৩৫ বছর আগে যে ঘটনার শুরু তার জের কী আজো রয়ে গেছে?
নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন অভিনেতা জশুয়া আহমেদ চৌধুরী। খুনের পদ্ধতি বিস্ময়করভাবে মিলে যায় আগের কিছু হত্যাকান্ডের সাথে। তবে কী চৌদ্দ বছর আগে ঢাকা ভার্সিটির ইরিত্রা-জামসেদ হত্যা এবং সাত মাস আগের এক্সট্রিম নেটের সিরাজ-অহনা হত্যার সাথে এর কোন যোগসূত্র আছে? নাকি এর মাঝে আছে অন্য কিছুর ইঙ্গিত? কে এই মনোবিকারগ্রস্ত খুনি? কী তার উদ্দেশ্য? তার প্রতিশোধইবা কার ওপর?
ডিবি অফিসার ইমন আহমেদের পাল্লায় পড়ে তদন্তে নামেন তার শিক্ষক সাইকোলজির প্রফেসর ড. মাসরুর আবরার হোমস, সাথে তার বন্ধু প্রফেসর অপু পিউরিফিকেশন ওরফে ওয়াটসন। তারা কী পারবে খুনির মুখোশ উন্মোচন করতে? অন্ধকার টানেলের শেষ মাথায় আলোর রেখা দেখতে? তারা কী পারবে বিরুদ্ধ স্রোত সাঁতরে তীরে উঠতে? নাকি তীরে এসে তরি ডুববে?
জাহিদ হোসেনের জন্ম সিলেটে, বেড়ে উঠা ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশায় ব্যাংকার হলেও বইপড়ার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ। শুরু অনুবাদ দিয়ে। পরপর দু’টি অনুবাদ প্রকাশিত হয় তার - অ্যাম্বার রুম ও ম্যাক্সিমাম রাইডঃ দ্য অ্যাঞ্জেল এক্সপেরিমেন্ট। তারপর তিনি প্রবেশ করেন মৌলিক লেখালেখির জগতে। মৌলিক থ্রিলার হিসেবে তার প্রথম প্রয়াস ঈশ্বরের মুখোশ যা ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর একে একে বের হয় ফিনিক্স, কাদ্যুসেয়াস, একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে, দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব, গিলগামেশ, নৈর্ঋত, পরশুরামের কঠোর কুঠার, ইথাকা ও স্বর্গরাজ্য। লেখালেখিতে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছেন।
তার প্রকাশিত বই ওপার বাংলাতেও ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ও বুকিকার্ট থেকে ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বইয়ের ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
পুরো বইটা এতো থ্রিলিং ছিল, এতো দুর্দান্ত ছিল, এতো রোমাঞ্চকর ছিল... শুধু শেষ দশ পৃষ্ঠা ছাড়া। সর্বশেষের রহস্যোদ্ঘাটন একটা জমজমাট রহস্যের শ্বাসরুদ্ধকর টানটান উত্তেজনার সবটাতে একেবারে বরফশীতল পানি ঢেলে দিয়েছে।
কিছু টুইস্ট থাকে একটা সাধারণ কাহিনিকে অসাধারণত্বে নিয়ে যায়, নতুন চোখে বার বার পড়তে/দেখতে ইচ্ছা করে; আর কিছু থাকে তার উল্টো, গালে আচমকা ঠাস করে চড় বসানোর মতো তিক্ততা রেখে যায় আর দ্বিতীয়বার কখনো ধরেও দেখার ইচ্ছা থাকে না। দূর্ভাগ্যক্রমে এই উপন্যাসটি দ্বিতীয় গোত্রের। অন্তত আমার কাছে। অনেকে হয়ত এন্ডিংটা খুব এনজয় করবেন একেবারে ভিন্নধরনের কিছু দিতে পারায়, সেটা অবশ্য অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, ইটস ট্রুলি ওয়ান অফ আ কাইন্ড, তবে আমার কাছে তা অতিমাত্রায় তিক্তকটু একটা বিশ্রি স্বাদ মুখে (থুড়ি মনে) রেখে যাওয়ার মতোই। লেখক যেন গল্পের চরিত্রগুলোর মতো পাঠকের সাথেও চরম উপহাস করলেন "বোকাচোদা" গালি দিয়ে। আর বেশি কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না, বই পড়ার পুরো উপভোগ্য সময়টাই শেষে নষ্ট হয়েছে, আরও নষ্ট করতে চাচ্ছি না। মন চাচ্ছে উপন্যাসটাকে ০-তারকা দিই, কিন্তু আমি End justified the means-ধারণায় বিশ্বাসি নই (যদিও এক্ষেত্রে লিটারেলিই unjustified), the Journey had to be something-মাথায় রেখে ২-তারকা দিলাম (যদিও উক্ত journey was rigged from the very first page)। যত যাইহোক, উপন্যাসের কাহিনি-কাঠামো-ঘটনাক্রম, সর্বোপরি জাহিদ হোসেনের মন্ত্রমুগ্ধকর সম্মোহনী লিখনি অন্য মাত্রার ছিল, অন্য পর্যায়ের, একেবারে বিশ্বসেরা থ্রিলার লেখকদের বেস্টসেলিং সব মার্ডার-মিস্ট্রির সাথে পাল্লা দেয়ার সমকক্ষ। আফসোস, শুধু শেষে এসে সবকিছু একেবারে পঁচায়ে গেল! উপন্যাসটাতে আমি যতই এগিয়েছি আমার মনে হয়েছে এটা বাংলায় পড়া আমার অন্যতম সেরা মিস্ট্রি থ্রিলার হতে যাচ্ছে, হতেও পারত, কিন্তু শেষমেষ গল্পের কতিপয় কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতোই যেন আমার সুখপাঠ্যতাকে শীর্ষে উঠিয়ে সেখান থেকে লাথি দিয়ে পপাত ধরণিতল করে দেয়া হলো।
মন চাইছে বইটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলি, আগুনে পুড়ায় ফেলি, এত বেশি রকমের রাগ লাগতেছে! নেহায়েত নিজের পকেটের টাকায় কেনা, তাই মেজাজ সামলে তাকে তুলে রেখে দিয়েছি। -_-
বিঃদ্রঃ কিছু বারংবার উল্লিখিত শব্দ/শব্দচয়ণ আমাকে খুব খুঁচিয়েছে, জানি না লেখকই ঠিক নাকি আমারই জানায় ভুল আছে, তবে আমার সীমিত স্কুল-জ্ঞানে যতটুকু মনে হয়েছে সেটাই উল্লেখ না করে পারছি না: বরঞ্চ -> বরং (যতদূর জানি 'বরঞ্চ' শব্দটা বহুকাল থেকেই বাংলা ভাষায় অবসোলিট) একদা একসময় ->একদা/একসময় (দুটাই একই অর্থ প্রকাশ করে) প্রতিদ্বন্ধী ->প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বিধাদ্বন্ধ->দ্বিধাদ্বন্দ্ব দ্বন্ধ->দ্বন্দ্ব হয়তোবা, যেনবা,যদিওবা ইত্যাদি->হয়তো, যেন, যদিও ...
অন্যরকম!! পুরো উপন্যাসটা শেষ করার পরে এই কথাটাই সর্বপ্রথম মাথায় আসবে। তবে একটু ভয়নকর রকম অন্যরকম । সাইকোলজিকাল থ্রিলার আগেও পড়েছি । মার্ডার মিস্ট্রি ও আগে অনেক পড়েছি । তবে বাংলাতে এরকম থ্রিলার আগে পড়িনি এটা বলতে পারি । সব কিছুরই প্রথম থাকে । ঈশ্বরের মুখোশ হয়ত এধরণের থ্রিলার গুলোর প্রথম (বাংলাদেশে) ।
থ্রিলার হিসেবে যদি বিবেচনা করতে হয় তবে নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের মুখোশ উপরের দিকেই থাকবে । এধরণের সাইকোলজিকাল থ্রিলার এ যে সকল উপাদান থাকা দরকার – বীভৎস রকমের খুন, রক্ত , ঠান্ডা মাথার খুনী , খুনির পেছনে ধাওয়া, সাসপেন্স সবকিছুই একদম ঠিক পরিমাণে আছে । অনেক ক্ষেত্রে বলা যায় যে কিছু উপাদান একটু বেশীই vulgar যা অনেকেই হয়ত নিতে পারবেন না, আর বইটা অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে উপযোগী ।
এই ধরণের থ্রিলার গুলোর রিভিউ এর ক্ষেত্রে গল্প সম্পর্কে কিছু বলা যায় না কারন তাতে স্পয়লার দেয়া হয়ে যায় । এই বইটাও সেরকম । কাহিনি সম্পর্কে যদি বলতেই হয় তাহলে – নিজ বাসায় খুন হয়ে যায় একজন জনপ্রিয় অভিনেতা যার খুনের ধরনের সাথে মিল খুজে পাওয়া যায় পনের বছর আগের এক জোড়া খুনের । খুনের ধরণ বীভৎস । কিন্তু সমস্যা হল সেই খুনের সিরিয়াল কিলার এখন জেলে । তাই এবার ও তদন্তের সাথে জড়িয়ে পড়ে আগের বারের খুনীকে বের করার কাজে সাহায্য করা ঢাকা ভারসিটির সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট এর এক প্রফেসর । ঘটনা ক্রমে বের হতে থাকে অনেক কিছু । এভাবেই সামনে আগায় কাহিনী । কিন্তু এই বই এর মূল চমক এর শেষে । টুইস্টটা এতই মাথা ঘুরানো যে আপনার মনে হবে যে শুরু থেকে এতক্ষন তাহলে কি পড়লাম । বই এর শুরু থেকেই একটা লাইন বার বার চোখের সামনে আসতে থাকবে – “ Revenge is a dish best served Chilled” . বই শেষ করার পরে এই লাইন এর যথার্থতা পাওয়া যাবে ।
যদি সাইকোলজিকাল থ্রিলারের ফ্যান হয়ে থাকেন তবে এই বইটা মিস করবেন না । এই বছর নিঃসন্দেহে বাতিঘর থেকে বের হওয়া থ্রিলার গুলোর মধ্যে এটা অন্যতম সেরা। তবে ঐ যে বললাম গতানুগতিক থ্রিলার গুলোর থেকে একটু অন্যরকম । লেখক জাহিদ হাসান কেও ধন্যবাদ বইটির জন্যে । উনার প্রথম উপন্যাস এটা কোথাও বুঝতেই পারি নাই । :) আশা করি এরকম বই আরো পাব ।
পুরো বইটাই দারুণ কিন্তু শেষ এক ফর্মাতে হতাশ। শুরু থেকে মোটামুটি শেষ পর্যন্ত মোটামুটি বেশ ভালোই লেগেছে কিন্তু শেষটা ভালো লাগলো না। আমার কাছে মনে হয়েছে কাহিনী বিল্ডাপে আরেকটু ভালো করা যেত। প্লটটা আসলেই অসাধারণ কিন্তু শেষে এসে সবকিছুতে পানি ঢেলে দেয়ার মতো লাগলো। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে অহেতুক বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা বই(ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে এন্ডিংটা বাদ দিলে) এবং ভালো লাগার পরে যেভাবে বইটা শেষ হয়েছে, সেই এন্ডিং পার্ট এর জন্য চরমভাবে হতাশ আমি বইটা শেষ করার পর। যদিও এমন এন্ডিংয়ের কারনেই অনেকেই ৫★ দিবে, অনেকের ভালো লাগবে বইটা। যাইহোক, যারা পড়েননি পড়ে দেখতে পারেন।
লেখক অনেকগুলো ডিসকানেক্টেড দৃশ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন, পরবর্তীতে সবগুলো কানেক্ট করতে পারেননি। কফিমানবের দৃশ্যটা অবতারণা করে পরে কাহিনির সাথে আর কোনো সংযোগ দেখানো হয়নি। ওখানে কি হচ্ছিল, বাকি লোকগুলোই বা কে?
বইয়ের বেশ কিছু দিকের যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। যেমন ২০০০ সালের ঘটনা আর ২০১৪ এর ঘটনার মাঝখানে এত গ্যাপ থাকার কোনো কারণ নেই (বিশেষ করে ভিলেনদের একজন যেহেতু অনেক বয়স্ক, এত বছর নষ্ট করার কথা না)। ২০০০ সালের ঘটনার বিভিন্ন দিক পুলিশ কেন ফলোআপ করল না সেটাও পরিষ্কার না।
জশুয়া চৌধুরীর জীবনের sordid দিক নিয়ে অনাবশ্যক 'রহস্য' প্রায় দুইশ পৃষ্ঠা ধরে টানা হয়েছে, যদিও ব্যাপারটা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কারণ জশুয়া চৌধুরীর রেপুটেশন আগে থেকেই ���েরকম। তার ভাই তাকে উদ্দেশ্য করে যা বলেছে, তার সম্পর্কে এমনিতে মানুষের ধারণা, সবই পরিষ্কার। ব্যাপারটা এত বেশি অবভিয়াস যে দুইশ পৃষ্ঠা এই ন��য়ে 'রহস্য' বিরক্তি সৃষ্টি করে। এই ব্যাপার বেশি জায়গা নিয়ে নেয়ায় মূল রহস্য যথেষ্ট জায়গা পায়নি।
গল্পটা শুরুতেই অনেক ভারী, অন্তত আমার তাই-ই মনে হয়েছে। একগাদা দৃশ্যপট পরিবর্তন, একাধিক চরিত্রের অবতারনা অধ্যায়ব্যাপী, অত্যাধিক ঐতিহাসিক রেফারেন্স, ইত্যাদির ভারে আমার মাথা জ্যাম হয়ে গিয়েছিলো। প্রথম তিন বসাতে মাত্র ৬০-৭০ পাতার মতো এগুতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারপরেই হয়ে গেল ম্যাজিক, দৌড়ে চললাম রুদ্ধশ্বাস।
সত্যিকথা বলতে, একবার ভেবেছিলাম বইটাই পড়বোনা, কিন্তু না পড়লে ভুল করতাম। কারণ এই বইয়ের মারপ্যাঁচ এবং সমাপ্তির চমক, গল্পের গতিশীলতা গত কয়েকবছরের মধ্যে পড়া মূলধারার রহস্যউপন্যাস গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা, এবং একদম প্রথম সারির।
লেখকের বর্ণনাশৈলীতে গতিশীলতা লক্ষণীয় কিন্তু কিছু জিনিশ না বললেই নয়। বইটা পড়লেই বোঝা যাবে লেখকের শব্দসম্ভার যথেষ্টই উন্নত এবং ইতিহাস সম্পর্কিত জানাও যথেষ্টই, কিন্তু বইটির ঘটনাবিন্যাসে এলোমেলোভাবে লক্ষণীয়। যার কিছু ঐচ্ছিক, আর কিছু অযাচিত (সম্ভবত) । ঘটনা বর্ণিত হয়েছে দুই আঙ্গিকে, একটি আঙ্গিকে গল্প বলেছে প্রফেসর হোমস এর সহকারী, আর অন্যটায় তৃতীয় পক্ষ থেকে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। গল্প দুটো থেকে চারটি কালে বিস্তৃত, যার অন্তত দুটো কাল গল্পের বেশ কিছু অংশ ধরে প্যারালাল চলে। যেখানে ফুটে ওঠে পূর্বে বাংলা রিপারকে ধরার ঘটনাটি এবং বর্তমানের চলমান ঘটনার তদন্ত। কিন্তু অতীতের তদন্তে দেখা গেছে সেখানে প্রফেসরের সহকারী অপু উপস্থিত থাকলেও তার কণ্ঠে ঘটনা বর্ণিত হয়নি। আমার মনে হয়েছে পুরো ঘটনাই থার্ড পারসনে লেখা যেত। যাই হোক সেসব অবশ্য কোনও বিশেষ বড় সমস্যা না। উপেক্ষা করাই যায়। তবে গল্পের বেশিরভাগ চরিত্র এমনকি মূল চরিত্রও কথোপকথনের জন্য ইনফরমাল ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে, বিষয়টা আরও একটু কমানো গেলে ভালো লাগতো। যদিও এটাই আজকাল দেশীয় ট্রেণ্ড, নাটক-সিনেমা গুলোতেও এটাই চলছে, মূল বাংলা ভাষার থেকে সরে এসে আমরা লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলছি!
গল্পটি এগিয়েছে মূলধারার রহস্য উপন্যাসের মতো। যেখানে গোয়েন্দা ঘুরে ঘুরে সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, মানুষের সাথে কথা বলে, জেরা করে, এবং অনুসিদ্ধান্তে আসতে চেষ্টা করে। তাছাড়া পাঠককেও যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে তদন্তের সাথে নিজের মতামত ভেবে সিদ্ধান্তে আসার। কারণ দুজন গোয়েন্দার কেউ-ই পুরোদস্তুর প্রফেশনাল নন, তারা দুজনেই বৃদ্ধ, এবং প্রফেসর আর ওটাই তাদের প্রধান কাজ। গোয়েন্দাগিরি নয়। আর এখানেই আর দশটা রহস্য উপন্যাস থেকে এই বইটা আলাদা, এটাকে আমি বইটার শক্তি হিসাবে দেখেছি।
গল্পের মূল পরিনতির পুরোটা কারও পক্ষে ধারণা করা সম্ভব নয়, আমি ৮০% পর্যন্ত পেরেছি। কিন্তু শেষমেশ যা হয়েছে তাতে গল্প চমকপ্রদ লাগলেও যথেষ্টই খারাপ লেগেছে নৈতিকভাবে। আসলে বুঝতে পারছিলাম এরকম কিছু হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটা আশা ছিল যে লেখক হয়তো কোনভাবে পাঠকের মরাল হাই করার ব্যবস্থা করবেন। সেটা করা হয়নি। অনেকের হয়তো এই বিষয়টা ভালো লাগবে। আমার যেন কেমন কেমন লেগেছে। তবুও বার বার বলছি, বইটি পড়তে হবে, নাহলে মিস করবেন।
এটি লেখকের প্রথম উপন্যাস, তবে এখানেই পাঠকের আকাংখা এতটা বাড়িয়ে ফেলেছেন যে ভবিষ্যতে লেখককে নিজেরই বেগ পেতে হবে এই মানের দ্বিতীয় একটি উপন্যাস উপহার দিতে গিয়ে। তবে আশা করছি এই মানের আরও উপন্যাস উপহার পাবো আমরা লেখকের হাত ঘুরে। আর অনুরোধ করছি গল্পে নৃশংসতা আরও কিছুটা কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য। দুর্বল চিত্তের মানুষের নাহলে চিবোতে চিবোতে নখ শেষ হয়ে যাবে।
বইটা প্রথমদিকে বিরক্তই লাগছিলো। লেখকের লেখনীও ভালো লাগছিলো না। একই লাইনে একবার 'করতাছিলাম' ইউজ করা হয়েছে, তো আবার 'যাচ্ছি' ইউজ করা হয়েছে। বেখাপ্পা জিনিস। আবার কিছু অধ্যায় উত্তম পুরুষে লেখা, তো কিছু অধ্যায় নাম পুরুষে লেখা। কিন্তু লাস্ট দুইটা অধ্যায়ের টুইস্টগুলা চমৎকার ছিল। সত্যি বলতে কি- টোটাল ৪২ টা অধায়ের জন্য আমার রেটিং ৫/১০; কিন্তু শেষ দুটো অধ্যায়ের জন্য ১০/১০! এমন টুইস্টেড টুইস্ট ই তো চাই। এক্কেবারে আনপ্রেডিক্টেবল।
গল্পের শুরুতেই চরিত্র এবং প্লটের ঘনঘটা। গল্পের সময়কালের বারবার পরিবর্তন। "হচ্ছেটা কী আসলে!" - আয়ত্ব করতেই বেশ সময় লেগে যায়।
বইয়ের প্রথম ৫০পৃষ্ঠায় না হলেও, অর্ধশতাধিক চরিত্রের আগমন ঘটে। বেশিরভাগ চরিত্রই আবার নামধামহীন।
তবুও লেখকের লেখনীর জোরে গল্প পড়ে যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। প্রথমেই লেখক এতগুলো সুতো ছেড়ে দেন যে ধারণা করা যায় - Something Big is Coming!
'হচ্ছেটা কি' - এতটুক বুঝার পরপরই গল্পে বুঁদ হয়ে যেতে হয়৷ গল্পের বিল্ডাপ এতটাই দারুণ! লেখক জাহিদ হোসেনের সুলেখনীই এখানে সবচেয়ে বড় নিয়ামক।
ক্রাইম থ্রিলারটির গল্পের ভিতর ডুবতে ডুবতে যখন আমি মুগ্ধ - তখন ধীরে ধীরে আবার সেই মুগ্ধতার রেশ কেটে যেতে থাকে। মুগ্ধতার জায়গায় ভর করে বিরক্তি!
"লেখক কেন অযথা গল্প এভাবে রাবারের মত টেনে বড় করছেন?"
বইয়ের ২০০পেজের পর থেকে আবার শুরু রোলার কোস্টার রাইড! সেহরির পর ২০০পেজের পর থেকে পড়া শুরু করি। শেষ করতে করতে ভোর ৬টা। বই শেষ না করে, ঘুমানোর উপায় নেই - এমন অবস্থা!
২৭০ পেজ পর্যন্ত যখন আমি মুগ্ধতার শীর্ষে - শেষের ২০পেজে গল্পের ফিনিশিং আমার সকল আশা, মুগ্ধতা নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে।
পুরো গল্পজুড়েই অনেক চরিত্র, অনেক সাবপ্লট, অনেক সুতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল - যেগুলোর বেশিরভাগই লেখক ঠিকই কানেক্ট করতে পেরেছেন।
তবে অনেক চরিত্রই ছিল অপ্রয়োজনীয়, সব খোলা সুতো ঠিকমত জোড়াও লাগে নি। বইটি ২৯০পেজ পর্যন্ত অযথা না টেনে ২০০-২২০ পেজের মধ্যে কম্প্যাক্ট রাখা যেত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক গোয়েন্দাগিরি করে বেড়াচ্ছেন। সংলাপে "করতাছি, যাইতাছি" ব্যবহার করছেন - এগুলোও চোখে লেগেছে বেশ।
এসব ত্রুটিও নিয়েও বইটি আমার কাছে A+ ক্যাটেগরিতেই থাকতো, যদি না সমাপ্তিটা এত আশাহত করতো।
ডিভি অফিসার এবং প্রাক্তন ছাত্র ইমন আহমেদের পাল্লায় পড়ে জশুয়া আহমেদ চৌধুরীর নৃশংস হত্যাকান্ডের তদন্তে জড়িয়ে পড়ে সাইকোলজির প্রফেসর ড. মাসরুর আবরার হোমস এবং তার বন্ধু প্রফেসর অপু পিউরিফিকেশন। খুবই নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় জশুয়া আহমেদকে।কিন্তু তারচেয়েও অবাক ব্যাপার খুনের আলামত মিলে যায় আগের কিছু হত্যাকান্ডের সাথে।যেসব হত্যা কান্ডের খুনি বাংলা রিপার এখন জেলে। তাহলে কি ভুল মানুষকে জেলে পাঠানো হয়েছে? বাংলা রিপারই কি খুনের জন্য দ্বায়ী? ওদিকে তুমুল জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ স্নিগ্ধ হাসানের ভূমিকাই বা কি? যাকে সবাই হিটলার নামেই ডাকে। তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে বেড়িয়ে এল গোখরো সাপ।অবশেষ�� কি আসলেই ধরব পড়লো খুনি? নাকি অন্য কেউ?
ভাল লাগা বিষয়- বাতিঘর এবার যে বইগুলো বের করেছে তারমধ্যে এই বইটা নিয়ে আলোচনা খুব কম হয়েছে।অথচ বইটা পড়া শুরু করলে থামার উপায় নেই।কাহিনী একই গতিতে এগিয়েছে।কোথাও ঝুলে যাইনি।চরিত্র গুলোর সংলাপে কথ্য ভাষা লেখায় ভাল লেগেছে, যা থ্রিলার বইয়ে কম দেখা যায়। কঠিন পরিস্থিতেও হাস্যরসাত্মক কথাবার্তায় অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করে।আর শেষের যে চমক ছিল সত্যি অসাধারণ। জয়তু জাহিদ হাসান। একটি বই পড়েই আপনার ভক্ত হয়ে গেলাম।
খারাপ লাগা বিষয়- এই বইটার মধ্যে আমি খারাপ লাগার মত কিছু পাইনি শুধু কয়েকটা বানান ভুল ছাড়া।আশা করবো পরের এডিশনে ঠিক হয়ে যাবে।যদিও বাতিঘরের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় বানান ভুল অনেক কম ছিল।
এমন চমৎকার একটা নন-লিনিয়ার রুদ্ধশ্বাস সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এমন ঢ্যাবঢেবে হয়ে শেষ হবে - এ আমি ভাবতে পারিনি! গল্পের ক্লাইম্যাক্স অবধি গতি, বিল্ড-আপ, চরিত্রচিত্রণ - এগুলো স্রেফ অসামান্য ছিল। কিন্তু কাহিনির মূল থ্রাস্ট, তথাকথিত প্রতিশোধের বাস্তবায়ন, পরিণতি, শেষে টিকে যাওয়া চরিত্ররা - এরা আমাকে একেবারে টার্ন-অফ করে দিল। এত ভালো একটা কাহিনি কেন এভাবে শেষ করলেন, হে লেখক?
আপনাকে আপনার এক বন্ধু খুবই নামকরা এক রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত সুস্বাদু একটা কাচ্চি খাওয়ালো, কিন্তু এর পরপরই সেখান থেকে বের করে এনে ডেজার্ট হিসাবে রাস্তার পাশের পঁচা দই খেতে দিলো!! কেমন লাগবে আপনার??
বইপাড়ায় ভালোভাবে শুরু করার সাথে সাথেই লেখক জাহিদ হোসেনের বইগুলোর ব্যাপারে অলমোস্ট প্রতিটা পাঠকের কাছ থেকেই কমন একটা কথা শুনেছি তা হলো সুন্দর গল্প, দূর্দান্ত লিখনশৈলী আর জঘন্য এন্ডিং 🙂। উনার বইয়ের এন্ডিং এতোই জঘন্য হয় যে রাগে মাথার চুল ছিড়তে না পারলেও, বই ছিড়ে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়!! এবং ঈশ্বরের মুখোশ পড়ে আমি এই কথা গুলো হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।
শহরের এক সেলেব্রিটির নৃশংস খুন থেকে বইয়ের মূল গল্প শুরু হয়। প্রথম প্রায় ৫০ পৃষ্ঠায় এসে পরিচয় হয় গল্পের মূল দুই চরিত্র মাশরুর এবং তার বন্ধু অপুর সাথে। আদতে তারা দুইজন ঢাকা ইউনিভার্সিটির রিটায়ার্ড অধ্যাপক হলেও, এখন শখের বশে টুকটাক গোয়েন্দাগিরিও করেন। দেশীয় মৌলিকে প্রবীন দুই ডিটেকটিভের এই ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ইউনিক লেগেছে। এবং এরপর তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া, সূত্র উদঘাটন, বিভিন্ন রকমের ঐতিহাসিক রেফারেন্স, গানের রেফারেন্স আর একের পর এক রহস্য মিলে এক কথায় চমৎকার একটা সময় কাটে বইটির সাথে। প্রচুর চরিত্রের আগমন হলেও, ঘটনাবলী এতো দ্রুত আর এতো যৌক্তিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলো যে আমি কল্পনাও করিনি এই বইটির এতো কুৎসিত একটা এন্ডিং হতে পারে। স্রেফ যুক্তিহীন, গাঁজাখুরি একটা এন্ডিং; যা পুরো বইটির ভালো লাগাকে এক নিমিষে গলা টিপে মেরে ফেলে 🙂। এন্ডিং এর একটা বিষয়েরও আমি কোনো ধরণের যুক্তি খুঁজে পাইনি।
বইটি পড়েছি প্রায় মাসখানেক আগে, অথচ এখনো এর এন্ডিং এর কথা মনে পড়লে রাগে গা রি রি করে!! লেখকের আর কোনো বই না পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু শুনেছি "নৈর্ঋত" উনার একমাত্র বই যেটার এন্ডিং "তূলনামূলকভাবে" বেশ ভালো। তাই সেটা পড়বো।
পুরানো 'ইলাস্টিসিটি প্রবলেম'। ১৬০-১৭০ পৃষ্ঠার বই টেনেটুনে যখন ২৮৮ পৃষ্ঠা বানানো হয় তখন পড়ার মজাটা নষ্ট হয়ে যায়। বেশি কিছু না বলে একটা মজার ঘটনা বলি(ঘটনা ঠিক, কৌতুক)- -'তোর রোল নাম্বার কত রে?' -'১' -'ক্লাসে মোট ছাত্র কতজন?' -'১ জন।' প্লটটা দুর্দান্ত ছিল। তবে কাহিনী বিল্ড-আপে আরেকটু মনোযোগ দরকার ছিল মনে হয়। অনেক ঘটনা বড় বেশি কো-ইনসিডেন্টাল হয়ে গেছে। আরেকটু খেটেখুটে, পরিমিত পৃষ্ঠায় লিখলে বইটা ভালোই হত। আরেকটু উপভোগ করতে পারতাম।
দুর্দান্ত একটা বই। চমৎকার বিল্ড আপ, অনেক হাইপড পুরোটা সময়– কিন্তু সমাপ্তি টা!
আহা!
বাকি বইয়ের সাথে মোটেও যায় না।
তাছাড়া সবকিছু ভালো। কিছু কিছু লুজ এন্ড আছে প্লটে, চরিত্রায়নের প্রয়োজনে হয়তোবা সেগুলো। তবে মূল ঘটনায় তাদের কোনো উদ্দেশ্য থাকলে ভালো লাগতো, উপন্যাসে বোহেমিয়ান গল্প বেমানান লাগে।
ভালো উপন্যাস। চমৎকার নামকরণ। কিন্তু 'আহা' সমাপ্তি : (
বইয়ের শুরুটা বেশ ভালই ছিল... কিন্তু বই শেষ করার পর হতাশই হয়েছি বলা চলে। কাহিনীর যে গতি ছিল আর যেভাবে গল্প এগিয়ে গেছে এন্ডিংটা সেই তুলনায় অনেক হালকা মনে হয়েছে :3
Dan Brownian influence is everywhere & writer did not use that carefully. Too much coincidental storytelling. Mr. Writer promoted the sadistic psychopath serial killers, named them "assets", that is the worst part. This thriller will disappoint every mature reader. I recommend it to nobody.
অসাধারণ প্লট। প্রথম বইয়েই লেখক নিজস্ব স্টাইল তুলে ধরেছেন। হিউমার সম্পন্ন হার্ডকোর থ্রিলার। এ ব্যপারটা সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। প্রথম দিকে অবশ্য অনেক জায়গায় কাহিনী ঝূলে পড়েছিল, যদিও পরবর্তীতে খুব ভালভাবেই উতরে গেছে। এত বড় টুইস্ট কল্পনা করাও সম্ভব ছিলনা। রেটিং ৪.৫/৫
বইয়ের শুরুটা আকর্ষণীয় ছিলো না, প্রথমে বুঝে উঠতে কষ্ট হয়েছে, তার উপরে কাহিনীটা অনেকগুলো টাইমলাইনে চলে। তাই শুরুতে আগ্রহ হারিয়ে বইটা অনেকেই পড়া ছেড়ে দিতে পারেন। তবে একটু মনোযোগ ধরে রেখে এগিয়ে গেলে আস্তে আস্তে কাহিনী আকর্ষণীয় হতে থাকে, অনেকগুলো চরিত্র আসে, ঘটনাক্রকম সুন্দরভাবে এগোতে থাকে, এ��ং শেষমেশ এক ভয়ংকর ক্লাইম্যাক্সে উপস্থিত হয়।
বইয়ের প্লট ভালো ছিলো, চরিত্র বিল্ডাপ, গতি সব ঠিকঠাক। তবে লেখকের লেখা নিয়ে একটু অভিযোগ আছে। বিশেষ করে প্রথমদিকের অংশের লেখা আগ্রহ হারানোর জন্য যথেষ্ট।কিন্তু কাহিনীর জন্য বই থেকে বের হওয়া যায় না।
যদিও নিজের চাওয়ামত কাহিনী শেষ হয়নি, বেশকিছু জায়গায় আগ্রহ হারিয়েছি, ভাষাগত কিছু ব্যাপার ভালো লাগেনি, তবে এটা নিঃসন্দেহে আমার পড়া অন্যতম সেরা বাংলা থ্রিলার।
পড়ার সময় জানতাম না এটা ট্রিলোজি হবে, পড়ার পরে ক্লিফহ্যাংগার পেয়েও তাই মাথা গরম হয়ে যায়নি। আল্লাহ জানেন যারা এই বই আগে পড়ে ক্লিফহ্যাংগার নিয়ে আছেন তারা কেমনে আছেন।
একেবারেই ভাল লাগেনি। গল্পের প্লট শুরুতে ভাল এগুলেও শেষে এসে যেন কিছুই মিল পাই নি। প্রথম থেকে পড়ার সময় মনে হচ্ছিল অনুবাদ পড়ছি। আর গল্পের শেষতক পুরাই জগাখিচুড়ী।
২০০০ সাল। নৃশংসভাবে খুন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ইরিত্রা-জামশেদ। খুনি এক ঠাণ্ডা মাথার সাইকো, বুক চিরে বের করেছে সে ভিক্টিমদের প্রাণসঞ্চারক হৃদপিণ্ড! ঘটনাস্থলে হৃদপিণ্ডটা লাশের সামনে প্লেটে সাজিয়া রেখেছে সে, যেন আয়োজন চলছে কোনো মহাভোজের! সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর মাশরুর বেশ ধাক্কা খেলেন হত্যাকাণ্ড দেখে। তদন্তে নেমে পড়েলেন, সাথে বন্ধুবর অপু এবং প্রিয় শিক্ষার্থী ইমন তো আছেই। কেস সলভ-ই করে ফেললেন অবশেষে, তবে বিপত্তি বাধল ১৪ বছর পরের আরেক হত্যাকাণ্ডে! প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী জশুয়া আহমেদের বিভৎস লাশ যেন অতীতের সাইকোকেই মনে করিয়ে দিল। তবে সে তো জেলে! কী এই নতুন হত্যার রহস্য? সাইকো কি আসলেই অধরা রয়ে গেল। নাকি অধরা রয়ে গেল অতীত কোনো অধ্যায়?
বইটা নিয়ে আদতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। বইয়ের প্রারম্ভ বাস্তবিক অর্থেই বেশ কড়া এবং আগ্রহ জাগানিয়া ছিল। একাধিক চরিত্রের প্রহেলিকাময় পথচলা, খুনির বীভৎসতা ও দৃশ্যপটের বারংবার পরিবর্তন বেশ লেগেছিল। দুটো টাইমলাইন তথা ২০০০ ও ২০১৪ সাল সমান্তরালে এগিয়ে যায়। ২০০০ সালের টাইমলাইন অজানা কারণে উপভোগ করিনি, রীতিমত মনের সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পড়তে হয়েছে। ফলস্বরূপ, বইয়ের মাঝের অংশ শ্লথ মনে হয়েছে, বেগ পোহাতে হয়েছে পড়তে। তবে শেষে ২০১৪ এর টাইমলাইনকেই কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায় এবং সেই টাইমলাইন এক কথায় পুরোদমে উপভোগ করেছি। টানটান উত্তেজনা নিয়ে পড়েছি, শেষের টুইস্টগুলোর মুষ্টাঘাতে ধরাশায়ী হয়েছি পুরো। ভিলেনের আত্মপ্রকাশ চেতনা অবশ করে দিয়েছে, এত জটিল কাহিনী লেখক অভিনব উপায়ে এক সুতোয় বেঁধেছেন। তবে সমাপ্তিটা আরেকটু চমকপ্রদ হতে পারত। পরিশেষে, গতানুগতিক ধারার মাডার মিস্ট্রি কিংবা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার থেকে বেশ জটিল প্লটবিশিষ্ট থ্রিলার হল ‘ঈশ্বরের মুখোশ’। প্রতিটি মুহূর্ত আপনাকে ভাবাতে শেখাবে বইটা।
দেশীয় থ্রিলার গুলো দিন দিন পরিপক্ক হচ্ছে। জোরালো কাহিনী দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এই বইটা মনে হয় ইতোমধ্যেই সেই পরিপক্কতা অর্জন করে বসে আছে! ততটাই পরিপক্ক, যে আমার পড়া দেশীয় বেস্ট থ্রিলারগুলোর মধ্যে প্রথমদিকে জায়গা করে নিয়েছে। নাজিম উদ্দিন, শরিফুল হাসানের পর আরেকজন স্ট্রং থ্রিলার লেখক পেলাম মনে হচ্ছে। জাহিদ হোসেন! অনেক রিভিউ, আলোচনা হওয়া দেখে বইটা কেনা। 'ঈশ্বরের মুখোশ' একটা প্রতিশোধের গল্প। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি খুনের জন্য দায়ী সাইকোর গল্প, রাজনীতির গল্প। মজার ব্যাপার, এই বইয়ের মেইন ক্যারেক্টার যে দুই গোয়েন্দা, তারা দুজনই ষাটোর্ধ! জিনিশটা ইন্টারেস্টিং!! লেখক স্ট্রং, ইয়াং, নেভার গিভ আপ টাইপ ক্যারেক্টার না নিয়ে নিলেন অবসরে চলে যাওয়া বৃদ্ধ ২জন মানুষকে। আগেই বলেছি বইটা খুব পরিপক্ক আর গোছানো। লেখার গাঁথুনি শক্তপোক্ত এবং তার সেন্স অফ হিউমার জোশ! কয়েক জায়গায় জোরেশোরে হেসেছি... সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার প্রায় প্রতিটা ঘটনারই ওয়েল এক্সিকিউশন রয়েছে। যা বলেছেন সবই। রাজনীতি থেকে শুরু করে জিউস!!! তো, আমি বইয়ের শুরুতে সবসময় একটা ওয়াইল্ড গেজ করি। প্লাস বই পড়ে এগোতে এগোতে আবার আগের কিছু জিনিশ দেখে কাহিনীর ফিনিশিং নিজের মতো কল্পনা করে নেই। মোটামুটি সকল বারই সফল! এবারও তাই-ই করেছিলাম। পেন্সিলে দাগানো ও আছে সেসব। কিন্তু এবার ফিনিশিং এ গিয়ে দেখলাম আমার গেজ আসলে ঠিক হয়েও ঠিক না!! :o যাইহোক, দেশীয় থ্রিলার যদি পড়বেন বলে ভাবেন, এটা পড়ে ফেলবেন। হাইলি রিকোমেন্ডেড!!
জাহিদ হোসেনের সিগনেচার রাইটিং স্টাইল এই বইয়ে পুরোপুরি ফুটে উঠেনি। আগের বইগুলো পড়া থাকায় এই বইয়ের লিখনশৈলী দেখে বুঝছিলাম এইটা লেখকের দীর্ঘ যাত্রার শুরু মাত্র। তার কিছু ছাপ তার প্রথম লেখাতেই উপস্থিত। এর মানে এই না যে লিখনশৈলী দুর্বল। ডিটেইলিং, ভিজ্যুয়ালাইজেশন সবকিছুই ভালো ছিল। তবে কিছু জায়গায় বর্ণনা অহেতুক আর মাত্রাতিরিক্ত মনে হয়েছে। কাহিনীর প্রয়োজনে লেখক বেশ কিছু তথ্যও উপস্থাপন করেছেন। কয়েক জায়গায় তা খাপে খাপ ছিল, পড়তে ভালো লাগছিল। তবে দু-এক জায়গায় আরোপিত মনে হলো।
গল্প ভালো লেগেছে। ড. মাসরুর আবরার হোমস আর তার বন্ধুর সাথে তদন্ত যাত্রাটা রোমাঞ্চকর ছিল। তবে গল্পের এন্ডিংয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এই প্রথম বোধ হয় লেখকের কোন বই আমাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে! তবে হ্যাঁ বই শেষ করার পর কেমন যেন একটা শূন্যতা কাজ করছিল এই ভেবে যে ‘গল্পটা শেষ হয়ে গেল’ এবং ‘মাসরুর আবরার হোমস ও তার বন্ধুর আর কোন গল্প আসবে না’!
এর আগে লেখকের 'কাদ্যুসেয়াস' পড়েছিলাম। একরকম ঘোর লেগে গিয়েছিল। আর এখন মনে হচ্ছে কেউ আমার মস্তিষ্ক বের করে নিছে। কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে হলে জাহিদ হোসেন।
প্রতিশোধ (রিভেঞ্জ) যে কতটা ভয়ানক হইতে পারে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। গুডরিডসে অনেকের রিভিউ দেখলাম, ফিনিশিং ভালো লাগেনি। সারাদিন কবুতর নিয়ে খেলার পর গলা টিপা মাইরা ফেললে রাগ উঠারই কথা।
লেখকের লেখনী ভঙ্গিমা খুবি সুন্দর। অতিরিক্ত চরিত্রের আনাগোনা মনে হয়নি। প্রতিটা চরিত্রেরই 'প্রয়োজন' ছিল। একটাকেও আপনি 'হেলাফেলা' করতে পারবেন না। আর করলে (না করলেও) হাই ভোল্ট��জের শক আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে!
বইটার ১০ ভাগের নয় ভাগ পড়া পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম এটা পাঁচ তারকা দাগানোর মতো বই কিন্তু শেষ ভাগে এসে অতিরিক্ত নাটকীয় লেগেছে। এতো এতো সাসপেন্স,এতো চরিত্র,এতো দম বন্ধ করা মুহুর্তের আমদানীর জন্য কারণটা মোক্ষম ছিলোনা।
নিজ বাসায় নৃশংস ভাবে খুন হন অভিনেতা জশুয়া আহমেদ চৌধুরী। অভিনেতা হিসেবে তিনি খুব উচ্চ পর্যায়ের কেউ ছিলেন না, কিন্তু তার মৃত্যুতে মিডিয়া জগতে শোকের বন্যা বয়ে গেল।
জশুয়ার মৃত্যু রহস্য তদন্তের ভার পেল ডিবি অফিসার ইমন। তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেন ঢাবির দুই প্রাত্তন শিক্ষক, শখের গোয়েন্দা মাসরুর হোমস আর অপু পিউরিফিকেশন। তদন্তে এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে এল যা পূর্বে সংগঠিত কিছু খুনের ঘটনার সাথে হুবাহু মিলে যায়। কিন্তু সেসব খুনের ঘটনার নৈপথ্যের নায়ককে তো অনেক আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তিন জনই গ্রেফতার করেছেন। তাহলে জশুয়াকে কে খুন করল? তবে কি আসল খুনি ধরা পড়েনি?
বাতিঘরের মৌলিক বই মানেই অসাধারণ কিছু। তবে এই পর্যন্ত বাতিঘর থেকে যত থ্রিলার বের হয়েছে, আমাকে যদি সেগুলো রেটিং করতে বলা হয়, তাহলে আমি জাহিদ ভাইয়ের ঈশ্বরের মুখোশকেই এগিয়ে রাখব। কি নেই এতে? কমেডি, রোমান্স আর পরতে পরতে সাসপেন্স। ২৮৮ পৃষ্ঠার বই, আপনি ২৭৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একটানে পড়ে গিয়েও শেষটা অনুমান করতে পারবেন না। রুদ্ধশ্বাসে আপনাকে শেষ পৃষ্ঠাটি পর্যন্ত পড়তে হবে। একটা পারফেক্ট থ্রিলারের আর কি লাগে? পড়ার সময় আপনি কাহিনীতে এতটাই ডুবে থাকবেন যে আপনার মনে হবে আপনি কোন বই পড়ছেন না, মুভি দেখছেন, শ্বাসরুদ্ধকর কোন কোরিয়ান মাস্টারপিস রিভেঞ্জ থ্রিলার, এক মূহুর্তের জন্য মনোযোগ অন্যদিকে সরলে মিস করে ফেলবেন বিশাল কিছু!
বইয়ে কিছু কিছু লাইন আছে, আপনি যতই রসকষহীন মানুষ হোন না কেন, বাক্যগুলো পড়ার পর আপনি খিলখিলিয়ে হেসে উঠবেন। সেরকম এপিক কিছু লাইন হল-
* আরে বুরবাক! যৌনকেশ চিন না? সোজা বাংলায় বাল! একজন সেলেব্রিটি মারা গেছে, আর এই ট্যাবলয়েডওয়ালারা কিনা বালের পিছনে ছুটছে! আফসোস।
* ইচ্ছে হচ্ছিল হারামজাদার ছাগলী দাড়ি (যা সাধারণের চোখে ফ্রেঞ্চকাট) ধরে টান দেই, কিন্তু নিজেকে সামলাতেই হল। আমি একজন ভার্সিটি প্রফেসর, দাড়ি ধরে টানাটানি তো আমাকে মানায় না।
* শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বারের বার অনেক সাহস সঞ্চয় করে আমার বৌ, মিস জলহস্তীর সামনে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু বৌ এমন ভাবে আমার দিকে তাকাল যে আমি আর মুখ ফুটে খবরের কথা বলার সাহস করতে পারলাম না, লেজ গুটিয়ে চলে এলাম।
* হঠাৎ আমার বৌ মিস জলহস্তীর কথা মনে পড়ল। তার মতে আমি নাকি বালের ডিটেকটিভ! সারাদিন মাসরুরের পিছনে টো টো করে ঘুরি আর বাল ছিঁড়ি!
* টাক্কুর সাথে আমি এক ধরনের অদৃশ্য বন্ধন অনুভব করি। আমিও টাক্কু, সেও টাক্কু। আমরা দুই ভাই!
থিমের কথা বাদ দিলেও, জাহিদ ভাইয়ের লেখার হাত অসাধারণ। খুবই সাবলীল, এত সহজভাবে সব বর্ণনা করেছেন, পড়তে গেলে চোখের সামনে সব ভেসে উঠে। সবচেয়ে বেশি মজা লেগেছে তার নিজেকে পঁচানোটা! জাহিদ নামে বইতে দুটো ক্যারেক্টার আছে, একজন মাসরুরের বাসার কাজের ছেলে, একটু বোকাসোকা টাইপের। অন্যজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, যিনি মসজিদের দান বাক্সের টাকা চুরি করে ঢাকায় এসেছিলেন। আজ তার বিশাল স্টেটের সবটাই দানবাক্সের টাকায় করা! :p
যারা এখনো বইটি পড়েন নি, তারা জানেনও কি অসাধারণ জিনিস মিস করে গেছেন আপনারা। বাংলা সাহিত্যে এর আগে মৌলিক রিভেঞ্জ থ্রিলার লেখা হয়েছে কিনা জানা নেই আমার। আর যদি হয়েও থাকে, তারপরও ঈশ্বরের মুখোশই বেস্ট বাংলা রিভেঞ্জ থ্রিলার এভার! ^_^
বিঃদ্রঃ বইটার নাম 'ঈশ্বরের মুখোশ' রাখা হয়েছিল কেন?