অ্যারিজোনায় মরুভূমিতে পাওয়া গেল একটা পরিত্যক্ত বিমান। আরোহী দু-জন নিখোঁজ, যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে। তিন গোয়েন্দাকে অনুরোধ করা হলো ওখানে গিয়ে রহস্যটার তদন্ত করার জন্যে। গেল ওরা। কল্পনাই করতে পারেনি এতখানি প্রতিকূল পরিবেশ। যখন তখন ওঠে ধুলোর ঝড়, অন্ধ করে দেয় চোখ মারাত্মক বিষাক্ত হিলা মনস্টার, কাঁকড়া বিছে আর হিংস্র পার্বত্য সিংহের ছড়াছড়ি। দানবীয় সব নকশা যেন হাজার বছরের রহস্য বুকে নিয়ে ওখানে ব্যঙ্গের হাসি হাসে। নদীর ভাটি ধরে চিহ্ন ধরে ধরে এগোল গোয়েন্দারা মেকসিকের দিকে। জানে না কী সাংঘাতিক বিপদ ওত পেতে আছে ওদের জন্যে!
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
নষ্টালজিক বই। মরুভূমিতে, কলোরাডো নদীতে আর ম্যাক্সিকোর বর্ডারে দারুণ এডভেঞ্চারে গিয়ে পুরোই হাই লেভেল আন্দাজের উপর ঢিল ছুঁড়ে রহস্য সমাধান করে ফেললো তিন গোয়েন্দা। সাথে পাসপোর্ট ছাড়া মনের আনন্দে যতবার মনে চায় ততবার বর্ডার পার হাওয়া, যতক্ষণ খুশি প্লেন উড়ানো আর মোটর বোট চালানো। নিরীহ কুগার একটা হালুম করা ছাড়া আর হিলা মন্সটার একটা ফোঁশ করা ছাড়া আর বেশি কিছু না করায় মনটা পুরো ভরলো না।
রিরিডিং এর পর দুই এর বেশি দিতে পারলাম না। তিন গোয়েন্দার এই না অ্যাডভেঞ্চার, না পাজলিং মিস্টেরি টাইপ গল্প গুলো খুব একটা ইন্টারেস্টিং না। জাল নোট, জাল পাসপোর্ট, জাল চেক, আর চোরাচালান নিয়ে মাঝের দিকের ভলিউম গুলো তে এই ধরণের গল্প গুলো বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিক্টর সাইমন থাকেন এবং অন্য একটা কেস এ কাজ করেন কিন্তু সাধারণত শেষে গিয়ে দেখা যায় তিন গোয়েন্দার কেস এর সাথে কোনোভাবে তার কেস এর যোগসাজশ আছে । একটু একঘেয়ে, বুদ্ধির খেলা নেই, বরং একই জায়গায় বারবার যাওয়া আর মুসা এর বারবার আলাদা হয়ে যাওয়া টা বিরক্তিকর।
ঢাবিতে বড় ভাইদের সাথে আড্ডা দিয়ে ফেরার পথে মিরপুর দশ মেট্রো স্টেশনের নিচে থেকে দুইটা বই কিনে ফেললাম। কম দামে হওয়ায় পকেটের দিকে আর তাকাইনি। একে তো এই বইটি অনেকটা ভিন্টেজ হয়ে গেসে তাই নিয়ে আসছি। পড়েও ভালো লাগলো। তিন গোয়েন্দার জাদুকরী দুনিয়ায় কি হতাশ হওয়া যায়? কিশোর, মুসা, রবিনের সাথে রকি বিচ থেকে ঘুরে আসলাম মেক্সিকোসহ নানান এডভেঞ্চারাস জায়গায়।