Jump to ratings and reviews

সাকিন বিষ্ণুপুর

...তার মাটি, সময়, দেশ, আর বদলে যাওয়া যুগ থেকে যায়। ভিতর ভিতর থেকে যায় একটা লাল মাটির কুলি-রাস্তা, তার দু'পাশের ডাঙা ডিহি, আর কাঁটাঝোড়, একটা আশুদগাছ, তক্ষক ডাকছে, তার নিচে পরিত্যক্ত ভাঙা কলসীর দেবতারা, আর দূরে লণ্ঠন জলা গ্রাম, সেখেনে হয়তঅ তুমার পিসিমার ঘর, সইন্ধ্যা হয়ে আসছে এমন একটা সময়... হয়তঅ ১৯৮৪ সালের একটা ধুলা উড়া বিকাল, তুমি এক পায়ে চপ্পল হারিয়ে ফিরে আসছ— সব থেকে যায়। থেকে যায় তুমার জল-হাওয়ার পালটি খাওয়া একটা বাতাস আর রোদ, বহু পুরনঅ একটা শীতকাল। দুয়ারে দাঁড়িয়ে হি-হি করে কাঁপতে থাকা তামাটা চুলের এক বিটি-ছা। যে আর ফিরে আসে নাই কুনুদিন। সে কি আমারই বালিকারূপ! এখন এই দশমাথা হ্যালোজেনের নিচে দাঁড়িয়ে পথ হারিয়ে ফেলি। জন্ম যার আঁধারে, তীর আলোয় তার চোখ অন্ধ হয়ে আসে। তবু এই কর্পোরেট অধ্যুষিত সভ্যতার ভিতরে কুথাও রয়ে গেছে একটা আবছায়া অঞ্চল! সেখেনে আদুড়া অন্ধকারে পড়ে আছে এক থানের জঙ্গল, একদা জাগ্রত, এখন সে নিস্তেজ, দেখে মায়া হয়। সেই অন্ধকার চোঁয়ানঅ পুরানঅ একটা মায়া কাঁধে সে চলেছে, সামনে একটা নাই হয়ে যাওয়া ফিরতি পথ, যার শেষে নিজস্ব ঘর। এ সবই ধাঁধা, এইসবই সত্যি গল্প। বর্তমান অপছন্দ হলে সেই গল্পের ভিতরে কিছুদিন বেঁচে থাকার একটা নিয়ম রয়ে গেছে এখনঅ। এই পঞ্চাশ বছর বয়সের ভিতর ঘটে যাওয়া সেইসব গল্প, অল্পস্বল্প বেঁচে থাকা, কিছু লিখে রাখা হল নিজস্ব খাতায়, অল্প বাঙালির কাব্যে, এই হল সেই গাঁইয়া গল্পের মাকড়া পথ...
যা আমার আজম্মের ঠিকানা— সাকিন বিষ্ণুপুর।

48 pages, Hardcover

Published January 1, 2025

Loading...
Loading...

About the author

কবি কৌশিক বাজারীর জন্ম ২৫শে শ্রাবণ, ১৯৭৪, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরে।

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
1 (100%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 1 of 1 review
Profile Image for Arupratan.
260 reviews439 followers
April 11, 2026
বাংলা ভাষার সব কৃতিত্ব ধুলোয় মেশার জোগাড় হয় যখন একমাত্র কলকাত্তাইয়া বাংলাকে সে শুদ্ধ বলে বিবেচনা করে, এবং পুরুলিয়ার কিংবা বাঁকুড়ার কিংবা বর্ধমানের কিংবা বীরভূমের কিংবা উত্তরবঙ্গের বাংলা শুনে পরিহাস করে। শুধু পরিহাস নয়, মাঝেমাঝে তাদের "অশুদ্ধ" উচ্চারণ শুধরে দেওয়ারও চেষ্টা করে।

কবি কৌশিক বাজারীর কাব্যগ্রন্থ "বছরে বারোটি মাহ" পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম সেই ২০২১ সালে, তারপর তাঁর কবিতার বইয়ের হদিশ পাইনি আর। অবশেষে এই বইটি চোখে পড়লো সেদিন। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরের মানুষ তিনি। আজন্ম বসবাস করা একটি মফস্বল শহরের স্মৃতিমেদুর ধূপের সুগন্ধ ভেসে আসে তাঁর কবিতার দখিন দুয়ারে। বিষ্ণুপুরের লালমাটির পথঘাট, নিভু নিভু সন্ধেবেলায় নেমে আসা নিঝুম বৃষ্টি, ধুলার গন্ধে ভরা লেপের ভিতর লুকিয়ে থাকা গতবছরের শীতকাল, বিষ্ণুপুরের "প্রান্তিক" বাংলা ভাষা, আর আছে যতরকম মফস্বলি মলিনতা, সেই সবকিছুকে বড় ভালোবাসা দিয়ে ঘিরে রেখেছে এই ছোট্ট বইটির একমুঠো কবিতাগুলো। পড়তে পড়তে ভিজে যায় আমার স্মৃতির বালুকারাশি, আমার বুকের গভীরে হারিয়ে যাওয়া কোন্ সুদূরের সেই এক মফস্বল, হারিয়ে যাওয়া আমার শৈশব-কৈশোরের টিমটিমে দিনগুলো— মনে পড়ে যায়!

বহুকাল আগে একবার শীতকালে
একটা আধুলি হাত ফইস্কে পড়ে গেছল সে কুয়ার ভিতরে
উঘু পেড়ে দেখি— আমার মুখের ভাঙা ছায়ার আড়ালে
ঠান্ডা কালা জলের ভিতর প'ড়ে আছে আবছায়া শিশুকাল
সেই শীতের বিকালে পাঁউরুটি কিনতে না পারার দুঃখ লিয়ে
আমি ধুলার ভিতরে খেলি ধুলা উড়াই আমার হাত পা ধুলার
রুক্ষতায় ফেটে ফেটে যায় আর জলের তলায় ঠান্ডা শীতল আধুলি
শুয়ে থাকে, অনেক রাত্তে য্যাখন পুরানঅ তুলার ওমে ঘুমিয়ে রইছি
সেই আধুলি কি জেগে থাকে?

ঝুঁঝকায় বালতি নামার শব্দে তার চটকা ভেঙে যায়?
শীত শেষে কুয়া থেকে বালি উঠে
কুয়া-ঝালায়ের লোক এসে বালি তুলে
ভাঙা পিতলের বাটি উঠে আসে, রাঙা ঠাকুমার গৈরা...
আমার সে চকমকা আধুলি কুথায়...
Displaying 1 - 1 of 1 review