চারটি গল্প! চারটি রহস্য-রোমাঞ্চ! উড়িষ্যার নিয়মগিরি, মধ্যপ্রদেশের ঘন বনাঞ্চল, হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম ছাড়িয়ে একটি ছবির মতো শান্ত, নির্জন অস্ট্রেলিয়ান গ্রাম---রহস্যের পদচারণা সর্বত্র!
পুলিশি তদন্ত, অলৌকিকের আড়ালের রহস্য, শিকারকাহিনি এবং আইনি তদন্ত এই বইয়ের মূল উপজীব্য। সুদূর ১৯১৫ সালের রক্ষণশীল অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম, মধ্যপ্রদেশের শ্বাপদসংকুল বনভূমি কিংবা দুইয়ের দশকের কলোনিয়াল উড়িষ্যা— প্রতিটি প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে মানসিক দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দাহের এক সঘন, রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ। বইয়ের প্রথম কাহিনি 'খাঁচা' কেবল এই বইয়েরই প্রথম কাহিনি নয়, লেখিকার অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র উমেশনাথের প্রথম তদন্তও বটে। ঝাঁঝর গ্রামের গরুড় দেবতাকে ভোগ নিবেদন করলে মঙ্গল হয় কিন্তু তার জন্য কী মূল্য চোকাতে হয়? পোড়খাওয়া শিকারি মোহনলাল প্রতিনিয়ত জর্জরিত হয় আত্মগ্লানিতে। পাপ-পঙ্কিল অতীতের চোরাবালি থেকে তার কি মুক্তি নেই? টোয়িটা এলাকার দোর্দণ্ডপ্রতাপ শিল্পান পরিবারের ছোটোমেয়ের খুনের মামলায় জড়িয়ে মাছিমারা সলিসিটর রডরিগের শরণাপন্ন হয়েছেন গুস্তাভ লিংহ্যাম। গুস্তাভ কি আদৌ খুনি? ওপেন-অ্যান্ড-শার্ট কেসের বেড়া টপকে কি গুস্তাভকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন রডরিগ ?
সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত চার কাহিনির সংকলন: “খাঁচা'।
📝 পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখিকা পিয়া সরকারের "দর্শনা বোস" সিরিজের মধ্যে পাঠক মহলে কতটা সমাদৃত আমরা সবাই জানি। “বৃশ্চিকচক্র” পড়ার পরে সুমন সরকার দাদার পোস্ট থেকে জানতে পারি “খাঁচা” সম্পর্কে। সেইমতো কলেজস্ট্রিটে গিয়ে শব্দ প্রকাশন থেকে বইটি হাতে তুলে নেওয়া।
💫বইটিতে আছে চারটি গল্প যথাক্রমে_১.খাঁচা,২.ভোগ,৩.উত্তরপুরুষ,৪.নিয়ন্তা
✨বিষয় সংক্ষেপ ১.খাঁচা :- উমেশনাথের জার্নাল থেকে দেখতে গল্পের সূত্রপাত। কথক পুলিশি পেশায় পোস্টিং হলেন কন্ধমাল জেলার ফুলবনি শহরে। কথক কে বাড়ি থেকে অচেনা-অজানা জায়গার আতঙ্ক পুলিশের চাকরির অনিশ্চয়তা, পরিবার পরিজন ছেড়ে থাকতে হবে জন্যে খুব চিন্তায় ছিলেন তারা। কিন্তু অভাব সর্বকালের সঙ্গী তাদের। কাজেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে সেই পেশায় যেতেই হল। সেখানেই ক্যাম্পে এক পেয়াদা মালুয়ারামের সঙ্গে তার পরিচয়। কথাপ্রসঙ্গে কথক জানতে পারেন ফুলবনির রাজা হরিচন্দন সিংদেও এর কথা এবং তার মহত্ত্বের কথা। কিন্তু তারপর হঠাৎই একদিন জানা যায় রাজাকে নাকি মৃত অবস্থায় তার পালঙ্কে পাওয়া গেছে, তদন্তে পাওয়া যায় গর্দানের হাড় ভেঙে মৃত্যু। মৃত্যুর সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সাথে ছিলেন ছোট রানী মাধবী। কে খুন করল রাজাকে? ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকা অবস্থায় এবং বাইরে এত প্রহরী থাকার পরেও কি করে আতাতায়ী রাজার খুন করল? ফাটাফাটি লেগেছে গল্পটা 🔥✨।
২.ভোগ :- রমাকান্ত ও কথক সুব্রত দুই বন্ধু। দুজনের বন্ধুত্ব এমডি পড়ার সময় থেকে। কথকের এক সময় জ্যোতিষের প্রতি একটা প্রবল টান ছিল এবং রমাকান্ত সম্পর্কে বেশ কিছু ভবিষ্যৎ গণনাও করেছিল । তার মধ্যে বিশেষ ছিল-খুন। রয়েছে এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান হুকুম সিং। রয়েছে এক কুয়ো যার নাম শুনলেই কেঁপে ওঠে রমাকান্ত। কোন দেবতার পূজো? যার জন্য ভোগ?
৩.উত্তরপুরুষ :- এই গল্প পুরোপুরি কাহিনী বলার ছলে রচিত। তিন প্রজন্মকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কাহিনীর প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে। বিস্তারিত নিচে লিখছি ,বাকিটা পাঠক পড়ে নেবেন।
৪.নিয়ন্তা :- এটি একটি অনুবাদ গল্প। তবে অনুবাদ গল্প হলেও গল্পটা পড়ে কিন্তু কখনোই মনে হয় না যে এটি অনুবাদ করা বরং অনেক বেশি মৌলিক বলেই মনে হয়। মেরি শিল্পানের সঙ্গে গুস্তাভ লিংহ্যামের ভালোবাসার সম্পর্ক। গুস্তাভের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এই খুনের সবটাই সাজানো। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব?
💫ব্যক্তিগত ভালোলাগা/থিম বর্ণনা ১.অভিনবত্ব(Uniqueness)🕊️𐂺 :- "খাঁচা" গল্পটি এগিয়েছে একটি জার্নালের মাধ্যমে গল্প বলার ছলে । তবে সবথেকে ভালো লাগার বিষয়টি হচ্ছে এই খুনের প্যাটার্ন। মানে বলতে চাইছি যেহেতু এটি ব্রিটিশ ভারতের কাহিনী বর্ণনা করছে সেক্ষেত্রে তখন আজকের দিনের মত এত প্যাঁচালো মাপের খুনের পদ্ধতি তৈরি হয়নি, কিন্তু তা সত্বেও এটি প্যাঁচালো (তখনকার মতে) । কারণ, যেভাবে পাখির খাঁচার দাঁড়ের অংশ ব্যবহার করে খুন করা যায়, এটা তখনকার দিনে অভিনব উপায়ে খুনের পদ্ধতি ছিল। এটাকে লেখিকা "Wild Tone" এর আদলে গড়েছেন। ২.অতি সহজ কিন্তু সহজ না🙀 :- "খাঁচা" গল্পে "অতি সহজ কিন্তু সহজ না " Phrase ব্যবহার করে আমি বোঝাতে চাইছি যে, এই গল্পটিকে এমন ভাবেই সাজানো হয়েছে যে ইনভেস্টিগেশন চলছে, অনেক সম্ভাবনা এবং প্রমাণও উঠে আসছে,অথচ আসলে কি হয়েছে ধরতে পারা যায় না। যেটা আমার মনে একটা বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। ৩.আবহ 🌬️ :- "ভোগ", নাম প্রসঙ্গে উঠে আসছে ভোগের কথা। সে ভোগ কে কেন্দ্র করেই গল্প। বিশেষ করে এখানে পাখির বর্ণনা, নৃশংসতা এগুলোকে বড্ড Brutal দেখানো হয়। "কুয়ো"দেখা কেন বারণ তার ঘটনাও জানতে পারা যায়। ৪.Osteology র ব্যবহার 🦴:- "ভোগ"গল্পে লেখিকা এখানে যেহেতু ডাক্তারি পড়ুয়ার চরিত্র স্থাপন করেছেন, সে ক্ষেত্রে তাকেও বেশ কিছু Medical Terminology সম্পর্কে গভীর পড়াশোনা করতে হয়েছে এবং তার ছাপ স্পষ্ট। যেমন এখানে পেলভিক গার্ডেল এর প্রসঙ্গ। বাকিটা পাঠকের পড়ার উপর নির্ভর করছে। ৫.নৈসর্গিকতা 🏞️:- লেখিকা যেমন পূর্ব গল্পগুলিতে একটা ভয়াল আবহ সৃষ্টি করেছেন, তেমনিই "উত্তরপুরুষ"গল্পে এর পাশাপাশি অপরূপ নৈসর্গিক পরিবেশ ধরা পড়েছে তার লেখায়। পাহাড়, মেলঘাটের জঙ্গল সবমিলিয়ে লেখিকার নিপুন শিল্পনৈপুণ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। ৬.শিকারীর চোখে শিকার 🪤:-শিকার নিয়ে যেহেতু "উত্তরপুরুষ" গল্পটি সেক্ষেত্রে শিকার কিভাবে করতে হয় এবং মূল চরিত্র মোহনলাল কিভাবে শিকারিতে পরিণত হল ও তার পূর্বপুরুষদের শিকার কাহিনী সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন লেখিকা। ৭.লেখিকার অন্তর্নিহিত কবিসত্ত্বা 🎶:- "বাঘটার চোখে কুয়াশা নেমেছে", "পুরোনো একটা ডাক ওর কানে বোলতার গুঞ্জনের মত বিঁধছে" এই উক্তিগুলির মাধ্যমে লেখিকার অন্তর্নিহিত কবি মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ৮.রহস্যায়ন :- শেষ গল্প "নিয়ন্তা", আগাথা ক্রিস্টির " The Witness For The Prosecution" গল্প অবলম্বনে লেখা। যেটির মূল গল্প, এবং একটি মিনি সিরিজ আমার পূর্বে পড়া এবং দেখা। কিন্তু একবারও মনে হয়নি যে এটি অনুবাদ বা ওই ছায়ায় রচিত, পরে জানতে পারি কৃতজ্ঞতা স্বীকারে যে এটি ওটি থেকে অনুপ্রাণিত এবং ঋজু গাঙ্গুলীর "সাক্ষী" থেকে অনুসৃত। এই গল্পটির মধ্যে একটা Thrilling But Symmetrical এটি ছোঁয়া পেয়েছি আমি।
✨যিনি/যারা এই বইটি সম্পর্কে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে হ্যাজ নামাচ্ছিলেন তাকে/তাদের বলবো মাননীয় আপনি আগে বইটি পড়ুন, বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি দেখুন, বইটি ভালোভাবে হাতে নিয়ে উল্টে দেখুন দেখবেন পাল্টে গেছে 🙃।
💫সুমন সরকার দাদার প্রচ্ছদের একজন ভক্ত আমি। তার হাতের ছোঁয়ায় বহু প্রচ্ছদ পছন্দ হওয়ার , বইয়ের ভেতরের content না দেখেই কিনেছি। প্রকাশক হিসেবেও দাদা প্রথম বই দিয়েই বাজিমাত করে দিয়েছে বলে আমার মত। আর এই বইয়ের প্রচ্ছদ, অলংকরণ যিনি করেছেন সেই রৌণক মন্ডল দাদাকে, ভাই হিসেবে শুভেচ্ছা জানালাম। Black টোনের ওপরে প্রত্যেকটা গল্পের আদলে চরিত্র গুলোকে ঠিকঠাক বসিয়ে একটা ফুলস্কেপ প্রচ্ছদ হয়েছে, যেটা প্রচন্ড Eye Catching। প্রথম বই হিসেবে রেখাপাতের Production Value,Price ,Page Quality নিয়ে কোন কথা হবে না বস। ✨ পাঠ সুখকর হলো