“তারা-পরিচিতি" মহাকাশ-গ্রন্থমালার দ্বিতীয় গ্রন্থ। অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ গন্তীর ভিতরেই আমার বক্তব্য সীমিত রাখতে হয়েছে। তারামণ্ডল নিয়ে অনেক গল্পকাহিনী প্রচলিত আছে; সেই সমস্ত গল্পের দিক লক্ষ্য রেখেই আমরা বক্তব্য বলবার চেষ্টা করেছি। আকাশের তারা চেনানোই এ বই-এর প্রধান উদ্দেশ্য। সেই প্রসঙ্গে তারার উজ্জ্বলতা, দূরত্ব, বিশেষত্ব এবং স্থানাঙ্ক প্রভৃতি এসে পড়েছে। তারা চিনতে মণ্ডল চেনা দরকার, আর মণ্ডলের প্রচলিত ছবির কাঠামো থেকেই মণ্ডলের অবস্থানের একটা স্থূল ধারণা করা যেতে পারে। কোন তারাটি ছবির কোন অংশে অবস্থিত, এ বিষয়টা জানতে পারলে, মণ্ডল ও তারা চেনা সহজ হয়ে পড়ে। তারাসমূহের নামকরণও অনেক সময় ছবিতে তারার অবস্থান অনুযায়ী করা হয়ে থাকে। যেমন, দেনেব শব্দের অর্থ লেজ, অর্থাৎ পাখীর লেজের তারাটির নামকরণ করা হয়েছে দেনেব। এই তারাটি চিনতে পারলে, পাখীর লেজ চেনা যেতে পারে এবং সেখান থেকে সমস্ত মণ্ডলটির কল্পনা করা সহজ হয়ে পড়ে। যদিও মণ্ডলের নাম এবং তারার নাম, ছবি ও ছবিতে তারার অবস্থান অনুযায়ী করা হয়ে থাকে, কিন্তু প্ৰত্যেকটি মণ্ডলকে কতগুলি রেখা দিয়ে রেখাচিত্রেও চিত্রিত করা হয়। যেমন, সপ্তর্ষিমণ্ডলকে যদিও একটি বড় ভালুক রূপে কল্পনা করা হয়ে থাকে, তথাপি এই মণ্ডলটির প্রধান কয়েকটি তারা যোগ করে, আকাশে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন বা হাতাওয়ালা পেয়ালাররূপে চিত্রিত করা হয়। ক্যাসিওপিয়া মণ্ডলকে যদিও সিংহাসনে উপবিষ্টা ইথিওপিয়ার রানীরূপে কল্পনা করা হয়ে থাকে, তথাপি এ মণ্ডলটিরও প্রধান কয়েকটি তারা যোগ করে M বা W এর মত চিত্রে চিত্রিত করা হয়। স্বভাবত এই দুই ভিন্ন প্রকার চিত্র, একটি কল্পনার ছবি, আর একটি রেখাচিত্র। এদের মধ্যে সম্বন্ধ জানতে এবং তুলনা করতে আগ্রহ হয়। এই আগ্রহ মিটানাের উদ্দেশ্যে এ বইতে এই দুই প্রকার চিত্ৰই পাশাপাশি সন্নিবেশ করা হয়েছে। অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আগ্রহ তৃপ্তির এই চেষ্টাতে অবশ্য আমি অনেক জায়গায় সফল হতে পারি নি। কারণ, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাচীন ছবি পাওয়া যায় নি। তারামণ্ডলসমূহের প্রাচীন চিত্র সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। গ্ৰীক চারণ-কবিগণের কবিতাতে মণ্ডলসমূহের যে সমস্ত ছবির বর্ণনা দেওয়া আছে, আজকাল সেসমস্ত ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। আমেরিকার কর্তৃত্বে আজকাল সমাজ-জীবনের প্রতিটি স্তরে যেমন বিরাট পরিবর্তন দেখা যায়, তারামণ্ডলের ছবিতেও তার স্পষ্ট স্বাক্ষর পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ আকাশের সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল তারা লুব্ধক এবং ঐ তারা মণ্ডল মৃগব্যাধ মণ্ডলের উল্লেখ করা যেতে পারে। গ্ৰীক কবিতাতে বর্ণনা দেওয়া আছে, এখানে বড় একটি কুকুর (Canis Major) তার সামনের দুটাে পা উচু করে পিছনের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে, আর লুব্ধক সেই কুকুরের ডান দিকের মুখের তারা। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকার তারার ছবিতে এখানে চারপায়ে দাঁড়ায়ে একটি শান্তশিষ্ট কুকুর দেখানো হয়, আর লুব্ধককে দেখানাে হয় তার বুকের তারারূপে। তারামণ্ডলসমূহের প্রাচীন ছবি সংগ্ৰহ করবার অনেক চেষ্টা করেছি। সে চেষ্টা আমার বিশেষ সফল হয় নি। অবশ্য পরে অপ্রত্যাশিতভাবে এই প্রাচীন চিত্ৰসম্বলিত একখানা বই আমার হাতে এসে পড়ে। ঢাকার ভূতপূর্ব নর্মাল স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, আমার অগ্ৰজপ্রতিম জনাব মোজাহার আলী সাহেব, তাদের স্কুলের পরিত্যক্ত কতকগুলি বই-এর স্তুপের ভিতরে Astronomy-র একখানা বই দেখতে পান এবং আমি এ বিষয়ে আগ্রহী জেনে বইখানা তিনি আমাকে দেন। বইখানার নাম School Atlas of Astronomy, লেখক Alex Keith Johnston; প্রকাশকাল ১৮৫৬ খ্রীস্টােব্দ। এই বইখানাতে প্ৰত্যেকটি মণ্ডলের প্রাচীন ছবি দেওয়া আছে, কিন্তু রেখাচিত্র দেওয়া নেই। The subject of each illustration has been carefully studied and details have been Wrought Out at such an expense of time and labour as is seldom bestowed on an elementary book. 100 বছরেরও বেশী, তার উপরে অনেককাল অযত্নে রাখবার ফলে বইখানার অবস্থা এমন হয়েছে যে, তা থেকে সবগুলো ছবি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। শিল্পী হাশেম খান সাহেবকে ভার দিয়েছিলাম ঐ সমস্ত অস্পষ্ট ছবিগুলো উদ্ধার করতে। এজন্য তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, পারিশ্রমিকে তার শোধ হয় না। প্ৰত্যেকটি ছবি তাকে অনেকবার করে আঁকতে হয়েছে। প্ৰাচীন বিবরণের সঙ্গে মিলিয়ে প্রত্যেকটি ছবির একটা কল্পনা আমি তাকে দিয়েছিলাম, তা থেকেই। Johnston-এর বই-এর অস্পষ্ট ছবির কিছু সংখ্যক তিনি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। অনেকদিন অযত্নে ফেলে রাখার ফলে এ বই-এর ছবিগুলোর সমস্ত জায়গাতেই সাদা দাগে ভর্তি দেখা যায়। এতে কোনটি তারা আর কোনটি তারা নয়, বুঝতে পারা মুস্কিল। সে জন্য Callatay-এর Atlas of the Sky-এর সঙ্গে মিলিয়ে ছবির বিভিন্ন অংশের তারার অবস্থান আমাকে দেখিয়ে দিতে হয়েছে এবং শিল্পী হাশেম খান সেগুলো সম্পপূৰ্ণ করেছেন। এভাবে সবগুলো ছবি শেষ করতে প্ৰায় এক বছর সময় দরকার হয়েছে। হাশেম খান সাহেব আমার এ বই-এর জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তার জন্য তাঁকে আমার অশেষ ধন্যবাদ। অবশ্য এভাবেও সমস্ত মণ্ডলের প্রাচীন ছবি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। মৃগব্যাধ মণ্ডল, কপোত মণ্ডল ইত্যাদি কতগুলো মণ্ডলের ছবি আমেরিকা থেকে প্ৰকাশিত Stars নামের বইখানা থেকে নেয়া হয়েছে। তারামণ্ডলসমূহের রেখাচিত্র নিয়ে নানাপ্রকার মতভেদ দেখা যায়। বিভিন্ন প্রকার তারাচিত্রাবলীতে এই সমস্ত রেখাচিত্র বিভিন্ন। Calatay. Hart, Barton and Balton প্রত্যেকের বইতে এই রেখাচিত্র পৃথক। এদের একটার সঙ্গে অন্যটা যথেষ্ট গরমিল দেখতে পাওয়া যায়। আমার এ বইতে মাসিক তারাচিত্রে আমি Henry Hart-এর বই থেকে রেখাচিত্র নিয়েছি। পৃথক পৃথক মণ্ডলের রেখাচিত্র নিয়েছি। Calatay থেকে এবং আমাদের ছায়াপথের দুই WCés afficife Readers Digest-Ef crisis Great Atlas cers তারাচিত্রের দিকেরও পরিবর্তন করা হয়েছে। উত্তর আকাশের মণ্ডলসমূহের রেখাচিত্রের উপরের দিকে উত্তর এবং বাম দিকে পূর্ব দেখানাে হয়েছে। দক্ষিণ আকাশের মণ্ডলসমূহের রেখাচিত্রের উপরের দিকে দক্ষিণ এবং ডান দিকে পূর্ব দেখানাে হয়েছে। এতে দুই দিকের তারাচিত্রের সাথে আকাশের তারার তুলনা করা একই প্রকার সুবিধ...
আমাদের বাংলায় অ্যাস্ট্রোনমির বেসিক নিয়ে লেখা রিসোর্স এত কম যে কিছু বলার নাই। সেই ক্ষেত্রে এই বইটা তারা আর আকাশ সম্পর্কে জানার জন্য একটা শুরুর দরজা। CONSTELLATIONS and Skymap নিয়ে শুরু থেকেই সুন্দর করে লেখা হইছে। রাশি নিয়েও কথা আছে। শুধু থিওরি না দিয়ে তারার ম্যাগনিটিঊড বেইসদ ম্যাথ দিলে ভাল হইত। কারণ এই নিয়ে আগে বা পরে কিছু ছিল না।আর একটা সমস্যা হল, স্যার ইন্টারন্যাশনাল নাম এর ক্ষেত্রে বাংলা নাম উসে করেসেন। যেমন; URSA MAJOR-----সপ্তরশি মণ্ডল SIRIUS---------লুব্ধক আরও দুর্বোধ্য কিছু নাম আসে।।কিন্তু দুরভাজ্ঞের বিষয় হল বই টা বেবশায় লাভ করতে না পারায় যতদূর সম্ভব এখন আউত অব প্রিন্ত।অনেক কষ্টেও যোগাড় করতে পারি নাই। তাই পিদিফ দিয়ে কাজ চালাতে হইসিল।
মাথা ভোঁ ভোঁ করছে এখনো। বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে লেখা এতো কম! যিনি আকাশ সম্পর্কে অনেক জানেন তার কাছে হয়তো বইটা বিশেষ কিছু লাগবে না। কিন্তু যার জন্য মাত্র জানা শুরু, তার কাছে এটা নিঃসন্দেহে চমৎকার একটা বই লাগবে। প্রচুর তথ্য ছিল! আমি এতো জানতাম না। হঠাৎ করে একসাথে বেশি জেনে ফেলায় মাথা ভোঁ ভোঁ করছে বলেছি, not in a negative sense actually...
তারা সম্পর্কে এর আগে বাংলা ভাষায় এর চেয়ে ভালো আর কোন বই লেখা হয়নি এখন পর্যন্ত। যারা তারা এবং তারা মণ্ডল সম্পর্কে বিস্তৃত ভাবে জানতে চান তাদের জন্য বইটি অবশ্যই পাঠ্য।