ঢাকার পুরনো ইতিহাস গৌরবময়। এক হিসেবে জানা যায়, অষ্টাদশ শতকে পৃথিবীর সেরা শহরগুলোর একটি ছিল ঢাকা এবং সেরা শহরের ক্রমসংখ্যায় ঢাকার স্থান ছিল দ্বাদশতম। এই বইয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, অঞ্চল সম্পর্কে তথ্য জড়ো করা হয়েছে। সময়কাল মুঘল আমল থেকে উনবিংশ শতাব্দী। তবে বিংশ শতাব্দীরও কিছু প্রধান প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করা হয়েছে।
Muntassir Mamoon (Bangla: মুনতাসীর মামুন) is a Bangladeshi author, historian, scholar, translator and professor of University of Dhaka. He earned his M.A. and PhD degree from University of Dhaka. Literary works
Mamoon mainly worked on the historical city of Dhaka. He wrote several books about this city, took part in movements to protect Dhaka. Among his historical works on 1971 is his Sei Sob Pakistani, in which many interviews with leading Pakistanis was published. Most of them were the leading Pakistani characters during the liberation war of Bangladesh.
জন্ম এবং পরিবার মুনতাসীর মামুনের জন্ম ১৯৫১ সালের ২৪ মে ঢাকার ইসলামপুরে নানার বাড়িতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মিসবাহউদ্দিন এবং মায়ের নাম জাহানারা খান। পিতামাতার তিন পুত্রের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী ফাতেমা মামুন একজন ব্যাংকার। মুনতাসির মামুনের দুই ছেলে মিসবাহউদ্দিন মুনতাসীর ও নাবীল মুনতাসীর এবং কন্যা রয়া মুনতাসীর।
কর্মজীবন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই দৈনিক বাংলা/বিচিত্রায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন মুনতাসীর মামুন। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের অতীত ইতিহাস নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউটে' সন্মানিক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কৈশর থেকে লেখালেখির সাথে জড়িত হয়ে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানে বাংলা ভাষায় সেরা শিশু লেখক হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর অনুবাদ, চিত্র সমালোচনা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রচনা করেন অনেক বই। তাঁর লেখালেখি ও গবেষনার বিষয় উনিশ, বিশ ও একুশ শতকের পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ ও ঢাকা শহর।
সাংগঠনিক কর্মকান্ড স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ডাকসুর প্রথম নির্বাচনে মুনতাসীর মামুন ছিলেন সম্পাদক। একই সময়ে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি। ডাকসুর মুখপত্র "ছাত্রবার্তা" প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়। তিনি বাংলাদেশ লেখক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও যথাক্রমে প্রথম যুগ্ম আহ্ববায়ক ও যুগ্ম সম্পাদক। তিনি জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী এবং জাতীয় আর্কাইভসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ঢাকা নগর জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ঢাকার ইতিহাস চর্চার জ্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্টার ফর ঢাকা ষ্টাডিজ (ঢাকা চর্চা কেন্দ্র)। এ কেন্দ্র থেকে ঢাকা ওপর ধারাবাহিক ভাবে ১২টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বাংলা একাডেমীর একজন ফেলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হয়েছেন কয়েকবার। '৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা ও সক্রিয় সদস্য। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা মামুন প্রতিষ্ঠা করেছেন মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা মামুন ট্রাস্ট। এ ট্রাস্ট গরিব শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের নিয়মিত সাহায্য করছে।
সাহিত্য কর্ম মুনতাসীর মামুনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২২০+। গল্প, কিশোর সাহিত্য, প্রবন্ধ, গবেষনা, চিত্র সমালোচনা, অনুবাদ সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই মুনতাসীর মামুনের বিচরণ থাকলেও ইতিহাসই তার প্রধান কর্মক্ষেত্র। ।
পুরস্কার বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার, একুশে পদক, নূরুল কাদের ফাউন্ডেশন পুরস্কার, হাকিম হাবিবুর রহমান ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক পুরস্কার, ইতিহাস পরিষদ পুরস্কা, অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, অলক্ত স্বর্ণপদক পুরস্কার, ডঃ হিলালী স্বর্ণপদক, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৩), মার্কেন্টাইল ব্যাংক স্বর্ণপদক, এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিয়েন্স শহর তাঁকে 'অনারেবল ইন্টারন্যাশনাল অনারারী সিটিজেনশিপ' প্রদান করে।
সুরভী আন্টি সর্বনাশ করেছিল এই বই দিয়ে। আর সেই সর্বনাশের একশেষ হয়েছে বইয়ের ওপর লেখা সুমনের গানটা দিয়ে—
“এই শহর জানে আমার প্রথম সবকিছু পালাতে চাই যত—সে আসে আমার পিছুপিছু।”
সুতরাং যা হওয়ার তা-ই হল। আমি গানটা চক্রাকারে শুনতে শুনতে এই বই পড়া শুরু করলাম, এবং খানিক পরপর মাথা এলোমেলো করে ঘোরলাগা চোখে চারদিকে তাকাতে লাগলাম। শহরে রীতিমত আমার দুর্নাম হয়ে গেল—নোবেল আজকাল মানুষজনের সাথে কথা বলে না, দেখা করে না—কেবল ঢাউস আকৃতির একটা বইয়ে মুখ গুঁজে থাকে!
কয়েকটা ভিন্ন দিক থেকে আমি এই বই সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই। তবে তারও আগে উদ্ধৃত করতে চাই শ্রদ্ধেয় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত একটা লেখায় তিনি বলেছিলেন মুনতাসীর মামুন সম্পর্কে, “তথ্য তিনি সংগ্রহ করেন স্রেফ গবেষণার তাগাদায় নয়; বরং তাঁর তাগিদ হলো নিজেদের স্বরূপ অনুসন্ধান করা।” স্বরূপের এই অনুসন্ধান কেবল লেখক নিজেই করেননি, আমাদেরও আরেকবার উস্কে দিয়েছেন নিজেদের খুঁজে ফিরতে।
যাই হোক, প্রথমত এটা একটা রেফারেন্স বই। এবং সন্দেহাতীতভাবে একটা অসাধারণ রেফারেন্স বই। মুনতাসীর মামুন প্রায় নিখুঁতভাবে প্রতিটা তথ্যের সূত্র দিয়েছেন। যখন দুটো ভিন্ন রেফারেন্সের সংঘর্ষ ঘটেছে, তখন লেখক দুটোর তুলনা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন—কোনটা বেশি গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ কেবল তিনি যেটা বিশ্বাস করেন—চোখ বন্ধ করে সেটাই তুলে দেননি।
এজন্য তারে ধন্য ধন্য বলা যায় বটে।
দ্বিতীয়ত, রেফারেন্স বই হবার পরেও বইটা শুকনো পাতার মত খসখসে না, এর রসকস আছে অঢেল। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড আছে, জমিদারের বখে যাওয়া ছেলে আছে, আবার বিকেলবেলা নদীতীরে ঘুরে বেড়ানো ঢাকার সাধারণ মানুষের কথাও আছে। সুতরাং দু লাইন পড়তে তিনবার হাই তুলতে হয় না—বেশ আরামেই পড়ে ফেলা যায়।
তৃতীয়ত, পৃষ্ঠার ফাঁকে ফাঁকে আছে প্রচুর ফোটোগ্রাফ, ড্রয়িং, স্কেচ এবং ম্যাপ—যেগুলো বইটাকে আরও সার্থক করেছে। যেমন শাঁখারী বাজারের ঘরগুলোর বর্ণনা পড়ার পরেও আমাদের ‘কিছু একটা’ বাকি থেকে যায়—যেটা পূর্ণ হয় বাজারের স্কেচগুলো দেখার পর। ওদিকে ডয়লি সাহেবের অসাধারণ ড্রয়িং-এর কথা নাহয় বাদই দিলাম, ষাটের দশকের ঢাকার ম্যাপও কি কম আশ্চর্যের? আমার ধারণা ছিল বিশ বছর ধরে আমি একই বাসায় আছি—সুতরাং পুরো মেরে দিয়েছি, আমি নির্ঘাত এই এলাকার উল্লেখযোগ্য গুণ্ডা, আদি-অন্ত সব জানি, ইত্যাদি। ম্যাপে খুঁজে দেখি কীসের কী—উনিশশো ষাটে আমার বাসা তো বটেই—বাসার আশেপাশে হাজার গজ, যতদূর দেখা যায় কেবল ধানখেত, খাল, পুকুর!
আবছা আবছা মনে পড়ছে এখন। ছোটবেলায় আমাদের এলাকায় পুকুর-টুকুর দেখেছি বটে। ঢাকা শহরে তখন বেবি চলতো, বেশ শব্দ করে। বেবিতে যাবার সময় সেই ভটভটে শব্দ ছাপিয়ে পুকুরে ব্যাঙের ডাকও শুনেছি।
চতুর্থত…খুব খুব খুবই আশ্চর্যের যে, বইয়ের ৩২৪-টা ভুক্তির মাঝে চৌধুরী কাযেমুদ্দীন আছেন, হরিশ্চন্দ্র মিত্র আছেন—অথচ শায়েস্তা খাঁ নেই! বাংলার ইতিহাসে শায়েস্তা খাঁর ভূমিকা এত বেশি প্রকট যে, অন্যান্য ভুক্তিগুলোর মাঝেও বারবার এই ব্যক্তির প্রসঙ্গ আনতে হয়েছে। নিঃসন্দেহে আলাদা একটা ভুক্তি তাঁর প্রাপ্য ছিল। শায়েস্তা যদি এ আমলের মানুষ হতেন—তাহলে তাঁকে বইয়ে স্থান না দেয়ার পেছনে সাম্রাজ্যবাদের গন্ধ খুঁজে পাওয়া যেত, সব দোষ ক্যাপিটালিস্টদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে, বুর্জোয়াদের খানিকক্ষণ গালিগালাজ করে শান্ত হওয়া যেত। কিন্তু মানুষটা এত বেশি পুরনো যে, আর মুনতাসীর মামুন এত বেশি শ্রদ্ধেয় যে, বইতে শায়েস্তা খাঁয়ের নাম না আসার ব্যাপারটাকে একটা bloody mistake ছাড়া আর কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
পঞ্চমত, আমি জানি এ ধরনের বইয়ের প্রুফ দেখা যথেষ্ট কঠিন একটা কাজ—কিন্তু অবশ্যই অসম্ভব না। পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণেও ছাপাখানার ভূত থেকে যাবে—এটা মানতে আমি নারাজ। ভূত পোষার দায় আমি দিচ্ছি গাড়ল প্রকাশনীর অবহেলাকে। বইটা সম্ভবত প্রথমবার বাংলা একাডেমি (সে সময়ের ‘একাডেমী’ নির্ঘাত) থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। লেখক দেখলাম মুদ্রণ-প্রমাদের জন্য একাডেমির আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলেছেন। সবই বিশ্বাস্য, সবই বিশ্বাস্য!
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মন্তব্য দিয়েই শেষ করি। হাজার হোক তিনি আখতারুজ্জামান, কাজেই বহু বছর আগে বসে যে আমাদের চিন্তাগুলো পড়ে ফেলতে পারবেন—এ আর আশ্চর্যের কী। দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত একই লেখায় ইলিয়াস বলেছিলেন,
“অভিধান মানুষকে কোনো বিষয় বুঝতে একটু সাহায্য করে, কিন্তু মুনতাসীর মামুনের এই বইটি বিষয় সম্বন্ধে পাঠককে এতোটাই উস্কে দেয় যে শহরটিকে উন্মোচন করার জন্য সে নিজেই নতুন করে বেরোতে চায়। এই বইতে আমাদের চেনাজানা ঘটনাকে আমরা নতুন করে দেখি, উন্মোচিত দালান বা এলাকাটিতে একবার ঘুরে আসার জন্যে পাঠকের পা-জোড়া শিরশির করে ওঠে।”
পুরান ঢাকা যে কী মোহময় তা আমি এই বইটা পড়েই উপলব্ধি করেছি বলা চলে। এতবার ঢাকা আসা যাওয়া হয়, পুরান ঢাকায় যাওয়া হয়, অথচ আমার কখনো আর্মেনিয়ান চার্চ দেখা হয়নি। সত্যি বলতে পুরান ঢাকার কোন দ্রষ্টব্যই দেখা হয়নি। কিন্তু এই বইটি পড়ার পর ইচ্ছে করছে এখনি চলে যাই, দেখি ইতিহাসের নির্মাণ চোখের সামনে। বইটির মূল সার্থকতা আমার মনে হয়েছে এখানেই। আরো দুইটি খণ্ড আছে বইটির। সেগুলোও ধীরে ধীরে পড়া হবে। বইটিতে ঢাকাকে চেনার সুযোগ রয়েছে পুরোদমে, এছাড়াও রয়েছে অনেক তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে চেনার প্রয়াস। তাঁদের অনেকের নামই হয়তো আমরা জানি না এখন, জানি না কী করেছিলেন তাঁরা ঢাকার জন্য। আবার চেনা নামগুলোর মাহাত্ম্যও ঠিকঠাক জানা ছিল না। এখানে তাও আলোচিত হয়েছে। ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান অবস্থা জানারও একটা আগ্রহ তৈরি হয়, তাই গুগল সার্চ করে করে অনেক কিছু দেখতেও হয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। সব মিলিয়ে এই পাঠ একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। আর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ হবে পুরান ঢাকা এক্সপ্লোরের পর।
বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বইটি ছবি এবং তথ্যপঞ্জি মিলিয়ে ৩৫৬ পাতার।
ছবিগুলোর ব্যাপারে আরো যত্নবান হওয়া উচিৎ ছিল। Charles D'Oyly 'র (এবং অন্যান্য অনেক) ছবিগুলো সবই স্পষ্ট। হাজার বছরের ঢাকার চিত্রকলা ঢাকাই মসলিন বইয়ে যেসব আছে সেগুলো তো স্পষ্ট। অবশ্য এই কারণে পাঁচের কম দেয়া যায় না।
আমার জন্ম ঢাকা শহরে। আমার শৈশবের একটা বিরাট অংশ কেটেছে বক্শিবাজারে, আমার নানাবাড়িতে। নানার আবার এক মামার বাড়ি আছে ওয়ারিতে, ব্রিটিশ আমলের। সেই একটা বাড়ি। এখন অবশ্য সেই আগের জৌলস নেই। তবে এসব দেখে, অনুভব করেই আমার বড় হওয়া।
বড় হয়ে অর্জিত স্বাধীনতার একটা বড় অংশই আমি কাটিয়েছি পুরান ঢাকার অলি-গলি চষে বেরিয়ে।
ঢাকা তো খালি চোখে দেখে, স্পর্শ করেই অনুভব করা যাবে না। এর ইতিহাসও জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং নিক্তিতে নিরিখ করে দেখতে হবে। সেই তাগাদা থেকেই এই বইয়ে হাত দেয়া। এক বছরের বেশি সময় লাগিয়ে ধীরে সুস্থে এই বই শেষ করে একটা প্রশান্তির ঢেকুর তুললাম। তবে খাওয়া এখনও বাকি। আরও দু'টা খন্ড পড়তে হবে। তবে গিয়ে না শেষ!
বইটা ভাল তবে অনেক কিছুই মিসিং। লেখক বার বার নিজের সীমাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাই এ বিষয়ে আর জলঘোলা না করি। তবে লালবাগ কেল্লায় ১৮৫৭ আর ১৯৪৭ এর দুইটা ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ না থাকাটা মানতেই পারছি না। অন্য খন্ডগুলিতেও ব্যাপারটা আনা হয় নাই। সূচীপত্র ঘেটে দেখলাম। বইতে ১৪০০ বঙ্গাব্দে জনকণ্ঠের সঙ্কলিত ক্রোড়পত্রে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সমালোচনাতেও বিষয়টা তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত সংকলিত ক্রোড়পত্রটাও একটা ইতিহাসের খোরাক। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং উপযুক্ত সংকলন। এ ক্রোড়পত্র থেকেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এই ক্রোড়পত্রে উত্থাপিত অনেক অভিযোগই লেখক পরবর্তী সংস্করণে এবং নতুন খন্ডে দূরীভূত করেছেন।
আরেকটা বিষয়! এই বইয়ের আরেকটা সবচেয়ে বাজে দিক হল এর শব্দসূচী। এ ধরণের বইয়ে অসম্পূর্ণ শব্দসূচী একদমই কাম্য নয়।