যাহা লিখিতেছি, তাহা কাহার ধাক্কায় লিখিতেছি? কে তৈয়ার করিয়া দিতেছে শব্দ? কে গাঁথে বাক্য মালা'র মতো? যাহাকে 'আমি' বলিয়া দাবি করিতেছি, সেই 'আমি'-টা কে? কাহার অংশ? যিনি দাবি করিতেছেন আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না, সেই তিনি অল্লাহর উপর না খেপিয়া আমার উপর খেপিতেছেন। ভাবিতেছেন, আল্লাহর ইচ্ছ্যে ছাড়াই লিখিতেছি। আল্লাহই যে আমার ভেতর ঢুকিয়া আমাকে দিয়া আল্লাহব্যবস্যর বাড়ি নিভাইতেছেন, ধর্মের গাট্টি খুলিয়া অধর্ম তাড়াইতেছেন, উহা কোন শব্দে বোঝাই? মূর্খের ভাত হইলেই চলে, কিন্তু জ্ঞানীর ভূখ পেটে সীমাবদ্ধ নহে। যিনি বলিয়া বেড়ান রিযিকের মালিক আল্লাহ, তিনি কল্পনাও করিতেছেন না- জ্ঞানও রিষিক হইতে পারে। সেই দিক দিয়া, উপরে যাহা লিখিলাম, যতো বই ছাপাইলাম, বা ভবিষ্যতে লিখিবো, তাহা সবই অন্য রূপের রিযিক। হায়, জ্ঞানের রিযিক আল্লাহর দারোয়ান সাজা লাঠিয়ালদের ভাগ্যে জুটিলো না। উহা সব অ্যাগনোস্টিক, মুরতাদ, কাফেরগণের ভাগে পড়িলো। - মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
মহিউদ্দিন মোহাম্মদের বই আমি মিস করি না। সমাজ-রাষ্ট্রের বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি নিয়ে 'বানরের আয়না'য় সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন লেখক। এ বইয়ের বেশিরভাগ লেখা আমি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল / পেইজে আগে পড়েছি। তারপরও মহিউদ্দিন মোহাম্মদের শক্তিশালী গদ্য এবং সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিশ্লেষণের কারণে দুই মলাটের মাঝ দিয়ে আমার এ যাত্রা।
প্রচ্ছদের বানর আয়না থেকে মুখ লুকিয়ে আছে। লেখক মহিউদ্দিন আমাদের সেইসব অস্বস্তিকর এবং অশ্লীল সত্যের মুখোমুখি করিয়ে দিতে চান যেগুলি থেকে আমরা অনেকেই হরহামেশা মুখ লুকোই।
ধর্ম, সংস্কৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনীতি, বিপ্লবের নামে আত্মঘাতী আচার-আচরণসহ অনেক ব্যাপারেই প্রথার ভেতরে থেকেই যেন প্রথা ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী একজন লেখক তিনি।
মহিউদ্দিন মোহাম্মদের গদ্যভাষার অ্যাসথেটিক্সে মাঝে মাঝে হুমায়ুন আজাদের দেখা পাই আমি। জ্ঞানভিত্তিক সমাজের থেকে বহু বহু দুরবর্তি বাঙালি মুসলমানকে অর্থবাদী / বেতনবাদী তুচ্ছ জীবন থেকে সরিয়ে লেখকের প্রয়াস পুরো বইজুড়েই হচ্ছে সেই মানুষকে ফ্যাক্টের কঠিন আয়না দেখানো।
বই রিভিউ
নাম: বানরের আয়না লেখক: মহিউদ্দিন মোহাম্মদ প্রকাশক: নালন্দা প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০২৬ চতুর্থ মুদ্রণ: মার্চ ২০২৬ প্রচ্ছদ: মুস্তাফিজ কারিগর রিভিউয়ার: ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
এই বইয়ে তিনটি অংশ আছে। ওই দেখা যায় তালগাছ, বাংলাদেশে বিপ্লব সম্ভব কিনা আর জায়োনিজম নিয়ে। ফেসবুকে মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এই লেখাগুলো নানা সময়ে, আলাদা আলাদা করে পোস্ট করেছিলেন। তাই, খুব একটা নতুন লাগলো না।
চার তারকা মূলত এই কারণে যে, লেখক বাংলাদেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব ও এর চিন্তার ধরণ তুলে ধরেছেন।