চেক্ জনগণের মহান সন্তান জুলিয়াস ফুচিকের পরিচয় নতুন করে দেবার মত কিছু নেই। চল্লিশের দশকের গোড়ায় নাৎসী কারাগার থেকে তিনি যে-মহান রচনা 'নোটস্ ফ্রম্ দি গ্যালোস্' লিখেছিলেন পরবর্তীকালে তা'কেই বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে এক মহান সাহিত্য-দলিল হিসাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন শ্রীযুক্ত অশোক গুহ, 'ফাঁসির মঞ্চ থেকে' এই শিরোনামে। কিন্তু বাংলা অনুবাদ-সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়া এবং একাধিকবার তা' পুনর্মূ'দ্রিত হওয়া সত্ত্বেও, ফুচিকের আর অন্য কোন লেখা বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়নি। এই অভাবটুকু থেকেই গিয়েছিল। চেক্ জনগণের মহান সন্তান, ফুচিকের বিপ্লবী সংগ্রামী জীবনের পাশাপাশি সমান্তরালে অবস্থিত ছিল তাঁর সাহিত্য-জীবন। তাঁর রচনাবলী চেক্ সাহিত্যের এক মূল্যবান সম্পদ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেই সম্পদের কয়েকটি টুকরোকে এই অনুবাদ-সংকলনে সাজিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র, যা'তে বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে ফুচিকের সাহিত্যকর্মকে কিছুটা সংযোজিত মাত্রায় পৌঁছে দেওয়া যায়। রচনাগুলোর সবক'টিই সংকলিত হয়েছে, ১৯৫৩ সালে চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রকাশন-সংস্থা 'আতিয়া' কর্তৃক প্রাগ থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ 'পিপল্ বি অন ইওর গার্ড!' নামের ইংরাজী গ্রন্থটি থেকে। ঐ গ্রন্থে সংকলিত রচনাগুলি মূলতঃ সংগৃহীত হয়েছিল 'ভোর্বা', 'রুদে প্রাভো', 'স্তেভ' প্রেস্' ইত্যাদিতে প্রকাশিত ফুচিকের লেখাগুলোর মধ্য থেকে। ফুচিক ওগুলি লিখেছিলেন ১৯৩৩ সালের অক্টোবর এবং ১৯৩৮ সালের এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে। ব্যতিক্রম হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে 'ইয়াউ-ডি-কোলনের বোতল' শীর্ষক রচনাটি, যেটি সংগৃহীত হয়েছে 'দি কান্ট হোয়্যার টুমরো ইজ ইয়েস্টারডে' নামের গ্রন্থ থেকে এবং 'ডক্টর গোয়েবলস্-এর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি' শীর্ষক রচনাটি, যেটি ১৯৪০ সালের শরৎকালে প্রকাশিত ফুচিকের একটি বেআইনী পৃত্তিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ এই সংকলনের অন্তর্গত অন্যতম রচনা, 'চিল্ড, হ্যারলস্ পিলগ্রিমেজ-এর মুখবন্ধে বায়রণ' শীর্ষক রচনাটিকে ফুচিক লিখেছিলেন, কারেল ভোজান, ছদ্মনামে। সংকলিত রচনাগুলির সবক'টিই মূল চেক্ থেকে ইংরাজীতে অনুবাদ করেছিলেন এককভাবে ডি. এম. রুসব্রিঙ্গ অথবা এইচ. কাকজেরোন্ডা। উল্লিখিত গ্রন্থের অন্তর্গত রচনাগুলির মধ্য থেকে এই সংকলনের জন্য কয়েকটি মাত্র রচনাকে বাছাই করার ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন অংশে সংগ্রথিত করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দ্বারা চালিত হয়েছি। সংকলনের আয়তনকে সীমাবদ্ধ করার প্রয়োজন থেকেই মাত্র চোদ্দটি রচনাকে এই সংকলনে স্থান দিতে পেরেছি। রচনাগুলিকে তিনটি পৃথক অংশে বিন্যস্ত বরার ক্ষেত্রেও নিন্দস্ব মতামতকেই গুরুত্ব দিয়েছি। কালানুক্রমিকভাবে রচনাগুলিকে বিশ্বস্ত করার পরিবর্তে, রচনা-গুলির বস্তুগত উপাদান অনুসারেই মূলতঃ সেগুলিকে তিনটি পৃথক অংশে সন্নিবিষ্ট করেছি। অনুবাদের ক্ষেত্রে রচনাগুলিকে মূল ইংরাজীতে যেভাবে পেয়েছি যথাসম্ভব সেই মৌলিকত্ব বজায় রাখারই চেষ্টা করেছি। রচনাশৈলীর সঙ্গতি ও অনুবাদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার প্রয়োজনেই ক্ষেত্রবিশেষে শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাসে অল্পস্বল্প পরিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিবর্জন করেছি এবং তা' কিছুটা নিরুপায় হয়েই করতে হয়েছে। ফুচিকের জীবন ছিল আপোষহীন সংগ্রামীর জীবন। শোষণ-নিপীড়ন-পরাধীনতা-দাসত্বের শৃঙ্খলমুক্ত এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন ফুচিক। কমিউনিষ্ট মতাদর্শ, মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের প্রতি তাঁর ছিল প্রগাঢ় শ্রদ্ধা; সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের প্রতি তাঁর ছিল অনন্ত আস্থা; ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সমস্ত প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও প্রগতির স্বপক্ষে তিনি ছিলেন অক্লান্ত যোদ্ধা। সর্বগ্রাসী অন্ধকারের মধ্যেও ফুচিক যাপন করে গেছেন এক রৌদ্রময় জীবন। তাঁর রচনাগুলোর গভীরে সেই স্বপ্নময় পৃথিবী ও রৌদ্রময় জীবনই যেন বাণীবদ্ধ হয়ে আছে। একথা মনে রেখেই এই সংকলন গ্রন্থটির নামকরণ করেছি। সবশেষে যাঁদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা ছাড়া এই অনুবাদ ও সংকলন কর্ম সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, সেই বন্ধুবর শ্রীমানিক চক্রবর্তী ও 'নয়া প্রকাশ' সংস্থার শ্রীরঞ্জিত ঘোষকে জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। — সমীর গঙ্গোপাধ্যায়
Czechoslovak journalist, critc, writer, an active member of Communist Party of Czechoslovakia, and part of the forefront of the anti-Nazi resistance. He was imprisoned, tortured, and executed by the Nazis.
Fučík was detained in Pankrác Prison in Prague, where he was also interrogated and tortured. In this time arose Fučík's Notes from the Gallows (Czech: Reportáž psaná na oprátce, literally Reports Written Under the Noose), which was written on pieces of cigarette paper and smuggled out by sympathetic prison wardens named Kolínský and Hora. The book describes events in the prison since Fučík's arrest and is filled with hope for a better, Communist future. The book was published in a more "acceptable" version, from which the less pleasant passages, which did not quite fit into everyone's picture of heroic resistance fighters, had been stricken. After his death those letters were treated as great literary works itself. The notes translated in many languages all over the world.
In May 1943 Fučík was brought to Germany. He was first detained in Bautzen for somewhat more than two months, and afterwards in Berlin. On 25 August 1943 in Berlin, he was accused of high treason in connection with his political activities by the Volksgerichtshof, which was presided over by the notorious Roland Freisler. Fučík was found guilty and was sentenced to death along with Jaroslav Klecan, who had been arrested with Fučík. Fučík was hanged two weeks later on 8 September 1943 in Plötzensee Prison in Berlin (not beheaded as is often stated).
After the war, his wife, Gusta Fučíková, who had also been in a Nazi concentration camp, researched and retrieved all of his prison writings. She edited them with help of CPC and published them as Notes from the Gallows in 1947. The book was successful, and its influence increased after the Stalinist takeover of Czechoslovakia in 1948. It has been translated into at least 90 languages. He also left an unfinished autobiographical novel named Pokolení před Petrem.