ভয়, মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। সেই ভয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়েই সূত্রপাত 'দ্য সোবার পডকাস্ট: লয় ভাগছে' এর। নিজেদের ভয়ের কাহিনি শোনাতে গিয়ে আমরা আপনাদের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব সারা পেয়েছি, তারই প্রতিফলন এই বইটি। অদূরে ভবিষ্যতে সিরিজ আকারে লয় ভাগছে প্রকাশ হবার ইচ্ছা পোষণ করছি আমরা। তবে ভুলে গেলে চলবে না, মানুষকে বিশ্বাস করা পাপ।
গুডরিডস রেটিং আর হাইপ দেখে বই কিনলে মাঝে মধ্যে এমন হতাশ হতে হয়। সেসব অবশ্য সয়ে গেছে। এখন ভালো লাগলেও বই কিনি, না লাগলেও কিনি। কিন্তু গুডরিডসে একটা ব্যাপার দৃষ্টিকটু লাগে। আর তা হচ্ছে ফেক অ্যাকাউন্ট দিয়ে হরদমে ৫ তারা দেওয়ানোর প্রবণতা। বই প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই এইটা করা হয়। কারা করে তা সহজেই অনুমেয়। ঘটনাটা আফসারের মতো প্রকাশনীর বইতে বেশি ঘটছে। যেটা তার প্রতি আস্থা নষ্ট করার মতো একটা কারণ।
সে যাইহোক, আমি আফসারের নিয়মিত পাঠক। ফলে হাইপ আছে কি না ওসব নিয়ে মাথা ঘামাই নি। বইটা হাতে নিয়ে বেশ অন্যরকম একটা অনুভূতি সত্যিই পাচ্ছিলাম। ভিন্নধর্মী কিছু আকর্ষণ করবে স্বাভাবিক। তাই আলাদা একটু নজর কেড়েছিল। ইউটিউবে সোবারের কোনো পডকাস্ট আমি শুনিনি। তাই ধারণাও নেই। ভাবছিলাম বই ভালো লাগলে একটু শুনে টুনে দেখব। কিন্তু আমি হতাশ। গল্পের আবহ এবং পরিবেশ একটা গল্পেও ঠিকঠাক মতো তৈরি হয়নি। ভয় পাওয়ার মতো কিছু ছিল না। যা ছিল তা বাচ্চা - কাচ্চাদের উপযোগী। তবুও ১ তারা দেওয়ার মতো ওতোটা নিম্নমানের এই বই না। তা সত্ত্বেও দিলাম কেন? প্রথমে যেটা বলেছি ঐটার জন্য।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : শেষ তিনটে গল্প ইচ্ছে করেই পড়িনি।
সোবারের বইয়ের প্রকাশক যখন আফসার ব্রাদার্স—তখন নিশ্চিতই ছিলাম, কনটেন্টে কোনো কমতি থাকবে না। কারণ এই প্রকাশনীর নিয়মিত লেখকরা কম-বেশি সবাই গুণী। তাই হাইপটা অযৌক্তিক মনে হয়নি।
বিশেষ করে বারবার মনে হচ্ছিল—এই বইয়ের পেছনে তানজীম রহমান থাকতে পারেন। হরর জনরায় উনি দুর্দান্ত। আর যতদূর জানি, তিনি রেডিও ফূর্তির সঙ্গে কোলাবোরেশন করে হরর বইও প্রকাশ করেছিলেন, যা অনেকটা সোবারের পডকাস্টের মতো। তাই প্রত্যাশাটা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি ছিল।
কিন্তু সমস্যা একটাই—এই বই সেই প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
লেখনি খারাপ না। অবশ্য গল্পগুলো খুব বেশি সাধারণ। পুরো জিনিসটাই "এভারেজ বা বিলো এভারেজ"—আর এই বইকে ঘিরে যে হাইপ তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এর মানের কোনো মিলই নেই। একদমই নেই।
আসলে আমরা বাঙালিরা এখনো "চিলে কান নিয়ে গেছে" শুনলেই দৌড় দিই। আমিও দিয়েছি—স্বীকার করছি। কিন্তু এই বই প্রমাণ করে, হাইপ আর মান—দুইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।
হ্যাঁ, সোবারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নন-রিডারদের বইয়ের দিকে টানার চেষ্টা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু একটা কথা না বললেই নয়— পাঠক বানাতে গেলে আগে বইয়ের মানটাও অন্তত মিনিমাম লেভেলে রাখতে হয়।
আরেকটা ব্যাপার— বাজারে যে কথাটা শোনা যাচ্ছে—নসিব পঞ্চম জিহাদি সোবার বা এই বইয়ের লিডে আছেন—এটা বেশ রিয়েলিস্টিক মনে হচ্ছে। কারণ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করাতে যে ধরনের ব্রেইন লাগে, সেটা তার আছে। এটা মানতেই হয়।
ওয়াসি আহমেদও নাকি যুক্ত—এটাও অসম্ভব মনে হয় না। তাদের কোলাবোরেটিভ কাজ এর আগেও দেখেছি—গ্রন্থরাজ্য থেকে প্রকাশিত "ইশকুল খুইলাছে/কলেজ খুইলাছে"।
ওয়াসি আহমেদ যদি সত্যি সোবারের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাকে একটি অনুরোধ করব—নিজের ইন্ডিভিজুয়াল ক্যারিয়ারের দিকে আরও ফোকাস করুন। তিনি যেন অনেক সময় আফসার ব্রাদার্সের অন্যান্য লেখক—বিশেষ করে নসিব পঞ্চম জিহাদির ছায়ায় থেকে যাচ্ছেন। তিনি যথেষ্ট সম্ভাবনাময়, কিন্তু এত বছরের ক্যারিয়ারে তার তেমন কোনো ক্যারিশমাটিক বা মনে দাগ কাটার মতো বই এখনো পাইনি।
সবশেষে— আফসার ব্রাদার্স আমার অন্যতম পছন্দের প্রকাশনী। তাই আশা রাখি, ভবিষ্যতে তারা আবারও তাদের স্ট্যান্ডার্ডে ফিরে যাবে।
৩.৮ দেকার্তে বলেছিলেন , “আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি”। তাহলে যখন চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পায় তখন আমার অস্তিত্ব-ও কি লোপ পায়?
ভুত এফ এম শুনেছিলেন কখনো? শুনতে শুনতে কেমন রোমাঞ্চ অনুভব হয় না? সেরকমই লেগেছে।
মূলত এটা একটা ভৌতিক গল্প-সংকলন। ‘আম্মু’ গল্পটার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ‘অতিথি’ উপন্যাসিকাটা এবং ‘তাবিজ’ গল্পটা পড়ে ভয়ে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে।
‘মাছি’ , ‘বিকৃত’ , ‘মশারি’ এবং আরও একটা-দুটো গল্প পড়ে খুবই অস্বস্তি লাগঢ়িল। ও-ই ভুত এফ এমের মতোই। কিছু কাহিনি শুনে আমরা ভয় পাই ,কোনোটা শুনে অস্বস্তি লাগে। আবার কোনো কোনোটা ভালোই লাগে শুনতে , ভয়ের আবহ তৈরি হয়না আর....
বানান নিয়ে বেশ খুঁতখুঁত স্বভাব আমার।অনেক সময় অতিরিক্ত বনান ভুল চোখে আসলে পড়াও বাদ দিয়ে দেই। বইটায় বানান সংক্রান্ত কোনো ভুল নজরে আসেনি। সম্পাদনাও ভালো হয়েছে।
পুনশ্চ : বয়াতি আংকেল যে চট্টগ্রাম এবং সীতাকুণ্ডের কথা বলে ফেলেছে ডা.এফ'র নজরে সেটা আসেনি?
কমিউনিজমের ভূত has a separate aura than the rest of others... গল্পগুলোর ব্যাপারে বেশি কিছু বলার নাই অনেকগুলা রিভিউতেই পাওয়া যাবে সেটা, কিন্তু প্রতিটা গল্পের শুরুর আর্টওয়ার্ক গুলা on point 🙌
কিছুদিন ধরে জ্বরের ঘোরে তাকাতে পারছি না। কিছুই ভালো লাগছে না। বইটই পড়া তো দূর কি বাত। তো...ভাবলাম বন্ধুর খোঁজ দেওয়া ওই পডকাস্টটা শুয়ে শুয়ে একটু শুনি। সত্যি বলতে ওমন আনফিল্টার্ড পডকাস্ট আমি আগে শুনিনি। খুব মজা পেলাম। বন্ধু আমার আবার রীতিমত সব এপিসোড শুনে ফেলেছে। ভয়ের গল্প টল্প বলে যে! দুর্বল হৃদয় হওয়াতে আমি যেটা করতে পারিনি। স্কিপ করে গিয়েছি কিছু এপিসোড।
তো...এরপরে ‘লয় ভাগছে’ এর বই প্রকাশ এর খবর এল। প্রকাশ হলো। বইটা পডকাস্টের মত ভালো হবে কিনা সে সন্দেহে ছিলাম। অবশেষে পড়লাম। বন্ধু এবারও ফার্স্ট। তবে অবাক করার বিষয় হল, সব বইয়ের নিন্দা করা বন্ধুটি আমার, বইয়ে রেটিং দিলো চার!!! এতকিছু বলার একটাই কারণ হল ‘লয় ভাগছে’ আমাদের আশাহত করেনি।
তবে আপনি যদি ‘একটা শীতল স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল’ ধাঁচের অত্যন্ত সাহিত্যিক মানদন্ডে লেখা গল্পে অভ্যস্ত থাকেন তাহলে এ বই পড়বেন না। কারণ ‘লয় ভাগছে’ অনেকটা সাধারণ কায়দায় সাবলীল ভাষায় লেখা। দুই পৃষ্ঠার মত কিছু গল্প আছে, একটা উপন্যাসিকা আছে। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী। যে কারণে অতিরঞ্জিত নয়। জানতে আগ্রহ জন্মে। শীতের রাতে, বর্ষার দিনে এমন গল্প শুনতে ভালো লাগে। ভূত.এফ.এম শুনেছেন না? অনেকটা সেরকম।
ভয় আপনার মস্তিষ্ককে ভালো করে দেয়। জানেন? শরীরের ওপর থেকে ��িছুক্ষণ আগেই বিশাল ঝক্কি গেলো। বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তুমুল বর্ষা নামবে। এই বৃহস্পতিবার রাতে। যাইহোক, এত কথা বলতে পেরে এখন লালো ভাগছে।
ওয়েল, এখনো হাতে পাইনি। বাট আই নো, পড়লে খুবই লালো ভাগবে!
এডিট: (১৭ই এপ্রিল) বই পেলাম হাতে। আগামীকাল একটা ফালতু ফাইনাল থাকায় পড়া শুরু করতে পারছি না। তবে একটা পড়বই। দেখা যাক।
এডিট: (৩রা মে) শেষ করেছি অনেক দিন হয়েছে। তবে সেমিস্টার ফাইনাল, অফিস ওয়ার্ক ইত্যাদির চাপে রিভিউ লেখার সময় পাইনি।
পডকাস্ট নিয়মিত শোনা হয় দেখে, অনুলিখনটাটা স্কিপ করে গিয়েছি। অতিথি বেশ ভালো লেগেছে। ছোট্ট একটা ওয়েব সিরিজ করে ফেলা সম্ভব এটা দিয়ে।
ডা এফ এবং মাকসের গল্পগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আমার কাছে অন্যান্য পাঠকদের থেকে হয়তো কিছুটা বেশিই হবে কারণ পিনিকের লাইভে একবার আমরা সেটা দেখেছিলাম। ওয়েল, শুনেছিলাম বললে হয়তো বেশি বেটার।
এই গল্পগুলো নিয়েই মানুষের মধ্যে দেখলাম একটু বেশি ডিসাপয়েন্টমেন্ট কাজ করছে। তবে আপনি আপনার লাইফে একবার হলেও যদি অতিপ্রাকৃত কিছু ফেস করে থাকেন, আপনি জানবেন যে রিয়েল লাইফে এসবের কোন সলিড কনক্লুশন হয় না। সেই দিক থেকে গল্প গুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে। বেশি ভালো লাগার কারণ হচ্ছে আমি এগুলো সব পডকাস্টে শুনেছি। পডকাস্ট শোনার কারণে আমার এক্সপেক্টেশন যেমন ছিল সেরকমই পেয়েছি।
সিনার মাংস গল্পটা দারুণ একটা গোরি ফিলিং দিচ্ছিল। কমিউনিজমের ভূতটাও বেশ ভালো। ট্রাভেল হররস্ নেভার মিস। লাস্ট বাট নট দা লিস্ট বয়াতি বাবরের দেখেন দিয়া মনটাও বেশ ভালো ছিলো। উনি যা দেখেছেন সেটার বর্ণনা পড়ার পর আমিও স্বপ্নে দেখেছি সেটা।
বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা আমার বেশি ভালো লেগেছে। মানে এক্সপেরিয়েন্সগুলো হুবহু রিলেট না করলেও, যারা এরকম অতিপ্রাকৃত কিছু না কিছু ফেস করেছেন তারা প্রতিটা গল্পে লেখকদের ফেস করা যে অস্বস্তিকর ফিলিংসটা সেটা বুঝবেন। তাই বলে ঢালাও ভাবে বলছি না যা লিখা তা সবই সত্যি। যদি এটা ভেবে থাকেন তাহলে আপনি খুবই বোকাসোকা কিসিমের মানুষ। আই লাইক ইউ।
আর বইয়ের কন্টেক্সট্, কেনো লিখা তা না জেনেই হাইপের ঠেলায় বই কিনে ওয়ান স্টার দিয়ে যারা তাদের রাগ ঝারছেন, আপনারা এটা থেকে শিক্ষা নিন প্লিজ। হাইপের চাপে আরও বেশি বেশি বই কিনেন।
ওভারঅল, প্রত্যেকটা গল্পই ছোটবেলায় কারেন্ট গেলে কাজিন/প্রতিবেশি সব বাচ্চারা যে একসাথে বসে নিজেদের ভূতের গল্প শোনাতো, সেই ফিলিংসটা দেয়।
প্রথমেই বলি, বইটির ওপর আমার তেমন কোনো এক্সপেকটেশন ছিল না। Sober এর ব্যানারে বইটি আসছে তাই ভেবেছিলাম, পড়লে হয়তো ভালোই লাগবে। টিপিক্যাল হরর বইয়ের মতো কোনো বিশেষ প্রত্যাশাও ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত বইটি পড়ে আমার সত্যিই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে, কোনো বই তখনই বেশি ভালো লাগে যখন সেটি আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। বলা যায়, এটি একটি ভালো হরর সংকলন।
বইয়ের শুরুতে রয়েছে “দ্য সোবার পডকাস্ট”, যেখানে আলোচনা করা হয়েছে, আমরা কেন ভয় পাই? আসলে ভয় কী? ভয় কোথা থেকে আসে, ভয়ের প্রকারভেদ। এ ধরনের নানা বিষয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বইয়ের নামও এসেছে, যেমন মেরি শেলির Frankenstein, ব্র্যাম স্টোকারের Dracula আবার হুমায়ূন আহমেদের তন্দ্রাবিলাস, কুটুমিয়া কিংবা জিন কফিল সাথে শীর্ষেন্দুর বইয়ের আলাপ। বইপাড়ায় প্রায়ই কোনো না কোনো বই নিয়ে হইচই দেখা যায় কিন্তু এই বইটি বইপাড়ার বাইরের মানুষদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই বলা যায়, এসব রেফারেন্স নতুন পাঠকদের মধ্যে পড়ার আগ্রহও তৈরি করবে।
এরপর আসে “কাস্টিং কাউছার” এর লেখা অতিথি, যা বইটির একমাত্র উপন্যাসিকা। বলতে গেলে এটিই আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্প। পড়তে গিয়ে জিনের ভয় পাইনি, কিন্তু একধরনের অস্বস্তি কাজ করেছে। এই ভেবে, যদি এমন কিছু সত্যিই আমার সাথে ঘটত? গল্পটি সত্যিই ভালো ছিল।
এরপর মাকস এবং ড. এফের ছোটগল্পগুলোও মোটামুটি ভালো লেগেছে। সম্ভবত “মাছি” গল্পটি আগে অন্য কোনো বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল, যদি আমি ভুল না করি। আর মাকস এর “বিকৃত” গল্পটি পড়তে গিয়ে আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে যায়। আমি চার মাসের জন্য ওই এলাকায় শিফট হয়েছিলাম। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত থাকতাম। ফ্ল্যাটের একজন ছাড়া বাকিরা সবাই ঢাকার হওয়ায়, বুধবারের মধ্যেই পুরো ফ্ল্যাট প্রায় খালি হয়ে যেত।
একবার মঙ্গলবার রাতে আমার একটি প্ল্যান ছিল, তাই ঠিক করলাম বুধবার দুপুরে ফ্ল্যাট ছাড়ব। কিন্তু মঙ্গলবার মধ্যরাতে হঠাৎ নিজের রুমে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক হইচই শুনলাম, যেন কেউ কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন ফ্ল্যাট প্রায় খালি, পাশের রুমের পোলাটা আছে নাকি গেছে তাও নিশ্চিত ছিলাম না। কী হয়েছিল জানি না। পরদিন দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাতে নাকি কিছুই হয়নি। আসলে কিছু না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি কারণ বন্ধুদের সাথে বিশেষ আড্ডা দিয়ে এসেছিলাম।
সবগুলো গল্প পড়লে হয়তো সরাসরি ভয় লাগবে না, কিন্তু একটা ভাবনা অবশ্যই আসবে, “এমন তো হতেই পারে।” এই জায়গাতেই বইটির সার্থকতা।
কাউন্ট শাইলক এর "সিনার মাংস” গল্পটিও ভালো লেগেছে। যেরকম গল্প আশা করেছিলাম, ঠিক তেমনই পেয়েছি। সোবারের ব্যানারে বই, তাই গল্পে একটু ‘পিনিক’ আশা করাই যায়।
সব মিলিয়ে বইটি ভালো লেগেছে। বইটি নিয়ে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ লিখেছে, “জীবনে প্রথমবার বই অর্ডার দিলাম, পড়ার জন্য মুখিয়ে আছি।”
যারা আমার মতো ভুত এফএম বা ভুত.কম শোনেন, কিংবা হরর জনরার গল্প ভালোবাসেন—তাদের জন্য এই বইটা দারুণ লাগবে। বইটিতে এমন কিছু ছোট ছোট গল্প রয়েছে, যেগুলো নাকি বাস্তব জীবনে ঘটেছিল বা কারও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। গল্পগুলোর সাথে একটা নস্টালজিক ভাইবও আছে, যার কারণে পড়তে আরও ভালো লেগেছে।
তবে যারা হরর এলিমেন্ট পছন্দ করেন না বা ভুত.কম টাইপ গল্প শোনার অভ্যাস নেই, তাদের কাছে বইটি তেমন ভালো নাও লাগতে পারে।
বইয়ের প্রথম গল্প ‘অতিথি’ অসাধারণ লেগেছে। এছাড়াও ‘মশারি’, ‘খুলনার খুন’, ‘জানালা’, ‘সিনার মাংস’, এবং ‘কমিউনিজমের ভূত’—এই গল্পগুলোও বেশ ভালো লেগেছে।
আর সময় পেলে “The Sober Podcast” শুনে দেখতে পারেন এবং পরি��িত হতে পারোন।
শেষ করলাম 'লয় ভাগছে'। বই পড়ে খুব বেশি ভালো লেগেছে তা না। মোটামুটি ধরনের, খুব বেশি ইম্প্যাক্টফুল বলে মনে হলো না। হরর জনরার বই। বইয়ে চেষ্টা করা হয়েছে ভয় ধরানোর, মানসিক অস্বস্তি নিয়ে কাজ করার।
বইটার কিছু কিছু গল্প বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে অধিকাংশ গল্পই বিলো এভারেজ। কিছু জায়গায় আইডিয়া ভালো লেগেছে, তবে এক্সিকিউশনে দুর্বল বলে মনে হয়েছে। কিছু গল্পগুলাতে তাড়াহুড়ো তাড়াহুড়ো ভাব-ও দেখলাম বলে মনে হলো। আর কিছু জায়গায় একটু বেশি ভয় ধরাতে গিয়ে হাস্যকরভাবে গুবলেট পাকানোটাও চোখে পড়বে। পড়ার সময় মাঝে মাঝেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলাম।
সবমিলিয়ে, অনেকের মতো আমিও আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। নি:সন্দেহে সেইটা পূর্ণ হয়নি। তবে একবার ট্রাই দেয়াই যায়। একদমই যে অখাদ্য সেটাও বলা যায় না। মোটামুটি ঠিকঠাক!
বেশির ভাগ গল্পই সোবার পডকাস্টে শোনা ছিল, তবুও ছাপার অক্ষরে আবার গল্পগুলো পড়তে ভীষণ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে উপন্যাসিকা ‘অতিথি’ আর পডকাস্টের বাইরের গল্পগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল। ভয় পাবো না ভেবেও কিছুটা ভয় ঠিকই পেয়েছি। ওয়ান-টাইম রিড হিসেবে বইটা দারুণ।
কয়েকটা গল্প একেবারেই ফালতু। আবার কয়েকটা মাস্টারপিস। সব মিলায়ে বই হিসেবে খারাপ না। উপন্নাসিকাটা মাস্টারপিস, এইটা একটা আলাদা বই হওয়া ডিজার্ভ করে। আর তাছাড়া বেশ কয়েকটা গল্পও অনেক ভালো।
রাত সাড়ে তিনটা, বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি, সব নিস্তব্ধ। এর চেয়ে ভালো পরিবেশে হরর পড়ার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। আফসার ব্রাদার্স প্রকাশিত, SOBER-এর "লয় ভাগছে" বইটা হাতে তুলে নিয়েছিলাম ঠিক এমনই এক রাতে ডাঃ এফ-এর কথামতো কন্ট্রোলড ভয় পাওয়ার আশায়।
বইটির জন্ম হয়েছে ডাঃ এফ ও মাকস পরিচালিত "দ্য সোবার পডকাস্ট" থেকে। ভয়কে মানুষের আদিম প্রবৃত্তি মেনে সেই ভয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়েই সূত্রপাত এই পডকাস্টের, আর শ্রোতাদের অভূতপূর্ব সাড়ার প্রতিফলনেই জন্ম নেয় এই সংকলন।
২২৭ পৃষ্ঠার হার্ডকভার বইটিতে রয়েছে একটি উপন্যাসিকা, একাধিক ছোটগল্প এবং পডকাস্টের অনুলিখন। বইটি অতিপ্রাকৃত ও ভৌতিক সাহিত্যের ক্যাটাগরিতে পড়ে। বেশ কিছু নেগেটিভ রিভিউ আগেই দেখেছিলাম, তাই প্রত্যাশার পারদটা ইচ্ছে করেই নামিয়ে রেখেছিলাম।
বইটা শুরু হয় পডকাস্টের অনুলিখন "দ্য বিগিনিং" দিয়ে, যেটা পাঠককে পুরো সংকলনের মেজাজে ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজটা মোটামুটি করে। এরপর উপন্যাসিকা "অতিথি"।
কাস্টিং কাউচার নামে প্রকাশিত এবং এখানেই বইটা প্রথমবার সত্যিকার অর্থে টেনে ধরে। ভয়ের চেয়ে থ্রিলের মাত্রা বেশি ছিল, দারুণ উপভোগ্য লেগেছে
মাঝের ছোটগল্পগুলো ডাঃ এফ এবং চান্দ সওদাগর সুভ্র/মাকসের একের পর এক গল্প মিলিয়ে-মিশিয়ে। কিছু গল্প পড়তে পড়তে মনে হয় জমে উঠছে, কিন্তু শেষটায় একটু হতাশ করে। তবে এই মাঝামাঝি অংশের মধ্যে থেকেই উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসে "সিনার মাংস" কাউন্ট শাইলক বিন ওয়ালিদের লেখা। এটাই পুরো বইয়ের সেরা টুকরো।
বৃষ্টি ঘেরা রাতের সেই পরিবেশে গল্পটা পড়তে পড়তে একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল ঠিক ভয় না, তবে একটা গভীর অস্বস্তি যেটা ভালো হরর সাহিত্যের আসল ছাপ। শেষের দিকে "কমিউনিজমের ভূত" আর "দেখেন দিয়া মন" দুটোই চলনসই।
ভবিষ্যতে সিরিজ আকারে লয় ভাগছে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে SOBER-এর। সেটা ইতিবাচক খবর। বাংলাদেশে পডকাস্ট থেকে হরর সংকলনের এই ধারাটা নতুন এবং প্রতিশ্রুতিশীল। অনেকদিন পর বাংলায় হরর পড়লাম। নেগেটিভ রিভিউ মাথায় নিয়ে শুরু করেছিলাম বলেই হয়তো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। পুরো সংকলনটা একটানা উঁচু মানের নয়, কিন্তু সাড়ে তিনটা রাতে বৃষ্টির শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়লে লয় ভাগছে তার নামের মতোই একটু হলেও ভয় ভাঙিয়ে দেয়।
কাহিনী গুলোকে বাস্তব হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়াসটা ছিল দারুণ! খুব মনে রাখার মতো এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু না হলেও কেন যেন বইয়ের লেখার ক্ষেত্রে এই বাস্তব দেখাতে চাওয়ার প্রয়াসের দিকটাই ভালো লাগলো বেশি। কারণ, ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে, ঠিক এই কারণেই হয়তো সব গল্পেরই খুব ভালো পটেনশিয়াল থাকলেও শুধু প্রাঞ্জলতার দিকেই ফোকাস রাখা হয়েছে বেশি। আর সাথে অত আহামরি সাসপেন্স, সিকোয়েন্স, কনসিকোয়েন্স অ্যাড করা হয়নি। তেমন থ্রিলিংও করা হয়নি। আবার দেওয়া হয়নি কোনো ব্যাখ্যাও। শুধু অভিজ্ঞতা হিসেবে একেকটা বর্ণনা আনা হয়েছে।
তো এক্ষেত্রে লেখকদের সফল বলা চলে।
যা হোক। সব গুলো গল্প প্রাঞ্জল এ সত্য, একটানে পড়ে ফেলা যায়, তবে সবগুলো উপভোগ্য নয়। যত এগোচ্ছিলাম ততই শুধুমাত্র প্রথম গল্প "অতিথি" দীর্ঘক্ষণ মনে জায়গা করে ছিল। মনে হচ্ছিল, নাহ! রেশ থেকে যাওয়ার মতো গল্প বোধ হয় আর নেই। পড়ে মজা পাচ্ছি তবে ঠিক স্যাটিসফিকশানটা আসতেছে না। তবে শেষে এসে খেলা ঘুরিয়ে দিল "কমিনিউজমের ভূত" আর " দেখেন দিয়া মন"।
এর মধ্যে "কমিনিউজমের ভূত" পড়বার সময়ে বিরক্ত হচ্ছিলাম খুব প্রথম দিকে। কিন্তু মাঝের দিক থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালো লাগলো। "দেখেন দিয়া মন " - কে সম্ভবত এই বইয়ের সবচেয়ে পছন্দের লেখা হিসেবে মনে থাকবে।
ছোট গল্পগুলোর মধ্যে ভালো লেগেছে " মশারি " আর " জানালা "। সিনার মাংসটাও উপভোগ্য তবে লেখার ধাঁচ পছন্দ হয়নি।
সেই রকম হতাশ হয়েছি বইটি পড়ে ... যেমন হাইপ উঠেছিলো (বা উঠানো হয়েছিলো) ... পরের বার থেকে আফসার ব্রাদার্স এর বই কেনার আগে ১০০ বার দেখে শুনে বুঝে কিনতে হবে মনে হচ্চে । সবচাইতে মজা লাগলো প্রকাশক বা লেখক কিছু বটের আশ্রয় নিয়ে পাইভ স্টার রিভিউ নিয়েছেন। আমার কমেন্ট যারা পড়বেন, একটাই অনুরোধ, উপরে দেখা যায়, যারা এই বই কে ফাইভ স্টার দিয়েছেন, তারা আদৌ কত গুলো মোট রিভিউ দিয়েছেন ! এটাই প্রথম ... যাই হোক, আমি নিজেও খুব একটা রিভিউ লিখা পছন্দ করি না ... ওহ আর গ্রুপের কথা তো বলাই হলো না , তারা হাতে বই পান নি , কিন্তু পাঁচ তারা দিয়ে বসে আছেন ... আদৌ বই কি হাতে পেয়েছেন নাকি , তাও বলেন নি ...
যেকোনো বই যখন প্রকাশ পাওয়ার আগেই হাইপ তোলে, তখন আমি মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হই যে এই বই আমার মনমতো হবে না। এমনটা আমার সাথে বারবার হয়েছে। তারপরেও আমি সেই হাইপ ওঠা বই কেনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারিনি। মনের ভেতরে একটা লোভ থেকেই যায় যে—যদি বইটা ভালো হয়ে যায়! ‘লয় ভাগছে’ বইটার বেলাতেও এর ব্যতিক্রম হলো না। বইয়ের ব্যাপারে আমি যেমনটা আশা করেছিলাম, বইটা আমার প্রত্যাশার সিকিভাগও পূরণ করতে পারেনি। সত্যি বলতে কি, যদি এই বইটার ব্যাপারে শূন্য প্রত্যাশা নিয়ে পড়া শুরু করতাম, তবে বইটা শেষ করে হয়তো কিছুটা ভালো অনুভব ...... https://oputanvir.blogspot.com/2026/0...
I’m a huge fan of Sober. Was so excited when first heard about the book. I wouldn’t say the book is so bad. Like, it’s average, nothing too good, nothing too bad. Podcast e aro onek joss joss golpo chilo. Book e shegula include kora hoynai. But, the novella and the story named Sinaar Mangsho was really good from my point of view. Amar board exam choltese, board exam er first din boi ta haate paisilam, bhabsilam exam sheshe porbo. But, I couldn’t help but reading it.
বইটির প্রচারণা নিয়ে যেই পরিমাণ উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, তাতে আমি পুরো হতাশ। আফসার ব্রাদার্স বেশ স্বনামধন্য একটু প্রকাশনী, তাদের থেকে অন্তত এমন প্রত্যাশা ছিল না। পুরো বইয়ের সবগুলো গল্পই কেমন ফেসবুকীয় স্টাইলে লেখা। কিছু তো একেবারে অখাদ্য। বইটা নিয়ে আর কিছু লিখতেও বিরক্ত লাগছে। Please don't buy this book. সম্ভব হলে আমি মাইনাসে রেটিং দিতাম।
হরর জনরার প্রতি বরাবরকার মত আগ্রহ থেকে বইটা কেনা।হতাশ মোটেও হইনি। ডা এফ এর মশারি এবং মাছি এই দুটি গল্পই দারুণ।এর বাইরে বেশ জমিয়ে পড়েছি বয়াতি বাবরের মিলের ঘটনাটি।পাথর শ্রমিকের একটা গল্প ছিল,সেটাও বেশ ইন্টারেস্টিং বলা যায়।
আহামরি ভালো হবে আশা করি নি, সোবার ভক্ত হিসেবেই বই কিনে পড়েছি। পডকাস্ট শুনে যেমন ভালো লেগেছে, তেমনটা বই পড়ে লাগেনি অবশ্যই। আশা করি পরেরবার বেটার হবে, সোবারের নায়ালিস্টিক লিখাগুলো বেশ ভালো লাগে, তাই গুপ্ত ব্রর বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
অনুলিখন আর শাইলক বিন ওয়ালিদ এর "সিনার মাংস" গল্প। এই বই থেকে প্রাপ্য এতটুকুই। বাকি ডা. এফ, আর মাকস এর লেখনী ভালো। এফ এর গল্পগুলো এভারেজ আর মাকস এরগুলো বিলো এভারেজ লেগেছে। নট রিকমন্ডেড। রেটিং: ২/৫।