একটি চিঠি আবার খুলে দেয় সেই পুরোনো কেস। বদ্ধঘরের রহস্য, ভুলে যাওয়া স্মৃতি, আর মানুষের অপরাধবোধ। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়— শুধু খুনের গল্প নয়, এটা ‘হামারটিয়া’র আখ্যানও হতে পারে।
"নৈশ অপেরা" পড়ার পর শাক্যজিতের নতুন গোয়েন্দা উপন্যাস নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আবার সেই বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া খুন, আবার নানারকম জল্পনার সমাহার। "কী যে হবে এবার!" এমন একটা ভয় কাজ করছিলো।
দেখা গেলো, লেখক একটিও বাজে শব্দ খরচ করেননি এবার। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখেছেন। শেষের টুইস্ট "শেষ মৃত পাখি"র মতো মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো না হলেও বেশ কার্যকরী আর মানানসই। বড় কথা,"বদ্ধ ঘর হত্যা রহস্য" মানেই একগাদা "যদি কিন্তু অথবা"র সমাহার, যা পড়তে গেলে আমার মেজাজ বিগড়ে যায়। এ ব্যাপারটিতেও শাক্যজিৎ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।পুরো গল্পকে দার্শনিক ভিত্তি দিয়েছে গোয়েন্দাদের নৈতিকতা। অপরাধীর শাস্তি পাওয়া মুখ্য নাকি সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা মুখ্য তা নিয়ে চরিত্রদের নৈতিক দ্বন্দ্ব গল্পটিকে মাহাত্ম্য দান করেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ডিডি হোমিসাইডের অবসরপ্রাপ্ত ইনস্পেকটর জাভেদ আহমেদের ঠিকানায় একটা চিঠি আসে। চিঠিটা পড়ে তিনি চলে যান ২৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা কেসে। সেটা ছিল মালিনী অধিকারীর খুনের কেস। সেই সময় এটাকে লকড রুম মার্ডার হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কারণ ঘরের দরজা ছিল বাইরে থেকে আটকানো, ঘরের ভেতর ছিল মালিনীর লাশ আর যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হয়, তখন সেই লাশের পাশে পাওয়া যায় তার প্রেমিক অনিরুদ্ধকে। মালিনীকে যেই ছুরি দিয়ে খুন করা হয়, সেই ছুরিতে পাওয়া যায় অনিরুদ্ধেরই হাতের ছাপ।
যেহেতু খুনি রুমের মধ্যেই ছিল, তাই পুলিশও এটা নিয়ে খুব বেশি একটা তদন্ত করেনি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় অনিরুদ্ধকে। ২৫ বছর জেল খাটার পর সে চিঠি লেখে জাভেদকে। সেখানে সে বলে সে আসলে নির্দোষ ছিল৷ সেই চিঠি জাভেদ দেখায় আরেক অবসরপ্রাপ্ত ইনস্পেকটর ইম্যানুয়েল গুহকে।
সেই সময় অদেখা কিছু ক্ল্যু আবারো তাদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নতুন করে আনঅফিশিয়ালি কেসটা রি-ওপেন করা হয়৷ সব সম্ভাব্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে আবার একেক করে দেখা করা হয়। পুরোনো কাসুন্দি কেচে কী বের হবে এবার? . . বইটা পড়া শেষে গুগল করে দেখলাম হামারটিয়া (Hamartia) হলো মূলত একটি ধ্রুপদী গ্রিক সাহিত্যিক শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ "লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া" বা "ভুল করা"। বই পড়া শেষে আসলে এইটাই মনে হচ্ছে। পুরো বই জুড়ে দুইজনকে সন্দেহ করছিলাম কিন্তু লাস্টে এসে এমন টুইস্ট! মাথাটা ঘুরে গেল একেবারে! একদম আনএক্সপেক্টেড টুইস্ট! পুরোই মেইন কালপ্রিট থেকে Hamartied (এটা আদৌ কোনো শব্দ? :3) হয়ে গেলাম! xD
শাক্যজিতের লেখা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই জনরাটা উনি আসলেই খুব ভালো লিখেন। একদম মাপা মাপা সব টুইস্ট আর টার্ন। মানে ঘুমে চোখ খুলে রাখাই যাচ্ছে না, এরপরেও আমি একদম একটানা এটা পড়ে শেষ করলাম এত বেশি ইন্টারেস্টিং!!!
বইয়ের নাম হিসেবে 'হামারটিয়া' আমার কাছে যথেষ্ট আনইউজ্যুয়াল বলে মনে হয়েছে। চাইলে হাতের কাছে থাকা গুগলে সার্চ করে বা চ্যাটজিপিটিকে এক লাইনের একটা নিরীহ প্রশ্ন করে জেনে নেয়া যেত এ নামের মাহাত্ম্য কী। তবে আমার কেন যেন মনে হচ্ছিলো নামটার অর্থ আমাকে এমন একটা ইঙ্গিত দেবে যেটা আমার 'কিছু-না-জেনে-বই-ধরা' পড়ার সিস্টেমে একটা 'বাগ' হয়ে দাঁড়াবে। তাই গুগল ফুগল বাদ দিয়ে ছুটির শুরুতে বসে গেলাম শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের নয়া বইটা নিয়ে। তবে মাথায় রাখলাম, বই শেষ করে এ নিয়ে ঘাটতে হবে।
শাক্যজিৎ এর একটা সিগনেচার রয়েছে। উনি বর্তমানে থেকে অতীত ঘেঁটে বেড়ান। এ বইটাও ব্যতিক্রম নয়। ১৯৯৮ সালে ভবানীপুরের একটা বাড়িতে খুন হন বাড়ির মালিকের কন্যা মালিনী অধিকারী। ৩৬ বছরে আটকে যাওয়ার মালিনী বিবাহিত ও এক সন্তানের জননী। কিন্তু তা সত্ত্বেও গলায় ছুরির ক্ষত নিয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন একটা বদ্ধ ঘর থেকে যেখানে তার সাথে তার বয়ফ্রেন্ডও ছিল। বদ্ধ ঘর, পাশে অবৈধ প্রেমিকা তাও আবার মৃত, মার্ডার ওয়েপনে হাতের ছাপ; এ সব মিলিয়ে অনিরুদ্ধ সান্যালকে অপরাধী দেখিয়ে চার্জশীট জমা দিতে খুব একটা ঝামেলা হয়নি লালবাজারের ডিডির ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাভেদ আহমেদের। অনিরুদ্ধ যে 'আমি খুন করিনি' ব্যাপারটা জোরালো গলায় বলেছেন, এমনটা না। তার মতে তিনি খুন করেছেন কি না সেটা উনি জানেন না। নেশা, ক্লান্তি, স্ট্রেস সব মিলিয়ে খুনটা যে উনি করলেও করতে পারেন, তা অনিরুদ্ধ নিজেই জানিয়েছেন। সে হিসেবে এটাকে ওপেন অ্যান্ড শাট কেস বলা গেলেও জাভেদ আহমেদের মনে একটা খটকা ছিলো। সে খটকার নৌকার পালে বাতাস লাগার কাজটা ঘটলো খুনের ঘটনার ২৫ বছর পরে যখন জাভেদ আহমেদের কাছে একটা চিঠি আসলো। চিঠি পড়ে তার মনে প্রশ্ন জাগল, তবে কি ভুল করেছেন? যদি করেও থাকেন, জীবন সায়াহ্নে এসে দুই যুগ আগের ঘটনার পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করা কি তার দ্বারা সম্ভব হবে? ৬ মাস নিজের মধ্যে চেপে রেখে শেষমেষ আর না পেরে জাভেদ স্মরণাপন্ন হলেন লালবাজারের আরেক পোড় খাওয়া অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ ইম্যানুয়েল গুহের। অবসরপ্রাপ্ত এককালের তুখোড় গোয়েন্দা যুগল কি পারবে সেপিয়া টোনের কলকাতার ইট-কাঠের মুখ খুলিয়ে ২৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া লকড-রুম-মিস্ট্রি ঘটনার সত্যতা বার করতে? মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি, 'ন্যায়' প্রতিষ্ঠা করতে?
কি, স্পয়লার দিয়ে দিলাম? একদমই না। লেখকের এ বইটার সাইজ মাত্র ১৬৪ পৃষ্ঠা, কিন্তু কিছু কিছু বই যে পৃষ্ঠার বিচারের চাইতে সাইজে বড় হয় অন্য কারণে তার অন্যতম উদাহরণ এ বইটা। একে তো বইয়ে মাথা খাটানোর অনেক জায়গা রয়েছে, তারওপর এমন কিছু দৃশ্যপট আছে, ডায়ালগ আছে, যেটা পড়ার মাঝখানে ধপাস করে বই বন্ধ করে নিজে নিজে চিন্তা করার অবকাশ দেবে৷ অর্থাৎ কারো যদি ১৬৪ পৃষ্ঠার থ্রিলার পড়তে বেসিক্যালি ২.৫ ঘন্টা লাগে এটা সম্ভবত আরো এক্সট্রা ১ ঘন্টা ডিমান্ড করবে৷ এ টাইপ বইয়ে ২ পৃষ্ঠা মিস করলেই মিস। সেখানে এতো অল্প শব্দে স্পয়লার একদমই দিতে না চাইলে, দেয়া সম্ভব না।
লেখক হিসেবে শাক্যজিৎ কী তা তিনি 'শেষ মৃত পাখি'তেই বুঝিয়েছেন৷ 'নৈশ অপেরা'তে তো তা আরো প্রবল, যদিও অনেককে বলতে দেখেছি যে নৈশ অপেরা অনেক স্লো (স্লো লাগলেও সেটা আমার কাছে ছিলো উপভোগ্য স্লো)। তবে এ বইটাকে স্লো বলার কোনো চান্স সম্ভবত শাক্যজিৎ এর কোনো পাঠকই পাবেন না। শাক্যজিৎ-সুলভ লিখনশৈলীর সাথে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, ইন ডিটেইল চরিত্রায়ণ সব এখানে উপস্থিত। বরাবরের মতই তার লেখায় মরচে ধরা শহরের একটা রূপ আবার দেখা গেল। বৃষ্টিতে ভেজা সবুজাভ অন্ধকার শহর, সল্টলেকের নিস্তব্ধ বার, জীর্ণ বাড়িঘর, রেডিয়োতে সকালের খবর, সেপিয়া টোনের মহল্লা; সবমিলিয়ে বিষণ্ণ একটা লোকালয়। আমি তো কলকাতার নই, তবু বুঝতে পারি কলকাতাকে এভাবে দেখা আমার বয়সী বা আমার চেয়ে বড় কলকাতাবাসীর কাছে নস্টালজিক একটা ব্যাপার হতে পারে। আবার এটাও হতে পারে যে লেখক আপন কল্পনায় এ শহরটার এ রূপেই আটকে গেছেন।
হালের 'মাথা-নষ্ট-করা-টুইস্ট' এ বইতেও আছে, তবে তা এতো সাবলীল ও ব্লেন্ডেড যে পাঠকমাত্রই অবাক হবে আমার ধারণা। গল্পের শুরুতে যত সুতো ছড়িয়েছে সব মেলে শেষে, একদম পাকাপোক্তভাবে। এমনকি এখানে ওখানে হাটতে থাকা চার্লি চ্যাপলিন বেশের ঘমশ্যামও অংকের সমীকরণ ছিড়ে বাইরে যেতে পারেননি। আর উপন্যাসের শেষটা তো একদম গ্রিক ট্র্যাজেডি। এত সুন্দর! এত সুন্দর! যে মনে হয়, ইশ আবার যদি ভুলে গিয়ে নতুন করে বইটা পড়ার এক্সপেরিয়েন্স নিতে পারতাম!
বইটা শেষ করে খুঁজলাম 'হামারটিয়া' মানে কী। হামারটিয়া গ্রিক শব্দ। এর মানে কোনো একজন ব্যক্তির এমন কোনো একটা ভুল, যেটা ধীরে ধীরে তাকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়। আবার অনেক সময় গ্রিক ট্র্যাজেডিতে হামারটিয়া এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যে, ছোট্ট একটা ভুলের জন্য গল্পের মুখ্য চরিত্রে পতন হচ্ছে এবং অনেক সময় সে ভুলটা ঐ মুখ্য চরিত্রও করছে না। এটা বোঝার পর আমার মনে হয়েছে, উপন্যাসের নাম এরচেয়ে সুন্দর আর কিছু কি হতে পারত?
শেষ করি জাভেদ আহমেদকে উদ্দেশ্য করে ইম্যানুয়েল গুহের একটা মনোলগ দিয়ে-
"ন্যায় একটা মিন পজিশন, দুই চরম অবস্থানের মধ্যবর্তী বিন্দু। অন্যায় এবং অতিরিক্ত ন্যায়, যার জন্য বাকি সমস্ত কিছুকে বিসর্জন দিতে হয়, এই দুই এক্সট্রিমের মাঝামাঝি বিন্দুতে ন্যায় থাকে। তুমি চাইছ অতিরিক্ত ন্যায়, যার জন্য হয়ত অনেকের জীবন আবার এলোমেলো হবে। তুমি যে জাস্টিসকে খুঁজছ, সেই জাস্টিস সত্যের খাতিরে এমপ্যাথিকে বিসর্জন দিতে বলে। তার পরিণতি কী হবে আমি জানি না। তুমি, আমি, আমরা সেটা মেনে নিতে কতটা প্রস্তুত?"
গল্পের কেন্দ্রে একটি পঁচিশ বছর পুরনো খুন। ভবানীপুরের একটি ঘর। ভেতর থেকে বন্ধ দরজা। মৃত এক নারী। তার পাশে অচেতন অবস্থায় প্রেমিক। সমস্ত প্রমাণ যেন একদিকেই আঙুল তোলে। মামলা হয়, সাজা হয়, জীবন বদলে যায়। তারপর একদিন, বহু বছর পরে, একটি চিঠি এসে উপস্থিত হয়। আর সেই চিঠিই খুলে দেয় বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি দরজা।
তবে শেষ পর্যন্ত হামারটিয়াকে শুধু একটি লকড-রুম মিস্ট্রি বললে কম বলা হবে। এটি ভুল বিচার, স্মৃতি, অপরাধবোধ, ভালোবাসা এবং মানুষের ভঙ্গুরতার গল্প। এমন এক গল্প, যেখানে সত্য উদ্ঘাটনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে— কেন সেই সত্য এতদিন আড়ালে ছিল।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, গল্পের মনস্তাত্ত্বিক স্তর। কিছু দৃশ্য বা চরিত্র প্রথমে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও পরে বোঝা যায়, তারা আসলে এই ট্র্যাজেডির মানসিক কাঠামো তৈরি করছে। এখানে রহস্যভেদ যতটা লজিক্যাল, তার চেয়েও বেশি সাইকোলজিক্যাল।
A brilliantly crafted locked-room mystery that transcends the boundaries of conventional thrillers. Through its layered characters, psychological depth, and hauntingly melancholic portrayal of Kolkata, Shakyajit Bhattacharya delivers a story where truth, justice, empathy, and human fallibility collide in the most unforgettable way.
ডিটেকটিভ উপন্যাসের চেয়ে এই গল্পটা দর্শন আর নীতিশাস্ত্রের সংঘাত বললেই ভাল হয়। অ্যাডভেঞ্চারাস হওয়া কি চরিত্রদোষের মাঝে পড়ে? একের ভুলে অন্যের শাস্তি পাওয়া কি ঠিক? অথবা এক ভুলের শাস্তি মেলা অন্য ভুলের কারণে? আর যখন দোষী বের হয়েই যায়, তাকে ধরে ফেলা ন্যায়সঙ্গত, নাকি ছেড়ে দেয়া? দু'জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এক পুরনো মামলার সূত্রই নতুন করে খুঁজতে থাকেন, সে-ও ঐ নিজের বিবেককে পরিস্কার করার জন্যই। গল্পটা ঝিমায় না কখনো, নীতিশাস্ত্রের লেকচারও নেই, এজন্য কখনো বোরিং লাগে না। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন।
অদ্ভুত এই নামের উপন্যাসিকার অর্থ সূদুর গ্রীক থেকে আসা। এই মানে হল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া। মানে বুঝাই যাচ্ছে যে কেউ কিছু একটা ক্যাচাল লাগানোতে বইটা লিখা হয়েছে।
নিরেট গোয়েন্দা প্লট। কিন্তু ঘটনা ২৫ বছর আগের। অপরাধী খুনের দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন খেটে বের হয়েছেন। লাংস ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ফলে গলায় ফাস লাগিয়ে আত্নহত্যা করেন। কিন্তু বিদায়ের আগে নিজ কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের কাছে একটা চিঠি দিয়ে নিজের অপরাধ অস্বীকার করে যান অনিরুদ্ধ।
ঘটনা খুব একটা চমকপ্রদ তা আসলে না। এগুলা হরহামেশাই হয়। মালীনি উচ্চবংশের বড়লোক ঘরের মেয়ে। মেধাবী মালীনি চাকরিও করেন ব্যাপক ভাল। তার স্বামী তারই মা প্রফেসর দেবারতীর ছাত্র শতদ্রু। সিধেসাধা মধ্যবিত্ত ঘর আর মন-মানসিকতার ছেলে শতদ্রু কিছুদিন পরেই মালীনির কাছে ঢেড়সের মত লাগা শুরু হয়। এরমধ্যেই মালীনি স্মার্ট অনিরুদ্ধের প্রেমে পড়ে যায়। অনিরুদ্ধ বিয়ে করা সন্তান-সন্ততিওয়ালা মানুষ। কিন্তু এসব সত্ত্বেও দূর্বার প্রেম গজায় উঠে এ দুজনের মধ্যে। অনিরুদ্ধ বউ পারমিতাকেও ছাড়তে চায় না আবার মালীনিকেও নাহ। মালীনি বিয়ে করতে চায় অনিরুদ্ধকে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে চলতে থাকে চরম মনোমালিন্য। এরই মধ্যে একদিন মালীনির বাসায় একান্তে সময় কাটিয়ে ব্যাপক নেশাপানি করে ঘুমায় যায় মালীনি আর অনিরুদ্ধ। কাজের মাসীর আগমনে আর চেচামেচিতে ঘর ভেংগে দেখা যায় মালীনি মৃত আর অনিরুদ্ধ ভ্যাবলা হয়ে বসে আছে। রুমের দরজা জানালা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সো মার্ডার একজনের পক্ষেই করা সম্ভব, আর সে হল অনিরুদ্ধ। ট্রায়াল হয়, ওপেন এন্ড শাট কেস।
ভেজাল বাজায় অনিরুদ্ধ। চিঠিটা তদন্তকারী অফিসার জাভেদের কাছে পাঠানোর ফলে জাভেদ চলে যায় তারই প্রাক্তন পার্টনার ইমানুয়েলের কাছে। স্থিতধী আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ইমানুয়েল কেসটা আবার ঘেটে দেখতে রাজি হয়। শুরু হয় ২৫ বছর আগের রিকনসিলিয়েশন।
সব মিলায় বলতে গেলে বইটা পড়ে ভাল লাগল খুব। লেখক সুন্দর লেখেন। ধাপে ধাপে যেভাবে গল্পটা সাজিয়ে তুলেছেন তার কোন তুলনা হয় না। চরিত্রগুলাও খুব সাবধানে গঠন করেছেন। বইয়ের নামকরণ আর প্রচ্ছদ অসাধারণ হয়েছে। গল্পের প্লট আসলে খুব একটা ইউনিক না। কত আর ইউনিক জিনিস বানানো যায়। তাসত্ত্বেও বইটা আসলে পড়বেন লেখার মসৃণতার আনন্দ উপভোগ করার জন্য। উনার শেষ মৃত পাখি বইটা পড়েও আমার একই অনূভুতি হয়েছিল।
পঁচিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি। ঘরের ভেতর দুইজন ছিলেন, একজনকে পাওয়া গেলো গলায় ছুরিবিদ্ধ অবস্থায়, আরেকজনের হাতের ছাপ ছুরিতে। হিসাব বরাবর, খুনী গেলো জেলে। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত আসামী জেল থেকে বেরিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চিঠি লিখলেন ইনভেস্টিগেটিং অফিসারকে। এরপর করলেন আত্মহত্যা। কিন্তু খুনটা আসলে করলো কে?
একটা মাথানষ্ট রহস্যন্মোচন। পৌরাণিক কাহিনির সাথে বর্তমান সময়কে রিলেট করার ব্যাপারটা খুবই ভালো লেগেছে। Recommended
Hamartia is a literary term originally defined by Aristotle in his Poetics. It refers to a tragic flaw or a fatal error in judgment that leads to the downfall and suffering of an otherwise noble hero. (Merriam-Webster)
বৃষ্টিস্নাত দিনের সঙ্গে রহস্যকাহিনীর চিরাচরিত সখ্য এবং অনেকদিন পরে কোনো বই শেষ করতে পারার আনন্দে রেটিং দেওয়ায় কিছুটা উদারতা দেখিয়েছি, অস্বীকার করব না। মনে পড়ল, গত ঈদেও শাক্যজিৎ পড়েছিলাম।
হামারটিয়া শব্দ টা এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে যার অর্থ লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া। কেন বইটার নাম হামার টিয়া হলো সেটা বোঝাতে আমি ফ্ল্যাপের লেখা টা দিচ্ছি এর বেশি কিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে এইটুকু বলতে পারি মেদ হীন বইটা এক বসায় পড়ে ফেলতে পারবেন এবং শেষের দিকে যখন রহস্যের সমাধান হবে আপনার হৃদপিণ্ডের শব্দ নিজ কানে শুনতে পারবেন। এই বছর আমার পড়া বইয়ের ভিতরে সেরার তালিকায় থাকবে বই টা।
ফ্ল্যাপের লেখা
পঁচিশ বছর আগে সমাধান হওয়া এক খুন।
একটি চিঠি আবার খুলে দেয় সেই পুরোনো কেস। বদ্ধঘরের রহস্য, ভুলে যাওয়া স্মৃতি, আর মানুষের অপরাধবোধ। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়— শুধু খুনের গল্প নয়, এটা ‘হামারটিয়া’র আখ্যানও হতে পারে।
একটা লকডরুম মার্ডার মিস্ট্রি এবং এর মধ্য দিয়ে শাক্যজিতের আরেকটি অনবদ্য থ্রিলার পাওয়া গেল। শেষ মৃত পাখি যাদের পড়া আছে তারা এই লেখকের ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত। এই উপন্যাস, যা আকারে বেশ ছোট, সেই পূর্বাভিজ্ঞতা থেকে পাঠককে সরিয়ে নিয়ে যায় না। বরং, আবারও আমরা লেখককে কুর্নিশ জানানোর সুযোগ পাই।
চিরাচরিত শাক্যজিৎ। একটা কোল্ড কেস , কিছু অপরাধবোধ আর শ্রাবনের কলকাতা। অসম্ভব ভালো পরিবেশ গঠন। (এইটা বোল্ড করে লিখলে ভালো হয় ) | একটা কঠিন রহস্যের একটা নিপাট সাধারণ উন্মোচন। সব সময় হয়তো শেষ মৃত পাখির মতো jaw dropping solution দরকার নেই। ইমানুয়েল কে ভালো লেগেছে। বইটার দাম দৈর্ঘ্যের তুলনায় একটু বেশি মনে হয়েছে। আরো ইমানুয়েল কে চাই , এবার আরো বেশি দৈর্ঘ্যে।
একটি রহস্য-রোমাঞ্চধর্মী (থ্রিলার) উপন্যাস। গল্পের শুরু ২০২৪ সালে, যখন অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর জাভেদ আহমেদের কাছে একটি চিঠি আসে। চিঠিটি তাকে ২৫ বছর আগের একটি খুনের মামলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
সেই মামলায় মালিনী অধিকারী নামের এক নারীকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের সমস্ত প্রমাণ তার প্রেমিক অনিরুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল—খুনের অস্ত্রে তার আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়, এবং পরিস্থিতিও তাকে অপরাধী হিসেবে নির্দেশ করছিল। ফলে অনিরুদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিন্তু ২৫ বছর পর জেল থেকে লেখা চিঠিতে অনিরুদ্ধ দাবি করে যে সে নির্দোষ। এরপর জাভেদ আহমেদ ও আরেক অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আবার মামলাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। পুরনো সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা তথ্য সামনে আসতে থাকে।
তদন্ত যত এগোয়, ততই রহস্য গভীর হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি চমকপ্রদ মোড় আসে যা পুরো ঘটনার ব্যাখ্যাই বদলে দেয়।
ক্লাসিক লকড রুম মিষ্ট্রি বাংলায় সেরকম নেই। দৃশ্যপট সুন্দর সাজানো গোছানো। শেষ মুহূর্ত অবদি কৌতূহল আটকে রাখে। কিন্তু অহেতুক তত্বের জটিলতা বইটাকে দুর্বল করেছে। এবং অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি স্ল্যাং ও যথেষ্ট পরিচিত লেখকের এহেন কাঁচা লেখার পরিচয় কিছু ক্ষেত্রে খুবই খাঁজা লেগেছে। হতাশ। দুটো তারা যথেষ্ট। একবার পড়া যায় আর কি।
যে অপরাধী, আইনের চোখে তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়াই কি সবসময় ন্যায়বিচার? নাকি কিছু ক্ষেত্রে তাঁর 'নিরপরাধ' তকমাটাই বজায় থাকা বেশি কাঙ্খিত? এমনকি যখন প্রকৃত দোষীর পরিবর্তে শাস্তি পেতে হয় একজন সত্যিকারের নিরপরাধ ব্যক্তিকে তখনও কি তা কাঙ্খিত হতে পারে?
পড়ে মনে হতে পারে বুঝি ক্রিস্টোফার নোলানের 'ডার্ক নাইট' ছবিটার বিষয়ে কোনো আলোচনার অবতারণা, কিন্তু এক্ষেত্রে এটা বইয়ের গল্পের অন্তর্নিহিত দার্শনিক প্রশ্ন । ন্যায় বড় নাকি জীবন? অপরাধ বড় নাকি শাস্তি? শেষের প্রশ্নটা যদি শুনতে গোলমেলে লাগে তাতে পাঠকের দোষ নেই অবশ্য । আমারও লেগেছিলো । তাই মূল জিজ্ঞাসাটাকে আরও সহজ ভাষায় যদি তুলে ধরি তবে সেটা এরকম - অপরাধীর 'অপরাধী' বলে আইনের চোখে গণ্য হওয়াটাই কি সবচেয়ে জরুরি (অর্থাৎ শাস্তি বড়), নাকি তাঁর কাছে নিজের অপরাধের উপলব্ধিই অগ্রগণ্য কারণ এই অপরাধবোধেই তাঁর শাস্তি (অপরাধ বড়)? যদি দস্তয়েভস্কির 'ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট'এর কথা মনে পড়ে থাকে, তবে আশ্বাস দেব গল্পের প্লটের সঠিক আন্দাজ পাওয়ার দিকে এগোচ্ছেন ।
'হামারটিয়া' শব্দটির অর্থ একধরণের judgmental error যা কারও পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । বইয়ের গল্পের ভিত্তিও এমনই এক বিচারের ত্রুটি, যে কারণে খুনি সাব্যস্ত হন একটি নিরপরাধ মানুষ যার শেষ পরিণতি আত্মহত্যায় । আর তাঁর এই পরিণতিই খুলে দেয় পঁচিশ বছর আগে 'সমাধান' হয়ে যাওয়া একটা খুনের ঘটনার কেস, যার পুনর্মূল্যায়ণে নেমে পড়েন দুই অবসরপ্রাপ্ত হোমিসাইড ইন্সপেক্টর, একজন বিবেকের তাড়নায়, আরেকজন নেহাত কৌতূহলবশে । গল্পের ছকে এমনিতে কোনো নতুনত্ব নেই - মার্ডার-মিস্ট্রির সমাধানে রিটায়ার্ড পুলিশ ইন্সপেক্টরের অবতীর্ণ হওয়া, লকড-রুম মার্ডারের ধাঁধা, গোয়েন্দা চরিত্রের পরামর্শদাতা হিসেবে শার্লকের মাইক্রফটের মতো একটি চরিত্র - সবই অতিপরিচিত trope; নতুনত্বটা দার্শনিক জিজ্ঞাসার মধ্যে । ন্যায়ের আদর্শ ঠিক কতটা মূল্যবান? বা 'ন্যায়' আদতে কী?
বইয়ের পিছনে দেওয়া ব্লার্বের নিচে একটা লেখা পাওয়া যায় - Justice is a mean position. কথাটার অর্থ অনুধাবন করতে হলে অ্যারিস্টটলের সদ্গুণ নীতিশাস্ত্রের (virtue ethics) একটা প্রাথমিক ধারণার প্রয়োজন হয়, নির্দিষ্টভাবে বললে Golden Meanএর ধারণা যা বলে দুটি চরম অবস্থানের মধ্যবর্তী জায়গাই হল সদগুণের অবস্থান । এক্ষেত্রে ন্যায় হল দুই চরম অবস্থান - অন্যায় ও অতিরিক্ত ন্যায় -এর মধ্যবর্তী mean position । অর্থাৎ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যেমন অগ্রহণীয়, তেমনই প্রশ্নবিদ্ধ যে-কোনো-মূল্যে ন্যায়ের আদর্শ । জীবনের মূল্যের সাথে ন্যায়বিচারের আদর্শের trade-offই প্রকৃত ন্যায় ।
লেখনী বুদ্ধিদীপ্ত এবং intellectually demanding, যদিও লেখকের একটু শো-অফের প্রবণতা আছে বলে মনে হয় মাঝে-মাঝে । তা নিয়ে অবশ্য অভিযোগ নেই আমার, কারণ সবসময় যে lowest common denominatorএর কথা ভেবেই সাহিত্য রচনা করতে হবে এমন কোনো কথা অবশ্যই নেই । তবে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত-সম্পর্কিত রাজনৈতিক মতামতের প্রকাশটা অনভিপ্রেত বলেই মনে হল । কোনো প্রয়োজন ছিল না । জানিনা দুই প্রধান চরিত্রের একজনকে ইহুদি, আরেকজনকে মুসলিম বানানোর নেপথ্যে সূক্ষ্মভাবে কোনো বার্তা দিতে চেয়েছেন কিনা লেখক । চেয়ে থাকলেও আমার কাছে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব নেই, কারণ কোনোরকম political commentaryর চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বইয়ের দার্শনিক জিজ্ঞাসা তথা ধর্মীয় symbolismগুলো । চিন্তাশীল এবং সুপঠিত পাঠকের জন্যই যে লেখক লেখেন, বুঝতে অসুবিধা হয় না । তাঁর লেখনীর এই বৈশিষ্ট্যটি যে উপভোগ করেছি সেটা বলা বাহুল্য ।
কোনো আপাত নিরীহ রহস্যকাহিনীর অতীত খুঁড়ে বের করা যখন শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের লেখার বিষয়বস্তু হয়, তখন নিঃসন্দেহে তা যে একটি মাস্টারপিস তৈরি হবে সেটা বলাই বাহুল্য। এর আগে তনয়া সিরিজে এই মাস্টারপিসের স্বাদ পেয়েছি ভালোভাবে। হামারটিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়। শাক্যজিতের অন্যান্য রহস্যকাহিনীর মতো এই গল্পও কেবল রহস্য উদঘাটনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বারবার তা পাঠককে এনে দাঁড় করিয়েছে কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখে। যেগুলির মধ্যে অন্যতম হল অপরাধ ও শাস্তির মধ্যে যেকোনো একটা বেছে নেওয়ার আদিম অনন্ত কালের সেই লড়াই। এছাড়াও মানবমনের বিকৃতমনস্কতার যে অনুসন্ধান তাও অন্যান্য লেখার মত এতেও রয়েছে পুরোমাত্রায়। রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রেও এমন একটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে যা আজও আমাদের সমাজে একটা খুবই নেগ্লেকটেড বিষয়। এছাড়াও এর আগে বর্ষার কুয়াশামাখা দার্জিলিং হোক বা ভেঙ্গে পড়া চার্চকে ঘিরে থাকা মফস্বল; মূল রহস্যকাহিনীর প্রেক্ষাপট ছিল চিরাচরিত শহরের বাইরে। আর এবার সেখানেই কলকাতা শহরকে প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে শহরটাকে নুয়ার রূপ দিয়েছেন লেখক। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই শহর আর সেখানে প্রায় বিচ্ছিন্ন দুই বৃদ্ধ গোয়েন্দার চরিত্র শহরটাকে আরও বেশি জীবন্ত করে তোলে। উপন্যাসটি ছোটো হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে প্রথম থেকেই প্রচুর গতিশীল। কাজেই যারা শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের কাজের সাথে প্রথমবার পরিচিত হতে চান তাদের কাছে এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।
"আমার কাছে ন্যায় মানে একটা মিন পজিশন, দুই চরম অবস্থানের মধ্যবিন্দু। অন্যায় এবং অতিরিক্ত ন্যায়, যার জন্য বাকি সমস্ত কিছুকে বিসর্জন দিতে হয়, এই দুই এক্সট্রিমের মাঝামাঝি বিন্দুতে ন্যায় থাকে।"
"মৌলালি থেকে ঠান্ডা বাতাস পিঠে জলীয় গন্ধ নিয়ে ছুটে এসে তাঁদের পিঠে আছড়ে পড়ল, তারপর ছুটে গেল রাসমণি রোডের মাথাপাগল উথালপাথাল গাছেদের উপর দিয়ে। ইম্যানুয়েল বললেন 'বাড়ি যাও জাভেদ, হাওয়াটা খারাপ।'
'হায় ইজি,' যাত্রার ভঙ্গিতে ভুরু তুললেন জাভেদ। 'এই বদলের দুনিয়ায় তুমি শালা একই থেকে গেলে। দেখতে পেলে না, হাওয়াটা পুর্বদিক থেকে আসছে। ইস্ট উইন্ড।'
ইম্যানুয়েল হাসলেন, 'হোমস আর ওয়াটসন কি আমাদের মত এত বুড়ো হয়েছিল?"
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সময়টুকু বেশ ভালোভাবেই কাটাচ্ছিলেন সাবেক পুলিশ অফিসার জাভেদ আহমেদ। কিন্তু বিধিবাম! একটা চিঠি জাভেদকে বাধ্য করে অবসর থেকে ফিরে আসতে।
অনিরুদ্ধ সান্যালের চিঠি। যে কিনা ২৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া মার্ডার কেস এর আসামী ছিল। এইতো কয়েকবছর আগে ছাড়া পায়। আসামী না হয়েও এতবছর জেলে খেটেছিল সে। সামাজিক বঞ্চনা, পরিবার থেকে একা হয়ে যাওয়া অনিরুদ্ধ বেশিদিন নিজেকে সামলাতে পারে নি। সুইসাইড করে বসে।
চিঠিতে অনিরুদ্ধ জাভেদের কাছে অনুরোধ করে ২৫ বছর আগের কেসটার যেন আবার তদন্ত করা হয়। কিন্তু জাভেদ জানে এত বছর আগের ঘটনার তদন্ত অফিসিয়ালি করা সম্ভব না। আন-অফিসিয়ালি করতে হবে। কিন্তু সে একা পারবে না। মঞ্চে হাজির হলো ইম্যানুয়েল গুহ। জাভেদের বন্ধু এবং অবসরপ্রাপ্ত আরেক পুলিশ অফিসার। যাকে জাভেদ সংক্ষেপে "ইজি" বলে ডাকে।
বলছিলাম "হামারটিয়া" বইয়ের কথা। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের লেখা। ড্রামা, লকড রুম মিস্ট্রি, খানিকটা ফিলোসোফি'র মিক্সড জনরা। আমার কাছে ভালো লেগেছে বইটি। লেখকের লেখা ছিল বেশ ঝরঝরে। ছিল পরিমিত বর্ণনা। তদন্তের টেকনিক্যাল সাইডগুলো বেশ ভালোভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
আমরা সচরাচর যে লকড রুম মিস্ট্রি পড়ি, লেখক সেদিকে না গিয়ে ভিন্ন দিকে গিয়েছেন। দেখাতে চেয়েছেন যে, লকড রুম মিস্ট্রি এভাবেও উপস্থাপন করা যায়। এর নাম দিয়েছেন তিনি "ভ্যারিয়েশন অফ লকড রুম মিস্ট্রি।"
লেখক সংক্ষেপে গ্রিক লিটারেচারও এনেছেন। বইয়ের নামকরণ, তার স্বার্থকতা কোথায় এবং মূল গল্পের সাথে গ্রিক সাহিত্যের সম্পর্ক চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
এন্ডিং এ চমকে গিয়েছিলাম। গল্পের ফ্লো এমনভাবে আগাচ্ছিল, আমি যে তিনজনকে সন্দেহ করেছিলাম, মনে করেছিলাম তাদের মধ্যে কেউ হবে। কিন্তু লেখক ভেবে রেখেছিলেন অন্যরকম এন্ডিং। এটা নিয়ে আর কথা না বলি।
আচ্ছা এখন বলি কারা এই বইটা পড়বেন না বা কাদের কাছে এই বইটা খারাপ লাগবে। ১. যাদের লকড রুম মিস্ট্রি+ড্রামা পছন্দ না। ২. যাদের টুইস্টওয়ালা বই পছন্দ। ৩. যাদের ডিটেইলিং অনেক পছন্দ। ৪. আনইউজুয়্যাল এন্ডিং যাদের ভালো লাগে না।
ইম্যানুয়েল গুহ ক্যারেক্টর টা ইন্টেরেস্টিং মনে হয়েছে আমার কাছে। ক্যারেক্টর বেইজড একটা দুইটা বই আনলে মন্দ হয় না।
এইতো! ভালো থাকবেন সবাই। বইয়ের সাথে ভালো সময় কাটুক।
বই : হামারটিয়া লেখক : শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী প্রকাশনা : সুপ্রকাশ
৪.৫/৫.০! পড়া শুরু করার পর থেকেই হুকড ছিলাম টানা শেষ করতে পারি নাই কারণ মার্দার মিস্ট্রি পড়ার উপযোগী সময় ছিল না তখন! এইজন্য একটু অবসরের খোজে ছিলাম যখন টানা পড়ে শেষ করা যাবে! বইটা আসলে এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলার মতো, বইয়ের সাইজ ও সেটার জন্য খুব উপযোগী, কন্টেন্ট ও! ২৫ বছর আগের একটা লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি নিয়ে কাহিনী! যসেই লকড রুমের যে সমাধানে এসে তারা পৌছান শেষ পর্যন্ত সেই সমাধান আমার শুরু থেকেই মনে হইহে ইরেস্পেক্টিভ অফ খুনী কে! খুনী কে এইটা অবশ্য আমার মনে হয় না কেউ ই ধরতে পারবে শেষ করার আগে কারণ সন্দেহ সবার দিকেই যাবে কোন না কোন সময়! তবে জাভেদের মতোই বলতে হয়- খুনী ওই দুইজনের একজন হইলেই মেইবি আমিও বেশি ই স্বস্তি পাইতাম! "A likely impossibility is prefarable to an unconvincing possibility"- অনেক চিন্তার খোরাক দিয়ে যায় এই লাইন! শুধু এই বইয়ের কাহিনীর জন্য না! বাস্তবের অনেক কিছুর জন্য ই! ভেরি গুড রিড! লেখকের পড়া ৩য় বই আমার! হতাশ হই নাই এখনো! মার্ডার মিস্ট্রি ভালো লিখেন খুব!
“হামারটিয়া”বইটির ক্ষেত্রে হামারটিয়া শিরোনামটি প্রতীকী। এটি ইঙ্গিত করে যে গল্পের মূল ট্র্যাজেডি কেবল একটি খুন নয় বরং মানুষের কোনো এক গভীর দুর্বলতা বা ভুল সিদ্ধান্ত থেকেই ঘটনাগুলোর সূত্রপাত। অর্থাৎ, অপরাধের পেছনে মানুষের অন্তর্নিহিত ত্রুটি—সেই হামারটিয়াই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ভাবনা।
হামারটিয়া (Hamartia) শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ "ভুল", "লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া" বা "বিচারে ভুল করা"। সাহিত্য ও নাট্যতত্ত্বে, বিশেষ করে এরিস্টটল-এর পোয়েটিক্স-এ হামারটিয়া বলতে বোঝায়— “একজন মানুষের এমন একটি চরিত্রগত দুর্বলতা, বিচারগত ভুল বা মারাত্মক ত্রুটি, যা শেষ পর্যন্ত তার পতন বা ট্র্যাজেডির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
▪️সংক্ষেপেঃ- হামারটিয়া একটি ক্রাইম-থ্রিলার যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় পঁচিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি খুন। বহুদিন আগেই মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে, খুনিকে তার শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো আসলেই কী সে খুন করেছে? হঠাৎ একটি রহস্যময় চিঠি আসে। একটি চিঠি আবার খুলে দেয় সেই পুরোনো কেস। এরপর একে একে উন্মোচিত হতে থাকে চাপা পড়ে থাকা সত্য, ভুলে যাওয়া স্মৃতি, অপরাধবোধ এবং বদ্ধঘরের রহস্য।
▪️পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ- শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের লেখার অন্যতম শক্তি হলো তাঁর ধীর গতিতে পরিবেশ নির্মাণ। হামারটিয়া-তেও শুরু থেকেই এক ধরনের বিষণ্ন, রহস্যঘেরা আবহ তৈরি হয় যা শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখে। এটি শুধু দ্রুতগতির থ্রিলার রহস্যের গল্প নয় বরং চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব, অপরাধবোধ এবং অতীতের ভারও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গল্পে নতুন নতুন স্তর যুক্ত হয়। লেখক অপ্রয়োজনীয় চমক না দিয়ে ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলেছেন। ফলে পাঠকও তদন্তের অংশ হয়ে ওঠেন। বদ্ধঘরের রহস্য, অতীত-বর্তমানের সংযোগ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ— এই তিনটির ভারসাম্য উপন্যাসটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এটি এমন বই নয় যেখানে প্রতি অধ্যায়ে বিস্ফোরক টুইস্ট থাকবে বরং ধীর গতিতে জমে ওঠা রহস্য এবং শেষের দিকে তার সুচারু সমাধানই বইটির প্রধান আকর্ষণ।
সব মিলিয়ে, যারা মনস্তাত্ত্বিক ক্রাইম ফিকশন, কোল্ড কেস, লকড-রুম মিস্ট্রি এবং ধীরগতিতে গড়ে ওঠা রহস্য উপভোগ করেন তাঁদের জন্য হামারটিয়া একটি দারুণ পাঠ হতে পারে। পাঠকমহলেও বইটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য বাংলা ক্রাইম-ফিকশনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শাক্যজিতের চেনা ছকের চওড়া ক্যানভাস কিংবা চটজলদি জটিলতার বাইরে গিয়ে ‘হামারটিয়া’ এক ব্যতিক্রমী ও আঁটসাঁট বুননের উপন্যাস। গল্পটা পঁচিশ বছরের পুরনো এক মীমাংসিত খুনের কেসের, যার বিচার হয়ে গেছে এবং অপরাধীও চিহ্নিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে একটি সুইসাইড নোট নতুন করে নাড়া দিয়ে যায় বৃদ্ধ ও অশক্ত তদন্তকারী অফিসার জাভেদ আহমেদকে। অতীত আর বর্তমানের এই দোলাচলেই তিনি দ্বারস্থ হন প্রাক্তন সহকর্মী ইম্যানুয়েল গুহর; আর তারপরেই অবধারিতভাবে খুলে যায় এক রুদ্ধশ্বাস প্যান্ডোরার বাক্স।
কাহিনীর মূল নির্যাস ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব --------------------------------------------------------------------
অতীতের পুনরাগমন: পঁচিশ বছর আগের এক ধামাচাপা পড়া সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জাভেদ ও ইম্যানুয়েল জুটির নতুন করে তদন্তের গভীরে প্রবেশ।
হাহাকারময় সমাপ্তি: উপন্যাসের শেষটা কোনো স্বস্তি দেয় না, বরং রেখে যায় এক গভীর মানবিক হাহাকার।
ন্যায় বনাম অতিন্যায়ের লড়াই: অন্যায় আর চরম ন্যায়ের কোন সূক্ষ্ম বিন্দুতে দাঁড়িয়ে ইম্যানুয়েল একটা মানবিক সমাধান খুঁজে নিলেন, কিংবা সেটা আদৌ কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান কি না—সেই সংশয় পাঠককে তাড়িয়ে বেড়ায়।
উপন্যাসের চরিত্ররা হয়তো নিজেদের মতো করে একটা 'ক্লোজার' খুঁজে পায়, কিন্তু পাঠকের মনে গল্পটি রেখে যায় এক স্থায়ী ও অবাধ্য অস্বস্তি। বইটিতে কিছু চোখে পড়ার মতো মুদ্রণপ্রমাদ রয়েছে এবং জাভেদের সংলাপে অতিরিক্ত ইংরেজি গালিগালাজের ব্যবহার মাঝেমধ্যে বিরক্তি তৈরি করে। তবে এই সামান্য খামতিটুকু বাদ দিলে, উপন্যাসের বাকি অংশ আকর্ষণীয় এবং অনায়াসে পাঠকের মগজে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কেটে যাওয়ার মতো।
বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় পৌঁছোনোর পর বেশ কিছুক্ষণ একটা অদ্ভুত স্তব্ধতা ঘিরে ধরেছিল। সাধারণত কোনো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়ার সময় মাথার ভেতর একটা সমীকরণ চলতে থাকে, এরপর কী হবে, কে আসল অপরাধী, কিংবা গল্পের কথক আমাদের কাছে কোনো সত্যি লুকাচ্ছে কি না। কিন্তু শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের ‘হামারটিয়া’ পড়তে গিয়ে সেই চেনা হিসেবনিকেশগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেল। গোয়েন্দাগিরির চেয়ে অনেক বেশি প্রকট হয়ে দাঁড়াল মানুষের ভেতরের এক অমোঘ শূন্যতা আর অসহায়তা। লেখক খুব শান্তভাবে, ধীরেসুস্থে মানুষের অবচেতন মনের এমন কিছু অন্ধকার দিক তুলে ধরেছেন, যা খুবই ভয়ানক।
গ্রিক সাহিত্যে 'হামারটিয়া' বলতে বোঝায় মানুষের চরিত্রের এমন এক ত্রুটি, যা তার নিজের অজান্তেই তাকে এক অনিবার্য পতনের দিকে টেনে নিয়ে যায়। পুরো বইটা পড়ার সময় মাথার ভেতর এই শব্দটার অর্থ বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল। নামকরণের আসল সার্থকতাটা ধাক্কা মারে গল্পের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে। যখন আসল সত্যটা উন্মোচিত হয়, তখন সেটা কেবল একটা ক্রাইমের সমাধান হিসেবে ধরা দেয় না, বরং এক নিদারুণ ট্র্যাজেডি হয়ে বুকে বাজে। লেখক বুঝিয়ে দেন, অপরাধ আসলে হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়ে না, তা মানুষের নিজস্ব খামতি আর অবদমিত ট্রমার ভেতরেই সুপ্ত থাকে।
আমাদের চেনা দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে যে এত গভীর একটা দার্শনিক বোধ লুকিয়ে থাকতে পারে, বিশ্বাস করা কঠিন। সবশেষে একটা লাইন বলতে চাই যেটা সবথেকে বেশি মন ছুঁয়ে গেছে, "Justice is a mean position..."
সাক্যজিতের লেখা আমার তৃতীয় বইটি পড়া শেষ করলাম। নিঃসন্দেহে বলা যায়, রহস্য উপন্যাস লেখার এক অনন্য ফর্মুলা তিনি আয়ত্ত করেছেন। তাঁর লেখনী এতটাই অসাধারণ ও গভীর যে, একদিকে যেমন পাঠকের চিন্তাজগৎকে আলোড়িত করে, অন্যদিকে তেমনি এক অদ্ভুত উষ্ণতার অনুভূতিও জাগিয়ে তোলে।
এই বইয়ে তিনি মানুষের মনের অন্ধকারতম কোণ এবং সারাজীবন বয়ে বেড়ানো অপরাধবোধ ও মানসিক বোঝার দিকটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তবে আমার কাছে এটি ‘শেষ মৃত পাখি’-র সমকক্ষ মনে হয়নি—সম্ভবত উপন্যাসটি আকারে ছোট হওয়ায় সেই গভীরতা পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি।
সব মিলিয়ে বইটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। রহস্য উপন্যাসের অনুরাগীদের আমি অবশ্যই এটি পড়ার পরামর্শ দেব।
একটা দারুণ ক্লোস রুম সাসপেন্স এর গল্প পড়লাম। আমার পড়া লেখকের প্রথম বই, পড়ে মোটামুটি ছিটকে গেছি । গল্পটা পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছিল যে চরিত্রগুলোর সাথে সাথে আমিও যেন বিশ্লেষণ করছি। সব থেকে দুর্দান্ত পার যেটা কোনক্ষণই মনে হয়নি যে গোয়েন্দারা একজন অতি মানব, অসাধারণ বিশ্লেষণ অসাধারণ থিওরি অফ ডিডাকশন। মানুষের মনস্তত্ত্ব তার সাথে গ্রীক সাহিত্য এত অসাধারণ করে মিলন করিয়েছেন লেখক যে এক কথায় অনবদ্য । যেকোনো গোয়েন্দা কাহিনী ভালোবাসে এমন পাঠকের জন্য , অবশ্যই পড়ে ফেলা উচিত । অসংখ্য ধন্যবাদ লেখককে এরকম একটা গল্প আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।