অলৌকিক কিংবা অপার্থিব; রাতের আঁধারে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো আর্তনাদ। অবুঝ, ভয়ার্ত কান্না এবং নির্জনে বাড়তে থাকা আতঙ্ক। গা কাঁপানো নীরবতার মাঝেই হাহাকার যেন আরও জোরে গড়িয়ে আসে। ঠিক তখনই পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত্যুছায়ার ভারি নিশ্বাস পাওয়া যায়। প্রতিটি মুহূর্ত যেন বিষাদকার আঁধারের স্পর্শে রক্তিম হয়ে ওঠে। অসংখ্য পাঠকের মনে আতঙ্কের দাগ যেমন রেখে গিয়েছে কৌশিক মজুমদার-এর মৃত্যুস্বপ্ন: তেমনই নতুন করে দাগ কাটতে এসেছে, মৃত্যছায়া।
জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯৮১, কলকাতা। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পি. এইচ. ডি. তে সেরা ছাত্রের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত। নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া Bacillus sp. KM5 এর আবিষ্কারক। বর্তমানে ধান্য গবেষণা কেন্দ্র, চুঁচুড়ায় বৈজ্ঞানিক পদে কর্মরত এবং হাবড়া মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। জার্মানী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গবেষণাগ্রন্থ Discovering Friendly Bacteria: A Quest (২০১২)। তাঁর কমিকস ইতিবৃত্ত (২০১৫), হোমসনামা' (২০১৮),মগজাস্ত্র (২০১৮), জেমস বন্ড জমজমাট (২০১৯), তোপসের নোটবুক (২০১৯), কুড়িয়ে বাড়িয়ে (২০১৯),নোলা (২০২০), সূর্যতামসী (২০২০), আঁধার আখ্যান (২০২০) ও নীবারসপ্তক (২০২১) এই সব দিনরাত্রি (২০২২), ধন্য কলকেতা সহর (২০২২), আবার আঁধার (২০২২), অগ্নিনিরয় (২০২২), হারানো দিনের গল্প (২০২৪), সিংহদমন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪), আরও একটি প্রবন্ধ সংকলন (২০২৫), আতঙ্ক সমগ্র (২০২৫), তিমিরহনন (২০২৬) সুধীজনের প্রশংসাধন্য। সরাসরি জার্মান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঝাঁকড়া চুলো পিটার (২০২১)। বাংলাদেশের আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে ম্যাসন সিরিজের বাংলাদেশ সংস্করণ (২০২২, ২৩), মৃত্যুস্বপ্ন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪) । সম্পাদিত গ্রন্থ সিদ্ধার্থ ঘোষ প্রবন্ধ সংগ্রহ (২০১৭, ২০১৮) ফুড কাহিনি (২০১৯), কলকাতার রাত্রি রহস্য (২০২০) সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে একাই একশো (২০২২), কলিকাতার ইতিবৃত্ত(২০২৩), বিদেশিদের চোখে বাংলা (২০২৪) এবং কলিকাতার নুকোচুরি (২০২৫)
গল্পগুলো যতটা ভয়ের, তারচেয়ে বেশি অস্বস্তির। এই ধরণের গল্প গুছিয়ে লেখা এবং মোক্ষম সময়ে সমাপ্ত করা বেশ কঠিন, কিন্তু লেখক সেটা ভালভাবে পেরেছেন। হরর একেবারেই আমার সাথে যায় না, তা-ও সাড়ে তিন। হররের ভক্তরা হয়তো চার বা সাড়ে চার দেবেন।