টেনিদাকে নিয়ে ২য় উপন্যাস 'চার মূর্তির অভিযান' ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে গ্রন্থাকের প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে টেনিদার আসল নাম যে ভজহরি মুখার্জি তা জানা যায় এবং তাঁর বিখ্যাত স্লোগান 'ডি-লা-গ্রান্ডি মেফিস্টোফিলিস ইয়াক্ ইয়াক্' এই উপন্যাসেই প্রথম শোনা যায়।
Noted litterateur and renowned professor/academician, Narayan Gangopadhyay (Bengali: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়) (real name: Taraknath) was born in Baliadanga in Dinajpur, East Bengal, on February 7, 1919. His ancestral home was in Basudebpur, Barishal. In 1941, he stood first class first in M.A. in Bengali from Calcutta University and later went on to earn his D.Phil for his research in the field of short stories in Bengali literature. He taught at the City College and later at the Calcutta University.
His first brush with writing came during his student years, when he tried his hand at poetry. Later he made his mark as a writer of short stories, novels and plays and also emerged as a critic and journalist. In the early 1940s he wrote a three-part novel called Upanibesh. He also regularly contributed to Shonibarer Chithi and was felicitated by Basumati the famous literary magazine. In his later years, he wrote biting satire on the prevalent social and political issues for Desh under the pseudonym Sunando. Among his famous works are Bitangsho, Surjasarathi, Timirtirtha, Alor Sarani, Ek-tala, Rammohan (play), Chhotogalpo Bichitra, Padasanchar, Samrat O Sreshthi, Ankush, Sahityo O Sahityik, Bangla Galpobichitra, Chhotogalper Seemarekha and Rabindranath. Two of his plays, Bhadate Chai and Agantuk, which were enacted by writers, were highly acclaimed.
Narayan Gangopadhyay is also the creator of Tenida and his adventures—which remain till date most popular among children's literature.
জন্ম : ১৩২৫ বঙ্গাব্দ। বাংলাদেশের বালিয়াডিঙ্গি, দিনাজপুরে।আদি নিবাস : বরিশাল।ছেলেবেলা কেটেছে দিনাজপুরে, আত্রাই নদীর ধারে। কলেজ জীবন ফরিদপুরে।এম-এ পরীক্ষায় বাংলাসাহিত্যে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আসল নাম তারকনাথ। কিন্তু নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় নামেই সাহিত্য রচনা শুরু করেন এবং ওই নামেই ছিলেন সুপরিচিত।প্রথমে অধ্যাপনা করতেন কলকাতার সিটি কলেজে, পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছোটগল্প নিয়ে গবেষণা করে ডি. লিট উপাধি পান। প্রথম দিকে কবিতাই লিখতেন। ‘মাসপয়লা’ পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে কবিতা লিখে পুরস্কারও পেয়েছিলেন।প্রথম গল্প ‘নিশীথের মায়া’। প্রথম লিখিত উপন্যাস ‘তিমিরতীর্থ’। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উপনিবেশ’। প্রথম পুরস্কার ‘কথাশিল্প’ গল্প প্রতিযোগিতায়।বহু ছোটগল্প লিখেছেন, বহু উপন্যাস, বেশ কিছু নাটক। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছেন একদা । সমালোচক ও সাংবাদিক রূপেও ছিলেন খ্যাতিমান। বসুমতী পত্রিকার পক্ষ থেকে সংবাদ-সাহিত্যের প্রথম পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল তাঁকে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পক্ষ থেকে সরোজিনী বসু স্বর্ণপদক দেওয়া হয় মরণোত্তর সম্মান রূপে। শেষ জীবনে ‘সুনন্দ’ ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় রম্যরচনা লিখে প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়েছিলেন। মৃত্যু : ২২ কার্তিক, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ ।
টেনিদার দুটো উপন্যাস পড়ে যা বুঝলাম, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখায় সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর কোনো এলিমেন্ট নেই। পড়লে সহজাত ভাবেই হাসি চলে আসে। এক নির্মল আনন্দে মন ভরে যায়। চারমূর্তি- পটলডাঙ্গার সেই চারজন- টেনিদা, হাবুল সেন, ক্যাবলা আর শ্রীপ্যালারাম, চারজনেই এবার স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে। এবারের অভিযান ডুয়ার্সের জঙ্গল।
টেনিদার ২য় উপন্যাস এটা। যারা প্রথম উপন্যাস পড়ে মনে করেছিলেন যে চারমূর্তি স্কুলের গন্ডি পেরোতে পারবে না, বিশেষ করে টেনিদা, তাদের মুখে ছাই দিয়ে তারা ঠিকই কলেজে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। এই বই এই প্রথম আমরা চার মূর্তির ভাল নাম জানতে পারি।
এবারও বরাবরের মতন ছুটিতে বেরোতে যাবে ঠিক করে চার মূর্তি। তার ঠিক করে টেনিদার কুট্টিমামার ওখানকার ডুয়ার্সের জংগলে ঘুরতে যাবে। যা ভাবা তাই কাজ। প্রথমবারের বিমানযোগে রওনা হয় চার মূর্তি। যাত্রা পথে বিমানে থাকা চিনির বস্তার ধফারফা করতে ভোলে না তারা।
জংগলে নেমেই একের পর এক ঘটনা ঘটাতে থাকে চার মূর্তি। নিঃশ্বাস ফেলার ফুসরত না দিলেও হাসতে হাসতে নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেলার দশা করে ছাড়ে। এর মাঝে টেনিদা বুনো হাতির পিঠে সাওয়ার করে হারিয়ে যায় বনের মাঝে। কাহিনী জমে ওঠে
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ সুরিসুরি দিয়ে হাসানোর মতন কিছু না এটা। হাসি সহজাত ভাবেই আসবে আপনার। এমন বই অনেক বিরল।
এর পর থেকে মন খারাপ থাকলে টেনিদা পড়ব আর ক্যা ক্যা করে হাসব। :D ব্যাস মন ভালো হয়ে যাবে। টানা পড়ে হাসতে হাসতে মুখ ব্যাথা হয়ে গেসে। কত আগে লেখা, কিন্তু এখনো মজার্। :p
ছোটোবেলা রঙিন হয়ে আছে যে লেখাগুলোর স্মৃতি নিয়ে, তাদের অন্যতম এটি। এর কাহিনি সংক্ষেপে বলতে গেলে সেটা একরকম অপরাধই হবে। তাই সবিনয়ে অনুরোধ করব, ধীরেসুস্থে বইটা পড়তে শুরু করুন। আশেপাশে গোমড়ামুখো লোক না থাকাই ভালো। আপনি যখন হেসে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম করবেন, তখন তারা আপনাকে নানারকম অভিশাপ দিতে পারে। পাগলাগারদেও নিয়ে যেতে পারে। তবে এমন বই... নাহ্! এখন আর এইসব হয় না। পড়ুন-পড়ুন। আমার লেখা ফেলে বইটা পড়ুন শিগগির।
যারা এখনো টেনিদা পড়েননি কিংবা ভাবছেন যে টেনিদা পড়ার বয়স নেই তাদের নিশ্চিত কওরে বলছি তারা বইপোকা হিসাবে অসম্ভব সুন্দর কিছু চরিত্রকে হারাতে যাচ্ছেন।
☼ রিভিউ ☼ নামঃ টেনিদা সমগ্র উপন্যাসঃ চার মূর্তির অভিযান লেখকঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় পৃষ্ঠাঃ ৬০
গল্পের প্রধান চার চরিত্র টেনিদা, ক্যাবলা, হাবুল এবং গল্পের বর্ণনাকারী প্যালারাম বাড়ুজ্যে। অদ্ভুত এক চরিত্র টেনিদা, ফুটবল, ক্রিকেট, অন্যের বিপদে ঝাপিয়ে পড়া, ভয় পেলে খাটের তলে লুকিয়ে পরা কিংবা কখনো অন্য তিন মূর্তিএর খাবার একাই খেয়ে ফেলা কোন কিছুতেই তার জুড়ি নেই। তবে এই গল্পে টেনিদা কিন্তু মোটেই কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়, বরং প্যালারাম নিজের সেই জায়গা টা ধরে বসে আছে । কারণ প্যালারাম তার ভয় আর খিদের যন্ত্রনায় নিজেই আগ্নেয়গিরি হয়ে ওঠাই সব থেকে বেশি ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। আর না মে ক্যবলা হলেও বুদ্ধি এবং সাহসের দিকে ক্যাবলাকে এই চার মূর্তির নায়কও বলা যেতে পারে। হাবুল সেন যেকোন সমস্যার সমাধান করে ফেলে তা ঘুম দিয়ে।
এই গল্পে চারমূর্তি প্রথম বারের মত বিমানযোগে টেনিদার কুট্টিমামার সাথে ডুয়ার্সের জংগলে ঘুরতে যায়। প্রথম রাতেই প্যালারাম বাঘের দর্শন পেয়েও অল্পের জ ন্য হার্ট অ্যাটাকের হাত থেকে রক্ষা পায়। যদিও বাঘ নাহ দেখেও শুধু আসার কথা শোনবার পরে টেনিদা আর হাবুলের ছোটখাট অ্যাটাক হয়ে যায়। শুধু ব্যাগড়া টা বাধিয়ে দেয় ক্যাবলটা। কুট্টিমামা যখন বাঘ মারার জন্য শিকারে যেতে প্রস্তুত হয় তখন ক্যাবলাও যাবার জন্য বেকে বসে। যদিও একথা শূনে বাকী তিনমূর্তি ভয়ে একটুর জন্য মুর্ছিত হয় নাহ। তারপর তাদের জন্মভূমি পটলডাঙ্গার কথা বলে ইমোসনাল ব্লাকমেইল করে ক্যাবলা বাকী তিনজনকে রাজী করায়। যদিও টেনিদা বাথরুমে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তবু ক্যবলার জন্য শেষ রক্ষা হয় নাহ।
পৃথিবীতে সম্ভবত আমিই একমাত্র যার ট��নিদা তেমন একটা পছন্দ না। স্কুলে পড়তে দুই একটা গল্প যে পড়া হয়নি, তা না, কিন্তু কোনটাই সেভাবে মনে দাগ কাটেনি যে৷ বিস্তারিত মনে থাকবে।
এত বছর পরে এটা পড়ে মনে হলো ক্লাস ফোর ফাইভে পড়লে আসলেও ভালো লাগতো মনে হয়, মজার না তা নয়। তবে হিউমারটা কিছুটা জোর করে করানো যেন শিবরামের তরতরে pun না, আবার সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের "অজ্ঞাতবাস" যে পড়লাম কয়েক সপ্তাহ আগে, তার মতো বাস্তব নয়, বরং বাস্তবতা থেকে বেশ দূরে - যেমন তিববারের বার ম্যাট্রিক পাশ করে কলেজে পড়া ছেলের বয়স হয় অন্তত বছর ১৯-২০, সে হিসাবে তার আচরণ ক্লাস সিক্সে পড়ার মতো হলে মুশকিল ওতে রস আস্বাদন বিঘ্নিত হয়।
নির্মল হাসির সোর্স এই চারমূর্তির কাহিনীগুলো। কোনো ভাঁড়ামো নয়, কাতুকুতু মার্কা জোকস নয়, পাতায় পাতায় একেবারে নির্ভেজাল মজায় ভরা। শুধু জঙ্গলের মধ্যে জন্তু জানোয়ার নিয়ে ঘটনাগুলো একটু বেশিরকমের আজগুবি লাগায় অর্ধেক তারা কেটে নিলাম। ৪.৫।