মানব সভ্যতার শেষ ৪৫ জন ব্যক্তি টিকে আছে কৃষ্ণকায় মহাকাশের বুকে ভাসমান এক স্পেস স্টেশনে। বহুদিন আগেই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে তারা; এমন পরিস্থিতিতে মানবজাতি কি মেনে নেবে অমোঘ মৃত্যু? নাকি ঝাঁপিয়ে পড়বে নিজেদের টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায়? মহাকাশের বুকে লৌকিক চাহিদা মিটিয়ে নিজেদের টেকানোই যেখানে দায়, কেমন হবে যদি সেখানেও নেমে আসে লোভ, স্বার্থ আর বিদ্বেষের রণধ্বনি? তাও বারংবার? চার মাসের শিশুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে শুরু হওয়া এ গল্পের শেষ কোথায়, তা জানা নেই। মানবজাতির টিকে থাকার লড়াইয়ের অচেনা এক পর্বে পাঠককে স্বাগতম, যেখানে নেই কোনো জল, নেই স্কুল!
পৃথিবীর সব গল্প বলে ফেলার পরও কিছু গল্প হয়ত থেকে যাবে। আবার আসিব ফিরে সেরকমই একটা গল্প। মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়। তবে কিছু মানুষ মহাকাশের বুকে ভাসমান এক স্পেস স্টেশনে থাকার কারণে বেঁচে গেছে। পুরো গল্পটা স্পেস স্টেশনকে ঘিরেই। এইচ.জি ওয়েলসের টাইম মেশিনের কথা মনে পড়লো গল্পটা পড়তে পড়তে। মরলক, এলয়রা ফিরে ফিরে এলো এখানেও। এক বসায় পড়ার মতো বইটা হাতে নেয়ার আগেই প্রেডিক্ট করা যায় গল্প কোনদিকে যাবে বা সামনে কি হচ্ছে, কিন্তু উপভোগ্য ছিল ছোট ছোট ডিটেইল আর মেটাফোরগুলো। কিছু জিনিস একটু চোখে লেগেছে, যেমন ক্যারেক্টারের নামগুলো একটু অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ব্লেন্ড হয়নি আরকি। যেমন ভিঞ্চি, নোবলে, আদি—নামের এই পরম্পরার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো যুক্তি আছে, আমার ধারণা গল্পের পরিসরের কারণে লেখক সেই যুক্তি দাঁড় করানোর সুযোগ পাননি। তবে গল্পটা এক কথায় দারুণ। চেনা গল্প, চেনা প্রেক্ষাপট কিন্তু আখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর তরুণ লেখকদের লেখাতে যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া যথেষ্ট হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটারও একটা প্রমাণ এই গল্প। আমি নিশ্চিত, এই গল্প চব্বিশের আগে লেখা হলে আর সায়েন্স থাকতো, ফিকশন থাকতো কিন্তু রাজনীতি থাকতো না। সময়িন্দ্রজালের রুমির ভালো কামব্যাক দিয়েছে আবার আসিব ফিরে’তে। আর আমার মতো রিডার্স ব্লকে কেউ থাকলে বইটা পড়ে জট ছুটাতে পারেন, এক বসায় ঝরঝরে এক গল্প। সময়টা খারাপ কাটবে না।