এই কাহিনী সুপ্রাচীন মানব-মানবী থিও এবং লীমার, মহা পরাক্রমশালী দেবতাকে সাক্ষী রেখে যারা ওয়াদা করেছিল পুনর্জন্মের। এই কাহিনী মিশরীয় রানী সেফ্রেনের, যে নিজ হাতে হত্যা করেছিল প্রেমিক পুরুষ মানেথোকে। কখনো কাহিনী গ্রিক সৈনিক আক্সিওকাস আর ইউমেলিয়ার, কখনো জিনান ও আইদার, এবং কখনো সাদামাটা এক পুরুষ আয়ানের জীবন জুড়ে অন্য ভুবনের এক কুহকিনীর। সবশেষে এই কাহিনী প্রেমের। যে প্রেমের জন্ম অন্য কোন এক ভুবনে, অন্য কোন বাস্তবতায়। যে প্রেমের খাতিরে একজন লঙ্ঘন করতে পারে সমস্ত সীমারেখা আর নিজেকে বদলে নিতে পারে ভয়াবহ পৈশাচিক এক অন্ধকার অস্তিত্তে। ...... মিলতে কি পেরেছিল থিও ও লিমা?
আলোচ্য রিভিউটি বইমেলা ২০১৮-য় অরণ্যমন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সংস্করণের।
হে পাঠক, আপনি কি প্রেমের গল্প পড়তে চাইছেন? আপনি কি চাইছেন এমন এক কাহিনি পড়তে, যা বালুঘড়ির মধ্য দিয়ে নিঃশব্দে বয়ে চলা বালির স্রোতকে ভুলিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে আরো পেছনে, হয়তো একেবারে শুরুর সেই মুহূর্তে, যখন পলাশের লাল ছুঁয়েছিল আপনার গাল, আর আকাশের নীলে ভেসে যেতে চেয়েছিল আপনার মন? তাহলে এই বইটি পড়বেন না। এর মতো বিরক্তিকর, আজাইরা প্যাচাল আর পানসে বর্ণনায় ভরা বস্তাপচা প্লট, পিজবোর্ডের অধম চরিত্র, এবং মাধুর্যবর্জিত ঘ্যানঘেনে লেখা আমি কমই পড়েছি।
হে পাঠক, আপনি কি রহস্যরোমাঞ্চ উপন্যাস পড়তে চাইছেন? আপনি কি চাইছেন এমন এক কাহিনি পড়তে, যা জানলার বাইরের উজ্জ্বল আলো বা পাশের ঘর থেকে ভেসে আসা টুকরো-টাকরা আওয়াজ ভুলিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্ধকার শ্বাসরোধী দুনিয়ায়, যেখানে লাল আর কালোর মাঝে মুহূর্তের রংবদল ঘটায় শুধু সর্বগ্রাসী পাবক বা সর্বনাশী হলাহল? তাহলে এই বইটি পড়বেন না। এর শুরু থেকে শেষ, সবটাই এত বিরক্তিকর ও মোটা দাগের যে রোমাঞ্চের বদলে বিরক্তি, এবং চোখ বিস্ফারিত হওয়ার বদলে বুঁজে আসাই স্বাভাবিক।
এর চেয়ে অনেএএএএক ভালো বাংলা বই আছে। তার পরেও এটি পড়লে দায় আপনার।
কতকাল কাটিয়া গেল এই অমর প্রেমের আখ্যান পড়িতে পড়িতে। কিন্তু শেষ আর হচ্ছিল না। অবশেষে শেষ করিতে পারিয়াছি।
ভয়ের উপন্যাস মনে করে প্রেমের উপন্যাস পড়লাম। এই দুঃখ আমি কোথায় রাখি। অমর প্রেমের কাহিনী। যেখানে গল্পের মূল চরিত্ররা মরেও মরে না, বেঁচেও বাঁচে না। এই গল্পটা এমন দুজন নর-নারীর যারা যুগযুগ ধরে প্রতিটা পুনর্জন্মে চেষ্টা করে যাচ্ছে এক হবার। যারা একে অপরকে বারবার হত্যা করেছিল পৃথিবীতে মানুষ রুপে ফিরে আসার জন্য। তারা দুজন ওয়াদা করেছিল, তারা পৃথিবীর বুকে বারবার ফিরে আসবে, যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে চিরকালের জন্য নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে না পারছে, তাদের সন্তানকে জন্ম দিতে না পারছে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক হতে কী পেরেছিল তারা চিরকালের জন্য? সেটা জানতে হলে এই হরর উপন্যাস নামক প্রেমের উপন্যাসের পরের বইটা পড়তে হবে।
খুব ভালো লাগছে। যেভাবে চরিত্রের বর্ননা ও গল্পের টানটান উত্তেজনা অনুভব করেছি সত্যিই খুব অসাধারণ লাগছে। তবে এই বইটি প্রাপ্ত বয়স্ক নরনারীর জন্য কারন কোন কোনো জায়গায় চরিত্র ও গল্পের প্রয়োজনে ইরোটিকার (আমার কাছে মনে হয়েছে) ব্যবহার হয়েছে।
বইটা শুরুতে বেশ ট্র্যাজিক বলে মনে হচ্ছিলো, ব্যর্থ প্রেম, জন্মান্তর সব মিলে বেশ দুঃখী একটা প্রেমের গল্প হবে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু যেহেতু ভয়ের গল্প ভেবে শুরু করেছিলাম, প্রেমের ব্যাপারস্যাপার ভালো লাগছিলো না । হেনরি হ্যাগারড মশাইয়ের "শী" থেকে লেখিকা অনুপ্রেরণা নিয়েছেন তা বোঝা যাচ্ছিলো। কাহিনীতে প্রচুর ফ্ল্যাশব্যাক, কিন্তু কাহিনী কোথা থেকে কোথায় মোড় নিচ্ছে ধরতে পারছিলাম না, এখানেই লেখিকার সার্থকতা। শেষটা খারাপ লাগেনি, কিন্তু সিক্যুয়েলের শুরুর সাথে প্রথমবইটির শেষের কোনই মিল নেই।
এইমাত্র পড়া শেষ করলাম এই বইটা। সম্ভবত বইটা পড়া শুরু করাটাই ছিল বিরাট একটা ভুল। পুরোপুরি সময় নষ্ট, ধৈর্য নষ্ট ও চরম বিরক্তকর একটা সময় কাটানো। ইলাস্টিকের মতো টেনে টেনে বড় করা হয়েছে লেখা। যে কোনো সাধারণ লেখিকা লিখতে দিলেও এই বইটা সম্ভবত পাঁচ ভাগের এক ভাগ পৃষ্ঠায় লেখা হয়ে যেত। শুধু শেষ করতে হবে দেখে পুরোটা পড়লাম।
আজগুবি, গাঁজাখুরি কিছু গল্প কাহিনী, একটার সাথে একটা লিঙ্ক মিলিয়ে দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টায় পুরো জিনিসটাই শেষ পর্যন্ত পর্যবসিত হয়েছে একটা ফালতু কাহিনীতে। না হয়েছে একটা প্রেম কাহিনী, না হয়েছে একটা হরর কাহিনী। এই লেখিকার লেখা সম্পর্কে আগেও এই ধরনের অনেক রিভিউ পড়েছিলাম। তাই তার লেখা সম্পর্কে জানতেই প্রথমবারের মতো তার লেখা পড়লাম এবং চরম বিরক্ত হয়েছি। বিরক্তের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টেনে টেনে লেখার মধ্যে অশ্লীলতাকে জোর করে নিয়ে আসা। যেটার কোন দরকারই ছিল না। অহেতুক বিভিন্ন জায়গায় একটা নগ্ন মেয়ের দৈহিক বিবরণ নিয়ে আসাটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল। অশ্লীল সেইসব বিবরণ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে তুলে ধরে সম্ভবত লেখিকা বইয়ের কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আর ঠিক এই কাজটাকেই আমি অসম্ভব অপছন্দ করি। যথাসম্ভব চেষ্টা করব এই লেখিকার অন্য কোন বই না পড়ার।