচড়ে তুলে এনেছেন। মফঃস্বলের মানুষের যে স্বভাবজাত ভয়, গণ্ডিবদ্ধ জীবনের প্রতি যে মোহ এবং একইসাথে বৃহত্তর পৃথিবীতে ডানা মেলার যে অস্ফুট হাহাকার, লেখক তাকে এক সুতোর বাঁধনে বাঁধতে চেয়েছেন। তাদের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা, পারস্পরিক ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা এবং দিনের শেষে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর যে বোধ সব মিলিয়ে তারা এক জীবন্ত ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। রজত দাসের লেখার ধরন আমার বেশ ছবির মতো (Picturesque) মনে হয়েছে। লেখায় অযথা আড়ম্বর নেই, কিন্তু এক ধরনের মগ্নতা আছে। তিনি খুঁটিনাটি বর্ণনার চেয়ে অনুভূতির ওপরে বেশি জোর দিয়েছেন। ভাষার মধ্যে এক ধরনের নস্টালজিক মায়াবী আবরণ থাকলেও তা কখনোই নিছক আবেগে পর্যবসিত হয়নি। চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বোঝাতে তিনি মাঝেমাঝে মনোলগ ও রূপকের আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর গদ্য একইসাথে ভারী এবং প্রবহমান, যা মনের গভীর দাগ কেটেছে কিন্তু একঘেয়েমির জন্ম দেয় নি। সবশেষে বলা যায়, ‘মফঃস্বলের ভেজা আলখাল্লা’ এমন একটি কাজ যা আমার মনে হয় দ্রুত পড়ে ফেলা যায় না বা উচিত নয়, এর স্যাঁতসেঁতে বিষাদকে মগজে উপলব্ধি করতে হয়। রজত দাস দেখিয়েছেন, মফঃস্বল কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয় বরং তার চেয়ে অনেক বেশিমাত্রায় একটি মানসিক অবস্থা। আজকের দ্রুতগতির জগতে যাদের এখনও ভাবতে ভালো লাগে পুরোনো দিনগুলোর কথা, ছোট্ট বাড়ি, স্কুলশেষের হুটোপুটি, কালবৈশাখী ঝড় বা টিউশন শেষের প্রেম, তাদের এই বইটি ভালো লাগবে আশা করি।
জীবন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প দিয়ে সাজানো এই বই। ছেলের সরল প্রশ্ন থেকে মাঝরাতে হেঁটে যাওয়া বৃদ্ধ মানুষ সবাই যখন ছাপা হয় বইয়ের পাতায় তখন মনে হয় এ তো আমার ঘটনা , ভাবিনি কোনোদিন। কখনো উঠে এসেছে জাতি ধর্মের কথা আবার কখনো পাড়ার নিছক গল্পগুলো। সাধারণ জীবনযাপনের গল্পগুলো কখন যে মন ছুঁয়ে যায় হয়তো খেয়াল রাখা হয় না । মফঃস্বলের গল্প গুলো হয়তো বেশি আলো করে রাখে চারপাশ। ফিরে ফিরে আসে সহজ সরল জীবনগুলো , মনে পড়লেও পড়া বারণ । লেখকও বুঝতে পারেন না দুনিয়াটা বদলে গিয়ে ভালো হলো না খারাপ । এসব বই নিয়ে বেশি কিছু বলার থাকে না। তাই লেখকের লেখা ধার করেই - "আলখাল্লা পরা মানুষ জুড়ে নেয় রঙ, কুড়িয়ে নেয় সূঁচসুতোর সেলাই, যেভাবে মফঃস্বল পাশ ফেরে শেষ রাতে, ভেজে এবং অপেক্ষমান কুয়ো তলায় জল জমে নিঃসীম। তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, তার বাঁ দিকে বুক পকেট নেই, আছে নীলকন্ঠ পাখির প্রাণ আর অক্ষরহীন কাবিননামা। সে জানে, দুনিয়ার সব পাখি ঘরে ফিরবে একদিন। জানে, ধানক্ষেতের গা ছুঁয়ে একদিন চলে যাবে সে। যাবার আগে পিছন ফিরে দেখে নেবে, বাচ্চারা তার হেসে উঠছে শীতলক্ষ্যা নদীটির মতো।"