মেয়েটি আফসানার মত নয়... কিছুতেই নয়! রোগাটে,নিষ্প্রভ সেই আফসানার সাথে তিল পরিমাণ মিল নেই ঝলমলে রূপসী এই আশফিয়ার। তবু দেখা মাত্র শরীর ঝিমঝিম করে শওকত সাহেবের, বুকের মাঝে কোথায় যেন কী একটা উলটপালট হয়ে যায়। কেননা তিনি জানেন, নিশ্চিত জানেন যে এই মেয়েটিই আফসানা। সেই চোখ নয়, সেই চেহারা নয়। সেই হাসি, সেই কথা, সেই মানুষ,... কিচ্ছু মেলে না, কিচ্ছু না! তবু তিনি জানেন যে এটাই আফসানা- বহু বহু বহুকাল আগে যে হারিয়ে গিয়েছিল অন্য কোন ভুবনে!
শওকত সাহেব যখন দুই যুগ পুরোনো জীবনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত থাকেন, শহরের অন্য কোন প্রান্তে অটিস্টিক এক তরুণ তখন ধরে অন্য ভুবনের একটি হাত। যে অন্ধকার হাতটি তার সামনে খুলে দেয় আলোর দরজা। এমন এক ভুবনের, যা কেবল দেখতে পায় নির্বাচিতরা। সকলের চোখের আড়ালে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে ছেলেটি। কীভাবে? কেউ জানে না!
একটি বন্ধ দরজা, যাকে ঘিরে আছে না জানি কতশত গুঞ্জন। একটি পুরনো চাবি, যেটা আগলে বসে আছেন অশতিপর এক বৃদ্ধা আসিয়া বানু। আছে কাজের লোকেদের মুখে মুখে ফেরা একটি কাল্পনিক আতঙ্ক- "দেও"।
আসলেই কি কাল্পনিক? আসলেই কি বাস্তবের সাথে কোন সম্পর্ক নেই তার? তাহলে কী এমন দেখেছিল যে আতঙ্কে আত্মহত্যা করতে হলো সখিনা নামের কমবয়সী কাজের মেয়েটির? কেন মরতে হলো রশিদ মিয়াঁকে? কেন পুরাতন কবর গুলোর মাঝে মিলল না কারো দেহাবশেষ? এত গুলো মানুষের দেহ কোথায় মিলিয়ে গেল?
কেউ একজন বলতো- পৃথিবী নামের এই নীলচে গ্রহটি মানুষের একার নয়। সকলের অলক্ষ্যে, খুব গোপনে রয়েছে আরও একটি বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব। মানব প্রজাতি একা জন্ম নেয়নি, পাশাপাশি তৈরি হয়েছে আরও একটি ক্ষমতাধর প্রজাতি। সমান্তরাল চলছে দুটি প্রজাতির বিস্তার আর নীরবে সেই প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছে অন্য কেউ!
প্রাগৈতিহাসিক রূপকথার সেই রহস্যময় প্রাণীদের গল্পে তবে কি আছে আসলেই কোন সত্যতা? প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা কি তবে এদের কথাই বলার চেষ্টা করেছে বারবার? সত্যিই কি আকাশ থেকে নেমে আসতো দেবতা, যারা মানব সন্তানদের হাতেখড়ি করিয়েছিল বিজ্ঞানের জগতে এবং দান করেছিল জ্ঞান? নাকি দানব ছিল তারা, কেবল একটা ভয়াল গবেষণাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য?
সত্যিই কি এখনো অস্তিত্ব রয়ে গেছে তাঁদের দ্বারা সৃষ্ট সেই মূর্তিমান আতংকদের? আর কিসের অপেক্ষায় আছে তারা লক্ষ লক্ষ বছর যাবত? যে ভয়াল জিঘাংসা নিয়ে গুনছে তারা প্রতীক্ষার প্রহর, কখনো তা শেষ হবে কি? ফিরে আসার ওয়াদা দিয়ে যারা চলে গেছে, তাঁরা ফিরে আসবে কি?
"কী" সেই সেই অন্য ভুবনের প্রাণীরা, যাদের আগমনের প্রমাণ আজো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পৃথিবীর আনাচে কানাচে?
শওকত আলী সাহেব (রাহাত) নিজের একমাত্র মেয়ের বান্ধবী "আশফিয়া" কে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এটা প্রেম না কি শুধুই কামনা তা বুঝে উঠতে পারেন না। তবে একটা ব্যাপার ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন যে এই আশফিয়া মেয়েটির সাথে কোনো এক অদ্ভূত মিল রয়েছে আফসানার। সৌন্দর্যের দিক থেকে বিপরীত হলেও অদ্ভুত কিছু একটা মিল আছে দু'জনের। কি সেই রহস্য?
আফসানা তার জীবন থেকে চলে গেছে প্রায় ২ যুগ আগে। অথচ আশফিয়া মেয়েটি এমন কিছু কথা জানে যেগুলো ছিল রাহাত ও আফসানার একান্ত ব্যাক্তিগত। তাহলে কে এই আশফিয়া ? কি তার রহস্য ? কিছুতেই ভেবে পায় না রাহাত ।
শহরের অন্য কোনো প্রান্তে অটিস্টিক এক তরুন তখন ধরে অন্য ভুবনের একটি হাত। যে অন্ধকার হাতটি তার জীবনে খুলে দেয় আলোর দরজা। প্রতিবন্ধি একটি ছেলে যে লিখতে পারে না, কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। সেই ছেলের মাঝে রাতারাতি পরিবর্তন শুরু হয়। এমন দুর্বোধ্য কিছু নিয়ে পড়তে শুরু করে এই প্রতিবন্ধি ছেলেটি যার কিছুই বুঝে ওঠে না তার বাবা আসগর সাহেব। যে ছেলে এলোমেলো কিছু শব্দ ছাড়া লিখতেই পারত না সেই ছেলে পাতার পর পাতা লিখে যাচ্ছে যা কি না একজন পেশাদার লেখকের মতন। বিস্ময় আর অজানা আতঙ্ক ঘিরে ধরে আসগর সাহেব কে। কোথাও যেন কিছু একটা ঠিক নেই! কিন্তু কি সেটা??
একটি পুরনো চাবি যেটা যুগের পর যুগ আগলে বসে আছেন একজন বৃদ্ধা "আসিয়া বানু"। আরও আছে বাড়ির কাজের লোকদের মুখে মুখে ফেরা একটি কাল্পনিক আতঙ্ক "দেও"। আসলেই কি কাল্পনিক? না কি ঐ বন্ধ দরজার পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো রহস্য ? এমন কিছু যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে ! সত্যিই কি বাস্তবতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই তার? তাহলে কি এমন দেখেছিল যে আতঙ্কে আত্নহত্যা করতে হলো "সখিনা" নামের মেয়েটিকে? কেন রহস্যময় মৃত্যু হল রশিদ মিঞার যার লাশ পাওয়া গিয়েছিল বাগানে? কেন পুরাতন কবর গুলোর মাঝে মিললো না কারো দেহাবশেষ ???
জানতে হলে পড়ুন ---> রুমানা বৈশাখীর --> ভৌতিক উপন্যাস #অবয়ব
একই শব্দ বার বার লেখা, পড়তে গিয়ে যা অসম্ভব বিরক্তি উৎপাদন করেছে। যেমনঃ "তার জানতে ইচ্ছে করছে। তার খুব জানতে ইচ্ছে করছে। তার খুব খুব জানতে ইচ্ছে করছে।" তার উপর রয়েছে চরিত্রগুলোর নাম থাকা সত্ত্বেও কিছুক্ষণ পর পর তাদের "মেয়ে অমুক করলো", "ছেলে তমুক করলো" এভাবে বর্ণনা দেওয়া। কেন? অনেক ভৌতিক এলিমেন্ট এবং আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু সঠিক এক্সিকিউশনের অভাবে ভয় জাগাতে পারেনি।