নদী থেকে রহস্যময় পুটুলি টেনে তুলল গাঁয়ের পুলিশম্যান হ্যারিসন ওয়াগনার ফগর্যাম্পারকট, ওরফে ঝামেলা। ওর ধারণা, এইবার সাংঘাতিক কিছু একটা পেয়ে গেছে।
কিন্তু পুটুলি খুলে হতবাক। দূর, কিছুই নেই, কতগুলো পুতুলের কাপড়-চোপড় কেবল! কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী তিন গোয়েন্দা ঠিকই একটা কেস পেয়ে গেছে। বিচিত্র এক রহস্যের তদন্তে তৎপর হয়ে উঠেছে ওরা।
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
তিন গোয়েন্দা থেকে তিন বন্ধুর শুরু হল। এটা ছিল আমার দোকান থেকে কেনা সরাসরি তিন বন্ধু সিরিজের প্রথম বই। খুব ভালো লেগেছিল তা না। তবে খারাপ লাগে নি। আসলে তিন বন্ধু কখনোই তেমন ভালো লাগে নি। বেশি বাচ্চা বাচ্চা লাগতো সেই বাচ্চা কালেই। কিন্তু বইটার সাথে ছিল অনেক স্মৃতি। লুকিয়ে টাকা জমিয়ে কতো কিলোমিটার হেটে কিনেছিলাম। সেবার গতানুগতিক বই থেকে আলাদা। নতুন ধরনের মলাট। নতুন আবেগ। নতুন বইটার গন্ধটা যেন এখনো পাই। দামটা বেশি ছিল তখন। রেগুলার পেপার ব্যাক তখন বিশ থেকে তেইশ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত। এইটার দাম ছিল ত্রিশ টাকা মনে হয়। দুই বা এক টাকা কমানোর জন্য দোকানদারের সাথে অনেক দেনদরবার করে কিনেছিলাম। ভালো মনে নেই তবে বই কিনতে গিয়ে একটাকা দুইটাকার সব নোট উধাও হয়ে যায়। বাসায় ফিরেছিলাম প্রায় চার কিলোমিটার হেটে। হাতে ধরা এই বইটা। বারবার প্রচ্ছদের ছবিটা দেখছি। নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ নিচ্ছি। এখনও কোন বাচ্চা ছেলে এমন করে! জানি না। বইয়ের কাভার আর মলাটেও লেখা গুলো ছাড়াও যে কতো আবেগ আটকে থাকে তার ইয়াত্তা নেই।