Adapted from "The Mystery of the Burnt Cottage" (The Five Find-Outers, #1).
তিন গোয়েন্দা গঠিত হয়নি তখনও, রকি বীচে থাকত না মুসা আর রবিনরা; থাকত শহর থেকে দূরের এক গ্রাম গ্রীনহিলস-এ। সেখানেই কিশোরের সঙ্গে তাদের পরিচয়। একটা কুকুর ছিলো কিশোরের, নাম টিটু। কিশোরের নেওটা ছিল কুকুরটা, সে যেখানেই যেত ওটাও যেত সঙ্গে সঙ্গে। গ্রামটা সুন্দর, পাহাড়-জঙ্গল-নদী ছাড়াও সেখানে ছিল কিছু মজার মানুষ; তাদেরই একজন কনস্টেবল হ্যারিসন ওয়াগনার ফগর্যাম্পারকট ওরফে 'ঝামেলা'! তিন গোয়েন্দা গঠিত হয়নি বলে যে রহস্যভেদী ছিল না ওরা তা নয়, পুলিশ হিমশিম খেয়ে গেছে এমন কতগুলো কেসের সমাধান করে দিয়েছিল...
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
আহ ঝামেলা! বেয়াদব ছেলেমেয়ে গুলোকে নিয়ে আর পারা গেল না। সব কিছুতে এসে নাক গলিয়ে বাগড়া দেবে। ক্যাপ্টেনও এদের লাই দিয়ে মাথায় তুলে রেখেছে৷ কতগুলো বেয়াদব বখাটে ছেলেপিলেকে এত লাই দেয়ার কি আছে সেটাই ভেবে কুল কিনারা পায় না কনস্টেবল ফগ থুড়ি ফগর্যাম্পারকট। সুযোগ পেলেই কোকড়াচুলো মোটকা ছেলেটাকে চড়িয়ে গালের চামড়া খুলে দেয়ার বাসনা তার অনেকদিনের। কিন্তু ক্যাপ্টেন রবার্টসনের জন্য সে সাহস তার হয়ে উঠে না।
কনস্টেবল উইলিয়াম ফগর্যাম্পারকট। সংক্ষেপে মিঃ ফগ বা কট যা মনে চায় বলতে পারেন। তবে ভুলেও কট সাহেবের সামনে বলতে যাবেন না। কারণ তাকে কেউ সংক্ষিপ্ত নামে ডাকলে তিনি খুবই বিরক্ত বোধ করেন। সুযোগ থাকলে দুয়েকঘা বসিয়েও দিতে পারে। সাধু সাবধান!
তিন গোয়েন্দার যারা ফ্যান, কনস্টেবল ফগর্যাম্পারকটকে তাদের না চেনার কোনো কারণই নেই। তিন গোয়েন্দার কাজে বাগড়া থুড়ি ফগুর্যাম্পারকটের কাজে তিন গোয়েন্দার বাগড়া দেয়ার গল্প তারা অবশ্যই পড়েছেন। পেটমোটা এই কনস্টেবলের দুই চোখের বিষ তিন গোয়েন্দা, ফারিহা বা তিন গোয়েন্দার বন্ধুস্থানীয় সকল ছেলেপিলে। তিনি প্রায়ই সুযোগ খোঁজেন চাবকে তাদের পিঠের ছাল তুলে নেয়ার জন্য। সে সুযোগ না মিললেও হুমকি ধামকি দিতে বা বকাবাদ্যি করতে কখনোই ভুল করেন না। কোকড়াচুলো ছেলেটার প্রতি তার রাগের পরিমাণ একটু বেশি। কারণ পদে পদে নানা প্রকারের হেনস্থা করার বুদ্ধি এই বখাটে ছেলেটার মাথা থেকেই বের হয়। উপরন্ত তার নিজের কেস তারা সমাধান করে মাঝেমধ্যেই লজ্জায় ফেলে দেয় ক্যাপ্টেন রবার্টসনের কাছে। সুতরাং তিন গোয়েন্দার সঙ্গে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক হবে সেটাই স্বাভাবিক। তার দুঃখের বড় আরেকটা কারণ হলো তার আপন রক্ত, তার ভাতিঝা ববর্যাম্পারকটও তার কথা না শুনে বখাটে ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে তাল দেয়। বেশ কয়েকবার এই অপরাধে চাবকে পিঠের ছাল তুলে নেয়ার চেষ্টা তিনি করেছেন বটে, তাতে হিতে বিপরীতই হয়েছে। তার নাম যদিও ফগর্যাম্পারকট, কিন্তু আমরা সবাই তাকে ঝামেলা বলেই চিনি। কারণ তিনি প্রতি দুটো কথার একটা কথা বলেন, 'আহ ঝামেলা'!
তিন গোয়েন্দার প্রায় বিপক্ষ দলের লোকই বলা যায় ঝামেলা কে। তবে শুটকি টেরির মত বজ্জাত লোক নন তিনি। শুটকির প্রতি যে রাগ কাজ করে,ফগর্যাম্পারকটের প্রতি সেই রাগ কাজ করে না। তিনি যে বইতে থাকেন মজা সেই বইয়ে দিগুণ হয়ে যায়। ভদ্রলোক ভীষণ কাঠখোট্টা, গোয়ারগোবিন্দ টাইপের লোক হলেও যতক্ষন তিনি বইয়ের পাতায় হাজির থাকেন, মুচকি মুচকি হাসি পাঠকের ঠোঁটে লেগে থাকবেই।
তিন গোয়েন্দা সিরিজে বেশ অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে যারা পাঠকের মনে আসন গেড়ে বসে থাকে। বদমেজাজি ফগর্যাম্পারকটও তাদেরই একজন। তিন গোয়েন্দার সঙ্গে তার সদ্ভাব নেই, তারা খালি তার কাজে বাগড়া দেয়, ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে বিরক্ত করে, মাঝেমধ্যে অকাজে ডেকে ঘোল খাইয়ে দেয়, তবুও এই চরিত্র আপনার প্রিয় চরিত্র গুলোর একটায় পরিণত হবে। ঘৃণা করা তো দূরে থাক, দুয়েকটা বই পড়ার পর কোন কোন বইয়ে ফগর্যাম্পারকট আছে সেটা খুঁজে পড়া শুরু করাও বিচিত্র ব্যাপার নয়। দীর্ঘদিন পর ঝামেলা গল্পটা পুনরায় পড়ার পর মনে হলো এতজনকে নিয়ে লেখা হয় কিন্তু ফগর্যাম্পারকট থেকে যায় পর্দার আড়ালেই। তাই লিখে ফেলা পছন্দের মিঃ কট থুড়ি ফগর্যাম্পারকটকে নিয়ে। আমরা প্রায়ই বলি না রাইভালস, নট এনিমিস? তিন গোয়েন্দা এবং কনস্টেবল ফগর্যাম্পারকট এর জলজ্যান্ত উদাহরণ।
যারা নতুন পাঠক, কিশোর বা সদ্য যৌবনে পা দিয়েছেন তারাও তিন গোয়েন্দার ভলিউম ১ থেকে ৬০ এর মধ্যে যে কোনো একটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। বইয়ের জগত যে কতটা আপন হতে পারে, এই সিরিজ আপনাকে তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেবে। যারা সন্তানকে/ছোট ভাইবোন/ভাগ্নে ভাতিঝাকে কি বই পড়তে দিবেন ভেবে পাননা, আপনাদের জন্য রয়েছে তিন গোয়েন্দা। এই বুড়ো বয়সে এসেও তিন গোয়েন্দার একটা সাধারণ চরিত্র নিয়েও এত কিছু লিখছি, বুঝতে পারছেন তিন গোয়েন্দা সিরিজ কতটুকু প্রভাব রাখতে পারে জীবনে?
স্টোরিলাইনের দিক থেকে তিন গোয়েন্দার প্রথম বই, কিশোরের সাথে মুসা আর রবিনের সাক্ষাৎ দিয়ে শুরু। গ্রামের পটভূমিতে একটা বাড়িতে আগুন লাগার রহস্য ভেদ করা নিয়ে গোয়েন্দা কাহিনি। বেশি জটিলতা নেই, রহস্যও সাদামাটা, তবে পড়ার সময় স্কুল জীবনে স্বর্ণযুগের তিন গোয়েন্দা পড়ার সেই লেভেলের নষ্টালজিক ভাইব পাওয়ার কারণে চার তারা দিলাম।
তিন গোয়েন্দার ৮১ তম বই, ঝামেলা। কিন্তু কাহিনির ধারাবাহিকতায় এটাই তিন গোয়েন্দার প্রথম বই। ওরা তখন রকিবীচ নয়, থাকে গ্রীনহিলস নামে এক গ্রামে। অবশ্য তিন গোয়েন্দা তখনও গঠিত হয় নি৷ রবিন আর মুসা আগে থেকেই পরিচিত হলেও কিশোরের সাথে প্রথম পরিচয় এই বইতেই। আর এখানে কিন্তু গোয়েন্দা প্রধান কিশোর পাশা নয়, ব্যায়ামবীর মুসা আমান!
বহুদিনের ইচ্ছে ছিলো, রকিব হাসানের লেখা পুরো তিন গোয়েন্দা রিভাইজ করবো। একদম "ঝামেলা" থেকে তিন বন্ধু সিরিজ শেষ করে "তিন গোয়েন্দা" হয়ে "হীরের কার্তুজ" পর্যন্ত। মানে গ্রীন হিলস থেকে রকিবীচ আসার টাইমলাইন অনুযায়ী। শুরু করলাম আজ।
গ্রীন হিলস গাঁয়ের মিস্টার আরগফের বাড়িতে আগুন লাগলো। রহস্য ভেদে তদন্তে নামলো কিশোর, রবিন, মুসা। সাথে মুসার খালাতো বোন ফারিহা আর কিশোরের কুকুর টিটু। আর ঝামেলা করার জন্য তো আমাদের সবার প্রিয় ঝামেলা আছেই!
তিন গোয়েন্দার একেবারেই বাচ্চা বয়সের কাহিনি। রহস্য খুব জটিল তা নয়, কিন্তু সরল উপস্থাপন আর সরস লেখনীর গুণে চমৎকার লাগে পড়তে। ছোটবেলায় আরেকটু বেশি হেসেছিলাম বিভিন্ন যায়গায়। কিন্তু এবারও যথেষ্ট মজা পেয়েছি।
It was the time when Tin Goyenda started to go downhill in terms of story, maybe that's because writer couldn't find any good story to copy from but nonetheless it was not good and more horrible books followed it.