1. ঘাটের কথা
2. রাজপথের কথা
3. মুকুট
4. দেনাপাওনা
5. পোস্টমাস্টার
6. গিন্নি
7. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
8. ব্যবধান
9. তারাপ্রসন্নের কীর্তি
10. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
11. সম্পত্তি-সমর্পণ
12. দালিয়া
13. কঙ্কাল
14. মুক্তির উপায়
15. ত্যাগ
16. একরাত্রি
17. একটা আষাঢ়ে গল্প
18. জীবিত ও মৃত
19. স্বর্ণমৃগ
20. রীতিমত নভেল
21. জয়পরাজয়
22. কাবুলিওয়ালা
23. ছুটি
24. সুভা
25. মহামায়া
26. দানপ্রতিদান
27. সম্পাদক
28. মধ্যবর্তিনী
29. অসম্ভব কথা
30. শাস্তি
31. একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
32. সমাপ্তি
অপূর্বকৃষ্ণ বি.এ. পাশ করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া দুরন্ত এক কিশোরী মৃন্ময়ীর প্রেমে পড়ে এবং বিয়ে করে। বিয়ের পর আপূর্ব আইন পরিবার জন্য কলিকাতা চলে আসলে এক দিনের ব্যবধানে মৃন্ময়ী কিশোরীর কোল ছাড়িয়া যৌবনের কোলে আছড়ে পরে। পরিশেষে শাশুড়িসহ মৃন্ময়ী কলিকাতা রওনা দেয় অপূর্বর কাছে।
“পৃথিবীতে অনেক মুখ চোখে পড়ে কিন্তু এক একটি মুখ বলাকহা নাই একেবারে মনের মধ্যে গিয়া উত্তীর্ণ হয়। সে কেবল সৌন্দর্যের জন্য নহে, আর একটা কী গুণ আছে। সে গুণটি বোধ করি স্বচ্ছতা। অধিকাংশ মুখের মধ্যেই মনুষ্যপ্রকৃতিটি আপনাকে পরিস্ফুটরূপে প্রকাশ করিতে পারে না; যে-মুখে সেই অন্তর-গুহাবাসী রহস্যময় লোকটি অবাধে বাহির হইয়া দেখা দেয়, সে মুখ সহস্রের মধ্যে চোখে পড়ে এবং এক পলকে মনে মুদ্রিত হইয়া যায়। এই বালিকার মুখে চোখে একটি দুরন্ত অবাধ্য নারীপ্রকৃতি উন্মুক্ত বেগবান অরণ্যমৃগের মতো সর্বদা দেখা দেয়, খেলা করে, সেইজন্য এই জীবনচঞ্চল মুখখানি একবার দেখিলে আর সহজে ভোলা যায় না।“
“রৌদ্রোজ্জ্বল নির্মল চঞ্চল নির্ঝরিণীর দিকে অবনত হইয়া কৌতূহলী পথিক যেমন নিবিষ্টদৃষ্টিতে তাহার তলদেশ দেখিতে থাকে, অপূর্ব তেমনি করিয়া গম্ভীর গম্ভীর নেত্রে মৃন্ময়ীর উর্ধ্বোৎক্ষিপ্ত মুখের উপর, তড়িত্তরল দুটি চক্ষুর মধ্যে চাহিয়া দেখিল এবং অত্যন্ত ধীরে ধীরে মুষ্টি শিথিল করিয়া যেন যথাকর্তব্য অসম্পন্ন রাখিয়া বন্দিনীকে ছাড়িয়া দিল।“
“রাত্রে ঘন মেঘ করিয়া ঝুপ ঝুপ শব্দে বৃষ্টি হইতে আরম্ভ হইল। অপূর্বকৃষ্ণ বিছানার মধ্যে অতি ধীরে ধীরে মৃন্ময়ীর কাছে ঈষৎ অগ্রসর হইয়া তাহাক কানে কানে মৃদুস্বরে কহিল,
'মৃন্ময়ী, তুমি আমাকে ভালোবাস না?'
মৃন্ময়ী সতেজে বলিয়া উঠিল, 'না। আমি তোমাকে কক্খনোই ভালোবাসব না।' তাহার যত রাগ এবং যত শাস্তিবিধান সমস্তই পুঞ্জীভূত বজ্রের ন্যায় অপূর্বর মাথার উপর নিক্ষেপ করিল।
অপূর্ব ক্ষুণ্ন হইয়া কহিল, 'কেন, আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছি।' মৃন্ময়ী কহিল, 'তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন।“
“ঘরের মধ্যে স্থানাভাব, লোকাভাব, অন্নাভাব, কিন্তু ক্ষুদ্র ছিদ্র হইতে ফোয়ারা যেমন চতুর্গুণ বেগে উত্থিত হয় তেমনি দারিদ্র্যের সংকীর্ণ মুখ হইতে আনন্দ পরিপূর্ণ ধারায় উচ্ছ্বসিত হইতে লাগিল।“
“মৃন্ময়ী শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলে অপূর্ব তাহার দুই হাত ধরিয়া কহিল, 'এখন আমার একটি প্রার্থনা আছে। আমি অনেক সময় তোমার অনেক সাহায্য করিয়াছি আজ যাইবার সময় তাহার একটি পুরস্কার দিবে?'
মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া কহিল, 'কী।'
অপূর্ব কহিল, 'তুমি ইচ্ছা করিয়া ভালোবাসিয়া আমাকে একটি চুম্বন দাও।'
অপূর্বর এই অদ্ভুত প্রার্থনা এবং গম্ভীর মুখভাব দেখিয়া মৃন্ময়ী হাসিয়া উঠিল। হাস্য সংবরণ করিয়া মুখ বাড়াইয়া চুম্বন করিতে উদ্যত হইল--কাছাকাছি গিয়া আর পারিল না, খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। এমন দুইবার চেষ্টা করিয়া অবশেষে নিরস্ত হইয়া মুখে কাপড় দিয়া হাসিতে লাগিল। শাসনচ্ছলে অপূর্ব তাহার কর্ণমূল ধরিয়া নাড়িয়া দিল।“
“গল্পে শুনা যায়, নিপুণ অস্ত্রকার এমন সূক্ষ্ণ তরবারি নির্মাণ করিতে পারে যে, তদ্দ্বারা মানুষকে দ্বিখণ্ড করিলেও সে জানিতে পারে না, অবশেষে নাড়া দিলে দুই অর্ধখণ্ড ভিন্ন হইয়া যায়। বিধাতার তরবারি সেইরূপ সূক্ষ্ণ, কখন তিনি মৃন্ময়ীর বাল্য ও যৌবনের মাঝখানে আঘাত করিয়াছিলেন সে জানিতে পারে নাই; আজ কেমন করিয়া নাড়া পাইয়া বাল্য-অংশ যৌবন হইতে বিচ্যুত হইয়া পড়িল এবং মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া ব্যথিত হইয়া চাহিয়া রহিল।“
“আমি আমাকে বুঝিতে পারি নাই বলিয়া তুমি আমাকে বুঝিলে না কেন।“
33. সমস্যাপূরণ
কৃষ্ণগোপালের বিশাল জমিদারি। বৃদ্ধ বয়সে সে তার সমস্ত জমিদারি তার ছেলে বিপিনের হতে সমর্পণ করে কাশী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কাশী গমন করেন। বিপিন জমিদারি হাতে নিয়া দেখেন সমস্ত প্রজা সম্প্রদায় তার পিতার সরলতার সুযোগ নিয়া এতদিন ঠকাইয়া আসতেছিল। বিপিন এ ক্ষতি মেনে নিতে পারলো না। সে সকল প্রকার প্রতি কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সকল প্রজা মেনে নিলেও মেনে নিতে পারেনি মির্জাবিবির পুত্র মুসলমান ছেলে আছিমদ্দি। অবশেষে আছিমদ্দির সাথে মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ালে, মামলার সাক্ষীর দিন কৃষ্ণগোলাপ কাশী হতে চলে আসে মামলা নিষ্পত্তির আদেশ নিয়ে। বিপিন এর কারণ জানতে চাইলে তার পিতা তাকে জানায় যে, আছিমদ্দি তার ভাই।
সংসারে সাধু-অসাধুর মধ্যে প্রভেদ এই যে, সাধুরা কপট আর অসাধুরা অকপট
34. খাতা
35. অনধিকার প্রবেশ
36. মেঘ ও রৌদ্র
37. প্রায়শ্চিত্ত
38. বিচারক
39. নিশীথে
40. আপদ
41. দিদি
42. মানভঞ্জন
43. ঠাকুরদা
44. প্রতিহিংসা
45. ক্ষুধিত পাষাণ
46. অতিথি
47. ইচ্ছাপূরণ
48. দুরাশা
49. পুত্রযজ্ঞ
50. ডিটেকটিভ
51. অধ্যাপক
52. রাজটিকা
53. মণিহারা
54. দৃষ্টিদান
55. সদর ও অন্দর
56. উদ্ধার
57. দুর্বুদ্ধি
58. ফেল
59. শুভদৃষ্টি
60. যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
61. উলুখড়ের বিপদ
62. প্রতিবেশিনী
63. নষ্টনীড়
64. দর্পহরণ
65. মাল্যদান
66. কর্মফল
67. গুপ্তধন
68. মাস্টারমশায়
69. রাসমণির ছেলে
70. পণরক্ষা
71. হালদারগোষ্ঠী
72. হৈমন্তী
73. বোষ্টমী
74. স্ত্রীর পত্র
75. ভাইফোঁটা
76. শেষের রাত্রি
77. অপরিচিতা
78. তপস্বিনী
79. পয়লা নম্বর
80. পাত্র ও পাত্রী
81. নামঞ্জুর গল্প
82. সংস্কার
83. বলাই
84. চিত্রকর
85. চোরাই ধন
86. বদনাম
87. প্রগতিসংহার
88. শেষ পুরস্কার
89. মুসলমানীর গল্প
90. ভিখারিণী
91. করুণা