স্কুলের বাস্কেটবল স্টার হয়ে উঠেছে মুসা। হঠাৎ করে উদয় হলো বিপদ। রহস্যময় এক লোক এসে হাজির। টাকার বিনিময়ে একটি টীমে মুসাকে খেলার প্রস্তাব দিল। বিপদের গন্ধ পেল তিন গোয়েন্দার নেতা কিশোর পাশা। শুরু হলো ক্যাম্পাসে গন্ডগোল। খেলোয়াড়দের ওপর আসতে আরম্ভ করল আঘাত। আড়াল থেকে কলকাটি নাড়ছে কেউ। ঠেকাতে হলে তাকে চিনতে হবে প্রথমে। কিন্তু কে সে? কিছুই বোঝার উপায় নেই। ওদিকে সময়ও ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। সবকিছু নির্ভর করছে এখন তিন গোয়েন্দার ওপর - ওরা কিছু করতে পারলে ভাল, নয়তো...
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
পুরো গল্পজুড়ে টান টান উত্তেজনা, সাসপেন্স আর থ্রিল। সন্দেহভাজনদের তালিকায় আছে অনেকেই, কিন্তু কে যে আসলে আড়ালে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল।
রহস্যের বুনিয়াদ অতটা আশানুরূপ ছিল না বলব, কারণ কেসে বেশকিছু ফাঁকফোকর থেকে গিয়েছিল বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি। বিশেষ করে কিশোরের চরিত্র চিত্রায়ণ ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা দুর্বল আর ইমম্যাচিউরড ছিল। অনুসন্ধিৎসু এবং সদা সতর্ক কিশোরের সেই চিরায়ত রূপটা আমি খুঁজে পাইনি। তবে তা প্লটের প্রয়োজনে হতে পারে। কিন্তু অন্যায় ঠেকাতে একজন স্কুল স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও কলেজ স্টুডেন্ট এর রোল প্লে করার ব্যাপারে কিশোর যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে, তা সত্যিই অনবদ্য।
পুরো গল্পজুড়ে সাসপেন্সের পাশাপাশি অভাব ছিলনা হাস্যরসেরও। হলফ করে বলতে পারি, দারুণ একটা সময় কাটবে এই বইটার সাথে সকল পাঠকের।