Jump to ratings and reviews
Rate this book

দু ছক্কা পাঁচ

Rate this book

271 pages, Hardcover

First published January 1, 2015

7 people are currently reading
130 people want to read

About the author

Chandril Bhattacharya is a popular Bengali columnist, lyricist, poet, singer and director from Kolkata, West Bengal, India. He is the grandson of Bani Kumar (Baidyanath Bhattacharya).

Bhattacharya is one of the main lyricists of the Bengali band Chandrabindoo and also occasionally sings for them. His idiomatic lyrics are laced with satire and critique of modern society. Chandril, together with Anindya Chatterjee won the 2010 National Film Award for Best Lyrics for the song "Pherari Mon" in the film Antaheen (2009).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
18 (50%)
4 stars
13 (36%)
3 stars
3 (8%)
2 stars
0 (0%)
1 star
2 (5%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Arupratan.
235 reviews385 followers
October 21, 2022
চোন্দিল ভড়চাজের লেখাপত্তর সেই হাপ-প্যান্টুলুন বয়েস থেকেই আমার বেশ ভালো লাগে মাইরি। ভাষা নিয়ে ক্কি সুন্দর নিজস্ব একটা হুড়ুম দুড়ুম স্টাইল বার করেছে এই ম্যানটা। পোথোম যখন লেখালিখি শুরু করেছিলেন, তখন আমি কোয়াইট ইয়াং। লেখাগুলোর পোচুর ইনার মিনিং আউটার মিনিং আমার হেডের সাড়ে-বাইশ ইঞ্চি উপর দিয়ে বেরিয়ে যেতো। কিন্তু তবুও পড়তাম নিয়মিত। আশেপাশের সবাই তখন হাঁদাভোঁদা নন্টেফন্টে আর খুব বেশি হলে ফেলুদা শঙ্কু পড়তো। আমিও ওসব পড়তাম। চোন্দিলও পড়তাম। ল্যাটিন আমেরিকার হাপবয়েল গাঁজামার্কা উপন্যাসগুলোর সুনাম করলে ইদানিং যেমন, সবার মাঝে নিজেকে বেশ ইয়ে মনে হয়। আমাদের মফস্বল শহরে চোন্দিলের লেখার সুনাম করলে তখন সেইম ফিলিং হতো, চাদ্দিক কেমন "ওয়াও" লাগতো।
একজন গেল মাঠ
তার মাথায় আঁতেল ছাঁট
কুকুর মেকুর রামের ঢেঁকুর পেরোচ্ছে সম্রাট।

এগজ্যাক্টলি! এই গানটাও চোন্দিলের লেখা। সেই সময় সুমন, নচিকেতা, অঞ্জন, এই তিন মক্কেল আস্তে আস্তে রিটায়ার করে যাচ্ছে। "তোমাকে চাই" গাইতে গাইতে হাঁফিয়ে গেসলুম, তবু সে আমাকে চাইলো না। সে পোথোম পেম আমার নীলাঞ্জনাও ব্যাঙ্গালোরে চলে গ্যালো মাস্টার্স করতে। আর অঞ্জন তখনও দার্জিলিঙের পাবলিক টেলিফোন বুথ থেকে বেলা বোসকে ফোন ঘুরিয়ে চিল্লিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় বাংলা ব্যান্ড এসে মাইরি যে একটা হাল্লা মাচিয়ে দিলো রে! রাদ্দিন শুধু "তোমার দ্যাখা নাই রে" শুনে যাচ্ছি। আমি একা নই, পাড়ার ছেলে বুড়ো ঝিন্টির মা মন্টির পিসি বাপ খুড়ো ভাইপো ঝিন্টিদের পোষা ম্যাও সব্বাই এই গান শুনছে। এই ব্যান্ডগুলোর মধ্যে আমার সবচে বেশি ঝিনচ্যাক লাগতো চন্দোবিন্দুকে। উফ, কি সব লিরিক মাইরি। পুরো গরমভাতে মাখন।
চলে যাচ্ছে দিন, ঠিক পাঁচটা তিন, প্রায় অন্ধকার।
বাসস্টপে কেউ নেই কোথাও...

এই চন্দোবিন্দু ব্যান্ডের চোন্দিলই যে আসলে এই ফিচার টাইপের ফিচেল লেখাগুলো লিখছে, এটা যেদিন বুঝলুম, সেদিন পুরো ঘেঁটে ঘ হয়ে গেলুম। এই ছোকরা তো হেব্বি মাল্টি ট্যালেন্টেড! গান লেখে, সিনেমা বানায়, ঝাক্কাস পোবোন্ধো নামায়, আরো কতো কি (তখনও বক্তৃতাবাজি শুরু করেনি)। আমাদের কিশোরবেলায় আমরা যাদের পছন্দ করতাম, তাদের দাদা নামে ডাকা হতো। আরে কোথায় আমি গঙ্গারামপুরে লোডশেডিং ঘরে প্যাঁচার মতো মুখ করে বসে আছি, আর কোথায় চোন্দিল, বাংলা সমোস্কৃতির উঠতি উল্কা, তবু আমাদের সবার কাছে উনি "চোন্দিলদা" হয়ে গেলেন। যে বইটার রিভিউ লেখার ভান করছি এই মুহূর্তে, এই বইয়ের লেখাগুলো যখন বেরোচ্ছিলো, তখন আমি কিশোর ছেড়ে যুবক হবো হবো করছি। "রোববার" নামের একটা সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে এগুলো বেরোতো।
এই শালা গোটা সভ্যতাটা উন্নতির নাম করে স্রেফ আলসেমির দিকে ঢলছে! যত পারে শালারা মেশিন বানায়। মশলা বাটবে কে? মেশিন। মুসুম্বির রস বের করবে কে? মেশিন। জাঙিয়া কাচবে কে? মেশিন। খবর নেবে কে? টেলিফোন। ফাইল গুছিয়ে রাখবে কে? কম্পিউটার। টাকা গুনবে কে? এটিএম। মড়া পোড়াবে কে? ইলেকট্রিক চুল্লি। আর তুমি শালা ঈশ্বরের দেওয়া ননীর তনুখানি নিয়ে কী করবে? আধশোয়া হয়ে চিপস খাবে আর সিরিয়াল গিলবে।

যারা জীবনানন্দের পোয়েম লাইক করে তারা আমার এই কথাটা শুনলে হয়তো লুঙ্গি গুটিয়ে তেড়ে আসবে। চোন্দিল ভড়চাজের লেখার ভাঁজ খানিকটা ওই নির্জন কবির কবিতার মতোই। যদি ভালো লেগে যায় তো অ্যাক্কেরে পোথোম থেকেই ভালো লেগে যাবে। আর যদি না লাগে তাহলে হোল-লাইফ এই প্রশ্ন ঠুকরে যাবে : "পাখির নীড়ের মতোন চোখ... সেটা আবার কেমন জিনিস বে, পল্টু??" চোন্দিলদার গদ্যও সেই পাখির নীড়ের মতোন চোখ। সোজাসাপ্টা মিহি চিকন ভাষায় কথা লিখতে পারেন না ভদ্দোরলোক। উপরের যে এগজাম্পলটা দিলাম, ওটা অনেক "সহজ"। এর চেয়ে অনেক হোঁচটমার্কা গদ্য উনি লিখেছেন। তাঁর ওই ইচ্ছাকৃত জটিল প্যাঁচালো লেখার স্টাইল দেখে কেউ কেউ বলে "ও আমি গোড়াতেই বুঝে ফেলিচি, ব্যাটা শো-অফ করছে"। কেউ বলে "ব্যাটার বক্তব্যে বিশেষ সারমর্ম নেই তো, তাই এইসব পেঁয়াজি করে পাবলিককে চমকাচ্ছে"। কেউ কেউ টাক-ফাক চুলকে-টুলকে ভুরু-টুরু কুচকে-টুচকে জল-টল খেয়ে-টেয়ে ইয়াব্বড়ো হাই তুলতে তুলতে ঘোষণা করে দ্যায় : আব্বে ধুসসসস কিসুই বুঝলাম না ছাইপাশ কীসব লিকেচে মাঝরাত্তিরে আবার ক্ষিধে পেয়ে গ্যালো এই শুনছো মাধুরী ফ্রিজে কিছু আছে গো শুক্কুরবারের সেই পিজ্জার মাইক্রোস্কোপিক টুকরোটা? খেয়ে ফেলেচো? খেয়ে ফেলেচো?? খেয়ে ফেলেচো টুকরোটা???
(মনে মনে : শালার বেহদ্দ পেটুক!)
মেয়েদের ব্যাপারটা ঠিক জানি না, ছেলেদের অন্তত, হস্তমৈথুনের চেয়ে বড় বন্ধু এ পৃথিবীতে নেই। কেউ নেই, যে নিঃশর্ত আনন্দময় এক সম্ভাবনা নিয়ে সর্বক্ষণ সঙ্গে-সঙ্গে থাকে ও তুরীয় সুখ ডেলি প্রদান করে। সান্ত্বনা ও শুশ্রূষাও কিছু কম বিলোয় না। মা-বাবার চেয়ে অনেক নিশ্চিত আশ্রয় সন্তান নিজশিশ্নের কাছে পায়। যদিও, মা-বাপ তাকে ডেকে প্রবল কড়কাবার পর এবং "এসব করলে তুমি উইক হয়ে পড়বে, কোনো কাজ করতে পারবে না, ডাক্তারকাকুও বাঁচাতে পারবে না", কিংবা "নোংরাস্য নোংরারাই এইসব করে ছি ছি ছি আমাদের ছেলে হয়ে তুমি ছিঃ চ্ছি ছিইইহ" ধমকি শোনার পর সে প্রতিজ্ঞা করে "আর নয় জীবনে নয় কক্ষনো এই পাপ নেহি!!"

তারপর? সে এই প্রতিজ্ঞা পালন করতে পারে? ভড়চাজের এই লেখাগুলোর দুটো কমন বৈশিষ্ট্য আছে। পয়লা বৈশিষ্ট্য— সমাজ এবং সমাজের সবচে ওঁচাটে জন্তু মানুষের জীবন আর মনের অন্দর এবং বাহিরের যত গুপ্ত, গোপন, গুহ্য, লজ্জাজনক, ঘৃন্য, লুক্কায়িত (কি সোন্দর সোন্দর শব্দ ইউজ করছি মাইরি), সেন্সর্ড, পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট, সোশ্যালি আনঅ্যাকসেপ্টেবল, মরালি করাপ্টেড, করালি মরাপ্টেড— ইত্যাদি যতরকম স্বভাব-চরিত্তির আছে, সেগুলোকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের পিটিয়ে তুলোধোনা করেছেন। দুসরা বৈশিষ্ট্য— কাজটা করেছেন খুব ফাজলামির ভঙ্গিতে। প্রথমে মনে হয় শুধুই ইয়ার্কি মারছেন। কথার মারপ্যাঁচ করছেন। শব্দ নিয়ে গদ্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। কিংবা সেরেফ আঁতেলগিরি মারাচ্ছেন প্রদর্শন করছেন। কিন্তু আদপে যেটা করেছেন সেটা হলো, একজন চিন্তাশীল মানুষের মনের ভেতরে ক্ষোভের যে বিবিধ স্রোত বইতে থাকে রাত্রিদিন, সেগুলোকে টেনে বাইরে বের করেছেন। তারপর ছুঁড়ে দিয়েছেন পাঠকের চকচকে শ্রীবদন লক্ষ্য করে। হিমশীতল মৃত্যুচেতনা যেমন জীবনানন্দের কবিতাকে আরো বেশি জীবনমুখী করেছে, ভড়চাজের এই উচ্চন্ড ফাজলামি এবং গদ্যের চালবাজি আসলে তাঁর ক্রোধকে আরো বেশি তীক্ষ্ণ করেছে। এতোটাই তীক্ষ্ণ, ঝাঁঝালো এবং অবৈকল্পিক যে, লেখাগুলো একটানা পরপর পড়া যায়না। আমাকে প্রায় মাসখানেক ধরে পড়তে হলো এই বইটা। সবকটা লেখার মান যদিও সমান নয় মোটেই। কিছু লেখা ঝুলে গেছে। কিছু লেখার কাছা খুলে গেছে। বোলতার কামড় খেয়ে কিছু লেখার গাল ফুলে গেছে। কিন্তু তবুও, বাবা লোকনাথের দিব্যি, লেখাগুলো আমার শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সত্তার কান মুলে গেছে!
পড়লে বগা ফান্দে
হাত-পা ছুঁড়ে কান্দে,
আরে বৌ চাই, মৌ চাই,
ম্যাও চাই, ঘৌ চাই,
খ্যামটায় ঘোমটায়,
ঝিংচ্যাক ছৌ চাই,
Sunday হো ইয়া Monday!

কিনছে পালং শাক
তাতে মাছের মাথা ঢাক,
আরে ঢাকঢাক, গুড়গুড়
তিন তাল, সাত সুর
Love scene, obscene
দিনকাল কদ্দুর
আয়নায় ঠকঠক
খুললেই রোদ্দুর
গোবরজলে ধুই!

একের পিঠে দুই
কাঁদিস কেন তুই?
অরুণ বরুণ কিরণমালা
চৌকি চেপে শুই।

এসো চৌকি চেপে শুই!
এসো চৌকি চেপে শুই?

আসুন, চৌকি চেপে ধপাস করে শুয়ে পড়া যাক! রিভিউ লিখে হাঁফিয়ে গেছি।
Profile Image for Samanwoy Pal.
97 reviews7 followers
December 15, 2020
🗞️ এই বইটি পড়ার আগে অবধি চন্দ্রিল সম্বন্ধে আমার ধারণা ছিল, এই লোকটাকে চন্দ্রবিন্দুর সিডির কভারে দেখেছি, পরে যদিও জেনেছি সে গান বাঁধে। হালে এবিপি আনন্দ দেখে বুঝলাম, লোকটা বেড়ে কথাও বলতে পারে, অর্থাৎ যথাযথ যুক্তি দিয়ে অত্যন্ত নিন্দনীয়, কিংবা নিষ্ঠুর ঘটনাকে পরিবেশন করে হাস্যস্পদ ভঙ্গিতে। কিন্তু, আশ্চর্য এইখানে তাতে ঘটনার গরিমা এতটুকু কম হয় না।
.
.
🗞️ তাহলে প্রশ্ন, বইটি পড়ার পর কি ধারণা হল ? সেইটে বলার জন্যেই এই গল্প ফেঁদে বসার ছুতো। ' ছোটগল্প ' আবিষ্কারের মতো মহৎকাজ না হলেও। এই ভাবে ঘষটা খাওয়া , বাসে ঘামে চ্যাপচ্যাপে জামা পরে কোনমতে একটা পা রেখে ঝুলে ঝুলে যাওয়া জীবনের কথা, কিংবা ময়দানেতে সন্ধ্যে নামলে, প্রেমিকার কাঁধ থেকে তার বুকের ডানদিকে হাতের অবগমনের পুলকের কথা এত সাবলীলভাবে কেউ বলেছেন কিনা সন্দেহ।
.
.
🗞️ বইটির আগাগোড়া ডার্ক হিউমার অথবা বলা যায়, পেসিমিজমের কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু চূড়ান্ত কষ্টের, দুঃখময়, হেরে যাওয়া জীবনে আবার দুঃখ কেন টেনে আনব ? তার কারণ বাঙালির বিষাদতৃষ্ণা। বইটির ছত্রে ছত্রে রয়েছে বাঙালির হিপোক্রেসির পাঁচালী - তাতে সমকাম থেকে অতিবাম কিংবা রবীন্দ্রনাথ থেকে সুভাষ বোস অব্দি কেউ বাদ যায় নি। বইটি কয়েক হাজার ( আসলে ৪১ টি হলেও আমার তাই মনে হয়েছে) অসাধারণ মজাদার গল্পের সংকলন। যা না পড়লে পিছিয়ে পড়বেন কি না জানি না, তবে পড়লে নিশ্চয় একটু ধাক্কা খাবেন।
.
.
🗞️ বইটির অনেক গল্পই আমার মনে ধরেছে, অন্তত আপাত আঁতেল লোকেদের কেউ অর্ধ উলঙ্গ করে রাস্তায় প্যারেড করালে কার না ভালো লাগে। তবু যে গল্পটির কথা না বললেই নয় সেটি 'ম-বা-মা' অর্থাৎ মধ্যবিত্ত বাবা মা। এতটা সঠিক কিভাবে লোকটি বলতে পারলেন তা বোঝার অসাধ্য। একটি লাইনে তিনি বাবা মাকে বর্ণনা করেছেন এইভাবে : ' ভয়ানক মিথ্যুক, চূড়ান্ত নীতিহীন, সাংঘাতিক ফেরেব্বাজ ' - শ্লেষক হলেও কথাগুলি সত্যি।
.
.
🗞️ সংবাদ প্রতিদিন - এর রবিবারের ক্রোড়পত্র ' রবিবার ' - এ ' দু ছক্কা পাঁচ ' প্রকাশিত হয় ২০১০ থেকে। ড্রপ খাওয়া বলের মত ভাবনাগুলো অনুসরণ করে প্যাচোয়া গলি উপগলি পেরিয়ে কোন রাজপথে বা আঘাটায় পৌঁছানো যায়, কিংবা একটু পরে বোঝা যায়, যাঃ ফের এসে পড়েছি আমড়াতলার মোড়ে - সেটাই দেখার চেষ্টা হয়েছিল। এই বইটিতে ফ্যামিলির ছুঁচোলো থলথলে স্নিগ্ধ ফেকুড়ে সকলেই হাজির, এমনকি গ্রুপফোটো তোলার সময় যে বাথরুমে গেছে সে অবধি হেঁড়ে গলায় গান গাইছে, যাতে এক-আধটা কোটেশান ধড়ফড়ে মথের মতো ব্যাকগ্রাউন্ডে চিপকে যায়।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.