What do you think?


অনন্তলোকে অন্তর্ধান
৮ মার্চ ২০১৪।
মাঝ আকাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় একটি যাত্রীবাহী বিমান—ফ্লাইট SA-309।
২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু।
কোনো বিপদসংকেত নেই।
কোনো ধ্বংসাবশেষ নেই।
সহসাই… উধাও!!!
বছরের পর বছর ধরে পৃথিবী খুঁজে ফিরেছে এই অন্তর্ধানের প্রকৃত কারণ। কিন্তু যদি বলি—কেউ একজন হয়তো সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল?
ছবি ও ভিডিওর ফ্রেমে মুহূর্তকে বন্দি করাই যার নেশা,
সেই তাজওয়ার এক রহস্যের টানে পাড়ি জমায় মালয়রেখার গভীর জঙ্গলে। বন্ধু রিয়াসাদের অনুরোধে সঙ্গে থাকে একটি ড্রোন। কিন্তু অনুসন্ধান করতে গিয়েই
তাজওয়ার জড়িয়ে পড়ে আরও অদ্ভুত এক ঘটনার জালে।
নিখোঁজ হয় ফ্লাইট SA-309।
আর সেই ২৩৯ জন নিখোঁজ মানুষদের একজন…
তাজওয়ার।
এই রহস্যের গভীরে যেতে চায় কৌতূহলী ঈশান।
তথ্যের পর তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে ও ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় এমন এক সত্যের সামনে— যা শুধু যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যায় না, বাস্তবতার সীমানাকেও চ্যালেঞ্জ করে।
তাজওয়ার কি সত্যিই হারিয়ে গেছে? নাকি সে প্রবেশ করেছে এমন এক অনন্তলোকে, যেখান থেকে ফেরার পথ নেই?
রহস্য, অনুসন্ধান আর অস্তিত্বের সীমা নিয়ে এক টানটান থ্রিলার—
“অনন্তলোকে অন্তর্ধান”
মাঝ আকাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় একটি যাত্রীবাহী বিমান—ফ্লাইট SA-309।
২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু।
কোনো বিপদসংকেত নেই।
কোনো ধ্বংসাবশেষ নেই।
সহসাই… উধাও!!!
বছরের পর বছর ধরে পৃথিবী খুঁজে ফিরেছে এই অন্তর্ধানের প্রকৃত কারণ। কিন্তু যদি বলি—কেউ একজন হয়তো সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল?
ছবি ও ভিডিওর ফ্রেমে মুহূর্তকে বন্দি করাই যার নেশা,
সেই তাজওয়ার এক রহস্যের টানে পাড়ি জমায় মালয়রেখার গভীর জঙ্গলে। বন্ধু রিয়াসাদের অনুরোধে সঙ্গে থাকে একটি ড্রোন। কিন্তু অনুসন্ধান করতে গিয়েই
তাজওয়ার জড়িয়ে পড়ে আরও অদ্ভুত এক ঘটনার জালে।
নিখোঁজ হয় ফ্লাইট SA-309।
আর সেই ২৩৯ জন নিখোঁজ মানুষদের একজন…
তাজওয়ার।
এই রহস্যের গভীরে যেতে চায় কৌতূহলী ঈশান।
তথ্যের পর তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে ও ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় এমন এক সত্যের সামনে— যা শুধু যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যায় না, বাস্তবতার সীমানাকেও চ্যালেঞ্জ করে।
তাজওয়ার কি সত্যিই হারিয়ে গেছে? নাকি সে প্রবেশ করেছে এমন এক অনন্তলোকে, যেখান থেকে ফেরার পথ নেই?
রহস্য, অনুসন্ধান আর অস্তিত্বের সীমা নিয়ে এক টানটান থ্রিলার—
“অনন্তলোকে অন্তর্ধান”
94 pages, Hardcover
Published February 1, 2026
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
March 31, 2026
ফটোগ্রাফি তাজওয়ারের নেশা। এটা তার পেশাও বটে। স্ত্রী রুবাবাকে নিয়ে তার ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিলো। কিন্তু মালয়রেখার গভীর জঙ্গল তার জীবন আমূল বদলে দিলো একদিন। কাছের এক বন্ধুর অনুরোধে বাংলাদেশে থেকে দূরের সেই মালয়রেখার জঙ্গলে এক অভিযানে গিয়েছিলো তাজওয়ার। সেখানে তার ড্রোন ক্যামেরায় এমন কিছু দৃশ্য ধরা পড়ে যা প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়ে যাবে পুরো বিশ্বজুড়ে। স্পর্শকাতর এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু করার আগেই দেশে ফেরার পথে নিখোঁজ হলো তাজওয়ার। শুধু সে-ই না, সেদিন তাজওয়ার সহ নিখোঁজ হয়েছিলো SA 309 নামক আস্ত বিমানটাই। চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলো তাজওয়ার সহ বিমানের সমস্ত যাত্রী। যেন হঠাৎ করেই সমস্ত যাত্রী সমেত হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিলো পুরো ফ্লাইটটা।
ঈশান বরাবরই কৌতূহলী স্বভাবের ছেলে। তার স্ত্রী নওশাবা নিখোঁজ তাজওয়ারের শ্যালিকা। একটা প্রাইভেট অর্গানাইজেশনের হয়ে ঈশান কাজ করে সাবেক সোমালিয়ান জলদস্যুদের পুনর্বাসন নিয়ে। এরই এক প্রোজেক্ট নিয়ে ঈশান আর নওশাবা পাড়ি জমালো কেনিয়ার মোম্বাসায়। আর ঠিক এই জায়গাটা থেকেই ঈশানের সাথে রীতিমতো খেলতে শুরু করলেন ভাগ্যবিধাতা। না চাইতেও তাকে এমন কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো, যা কখনও সে স্বপ্নেও ভাবেনি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েও ঈশানের অনুসন্ধিৎসু মন এমন কিছু সত্য খুঁজে বের করলো, যেগুলোর সাথে প্রায় আড়াই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ফ্লাইট SA 309-এর এক গভীর সম্পর্ক আছে৷
মালয়েশিয়ার মালয়রেখার জঙ্গল থেকে শুরু হওয়া এই রহস্য ধীরে ধীরে আরো জটিল বাঁক নিতে লাগলো। তাজওয়ারের অন্তর্ধান আর জটিল পরিস্থিতিতে পড়া ঈশানের ভাগ্য যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গেলো। কোথাও কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। আবার সম্পূর্ণ অজানা-অচেনা কোথাও কোন মানুষ খুঁজে ফিরতে লাগলো আজীবন আকাঙ্ক্ষিত নির্বাণ। এই গল্পের সাথে জড়িত প্রত্যেকটা মানুষের ভাগ্য ও গন্তব্য যেন ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে লাগলো। অনন্তলোকে অন্তর্ধান বোধহয় এমনই হয়, এভাবেই হয়।
লেখক ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের গল্প বলার ধরণ চমৎকার। নির্মেদ আর বাহুল্যহীন তাঁর লেখা। 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এর প্লটটাও বেশ ইন্টারেস্টিং। মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটা এক বসায় পড়ে ফেলার মতো। এইটুকু কলেবরের মধ্যেই লেখক এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছেন উপন্যাসটার মূল প্লট আর এর চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের উত্থান-পতনের বিষয়গুলো। তবে আমার মতে এই দুটো দিক ঠিক রাখতে গিয়ে ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এর নিখোঁজ বিমান রহস্যটার দিকে কিছুটা কম ফোকাস করে ফেলেছেন। বইটা পড়ে শেষ করার পর অনেক প্রশ্নের উত্তর যেমন পেয়েছি, তেমনি অনেক প্রশ্নের উত্তর আবার পাইনি।
'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এ যেমন রহস্য ছিলো, তেমনই ছিলো পারিবারিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন। সেই সাথে কিছুটা ইন্টারন্যাশনাল কন্সপিরেসি থিওরির ঝলকও এখানে লক্ষ্য করেছি। এই কন্সপিরেসির থিমটা নিয়ে লেখকের উচিত ছিলো আরেকটু ব্রিফলি আলোচনা করা। এতে বইটা আরো বেশি সমৃদ্ধ হতো। মালয়রেখার জঙ্গল বিষয়ক ঘটনাগুলো সম্পর্কে লেখক যা লিখেছেন তা অনেকাংশেই ভাসা ভাসা বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। বাংলাদেশ কিভাবে ইন্টারন্যাশনালি এসবের সাথে জড়িয়ে গেলো সেগুলো সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানতে পারলে ভালো লাগতো। 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এ উল্লিখিত অপহরণের সিকোয়েন্সগুলোতেও বিস্তারিত বর্ণনার অভাব ছিলো। যে কারণে এই দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বইটা পড়তে গিয়ে। এই উপন্যাসে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাজওয়ারের আইডিওলজি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত লিখবো না। স্পয়লার হয়ে যাবে।
এই উপন্যাসের শেষের দিকে এসে যেন শিলাবৃষ্টির মতো একের পর এক টুইস্টের বর্ষণ শুরু হয়ে গেছিলো। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু টুইস্ট দারুণ উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে। আবার কিছু টুইস্ট ঠিকঠাক মাথায় ঢোকেনি। যেমন, ঈশানের চাইল্ডহুড ট্রমার কথা ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার উল্লেখ করেছেন বটে। তবে সেটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু লেখেননি। ছোটখাটো এই লুপহোলগুলো সামলে নেয়া গেলে 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান' একটা চমৎকার উপন্যাস হয়ে উঠতে পারতো। এতে অবশ্য এর কলেবর আরো খানিকটা বৃদ্ধি পেতো। তবে সেটা ভালোই হতো। কারণ ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের লেখার ধরণ বেশ ভালো।
এই বইয়ের প্রচ্ছদটা পুরোপুরি এআই নির্ভর না হয়ে একটু আলাদা রকমের হলে আরো ভালো লাগতো। সম্পাদনা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। ভুল বানানের দেখা একদমই পাইনি। তবে একটা বিষয় চোখে বেধেছে। সেটা হলো, লেখক চরিত্রগুলোর সংলাপে কোন ইনভার্টেড কমা ব্যবহার করেননি। ভবিষ্যতে ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের লেখার আরো উন্নতি হবে আশা করি। কারণ, উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে। অ্যাডভেঞ্চার, মিস্ট্রি আর থ্রিলারের কম্বিনেশনে লেখা ছোট্ট এই উপন্যাসটা ওয়ান টাইম রিড হিসেবে খারাপ না। চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৩/৫
বই: অনন্তলোকে অন্তর্ধান
লেখক: ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার
প্রকাশক: স্বরে অ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঘরানা: মিস্ট্রি/অ্যাডভেঞ্চার/থ্রিলার
প্রচ্ছদ: অজিত দাস
পৃষ্ঠা: ৯৪
মুদ্রিত মূল্য: ২৭০ টাকা
ফরম্যাট: হার্ডকভার (ক্রাউন)
(৩১ মার্চ, ২০২৬, দুপুর ২ টা ২৮ মিনিট; নাটোর)
ঈশান বরাবরই কৌতূহলী স্বভাবের ছেলে। তার স্ত্রী নওশাবা নিখোঁজ তাজওয়ারের শ্যালিকা। একটা প্রাইভেট অর্গানাইজেশনের হয়ে ঈশান কাজ করে সাবেক সোমালিয়ান জলদস্যুদের পুনর্বাসন নিয়ে। এরই এক প্রোজেক্ট নিয়ে ঈশান আর নওশাবা পাড়ি জমালো কেনিয়ার মোম্বাসায়। আর ঠিক এই জায়গাটা থেকেই ঈশানের সাথে রীতিমতো খেলতে শুরু করলেন ভাগ্যবিধাতা। না চাইতেও তাকে এমন কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো, যা কখনও সে স্বপ্নেও ভাবেনি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েও ঈশানের অনুসন্ধিৎসু মন এমন কিছু সত্য খুঁজে বের করলো, যেগুলোর সাথে প্রায় আড়াই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ফ্লাইট SA 309-এর এক গভীর সম্পর্ক আছে৷
মালয়েশিয়ার মালয়রেখার জঙ্গল থেকে শুরু হওয়া এই রহস্য ধীরে ধীরে আরো জটিল বাঁক নিতে লাগলো। তাজওয়ারের অন্তর্ধান আর জটিল পরিস্থিতিতে পড়া ঈশানের ভাগ্য যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গেলো। কোথাও কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। আবার সম্পূর্ণ অজানা-অচেনা কোথাও কোন মানুষ খুঁজে ফিরতে লাগলো আজীবন আকাঙ্ক্ষিত নির্বাণ। এই গল্পের সাথে জড়িত প্রত্যেকটা মানুষের ভাগ্য ও গন্তব্য যেন ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে লাগলো। অনন্তলোকে অন্তর্ধান বোধহয় এমনই হয়, এভাবেই হয়।
লেখক ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের গল্প বলার ধরণ চমৎকার। নির্মেদ আর বাহুল্যহীন তাঁর লেখা। 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এর প্লটটাও বেশ ইন্টারেস্টিং। মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটা এক বসায় পড়ে ফেলার মতো। এইটুকু কলেবরের মধ্যেই লেখক এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছেন উপন্যাসটার মূল প্লট আর এর চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের উত্থান-পতনের বিষয়গুলো। তবে আমার মতে এই দুটো দিক ঠিক রাখতে গিয়ে ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এর নিখোঁজ বিমান রহস্যটার দিকে কিছুটা কম ফোকাস করে ফেলেছেন। বইটা পড়ে শেষ করার পর অনেক প্রশ্নের উত্তর যেমন পেয়েছি, তেমনি অনেক প্রশ্নের উত্তর আবার পাইনি।
'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এ যেমন রহস্য ছিলো, তেমনই ছিলো পারিবারিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন। সেই সাথে কিছুটা ইন্টারন্যাশনাল কন্সপিরেসি থিওরির ঝলকও এখানে লক্ষ্য করেছি। এই কন্সপিরেসির থিমটা নিয়ে লেখকের উচিত ছিলো আরেকটু ব্রিফলি আলোচনা করা। এতে বইটা আরো বেশি সমৃদ্ধ হতো। মালয়রেখার জঙ্গল বিষয়ক ঘটনাগুলো সম্পর্কে লেখক যা লিখেছেন তা অনেকাংশেই ভাসা ভাসা বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। বাংলাদেশ কিভাবে ইন্টারন্যাশনালি এসবের সাথে জড়িয়ে গেলো সেগুলো সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানতে পারলে ভালো লাগতো। 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান'-এ উল্লিখিত অপহরণের সিকোয়েন্সগুলোতেও বিস্তারিত বর্ণনার অভাব ছিলো। যে কারণে এই দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বইটা পড়তে গিয়ে। এই উপন্যাসে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাজওয়ারের আইডিওলজি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত লিখবো না। স্পয়লার হয়ে যাবে।
এই উপন্যাসের শেষের দিকে এসে যেন শিলাবৃষ্টির মতো একের পর এক টুইস্টের বর্ষণ শুরু হয়ে গেছিলো। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু টুইস্ট দারুণ উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে। আবার কিছু টুইস্ট ঠিকঠাক মাথায় ঢোকেনি। যেমন, ঈশানের চাইল্ডহুড ট্রমার কথা ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার উল্লেখ করেছেন বটে। তবে সেটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু লেখেননি। ছোটখাটো এই লুপহোলগুলো সামলে নেয়া গেলে 'অনন্তলোকে অন্তর্ধান' একটা চমৎকার উপন্যাস হয়ে উঠতে পারতো। এতে অবশ্য এর কলেবর আরো খানিকটা বৃদ্ধি পেতো। তবে সেটা ভালোই হতো। কারণ ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের লেখার ধরণ বেশ ভালো।
এই বইয়ের প্রচ্ছদটা পুরোপুরি এআই নির্ভর না হয়ে একটু আলাদা রকমের হলে আরো ভালো লাগতো। সম্পাদনা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। ভুল বানানের দেখা একদমই পাইনি। তবে একটা বিষয় চোখে বেধেছে। সেটা হলো, লেখক চরিত্রগুলোর সংলাপে কোন ইনভার্টেড কমা ব্যবহার করেননি। ভবিষ্যতে ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখারের লেখার আরো উন্নতি হবে আশা করি। কারণ, উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে। অ্যাডভেঞ্চার, মিস্ট্রি আর থ্রিলারের কম্বিনেশনে লেখা ছোট্ট এই উপন্যাসটা ওয়ান টাইম রিড হিসেবে খারাপ না। চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৩/৫
বই: অনন্তলোকে অন্তর্ধান
লেখক: ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার
প্রকাশক: স্বরে অ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঘরানা: মিস্ট্রি/অ্যাডভেঞ্চার/থ্রিলার
প্রচ্ছদ: অজিত দাস
পৃষ্ঠা: ৯৪
মুদ্রিত মূল্য: ২৭০ টাকা
ফরম্যাট: হার্ডকভার (ক্রাউন)
(৩১ মার্চ, ২০২৬, দুপুর ২ টা ২৮ মিনিট; নাটোর)
April 29, 2026
কাহিনী সংক্ষেপ স্কিপ করে গেলাম, শুধু আলোচনা সমালোচনা হবে।
২০১৪ সালের মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ হওয়া বিমানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাহিনী। শুরুতে কাহিনি পাঠককে টেনে রাখে, বিশেষ করে রহস্যময় পরিবেশ ও ক্রমশ জমতে থাকা অনিশ্চয়তা বইটির শক্তিশালী দিক। লেখক ছোট পরিসরে বড় গল্প বলতে চেয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। ভাষা সাবলীল, গতি মোটামুটি ভালো, এবং রহস্য ধরে রাখার চেষ্টা আছে। তাছাড়া গল্পের পরিবেশ এবং জায়গাগুলো নিয়ে পড়াশোনা করে লিখেছেন। বর্ণনা সহজ সরল।
তবে বইটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর নির্মাণে। গল্পজুড়ে বহু ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, কিন্তু কেন ঘটল, কোন চরিত্র কেন এমন ভাবল, বা একটি সিদ্ধান্তের পেছনে কী মানসিক কিংবা বাস্তব কারণ কাজ করল—এসবের যথেষ্ট ব্যাখ্যা অনেক সময় অনুপস্থিত। ফলে চরিত্ররা মানুষ হিসেবে নয়, বরং প্লটকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, লেখক শেষের চমকটিকে কেন্দ্র করে এত বেশি মনোযোগ দিয়েছেন যে পুরো পথজুড়ে cause and effect, সংলাপের ধারাবাহিকতা এবং চরিত্রের আচরণের স্বাভাবিকতা বারবার নষ্ট হয়েছে। এতে শেষের টুইস্ট যতটা চমকে দেওয়ার কথা, ততটা না হয়ে বরং অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
কিন্তু অসম্পূর্ণ বাক্য, তথ্যের ফাঁক, অযৌক্তিক অনুমান এবং চরিত্রগত অসঙ্গতি বইটির সম্ভাবনাকে অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সব মিলিয়ে, আইডিয়া শক্তিশালী, কিন্তু execution সেই শক্তিকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি।
ব্যবচ্ছেদ ও অসঙ্গতি (স্পয়লার অ্যালার্ট)
সবচেয়ে বড় প্লট হোল:
একইভাবে, সালসাবিলের প্রতিশোধও মাত্রাতিরিক্ত মনে হয়; একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাখ্যান থেকে সরাসরি জীবননাশের ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। Cause too small, consequence too extreme.
তাজকে যে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে পাঠানো হয়, সেটিও কাহিনির প্রয়োজনেই হয়েছে বলে মনে হয়, চরিত্রগত যুক্তি থেকে নয়। তার কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা কারণ দেখানো হয়নি, যা তাকে এই কাজে স্বাভাবিকভাবে জড়িত করে।
অন্যান্য অসঙ্গতিগুলো
১৭ পৃষ্ঠায় আমরা জানতে পারি, স্পেশাল ডিপার্টমেন্টে জয়েন করার পর থেকে রিয়াসাদের সাথে তাজের কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ ৮৬ পৃষ্ঠায় তাজ হঠাৎ বলে ওঠে, “আমার পারিবারিক টানাপোড়নের কথা ও (রিয়াসাদ) জানতো।” কোনো যোগাযোগ না থাকলে রিয়াসাদ তাজের এই ব্যক্তিগত সংকটের কথা জানল কীভাবে? এর কোনো ব্যাখ্যা বইয়ে নেই।
পেইজ ১৯: রিয়াসাদকে অনুসন্ধানে সাহায্য করার জন্যে তাজকে বলে এবং লাইফ রিস্কের কথাও বলে। প্রথমত, রিয়াসাদ কীভাবে শিউর হয় যে তার কথায় তাজ রাজি হবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও? দ্বিতীয়ত, রিয়াসাদের নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলার কারন আছে, কিন্তু তাজ কেন তার কথায় রাজি হয়েছে উইদ আউট এনি মোটিভ? পারিবারিকভাবে হয়তো তাজ সুখী নয়, তাই বলে হুট করে বন্ধু একদিন এসে রিস্কি কাজ করতে বলবে আর সে ঝাপিয়ে পড়বে?
বইয়ের সম্পাদনায় বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ২৭ পৃষ্ঠায় “তার একমাত্র মেয়ে- থ্যালাসেমিয়া।” এবং ৪৭ পৃষ্ঠায় ”ভারত মহাসাগরের সেই অংশটি, যেখান থেকে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে”।
পেইজ ৩১: অপরিচিত নাম্বার থেকে তাজের কাছে হাসনাইন সাহেবের কল আসে, তিনি হাসপাতালে। পাশের বাসার, বাসা ভাড়া নিতে তাজ সাহায্য করেছে এবং আরোও অনেক কাজে উনাকে সাহায্য করেন, তারপরও নাম্বার সেইভ নেই? পরে বর্ণনাও নেই যে অন্য কারো মোবাইল থেকে করেছ কিনা।
পৃষ্ঠা ৩২: রিয়াসাদ আত্মহত্যা করলেও তাজ কোনো প্রমাণ ছাড়াই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নেয় যে, মালয়রেখার সিক্রেট ইনভেস্টিগেশনের কারণেই রিয়াসাদ খুন হয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ রহস্য সমাধানে নেমে পড়ার ইচ্ছে জাগে তার। একইভাবে, ৬০ পৃষ্ঠায় ঈশানও কোনো জোরালো সূত্র ছাড়াই ধরে নেয় বিমান নিখোঁজ হওয়াটা দুর্ঘটনা নয় এবং তাজের ঘরেই এর সূত্র লুকিয়ে আছে। ঈশান কীভাবে শিউর হয়ে গেলো বিমান হারিয়ে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয় এবং তাজের ঘরে এর একটা সূত্র থাকতে পারে?
৫৬ পৃষ্ঠা: জাজায়ি একসময় বড় জলদস্যু ছিলো, কিন্তু এখন সে শুধরে গেছে বলে মনে করে। পেইজ ৮৮ তে আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা সংস্থার লোক বলে- জাজায়ি শুধু এনফোর্সার ছিলো না এক বড় চক্রের মূল সংযোগ ছিলো।
আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা সংস্থার লোক এতো কাবিল যে, ঈশানকে শুরু থেকে ফলো করছে, অচেনা দ্বীপ থেকে তাকে খুঁজে বের করেছে, কিন্তু এতোদিন ধরে খুঁজেও জাজায়িকে পেলো না, যেখানে জাজায়ি সাধারণ নৌকাচালকের মতো ঈশানকে সাহায্য করেছে ও পরে তাকে অপহরণ করে। ৬৯ পেইজে বলা আছে- জলদস্যুরা কী কী কারনে অপহরণ করে। জাজায়ি কেন ঈশানকে অপহরণ করল, তার মোটিভও স্পষ্ট নয়। ঈশানের কাছে না আছে টাকা, না কোনো গোপন তথ্য।
পৃষ্ঠা ৫৮: ঈশানের মনে হয়, পুরো একটি যাত্রীবাহী বিমান রাডার থেকে মুছে যাওয়ার সাথে তাজের মানসিক টানাপোড়েন ও স্ত্রীর সাথে অভিমানের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে! আন্তর্জাতিক মানের একটি দুর্ঘটনার সাথে একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত ডিপ্রেশনের সম্পর্ক খোঁজার এই চেষ্টাটি বেশ অযৌক্তিক।
পৃষ্ঠা ৭৬: “এ যেন ওর চেনা ব্যক্তিটি নয়”- তাজকে নিয়ে ঈশানের ভাবনা।
অথচ তাজের সাথে ঈশানের তেমন বেশি কথাই হয়নি বা তারা খুব ঘনিষ্ঠও ছিল না। পরিচয়ের ক’দিনের মধ্যেই তাজ নিখোঁজ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন মন্তব্য করার মতো ভিত্তি ঈশানের ছিল না।
পৃষ্ঠা ৮৪: তাজের ডায়েরি পড়ে ঈশান বলে, তাজের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে যে কেউ সিরিয়াল কিলার বা ড্রাগ অ্যাডিক্ট হতে পারত। পারিবারিক অশান্তি বা ডিপ্রেশনে ভুগে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে, কিন্তু সরাসরি সিরিয়াল কিলার হয়ে যাওয়ার মতো উপসংহার টানাটা অত্যুক্তি।
পৃষ্ঠা ৮৬: বোর্ডিংয়ের ঠিক আগে অম্লানের কল আসে। তারপর কারা যেনো আমাদের অপহরণ করে। পেইজ ৪১ -এ, বোর্ডিং গেইটে যখন দাড়িয়ে তখন অপরিচিত নাম্বার (অম্লান) থেকে কল আসলে তাজ যতটা না বিস্মিত হয় তার চেয়ে বেশি চিন্তিত হয়। কিন্তু কেন? কী আশঙ্কা করেছিলো? ’আমাদের অপহরণ করে’- ’আমাদের’ দ্বারা তাজ কী অম্লান এবং মার্গারেটকেও বুঝিয়েছে? অম্লান, মার্গারেট পুলিশের হেফাযতে ছিলো। অপহরণকারীরা ক্ষমতাবান/সরকারি লোক ছিলো বলে নাহয় পুলিশ হেফাযতের এই দুইজনকে সরাতে পেরেছে। প্রশ্ন হলো, বোর্ডিং গেটের মতো কঠোর নিরাপত্তা ও জনবহুল এলাকা থেকে তাজকে কীভাবে এত সহজে অপহরণ করা হলো? তার কোনো বর্ণনা নেই।
এখানে বড় গ্যাপ হলো— সবাই মনে করে তাজ বিমানের সাথেই হারিয়ে গেছে। কিন্তু, তাজ বিমানে ওঠেইনি। কেউ চেক-ইন করে বোর্ডিং না করলে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ জানতে পারে। বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর তাজের পরিবারকে এয়ারপোর্ট/বিমান কর্তৃপক্ষ কেন জানানো হলো না যে সে ঐ ফ্লাইটে ছিলই না? বা তাজের শ্বশুড় দস্তগীর সাহেব গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা হয়েও এই বিষয়টি ধরতে পারেননি।
এছাড়া, অপহৃত অবস্থায় তাজ কীভাবে বিমান নিখোঁজ হওয়ার খবর পেল এবং শেষ পর্যন্ত অচেনা দ্বীপে কীভাবে পৌঁছাল, তা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
পৃষ্ঠা ৮৯: ঈশানের হঠাৎ খটকা লাগে এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারে হাসনাইন সাহেবের মেয়ে নীলাদ্রী মূলত তাজের বোন (পালক)। কিন্তু ঈশানের কিসের ভিত্তিতে খটকা লাগল বা সে কীভাবে এই তথ্য বের করল, তার কোনো সূত্র দেওয়া হয়নি। কেবল শেষে একটি চমক দেওয়ার জন্যই এই অংশটি জোড়া তালি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়।
পৃষ্ঠা ৯১: মিশকোর আড়ালে সালসাবিল কাদের কাছে তথ্য পাচার করত তা স্পষ্ট নয়। আবার, সালসাবিলের মায়ের মতে মিশকোর সাথে জড়িত কারো বেঁচে থাকার কথা না হলেও, সালসাবিলের শেষ পরিণতি কী হলো তা লেখক জানাননি। (৯০ পৃষ্ঠা)
পৃষ্ঠা ৮৭: তাজের পরিবারকে রক্ষার জন্য ঈশান তাজের সত্যটা চেপে গেল, ঠিক আছে। কিন্তু মালয়রেখার দুর্নীতির সত্যটা সে বেনামে প্রকাশ করতে পারত। তা না করে সে পুরো সত্যটাই লুকিয়ে রাখল। তাহলে তাজের এত বড় আত্মত্যাগ এবং ঈশানের নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার ফলাফল কী দাঁড়াল?
একটি সুন্দর আইডিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অপূর্ণাঙ্গ ইমারত। এর আবেগ এবং থিম পাঠককে নাড়া দিলেও, লেখকের ‘কজ অ্যান্ড ইফেক্ট’ নিয়ে কম ভাবা এবং কেবল শেষের চমকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা গল্পটিকে দুর্বল করে দিয়েছে। অনেকগুলো ঘটনা শুধু ‘হয়েছে’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘কেন হলো’ তার উত্তর দেওয়া হয়নি।
রেটিং: 2.5/5
২০১৪ সালের মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ হওয়া বিমানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাহিনী। শুরুতে কাহিনি পাঠককে টেনে রাখে, বিশেষ করে রহস্যময় পরিবেশ ও ক্রমশ জমতে থাকা অনিশ্চয়তা বইটির শক্তিশালী দিক। লেখক ছোট পরিসরে বড় গল্প বলতে চেয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। ভাষা সাবলীল, গতি মোটামুটি ভালো, এবং রহস্য ধরে রাখার চেষ্টা আছে। তাছাড়া গল্পের পরিবেশ এবং জায়গাগুলো নিয়ে পড়াশোনা করে লিখেছেন। বর্ণনা সহজ সরল।
তবে বইটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর নির্মাণে। গল্পজুড়ে বহু ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, কিন্তু কেন ঘটল, কোন চরিত্র কেন এমন ভাবল, বা একটি সিদ্ধান্তের পেছনে কী মানসিক কিংবা বাস্তব কারণ কাজ করল—এসবের যথেষ্ট ব্যাখ্যা অনেক সময় অনুপস্থিত। ফলে চরিত্ররা মানুষ হিসেবে নয়, বরং প্লটকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, লেখক শেষের চমকটিকে কেন্দ্র করে এত বেশি মনোযোগ দিয়েছেন যে পুরো পথজুড়ে cause and effect, সংলাপের ধারাবাহিকতা এবং চরিত্রের আচরণের স্বাভাবিকতা বারবার নষ্ট হয়েছে। এতে শেষের টুইস্ট যতটা চমকে দেওয়ার কথা, ততটা না হয়ে বরং অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
কিন্তু অসম্পূর্ণ বাক্য, তথ্যের ফাঁক, অযৌক্তিক অনুমান এবং চরিত্রগত অসঙ্গতি বইটির সম্ভাবনাকে অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সব মিলিয়ে, আইডিয়া শক্তিশালী, কিন্তু execution সেই শক্তিকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি।
ব্যবচ্ছেদ ও অসঙ্গতি (স্পয়লার অ্যালার্ট)
সবচেয়ে বড় প্লট হোল:
একইভাবে, সালসাবিলের প্রতিশোধও মাত্রাতিরিক্ত মনে হয়; একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাখ্যান থেকে সরাসরি জীবননাশের ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। Cause too small, consequence too extreme.
তাজকে যে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে পাঠানো হয়, সেটিও কাহিনির প্রয়োজনেই হয়েছে বলে মনে হয়, চরিত্রগত যুক্তি থেকে নয়। তার কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা কারণ দেখানো হয়নি, যা তাকে এই কাজে স্বাভাবিকভাবে জড়িত করে।
অন্যান্য অসঙ্গতিগুলো
১৭ পৃষ্ঠায় আমরা জানতে পারি, স্পেশাল ডিপার্টমেন্টে জয়েন করার পর থেকে রিয়াসাদের সাথে তাজের কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ ৮৬ পৃষ্ঠায় তাজ হঠাৎ বলে ওঠে, “আমার পারিবারিক টানাপোড়নের কথা ও (রিয়াসাদ) জানতো।” কোনো যোগাযোগ না থাকলে রিয়াসাদ তাজের এই ব্যক্তিগত সংকটের কথা জানল কীভাবে? এর কোনো ব্যাখ্যা বইয়ে নেই।
পেইজ ১৯: রিয়াসাদকে অনুসন্ধানে সাহায্য করার জন্যে তাজকে বলে এবং লাইফ রিস্কের কথাও বলে। প্রথমত, রিয়াসাদ কীভাবে শিউর হয় যে তার কথায় তাজ রাজি হবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও? দ্বিতীয়ত, রিয়াসাদের নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলার কারন আছে, কিন্তু তাজ কেন তার কথায় রাজি হয়েছে উইদ আউট এনি মোটিভ? পারিবারিকভাবে হয়তো তাজ সুখী নয়, তাই বলে হুট করে বন্ধু একদিন এসে রিস্কি কাজ করতে বলবে আর সে ঝাপিয়ে পড়বে?
বইয়ের সম্পাদনায় বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ২৭ পৃষ্ঠায় “তার একমাত্র মেয়ে- থ্যালাসেমিয়া।” এবং ৪৭ পৃষ্ঠায় ”ভারত মহাসাগরের সেই অংশটি, যেখান থেকে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে”।
পেইজ ৩১: অপরিচিত নাম্বার থেকে তাজের কাছে হাসনাইন সাহেবের কল আসে, তিনি হাসপাতালে। পাশের বাসার, বাসা ভাড়া নিতে তাজ সাহায্য করেছে এবং আরোও অনেক কাজে উনাকে সাহায্য করেন, তারপরও নাম্বার সেইভ নেই? পরে বর্ণনাও নেই যে অন্য কারো মোবাইল থেকে করেছ কিনা।
পৃষ্ঠা ৩২: রিয়াসাদ আত্মহত্যা করলেও তাজ কোনো প্রমাণ ছাড়াই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নেয় যে, মালয়রেখার সিক্রেট ইনভেস্টিগেশনের কারণেই রিয়াসাদ খুন হয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ রহস্য সমাধানে নেমে পড়ার ইচ্ছে জাগে তার। একইভাবে, ৬০ পৃষ্ঠায় ঈশানও কোনো জোরালো সূত্র ছাড়াই ধরে নেয় বিমান নিখোঁজ হওয়াটা দুর্ঘটনা নয় এবং তাজের ঘরেই এর সূত্র লুকিয়ে আছে। ঈশান কীভাবে শিউর হয়ে গেলো বিমান হারিয়ে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয় এবং তাজের ঘরে এর একটা সূত্র থাকতে পারে?
৫৬ পৃষ্ঠা: জাজায়ি একসময় বড় জলদস্যু ছিলো, কিন্তু এখন সে শুধরে গেছে বলে মনে করে। পেইজ ৮৮ তে আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা সংস্থার লোক বলে- জাজায়ি শুধু এনফোর্সার ছিলো না এক বড় চক্রের মূল সংযোগ ছিলো।
আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা সংস্থার লোক এতো কাবিল যে, ঈশানকে শুরু থেকে ফলো করছে, অচেনা দ্বীপ থেকে তাকে খুঁজে বের করেছে, কিন্তু এতোদিন ধরে খুঁজেও জাজায়িকে পেলো না, যেখানে জাজায়ি সাধারণ নৌকাচালকের মতো ঈশানকে সাহায্য করেছে ও পরে তাকে অপহরণ করে। ৬৯ পেইজে বলা আছে- জলদস্যুরা কী কী কারনে অপহরণ করে। জাজায়ি কেন ঈশানকে অপহরণ করল, তার মোটিভও স্পষ্ট নয়। ঈশানের কাছে না আছে টাকা, না কোনো গোপন তথ্য।
পৃষ্ঠা ৫৮: ঈশানের মনে হয়, পুরো একটি যাত্রীবাহী বিমান রাডার থেকে মুছে যাওয়ার সাথে তাজের মানসিক টানাপোড়েন ও স্ত্রীর সাথে অভিমানের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে! আন্তর্জাতিক মানের একটি দুর্ঘটনার সাথে একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত ডিপ্রেশনের সম্পর্ক খোঁজার এই চেষ্টাটি বেশ অযৌক্তিক।
পৃষ্ঠা ৭৬: “এ যেন ওর চেনা ব্যক্তিটি নয়”- তাজকে নিয়ে ঈশানের ভাবনা।
অথচ তাজের সাথে ঈশানের তেমন বেশি কথাই হয়নি বা তারা খুব ঘনিষ্ঠও ছিল না। পরিচয়ের ক’দিনের মধ্যেই তাজ নিখোঁজ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন মন্তব্য করার মতো ভিত্তি ঈশানের ছিল না।
পৃষ্ঠা ৮৪: তাজের ডায়েরি পড়ে ঈশান বলে, তাজের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে যে কেউ সিরিয়াল কিলার বা ড্রাগ অ্যাডিক্ট হতে পারত। পারিবারিক অশান্তি বা ডিপ্রেশনে ভুগে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে, কিন্তু সরাসরি সিরিয়াল কিলার হয়ে যাওয়ার মতো উপসংহার টানাটা অত্যুক্তি।
পৃষ্ঠা ৮৬: বোর্ডিংয়ের ঠিক আগে অম্লানের কল আসে। তারপর কারা যেনো আমাদের অপহরণ করে। পেইজ ৪১ -এ, বোর্ডিং গেইটে যখন দাড়িয়ে তখন অপরিচিত নাম্বার (অম্লান) থেকে কল আসলে তাজ যতটা না বিস্মিত হয় তার চেয়ে বেশি চিন্তিত হয়। কিন্তু কেন? কী আশঙ্কা করেছিলো? ’আমাদের অপহরণ করে’- ’আমাদের’ দ্বারা তাজ কী অম্লান এবং মার্গারেটকেও বুঝিয়েছে? অম্লান, মার্গারেট পুলিশের হেফাযতে ছিলো। অপহরণকারীরা ক্ষমতাবান/সরকারি লোক ছিলো বলে নাহয় পুলিশ হেফাযতের এই দুইজনকে সরাতে পেরেছে। প্রশ্ন হলো, বোর্ডিং গেটের মতো কঠোর নিরাপত্তা ও জনবহুল এলাকা থেকে তাজকে কীভাবে এত সহজে অপহরণ করা হলো? তার কোনো বর্ণনা নেই।
এখানে বড় গ্যাপ হলো— সবাই মনে করে তাজ বিমানের সাথেই হারিয়ে গেছে। কিন্তু, তাজ বিমানে ওঠেইনি। কেউ চেক-ইন করে বোর্ডিং না করলে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ জানতে পারে। বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর তাজের পরিবারকে এয়ারপোর্ট/বিমান কর্তৃপক্ষ কেন জানানো হলো না যে সে ঐ ফ্লাইটে ছিলই না? বা তাজের শ্বশুড় দস্তগীর সাহেব গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা হয়েও এই বিষয়টি ধরতে পারেননি।
এছাড়া, অপহৃত অবস্থায় তাজ কীভাবে বিমান নিখোঁজ হওয়ার খবর পেল এবং শেষ পর্যন্ত অচেনা দ্বীপে কীভাবে পৌঁছাল, তা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
পৃষ্ঠা ৮৯: ঈশানের হঠাৎ খটকা লাগে এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারে হাসনাইন সাহেবের মেয়ে নীলাদ্রী মূলত তাজের বোন (পালক)। কিন্তু ঈশানের কিসের ভিত্তিতে খটকা লাগল বা সে কীভাবে এই তথ্য বের করল, তার কোনো সূত্র দেওয়া হয়নি। কেবল শেষে একটি চমক দেওয়ার জন্যই এই অংশটি জোড়া তালি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়।
পৃষ্ঠা ৯১: মিশকোর আড়ালে সালসাবিল কাদের কাছে তথ্য পাচার করত তা স্পষ্ট নয়। আবার, সালসাবিলের মায়ের মতে মিশকোর সাথে জড়িত কারো বেঁচে থাকার কথা না হলেও, সালসাবিলের শেষ পরিণতি কী হলো তা লেখক জানাননি। (৯০ পৃষ্ঠা)
পৃষ্ঠা ৮৭: তাজের পরিবারকে রক্ষার জন্য ঈশান তাজের সত্যটা চেপে গেল, ঠিক আছে। কিন্তু মালয়রেখার দুর্নীতির সত্যটা সে বেনামে প্রকাশ করতে পারত। তা না করে সে পুরো সত্যটাই লুকিয়ে রাখল। তাহলে তাজের এত বড় আত্মত্যাগ এবং ঈশানের নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার ফলাফল কী দাঁড়াল?
একটি সুন্দর আইডিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অপূর্ণাঙ্গ ইমারত। এর আবেগ এবং থিম পাঠককে নাড়া দিলেও, লেখকের ‘কজ অ্যান্ড ইফেক্ট’ নিয়ে কম ভাবা এবং কেবল শেষের চমকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা গল্পটিকে দুর্বল করে দিয়েছে। অনেকগুলো ঘটনা শুধু ‘হয়েছে’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘কেন হলো’ তার উত্তর দেওয়া হয়নি।
রেটিং: 2.5/5
April 15, 2026
This one is a gripping thriller that blends a mysterious plane disappearance with an eerie journey into the unknown, keeping you hooked till the very end.
Displaying 1 - 3 of 3 reviews



