ডাক বিভাগে চাকরি করার সূত্রে নানা ধরনের জ্ঞানী ও গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছে। তাঁদেরই একজন হলেন আশিস ভশ্চাজ। শান্ত, নির্বিরোধী মানুষটি আমার কাছে প্রচুর বকাবকি খেয়েছেন এককালে। রিটায়ার্ড তিনি আজ টায়ার্ড আমার অফিসে এসে জানালেন, একটি বই লিখেছেন তিনি। বিশেষভাবে কৌতূহলোদ্দীপক ঠেকল বইয়ের নামটি। কেউ কাজের বদলে কথা দিয়ে পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে চাইলেই আমার বক্তব্য ছিল (ও আছে)~ "আজাইরা প্যাচাল পাইড়েন না।" সেই শব্দবন্ধ-বহনকারী বই হাতে এলে পড়ে দেখতে হয় বইকি। অতঃপর পড়া হল শীর্ণকায়, অপেশাদারি হলেও সযত্নে মুদ্রিত বইটি। মোট সতেরোটি আক্ষরিক অর্থেই নাতিদীর্ঘ নিবন্ধ-গোছের লেখা আছে বইটিতে। তাদের বিষয়বৈচিত্র্য বিপুল। বৈদিক জীবনদর্শন নিয়ে ভাবনা, বিভিন্ন বিখ্যাত বা স্বল্পজ্ঞাত সাহিত্যকীর্তি নিয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করা, রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ নিয়ে আলোচনা, স্নেহাশিস-সম্বলিত চিঠি— সবই এসেছে এতে। এগুলো পড়তে গেলে সত্যিই বিস্মিত হতে হয় লেখকের পাঠের পরিধি দেখে। তার সঙ্গে কিঞ্চিৎ আক্ষেপও হয় এই ভেবে যে ভদ্রলোকের পড়াশোনা ও নিজস্ব ভাবনাকে আরও গুছিয়ে, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণাত্মক যথাযথ নিবন্ধের আকার দেওয়াটা কেউ হাতে ধরে শেখালে আজকের ছাত্রছাত্রীদের প্রভূত উপকার হত। আশিসবাবুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আপনার এই বইয়ের টার্গেট ক্লায়েন্টেল বা রিডার কারা?" মাথা দুলিয়ে ভদ্রলোক উত্তর দিয়েছিলেন, "এই... যারা বই-টই পড়ে।" টিপিকাল আশিসবাবু! আগে হলে এইরকম উত্তরের জন্য ভদ্রলোক একটা কড়া ধাতানি খেতেন। এখন আর সে-সব দেওয়া গেল না। বরং এই ভূতে-কিলোনো মানুষটির জ্ঞানস্পৃহার সামান্য হলেও পরিচায়ক বইটি পড়ার অনুরোধ করেই থামছি।