শিঙাড়া আর চাট খাওয়া পেটে বিরিয়ানি খেলে যা-হয়, বংশালের বনলতা পড়তে গিয়ে আমার সেই অবস্থাই হল। প্রথমে ভাব না বুঝে হুড়মুড়িয়ে পড়তে গেছিলাম। তারপর পেট (এক্ষেত্রে মাথা) একেবারে খারাপ হওয়ার জোগাড় হল। এ কী সাংঘাতিক জিনিস! ভূমিকা-বর্জিত এই বইয়ে আছে~ ১) বংশালের বনলতা ২) অসীম আচার্যের অন্তর্ধান ৩) কালো পাথর ৪) বজ্রযোগীর প্রত্যাবর্তন ৫) ইব্রাহিম কাদরির মৃত্যু ৬) হাকিনী এই লেখাগুলো গড়পড়তা 'তান্ত্রিক হরর' তো বটেই, সাধারণ অলৌকিক কাহিনির থেকে একেবারে অন্য স্তরে। এতে কোনো সুস্পষ্ট 'দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন' গোছের ব্যাপার নেই। এখানে অলৌকিক শক্তি সমস্যার সমাধান করার জন্য রাতারাতি 'ডিউস এক্স মাখিনা' হয়ে আদৌ আবির্ভূত হয় না। এদের আসল শক্তি হল ইতিহাসচেতনা এবং মানুষের মনে চলা ন্যায়-অন্যায় এবং লোভ ও ত্যাগের দ্বন্দ্ব। তার প্রকাশের মধ্যে অলৌকিকত্ব আছে। কিন্তু তার শিকড়টা রয়েছে কঠোরভাবে মানুষী ভাবনা, দুর্বলতা আর শক্তিতে। সর্বোপরি, এতে প্রটাগনিস্ট হোক বা পার্শ্বচরিত্র— সবারই প্রস্ফুটন হয়েছে সঘন, ত্রিমাত্রিক রূপে। এই 'ধর্ তন্ত্র মার্ পাঠক' যুগে এমন সযত্নে, কিছু ব্ল্যাক হিউমার এবং নিবিড় পাঠ নিয়ে রচিত লেখাপত্র পড়ার সুযোগ আমরা পাই কোথায়? বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে বইটি সহজলভ্য, তাই তাঁদের হিংসেই হচ্ছে। তবে লেখাগুলো এপারেও প্রকাশিত হতে চলেছে— এ-কথা জানি বলে হিংসেটা খুব একটা জোরালো হচ্ছে না। সুযোগ পেলে অতি-অতি অবশ্যই পড়ুন।
আমাদের দেশে হরর থ্রিলার লেখকে হয়তো অনেক পাবেন কিন্তু হরর ফ্যান্টসি লেখক পাবেন না বলেলেই চলে । মুহাম্মদ আলমগীর তৈমুর সেই দুর্লভ ক্যাটাগরির লেখকের মধ্যেই পড়ে । ইতিহাস কে পুঁজি করে হরর কাহিনী লেখাতে তার জুরি মেলা ভার । এক কথায় তিনি এই টাইপ লেখা লেখায় অনন্য ।বংশালের বনলতা তার একটি গল্প সংকলন । এতে আছে ছয়টি হরর ফ্যান্টসি গল্প । বংশালের বনলতা , অসীম আচার্য্যের অন্তধার্ন ,কালো পাথর , বজ্রযোগীর প্রত্যাবর্তন , ইব্রাহিম কাদরীর মৃত্যু , হাকিনী । যার বেশীরভাগই রহস্য পত্রিকায় ছাপা হয়েছে । এই সংকলনের সবগুলো গল্পই অসাধারণ । মানুষকে ইতিহাসের মারপ্যাঁচে ফেলে হরর গল্প ফাদার কায়দা তার ভ্লাওই জানা আছে । সবগুলো গল্পই অনেক ভালো লেগেছে ।
বইটির প্রত্যেকটা গল্পতেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলি সুষ্ঠু ও বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অনেকে বলেন যে লেখক খেটে-খুটে কিছু লিখলেই তা প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে লেখে খেটে হোক বা খাটুনি ছাড়াই হোক, মান যদি ভাল হয় তবেই তা ভাল নাহলে খারাপ। মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের লেখুনিতে শুধু অধ্যবসায়ই নয়, মুনশিয়ানাও বিদ্যমান। অতীব সুখপাঠ্য। তবে কয়েকটি গল্পের - বিশেষ করে 'বজ্রযোগীর প্রত্যাবর্তন' গল্পটির পরিসর আরও বড় হলে ভাল লাগত। এই কারণেই পাঁচে পাঁচ দিলাম না। যেহেতু সাড়ে চার দেবার উপায় নেই, তাই চারই সই।
দীর্ঘ সময় ধরে গোটা বইটা পড়েছি দেখে পাঁচ তারা দিলাম। যদি একটানা পড়তাম তাহলে হয়তো চার তারা দিতে হতো, কারণ সবগুলো গল্পেরই উপস্থাপনা ভংগিমা একই। ব্যক্তিগিত আক্ষেপ, বজ্রোযোগীর প্রত্যাবর্তন গল্পটার দারুণ বিল্ড-আপ শেষে ওভাবে হুট করে ইতি টেনে দেয়াটা কিছুটা হতাশ করেছে। তা সত্যেও, প্রতিটি বাক্য, বর্ণনা, দৃশ্য উপভোগ করেছি। তৈমুর স্যার আরো বেশি বেশি লিখুন, এই কামনা করি।
"বংশালের বনলতা" নামটা দেখেই কেমন কৌতুহল জাগে তাই না? তেমনই কৌতুহল এবং বেশ কয়েকজনের প্রশংসা শুনে বইটি কেনা।
হতাশ হয়েছি পড়ে তা বলব না কিন্তু আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বইয়ের মধ্যে হয়তো এই বই থাকবেনা। "বংশালের বনলতা" বইটিতে ৬ টি গল্প আছে। (আমার প্রিয় "বংশালের বনলতা", "কালো পাথর", "হাকিনী")। যদি ধরা হয়, তাহলে প্রতিটা গল্পের বিষয়বস্তু একই প্রায়। কিন্তু প্লট এবং চরিত্র আলাদা। বইটির উপরের লেখা আছে, "অতিপ্রাকৃত রোমাঞ্চগল্প" হুম... গল্পগুলা অতিপ্রাকৃত, কিন্তু হরর না। রোমাঞ্চ কতটুকু আছে তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে...! গল্পগুলোর বিষয় বস্তু অতিপ্রাকৃত, পোরাণিক অপদেব অপদেবীদের এবং তাদের উপাসনা নিয়ে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, গল্পগুলো নিছক বানানো গল্প হলেও, এর ভিত্তি যে নেই তা না! লেখক এই উপমহাদেশর ইতিহাস নিয়ে বিস্তর ঘাটাঘাটি করে, লেখা পড়া করে লিখতে বসেছে। গল্পগুলোকে উড়িয়ে দিলেও ইতিহাস থেকে যে রেফারেন্স গুলো দিয়েছেন তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলে যে রাজা- বাদশা, জমিদারদের নিয়ে যে কিংবদন্তিকর ইতিহাস ছড়িয়ে আছে এবং তা দিয়ে যে উত্তম ফ্যান্টাসি গল্প লেখা সম্ভব তা লেখক প্রমান করেছেন।
আমার কাছে উনার লেখার ধরন খুব ভিন্ন মনে হয়েছে বাংলাদেশের লেখকদের থেকে। অনেকটা পশ্চিমা ইস্টাইলে লেখা। কিন্তু তথ্য উপাত্তির অধিক্য কিছুটা একঘেয়ে করে দিয়েছে আমার মতে। তবে লেখক যে বইটা লিখতে প্রচুর পড়াশুনে করে লিখতে বসেছেন তা অবশ্যই প্রশংশার দাবী রাখে। এটা সত্যি বাংলাদেশে এই প্রকৃতির লেখা প্রথম।
যারা, বাংলাদেশের পৌরাণিক ইতিহাস, মিথ গুলো জানতে চান তারা অবশ্যই পড়ে ফেলেন বইটি। এই বৃষ্টিভেজা আবহাওয়াই অতিপ্রাকৃত গল্প গুলো দারুন জমবে বলে আশা করছি।
রেটি: ৩.৮/৫ ( গুডরিডস এ ৪ দিয়েছি, পয়েন্ট দেওয়া যায় না তাই :/ )
লেখকের লেখার ধরন পছন্দ হয়েছে। যদিও সব কটা গল্প ভালো লাগেনি। কিন্তু একেবারেই ভালো লাগেনি তাও না। লেখকের লেখা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। শুভকামনা রইল তাঁর প্রতি।
দৃশ্য, ঘটনা, পরিস্থিতি পাঠকের চোখের সামনে একদম জীবন্ত করে তুলতে মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের জুড়ি কম। Picturesque বর্ণনা যাকে বলে। বংশালের বনলতা পড়তে পড়তে যেন বংশালের আলাউদ্দিন রোডের দেড়শো বছরের পুরোনো আর্মেনীয় ভবন, তার নোনা ধরা দেয়াল, কাঠের কড়িবরগার ওপর উঁচু ছাদ, জাফরি কাটা বারান্দা, ছায়া ছায়া বিশাল সব ঘর, চোখের সামনে দেখা যায়। সাপকে জড়িয়ে থাকা বন্য চুলের যুবতীর মূর্তিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেখা যায় কাবালা তান্ত্রিক কোহেনের খণ্ড খণ্ড লাশ তার সুরম্য রংমহলের গালিচায় পড়ে থাকতে। তেমনি জীবন্ত মনে হয় প্রাচীন ব্যাবিলনের অশুভ মন্দিরে লিলিথ দেবীর বীভৎস পূজা।
আমার প্রিয় বর্তমান কালের লেখকদের নাম বলতে গেলে প্রথম সারিতে থাকবেন মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর। রহস্য পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি। যখন শুনলাম সময় থেকে তার একটা গল্প সংকলন বেরিয়েছি, দেরি করলাম না কিনতে। বইটি মূলত ছয়টি গল্পের সমষ্টি- ১. বংশালের বনলতা ২. অসীম আচার্য্যের অন্তর্ধান ৩. কালো পাথর ৪. বজ্রযোগীর প্রত্যাবর্তন ৫. ইব্রাহিম কাদরির মৃত্যু ৬. হাকিনী ছয়টা গল্প নিয়ে না লিখে আমি বলব শুধু টাইটেল গল্পটি নিয়ে। বনলতা নামটি শুনলেই তো কাব্যিক ভাব জাগে আমাদের মনে, মানসপটে ভেসে উঠে এলোকেশী কোনও রমণী, তাই না? আমিও এই নাম দেখে আকৃষ্ট হই প্রথমে। সেই কবে থেকে আজও এক রহস্যের নাম বনলতা। তবে সেই বনলতার সাথে আমাদের আলোচ্য বনলতার কোনও সম্পর্ক নেই। অবশ্য জীবনানন্দকে যেমন দু দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা, আমায় তেমনি তৃপ্তি দিয়েছে বংশালের বনলতা! গল্পটা লেখা হয়েছে উত্তম পুরুষে। কাহিনি গড়ে উঠেছে পুরানো ঢাকার বংশালের কাছাকাছি এক দেড়শো বছরের পুরানো বাড়িকে ঘিরে। একটা নোংরা ক্লজিট পরিষ্কার করতে গিয়ে গুপ্তকক্ষ আবিষ্কার করে বসেন লেখক। তক্তা সরিয়ে সেই গুপ্তকক্ষে প্রবেশ করে খুঁজে পান প্রাচীন এক নারী-মূর্তি। এদিকে মূর্তিটা পাওয়ার পর থেকেই ঘুরতে শুরু করে লেখকের ভাগ্যের চাকা। জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট থেকে রাতারাতি বনে যান এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্ট, বেতন বেড়ে যায় চার গুণ। শুধু তাই নয়, এক অদৃশ্য শক্তিবলে জলের ন্যায় অর্থ আসতে থাকে তার মুঠোয়। কিন্তু সবকিছুরই মূল্য থাকে। এই বিত্তের বিনিময়ে কী মূল্য দিতে হবে লেখককে? কোথা থেকে এল ওই মূর্তি? কী তার পরিচয়? মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর সাধারণত ভৌতিক গল্প লিখে থাকেন। তবে তার লেখাগুলোর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে-গল্পগুলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত। সাধারণত ইতিহাসকে কেন্দ্র করে লিখতে গিয়ে লেখকেরা বুলি কপচানো শুরু করেন। আর এখানেই মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের সার্থকতা। পুরো গল্প পড়তে গিয়ে একবারও মনে হয়নি লেখক জোর করে ইতিহাস গেলাতে চাইছেন। কাহিনির সাথে চমৎকার ভাবে মিশে গেছে ইতিহাস ভিত্তিক বর্ণনাগুলো তার মেদহীন লেখনীর কারণে। প্লটের পাশাপাশি রোমাঞ্চ কাহিনিগুলো অসাধারণ হয়ে উঠে লেখকের সুলেখনীর কারণে। আর দ্বিধাহীন চিত্তেই বলা যায় যে আলোচ্য লেখকের বর্ণনাশৈলী চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ করার মতো।
অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ে আসমুদ্রহিমাচল সমান আগ্ৰহ থাকলেও আমি বরাবরই ই নিজেকে egg of vitu অথাৎ বাংলায় তরজমা করলে ভিতুর ডিম বলেই জেনেছি।যার সাহসের দীপ ঐ টিমটিমে বাতির মতোই; সামান্য এদিক সেদিক হলেই অনতিবিলম্বে অস্ত যাবে।
সুতরাং তন্ত্রের সাথে মন্ত্রমুগ্ধ মানব মনের গল্পের যতোই মিলনমেলা হোক না কেন আমি দূর হতে তোমারে দেখেছি আর মনে মনে ভালোবেসেছি নিয়ম মেনে চলি অক্ষরে অক্ষরে।
তবে তৈমুর সাহেবের বিষয়টা আলাদা;প্রখর রসবোধের সাথে লোকায়ত জ্ঞানের মধ্যে যদি আপনাকে প্রাচীন পুরানো পুঁথি পাঠের মতো বিষয়কে খানিকটা নন ফিকশন আকারে পেশ করেও যদি সারাদিনের উপোসী আত্মাকে প্রসাদের থালিতে সাজিয়ে এমন সব গল্পের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়;এখানে উপলব্ধি হয় দুটো:
১.ধান ভানতে শিবের গীত গুনগুনিয়ে কেউ তাকে পচিয়ে ফেলে আর কেউ করে সব পচে যাওয়া অখাদ্য পড়ে ধুঁকতে থাকা হৃদয়ের জন্য এক মনোজ্ঞ পাঁচন। পচে যাওয়াকে পরিত্যাগ করাই শ্রেয় কিন্তু পথ্য সামনে পেলে তা ঠিক না করা অমার্জনীয়। ২.এটুকু থাক ব্যক্তিগত; সীমাবদ্ধ জ্ঞানের গরিমার গরমে ধরাকে সরা জ্ঞান করা কেচ্ছা না কাহিনী করে বলবো আরেকদিন।
কি বিচিত্র সব বিষয় আর তার চেয়ে কত বিচিত্র চরিত্র চিত্রন!নাওয়া খাওয়া ভুলে প্রতি কাহিনীর শেষ পর্যন্ত ধাওয়া করে ঘন্টাটা পার হয়ে গেছে কখন তা বলা বেশ মুস্কিল.কিন্ত শুরুতে যেমন ছিলো টানটান উত্তেজনা সমাপ্তিতে ছেদ পড়েনি তাতে বিন্দুমাত্র।
দেবতা অপদেবতা বা লোককথা কিংবা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া সব তথ্যকে সুখপাঠ্য গল্পের রূপান্তরের জন্য লেখকের কাছে এই ক্ষুদ্র পাঠক অবশ্যই কৃতজ্ঞ।
আপনার কলমে আরো হাজার বছর বিমূর্ত হয়ে উঠুক অদেখা অজানা ভয়ের সমীকরণ মেশানো শতাব্দীর কালকুঠুরিতে হারিয়ে যাওয়া সব শব্দজালে আবদ্ধ কাহিনী কাব্য।
খুব বেশি ডিটেইলস কিন্তু দারুণ উপভোগ্য... জাস্ট অ্যাডাল্ট কন্টেন্টগুলি নিয়ে অভিযোগ, চাইলেই বাদ দেওয়া যেতো... প্রাচীন সভ্যতা দেব দেবী ধর্ম প্রসঙ্গ মানেই কিন্তু কদর্যতা বা বর্বরতা নয়, প্রাচীন সভ্যতাগুলির খুব আকর্ষক দিকও আছে... ওগুলি আরো ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন লেখক ইচ্ছে করলেই! তাহলে খুব ভালো হতো।
২.৫/৫ “ভয়” মানুষের খুব প্রাগৈতিহাসিক একটা অনুভূতি। অনেকে ভূতের গল্প, horror movies, অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে হাসাহাসি করলেও আমি কিন্তু এসবের পাঁড় ভক্ত। কিভাবে কেউ ভয় দেখাতে পারছে বা ভয়ের আবহ তৈরী করছে, এটা বহুকাল ধরে আমার আগ্রহের বিষয়।
গল্প বলা আর গল্প ফাঁদা দুইটা একই ধরনের বিষয় মনে হলেও আমি মনে করি এদের মধ্যে খুব subtle একটা পার্থক্য আছে। গল্প বলাটা অনেক effortless একটা বিষয়, অন্য দিকে গল্প ফাঁদা বেশ জারিজুরি সম্পন্ন কায়দা। গল্প কথকের স্বতঃস্ফূর্ত বয়ানে যেমন শ্রোতা বা পাঠক মুগ্ধ হয় তেমনি সুদক্ষ ভাবে পাতা ফাঁদে পা দিয়ে কখনও কখনও হয় বিমোহিত। এক্ষত্রে কোন craft ই কোনটার চেয়ে ছোট না।
এই দুইয়ের মধ্যে বিবেচনা করলে বলব মুহাম্মদ আলমগীর তৈমূর দ্বিতীয় ঘরানার মানুষ। গল্প ফাঁদতে তিনি ভালই পারেন। “one fine morning” ধরনের বর্ণনা দিয়ে গল্প শুরু হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে পাঠক মোটামুটি গল্পে আটকে যাবেন। তবে এই সংকলনের শুধুমাত্র “বংশালের বনলতা” গল্পটা অনেক সামনে এগিয়ে থাকবে, তার একটু পরেই “হাকিনী” গল্পটা কিন্তু এরপর সব গল্প একটার চেয়ে আরেকটা খারাপ। যে দুটো ভালো গল্পের কথা বললাম সেগুলা আসলেই প্রসংশার দাবি রাখে। দুটো গল্পই গা ছমছমে ভৌতিক আবহ তৈরী করে। দুটোতেই পরিমিত ভাবে ইতিহাস এসেছে, কাহিনির সাথে blend ও করেছে সুন্দরভাবে।
সমস্যাটা হচ্ছে, এরপর গল্প গুলোর execution বেশ খারাপ; বর্ণনার বাহুল্য, ইচ্ছামতন ঐতিহাসিক reference আনা, সেগুলাকে খুব ভালো করে যে গল্পে কাজে লাগানো যে হয়েছে তাও না। যেমনঃ “অসীম আচার্য্যের অন্তর্ধান” গল্পটায় এতো ঘটনা শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে যে একটা পর্যায়ে যেটুকু মনযোগ একটা লেখা দাবি করে সেটায় দেয়া যায় না। ঘটনার এই শাখা-প্রশাখা বিত্তিক সমস্যা অবশ্য এই বইয়ের বেশির ভাগ গল্পেই আছে। ফ্ল্যাপে লেখা আছে “পুরোপুরিভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে পাঠক যেন ঘটনার ঘনঘটায় বিরক্ত না হন।” অথচ আমার মনে হল এই গল্পগুলোতে আরও বেশি করে এই কাজটাই করা হয়েছে!তাছাড়া চরিত্���দের কথাবার্তায় অযথা হুমায়ূন আহমেদীয় কায়দা আনার কোন দরকার ছিলো না, এটা খুব দৃষ্টিকটু লেগেছে।
এ বনলতা সে বনলতা না ! কয়েকটা গল্পের সংকলন বইটি । প্রতিটি গল্পেই পয়সা উসুল । আদি থেকে কলি কালের যত ইতিহাস, ঘেটে গল্পগুলো তৈরি । পড়ে ফেললেই ভাল, তবে চিন্তা করলে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখার চান্স আছে! হিউমারগুলো ভাল লাগছে । ইব্রাহীম কাদ্রীর মৃত্যু পড়ে গিয়ে মুখ টিপে হাসি বন্ধ হয় নি । হরর আর হিউমারের চমৎকার মিশেল । গল্পের পরিধি যেমন কাল ছাড়িয়েছে, তেমনি দেশ বিদেশ সব ঘুরিয়ে নিয়ে আসছে পাঠককে ।
It's a fantastic collection of stories. With expensive plotline and in-depth storytelling the author created magic. Some stories are really atmospheric. This book won my heart easily. It's a pity that the author writes very very few pieces. He should write more, we need more of his vivid imaginations.
কয়েকটা গল্প খুবই ভালো, কয়েকটা আগেই পড়া, কয়েকটা এন্ডিং এর পে-অফ এতো ডিসেপয়েন্টিং যে বইটা কেন কিনেছি বলে রাগ হতে থাকে নিজের উপরেই। বাই দ্য ওয়ে, বইয়ের অরিজিনাল কভার কিন্তু এতো সুন্দর কিছু না।
এটা কি ছিল! পড়লাম না বলা ভালো গোগ্রাসে গিললাম। শুরু থেকে শেষ অবধি টোটাল থ্রিল। আগেও দেখেছি লেখকের ইতিহাস নিয়ে খেলার উদাহরণ, আবারও দেখলাম। লেখনী এতই জীবন্ত যে পড়ছি মনে হয়নি একবারও মনে হলো সিনেমা দেখলাম। লেখকের বড় উপন্যাস পড়ার জন্য মুখিয়ে রইলাম।
একটু একটু করে রসিয়ে রসিয়ে পড়লাম। এটাকে কেবল ভৌতিক বইয়ের ট্যাগ দিলে ভুল হবে, লেখক খুবই কৌশলে ইতিহাসের নানান উপাদানও বইয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তাঁর লেখার গভীরতা আর শক্তি খুবই দৃঢ়। মিথ আর ইতিহাসের এক আশ্চর্য সমন্বয় তৈরি করেছেন তিনি। ভয়ে কাঁপা-কাঁপির কিছু নেই, কিন্তু তবুও পড়ার সময় একটু গা ছমছমে ভাব হচ্ছিল। রেকমেন্ডেড!
ছয়টি অতিপ্রাকৃত গল্পের সংকলন এটি।লেখক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির প্রভাষক।তাই ভাষার ওপর অসাধারণ দখলটা স্পষ্ট।লেখকের লেখা প্রি-মডার্ণ ধাচের অর্থাৎ হুমায়ুন-যুগের ভাষার সাবলীলতা যেমন আছে তেমনি কলকাতার লেখার ভক্তরা যেমনটা ভাষা,উপমা,বাক্যের সূক্ষ্মতা ও শৈলী আশা করে সেটাতেও টইটম্বুর,এবং প্রত্যেকটি লেখাতেই বিশ্ব ইতিহাস ও ভাষা সম্পর্কে লেখকের অগাধ জ্ঞান প্রকাশ পায়।যদি লেখনীর সাথে কোনো লেখকের তুলনা দেয়া যায় তবে সেটি "তারানাথ তান্ত্রিক" এর দ্বিতীয় লেখক তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।বরং তারাদাসের লেখায় যে cynicism ছিলো আর সরলতা ছিলো সেই তুলনায় এই লেখকের লেখা অনেক intricate আর detailing অনেক বেশি,যদিও তারাদাস বেশ আগের মানুষ,প্রাচীন ও চিরায়ত প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহারে এই লেখক সেই যুগের তারাদাসকে টেক্কা দিয়েছেন অনেক জায়গায়। বইটি পড়তে গিয়ে দেখলাম লেখকের লেখার সাথে আমার পরিচিতি আসলে আজকের নয়,আরো ৯ বছর আগের।বাসায় একটা জিনিসই আমার নিজের-আমার পড়ার টেবিল।তার নিচের ক্যাবিনেটে পুরোনো অনেকগুলো রহস্য পত্রিকা যত্নে রাখা।বই পড়া শেষ হওয়ার পর সেগুলো বের করে দেখলাম ২০১১ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় বইয়ের "ইব্রাহিম কাদরির মৃত্যু" গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিলো। ৬ টি গল্পের প্রত্যেকটিতেই ব্ল্যাক ম্যাজিক,শয়তান ও অপদেবতা উপাসনা,জাদুবিদ্যা,তন্ত্রমন্ত্র,বিভিন্ন রিচুয়ালস,পূজার গোড়া থেকে উৎপত্তি-এসবকে উপজীব্য করে কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কিন্তু একই ধারার গল্প হলেও একফোঁটাও একঘেয়েমি আসবেনা,প্রত্যেকটি গল্পের উপসংহার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় নখ কামড়ে মাংস বের করার উপক্রম হয় (যদি আমার মতো কারো এই বদঅভ্যাস থেকে থাকে আরকি)।
‘অলৌকিক’ বা ‘অতিপ্রাকৃত’ জঁনরার প্রতি আমার আলাদাই ভালোলাগা আছে । আসলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এইসব ঘটনা ঘটে না বলেই বোধহয় এই টান । এইবছরেই ‘অতিপ্রাকৃত’ জঁনরার বেশ কয়েকটি বই পড়েছি । সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের যে কটি ‘অতিপ্রাকৃত’ বই পড়েছি তার ভিত্তিতে নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওপার বাংলায় শুধু ‘থ্রিলার’ নয়, বরং তার সাথে সাথে ‘অতিপ্রাকৃত’ বিষয়বস্তু নিয়েও বেশ ভালো কাজ হচ্ছে ।
বর্তমান বাংলা সাহিত্যের ‘হরর ফ্যান্টাসি’ জঁনরার অন্যতম স্টলওয়ার্ট ফিগার বলা হয় ‘মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর’কে । এই লেখকের লেখনীর ধরণ ‘প্রি-মডার্ন’ ধাঁচের, প্রতিটি গল্পেই তার ‘ভাষার সাবলীলতা’ এবং ‘বিশ্ব ইতিহাসের’ ওপর অগাধ জ্ঞানের ছাপ স্পষ্ট । বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা ছয়টি বড়োগল্পের সংকলন এই বইটি । তন্ত্র-মন্ত্র, গুপ্তসংঘ, বিস্মৃত দেবদেবী অথবা পুরাণের কাহিনির সাথে অবিকৃত ইতিহাসের মিশেল ঘটিয়ে লেখা হয়েছে এই সংকলনের গল্পগুলি ।
এই বইটি ‘অতিপ্রাকৃত গল্প সংকলন’ হলেও গল্পগুলির প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে ইতিহাস, আর্টিফ্যাক্ট, দেবতা-অপদেবতা, ধর্ম, কাল্ট এবং প্রচলিত কিংবদন্তি... এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে । ভয় এবং রোমাঞ্চের সাথে লেখক প্রতিটি গল্পেই সুনিপুণ ভাবে প্রয়োগ করেছেন ‘হিউমার’, যা গল্পগুলিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে । এই সংকলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ‘গল্পের বিল্ড-আপ’। ভীষণ সাবলীল ভাবে লেখক ইতিহাসের সাথে বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন প্রতিটি গল্পে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে পড়তে পড়তে দৃশ্যপট যেন চোখের সামনে ভেসে উঠেছে ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘অতিপ্রাকৃত’ গল্প পড়তে চাইলে অবশ্যই সংগ্রহ করুন এই বইটি, ভালো লাগবে ।
মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের আমার পড়া দ্বিতীয় গল্প এটি। প্রথমটি "ভুদুয়া জমজম"। ঠিক ভূত নয়, গল্পগুলোর কারবার অপদেবতার ত্রাস নিয়ে। "ভুদুয়া জমজম"এ যে অপদেবতা মনসা বা মেডুসা। "বংশালের বনলতা"য় সেই স্থানে প্রাক-আব্রাহামিক মধ্যপ্রাচ্যের দেবী লিলিথ।
একটা ভিনদেশের লৌকিক পুরাণকে দেশি সেটিংয়ে ফিট করানো বেশ চ্��ালেঞ্জিং কাজ। কিন্তু এক্ষেত্রে লেখক দক্ষ হাত, নির্মেদ ব্যাকস্টোরি বুনে কাজটি সুসম্পন্ন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট হলেও যৌনতার রগরগে বর্ণনায় সময় নষ্ট করার ফাঁদ সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। টানটান থেকেছে সাসপেন্স। গল্প এগিয়েছে দ্রুত কিন্তু স্বচ্ছন্দ লয়ে। আর দুটো গল্পেই ভালো লেগেছে শেষটা। মর্মান্তিক সমাপ্তি যে এত অল্পকথায় বলে দেওয়া যায় এবং অল্প কথায় বলার জন্যেই পাঠকের মনে বই বন্ধ করে দেওয়ার পরেও থেকে যায় অভিঘাত - এ জিনিস শিক্ষণীয়। এর জন্য পাঠকের কল্পনাশক্তিকে ভরসা করতে হয়, তার প্রতি সহযাত্রীসুলভ ব্যবহার করতে হয়। সব কিছু জোর করে গিলিয়ে দিতে নেই।
Mysterious and intriguing. Ending had a twist too but personally I think the ending could be more specific like what happened to the protagonist, what decision he made at last etc. Overall, not bad, liked it!
Second re read of the year. Thrilling collection of supernatural stories. Well researched with lots of historical facts mixed with the wild imagination of the author. Superb