এক কথায় দুর্দান্ত একটা ম্যাগাজিন 👌 ম্যাগাজিনের কিং কে নিয়ে ফিচার গুলো,৫ টা অনুবাদ গল্প,মৌলিক গল্প কোন কিছুই হতাশ করে নাই।অনেক দিন পর একটা ম্যাগাজিন পড়ে পরিতৃপ্তি পেলাম।
★ব্যাক্তিগতভাবে সবচেয়ে পছন্দের ফিচার লেগেছে কুদরতে জাহান আপুর লিখা "স্ট্রেঞ্জার থিংকস এবং স্টিফেন কিং" লিখাটি।আমার অন্যতম প্রিয় সিরিজ এবং লেখক নিয়ে লিখা ফিচারটি মুগ্ধ করেছে একদম।
★পাঁচটি অনুবাদ গল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে "দ্য গ্রেভইয়ার্ড শিফট" গল্পটি।রাতের বেলায় পড়ার সময় শিউরে উঠেছি মাঝে মাঝে।ভেরি ক্রিপি একটা গল্প।অনুবাদ টাও দারুন ছিল।
★মৌলিকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পির "যে জীবন ফড়িংয়ের "। মাত্র দুই পাতার এই গল্প এত দারুন ছিল বলার বাইরে।
★আফসোসের একটা জায়গা হচ্ছে তানজীম রহমানের ধারাবাহিক উপন্যাসটা।দুর্দান্ত লাগতেছিল,এমন এক জায়গায় শেষ করেছে উসপিস লাগতেছে।এখন তিন মাস অপেক্ষা করে বসে থাকতে হবে!
আর হ্যাঁ অবশ্যই তানিম নূরের সাক্ষাৎকার টার কথা বলতেই হয়।কিংয়ের একটা ছোট একটা গল্প বা নভেলার উপর বেজ করে দেশীয় প্রেক্ষাপটে একটা সিনেমা বানালে গোগ্রাসে গিলতাম ❤️
আশা করি এরপর সাসপেন্স " ক্রাইম থ্রিলার" ভিত্তিক এরকম আরেকটা সংখ্যা বের করবে।
স্টিফেন কিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই কিং নামটাই যথেষ্ট থ্রিলার /হরর লাভারদের জন্য_ সাসপেন্স ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় স্টিফেন কিং কে দেখে নিরদ্বিধায় লুফে নেই। পড়া শেষে এতটুকু অবশ্যই বলবো আমাকে বিন্দুমাত্র হতাশ করে নি সাসপেন্স।
স্টিফেন কিং কে নিয়ে ফিচারগুলো ভীষণ ভালো লেগেছে, অনেক কিছু জানা হলো কিং সম্পর্কে।
স্টিফেন কিং এর ৫ টা অনুবাদ গল্প ছিলো। সবগুলো গল্প উপভোগ করেছি, ভীষণ ভালো ছিলো।
মৌলিক এর মধ্যে দুই পৃষ্ঠার "যে জীবন ফড়িংয়ের" দুর্দান্ত ছিলো। এছাড়াও ডিব্বা,লাল চাঁদের রাত ভীষণ ভালো লেগেছে।
তানিম নূরের সাক্ষাৎকার টা ভালো লেগেছে। এককথায় চমৎকার একটা ম্যাগাজিন👌
'সাসপেন্স' ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যাটি এক কথায় চমৎকার। নামের মতোই পুরো ম্যাগাজিন জুড়ে রয়েছে রহস্য, থ্রিল, হররের এক অনবদ্য মিশ্রণ, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখে।
এই সংখ্যাটির সবচাইতে বড় আকর্ষণ হলো ভ্যারাইটি। প্রচ্ছদ দেখেই স্টিফেন কিং-কে ধরে ফেলবেন জানি। তাঁকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। উনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। যা রীতিমতো আমার জন্য ট্রিট ছিলো। সাথে উনার লেখা গল্পগুলার কথা নতুন করে আর কি বলবো? এরকম উন্নত মানের লেখা যে মানুষ লিখে কেমনে! অনবদ্য।
পাশাপাশি আমাদের লেখকদের গল্পগুলাও অনেক সুন্দর ছিলো। চমৎকারভাবে সব উপস্থাপিত হয়েছে। যা ম্যাগাজিনটাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে।
সবমিলিয়ে, যতো কথাই বলি না কেনো, আমার অনুভূতি আপনাদের হয়তো বোঝাতে পারবো না। এতোটুকুই বলবো, ম্যাগাজিনটা অবশ্যপাঠ্য। বিনোদনের নিখাঁদ ভান্ডার। অবশ্যই সংগ্রহ করবেন। নাহলে অনেক কিছু মিস করবেন কিন্তু।
দুই বাংলার সবচেয়ে বড় থ্রিলার ম্যাগাজিন 'সাসপেন্স'এর প্রথম সংখ্যা ফিচার করেছে স্টিফেন কিং-কে। আধুনিক হরর সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখকের প্রতি প্রথম সংখ্যায় নড দেয়াটা আমার মতে স্ট্র্যাটেজিক্যালি এক দারুণ কাজ হয়েছে।
যে ম্যাগাজিনের নাম 'সাসপেন্স' তার প্রথম পর্বেই স্টিফেন কিং-এর বিভিন্ন গল্পের অনুবাদ, তাকে নিয়ে ফিচার, থ্রিলার গল্প, ধারাবাহিক হরর উপন্যাস, কমিক্সের সংমিশ্রণ সেই সংখ্যাকে করেছে যথোপযুক্ত। আমি পুরো ম্যাগাজিনে একটি খারাপ লেখা পাই নি।
গেটস ফলের মিলে কর্মরত 'কলেজ বয়' হল যখন একদল কর্মী নিয়ে বিভিন্ন ফ্লোর পরিষ্কার করার কাজে নেমে পড়েন তখন-ই তাদের জীবনে নেমে আসে একের পর এক মৃত্যুসম অস্বস্তির ছোঁয়া। কিং তো অস্বস্তি, গা গুলোনো অনুভুতি সৃষ্টির ওস্তাদ এমনিতেই, সাথে অনুবাদ হয়েছে সুন্দর।
স্টিফেন কিং-এর লেখনি, চরিত্রনির্মাণকৌশল, বিভিন্ন উপন্যাসের সাথে এ ফিচারে আগ্রহী পাঠকের পরিচয় করিয়েছেন ওয়াসি।
৩) ডিব্বা: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
আত্মহত্যা নাকি হত্যা? চিরাচরিত এই প্রশ্নের সুলুক সন্ধানে বেরুনো ওল্ড স্কুল তদন্তকারী বাহাদুর বেপারি নতুন প্রযুক্তির বিড়ম্বনা ও বিস্ময়ের সাথে পাঠককেও নিয়ে যাবেন। মজার গল্প।
৪) সাক্ষাৎকার: নির্মাতা তানিম নূর
ঘরে ঘরে সুপরিচিত নির্মাতা তানিমের সাথে 'সাসপেন্স' টিম কথা বলেছেন তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র এবং থ্রিলারের মুভি অ্যাডাপ্টেশনের সম্ভাবনা ও নানা দিক নিয়ে।
৫) একটুখানি রাতে রাগিনী: তানজীম রহমান
আমার প্রিয় লেখক তানজীম ফিরেছেন তাঁর ধর্ম, মিথ, দর্শন ও আর্বান লিজেন্ডের সংমিশ্রণের হরর জগৎ নিয়ে। দারুণ এক ক্লিফহ্যাঙ্গারে আপাতত ইতি টানলেন লেখক ধারাবাহিক এই উপন্যাসের।
৬) নাইট শিফট: শরীফুল হাসান
রাতে ডিউটি করার সময় কুদ্দুসকে আজমল ঘরের বাইরে যেতে মানা করেছে। শেষ পর্যন্ত নতুন নাইটগার্ড কি কথা শুনবে? ভয়ের এই গল্প ভালো লেগেছে।
মহাকাশ থেকে ফিরে আসা এক নভোচারীর ভয়ংকর কিছুর মাধ্যম হয়ে ওঠার গল্প এটি। কিং যথারীতি চরিত্রগুলোকে পরিচিত করে পরবর্তিতে নিয়ে এসেছেন ভয়াল এক শেষ। অনুবাদ ভালো।
৮) বিচ্ছু ছোটন: আঁকা: দ্য সেকেন্ড স্টুডিও। লেখা: সিদ্দিক আহমেদ
১৯৭১ সালে সব হারানো দৃঢ়চেতা এক কিশোরের ক্রমাগত মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার এ ধারাবাহিক কমিক্সের অঙ্কন ও গল্প আগ্রহোদ্দীপক।
৯) ১৪০৮: মূল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- শাহেদ জামান
এই সংখ্যার সবচেয়ে দুর্দান্ত লেখা আমার কাছে এটি। হোটেলের অদ্ভুত রুমে কারো ভৌতিক অভিজ্ঞতার গল্প তো কমবেশি আমাদের প্রায় সবার পড়া তবে স্টিফেন কিং ১৪০৮ নাম্বার রুমে লেখক মাইক এনস্লিনের গল্পকথনে যেরূপ জ্যামিতিক কল্পনাশক্তি ব্যবহার করেছেন আর তীব্র ভয় সৃষ্টি করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। অনুবাদও হয়েছে যথাযথ।
১০) যে জীবন ফড়িংয়ের - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
ছোট্ট এক গল্প তবে সুন্দর। পুনর্জন্মের থিম ব্যবহার করে এরকম গল্প লেখায় বাপ্পী মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।
১১) সাতাশ বছর পর একদিন: শাহরিয়ার জাওয়াদ
বিষাদগ্রস্ত লেখক সুলতানের জীবন কি মিলুদার জীবনের-ই প্রতিচ্ছবি? অতিপ্রাকৃতিক এই গল্পে ধূসর কবির এক ধরনের আবির্ভাব ভালো লেগেছে।
১২) কুইটারস, ইনক: মূল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- আশিকুর রহমান
প্রিয় পাঠক, সিগারেট ছাড়তে চান? গল্পের মরিসনও চায়। কোন সুক্ষণে অথবা কুক্ষণে বন্ধু জিমির সাথে দেখা হয়ে গেলে মরিসন কুইটারস, ইনকের ঠিকানা পেয়ে যান। পরবর্তিতে কিং-এর লেখনি ধরে আপনি চলে যাবেন এক উইয়ার্ড ফিকশনের জগতে। ভয়াল সে জগৎ।
১৩) স্টিফেন কিং: ভয়ের মোড়কে মানুষের গল্প। অয়ন ইসলাম
স্টিফেন কিং মানেই ভয়ের গল্প নয় এবং একইসাথে কিং-এর কোন কোন বই দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন তার দিকনির্দেশনা আছে সংক্ষিপ্ত এই ফিচারে। আছে বিশ্লেষণ। গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
১৪) লাল চাঁদের রাতে: বাপ্পী খান
ভয়ংকর অপরাধী হারুন ঘটনাচক্রে গিয়ে পড়েছে রাঙামাটির বনে। বিশেষ এক রাতে, বিশেষ মহাবিপদ যেন ওৎ পেতে আছে হারুনের জন্য সেখানে। পাহাড়ী হররের সাথে পাঠকের দেখা হবে এই গল্পে। বাপ্পী খান চমৎকার লিখেছেন।
১৫) জিন: উৎস, উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ। সিদ্দিক আহমেদ
আমাদের গতানুগতিক জিনসংক্রান্ত ধারণার বাইরে বিভিন্ন ধর্ম এবং মিথলজির সাথে জিনের সংযোগ তথ্যবহুল ও সহজ আলোচনা করেছেন এই ম্যাগাজিনের সম্পাদক সিদ্দিক আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ।
১৬) ইতি প্রিয়ভাষিণী: নাবিল মুহতাসিম
নাবিলের কোন লেখা পড়া হলো অনেক দিন পর। এআই কি ঈর্ষান্বিত হতে পারে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বভূক ঈর্ষার পরিণতিতে রিয়াদের সাথে কী ঘটতে যাচ্ছে। এক বসায় পাঠককে আগ্রহের সাথে বসিয়ে গল্পটি পড়িয়ে নিবেন লেখক।
১৭) স্টিফেন কিং এবং স্ট্রেঞ্জার থিংস: কুদরতে জাহান
এই ফিচারটি মূলত কিং-এর নিয়মিত পাঠকদের জন্য। গল্প-উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের মধ্যকার অদ্ভুত সংযোগের বর্ণনা আছে এখানে। ভালো লেখা।
১৮) ডাস্টবিন: নসিব পঞ্চম জিহাদী
পাঁড় বাটপার মোকাদ্দেম উদ্দিন ওরফে এনামুল কবির রুদ্রের এক বিশাল দাঁও মারার গল্পে এনট্রি ঘটে হরর উপাদানের। শেষের সাবটেক্সট একদম কঠিন।
১৯) আমায় দেখতে যেও দারুল ফুলের বনে: মাশুদুল হক
ভবিষ্যতের উদ্দেশে পাঠানো স্ত্রীর কিছু ই-মেইলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও তিক্ত সত্যের মুখোমুখি যখন স্বামী হয়ে পড়েন তার কাহিনী এটি। বেশ কিছুটা বিষণ্নতার গল্পও।
বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত সার্জন রিচার্ড পাইনের এক দ্বীপে সম্পুর্ণ একা আঁটকে পড়া এবং তাঁর সারাজীবন ধরে যেকোন মূল্যে সার্ভাইভ করার বাসনা তাকে দিয়ে যা যা করায় তা দিয়ে স্টিফেন কিং আমাদের বারবার দেখিয়ে দেন প্রকৃত হরর আসলে বাইরে নয় আছে আমাদের ভিতর-ই। দারুণ এক গল্প, দারুণ অনুবাদ।
২১) হারানো বিকেলের সিন্দুকে: এনামুল রেজা
বাংলাদেশের সফল তরুণ ঔপন্যাসিক এনামুল রেজা তাঁর রিডার ও নভেলিস্ট লেন্সে স্টিফেন কিং-কে নিয়ে সুন্দর এক আলোচনা করেছেন এই ফিচারে।
২২) নিশি বিল: আঁকা ও লেখা- রাজীব
বিলে ডুবে যাওয়া এক কিশোরের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে কমিক্সটি রচিত। বিলের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন, গুমোট রঙ কমিক্সে ফুটে ওঠায় ভালো লেগেছে। তবে এটি ধারাবাহিক কি না ঠিক নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
স্টিফেন কিং-এর উপর আগ্রহীরা এই সংখ্যা পড়ে তাঁর উপর থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়তো পেয়ে যাবেন। পাঠকমনে তৈরি হবে নতুন ইনসাইট।
সদ্য প্রকাশিত থ্রিলার ম্যাগাজিন সাসপেন্স পড়ে শেষ করলাম। হরর সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক স্টিফেন কিং-কে উৎসর্গ করা এই বিশেষ সংখ্যাটি শুরু থেকেই আলাদা এক আকর্ষণ তৈরি করে।
ম্যাগাজিনটিতে প্রকাশিত স্টিফেন কিং-এর অনুবাদ গল্প ও ফিচারগুলো ছিল এককথায় দুর্দান্ত। বিশেষ করে কুদরতে জাহানের অনুবাদে ‘আই অ্যাম দ্য ডোরওয়ে’ এবং বর্ষণ হাসানের অনুবাদে ‘সারভাইভার টাইপ’ গল্প দুটি দীর্ঘদিন মাথায় গেঁথে থাকার মতো।
এছাড়া দেশের জনপ্রিয় লেখকদের মৌলিক গল্পগুলোও ছিল সমান উপভোগ্য। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ এবং শরীফুল হাসানের ‘নাইট শিফট’।
সত্যি বলতে এই প্রথম কোন ম্যাগাজিনের প্রতিটি গল্প, উপন্যাস, ফিচার ও কমিকস শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমান আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। খুব কম ম্যাগাজিনই এমন পাঠ-তৃপ্তি দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, "সাসপেন্স" একটি চমৎকার থ্রিলার ম্যাগাজিন, যা রহস্য ও হররপ্রেমী পাঠকদের অবশ্যই ভালো লাগবে।
ঈদ পরবর্তী ছুটিতে মন মতো অনেক বই-ই পড়ে ফেললাম প্রায়। এক নাগাড়ে বিরতিহীনভাবে পড়ে যাচ্ছিলাম বলেই কিনা পড়ার গতিতে সামান্য ভাঁটা পড়ে গেলো। আবার বিশ্বকাপ উন্মাদনাও সাময়িক (আশা করি) এই রিডিং ব্লকের ক্ষেত্রে একটি কারণ হতে পারে।একদিকে যখন বই পড়া বন্ধ হলো, অন্যদিকে দুয়ার খুলে গেলো ফিল্ম দেখার। আমি তেমন ফিল্ম কনজিউমার না, কখনও ছিলামও না। বই যখন পড়তে পারছিলাম না, তখন ডুব দিলাম ম্যাগাজিনে ; ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ এর ওপর এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী "দ্য কিং অফ হরর" নামে বিশ্বসাহিত্য জগতে সুপরিচিত ‘স্টিফেন অ্যাডউইন কিং’ কে উৎসর্গ করা ‘সিদ্দিক আহমেদ’ কর্তৃক সম্পাদিত "সাসপেন্স" এর প্রথম এবং বিশেষ সংখ্যায়। থ্রিলার এবং সুপারন্যাচারাল সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থেকেই সাসপেন্স বেছে নেওয়া।
সঙ্গত কারণেই সাসপেন্স এর প্রথম সংখ্যা যাকে কেন্দ্র করে বিশেষ সংখ্যার রূপ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে, মূলত সেই ‘স্টিফেন কিং’- ই ছিলো আমার মূল আকর্ষণ। কিং-কে, কে না চিনে? মানুষের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার, সামাজিক বাস্তবতা আর কল্পনার সীমা ভেঙে দেওয়ার মতো অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই লেখক আমার পূর্ব-পরিচিত হলেও তার লেখালেখির সাথে তেমন একটা পরিচিত ছিলাম না।
সাসপেন্স থেকে একদিকে যেমন কিং-এর ছোট গল্পগুলো একে একে পড়ে যাচ্ছিলাম, অন্যদিকে কিং এর উপন্যাস কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রের সন্ধানও মিলছিলো সমানতালে। "Graveyard Shift", "I am The Doorway", "1408” এর মতো ছোট গল্প গুলো যেমন মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিলো, ঠিক তেমনি অভিভূত করে তুলছিলো, "IT", "The Shawshank Redemption", "The Green Mile" এর মতো বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোও।
সাসপেন্স এর কল্যানে, কিং-এর কল্যানে আমার পড়ার গতি আবার সচল হলো। নতুন করে যেই অভ্যাসের দাস হলাম, তা হলো নিয়মিত ফিল্ম দেখা। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কিং এর লেখা ছোট গুল্প গুলো (সাসপেন্স এ প্রকাশিত) একে একে পড়ে শেষ করে ফেলার পর, উপন্যাস পড়ার তেষ্টাটা যেন রয়েই গেলো। এখন খুঁজে খুঁজে উপন্যাসও পড়া শুরু করবো।
এইদিক বিবেচনায় ‘সাসপেন্স’ টিমকে একটা ধন্যবাদ দেওয়াই যায়, স্টিফেন কিং- এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেএয়ার জন্য এবং অনুবাদকদেরও ধন্যবাদ, স্টিফেন কিং রচিত নির্বাচিত কিছু ছোট গল্প বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
ওহ, আরেকটা কথা তো বলাই হলো না! সাসপেন্স এর এই সংখ্যা কিন্তু শুধু স্টিফেন কিং-এর লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এর পাশাপাশি প্রথম সংখ্যায় জায়গা করে নিয়েছে থ্রিলার গল্প, ফিচার, কমিক্স এবং আমার অন্যতম প্রিয় দুইজন লেখক তানজীম রহমান এবং মাশুদুল হকের ধারাবাহিক উপন্যাসও। সেগুলো উপভোগ করার জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ রইলো।
সাসপেন্স এর জন্য শুভকামনা। পরবর্তী সংখ্যার জন্য অপেক্ষায় থাকবো 🖤
সাসপেন্স। বিশেষ সংখ্যা স্টিফেন কিং। আধুনিক হরর ও থ্রিলার সাহিত্যের অন্যতম মহারথী স্টিফেন কিং। তার গল্পে দানব যতটা না বাইরে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মনোজগতের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সুপ্ত অবচেতন। মানুষ সবসময় আলোতে বাস করলেও, তার কৌতুহল বরাবরই অন্ধকারকে ঘিরে।
ম্যাগাজিনের শুরু হয়েছে স্টিফেন কিং এর গল্পের অনুবাদ দিয়ে যার শেষ হয়েছে কমিকস দিয়ে। মাঝে রয়েছে গল্প, নির্মাতা তানিম নূর ভাইয়ের চমৎকার সাক্ষাৎকার, অনুবাদ, ফিচার, কমিকস, ধারাবাহিক দুইটা উপন্যাস। ম্যাগাজিন সচরাচর পড়া হয় না। যারা স্টিফেন কিং এর গল্প এর আগে পড়েননি তাদের জন্য ‘সাসপেন্স’ হতে পারে দুর্দান্ত জিনিস। 'সাসপেন্স' এর ফিচার অংশ থেকে স্টিফেন কিং সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারবেন বলে মনে করি।
ধারাবাহিক উপন্যাস দু'টো পড়ে সাসপেন্স—এর পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায়। উপন্যাস দুটির পরের অংশ আশা করি পরবর্তী সংখ্যায় পাওয়া যাবে। সাসপেন্সে—এ বেশ কিছু নতুন লেখকদের গল্প পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। নতুন হওয়ার কারণ তাদের অন্য লেখনী পড়া হয়নি আমার। আর পরিচিত লেখকেরা তো আছেই, তাদের লেখনী বরাবরের মতোই ভালো লেগেছে।“বিচ্ছু ছোটন” কমিক্স টা বেশ মজা নিয়ে পড়ছিলাম। পাঁচ পৃষ্ঠার গল্পটা বলে দিচ্ছে পরবর্তী অংশ দুর্দান্ত হবে।
সাসপেন্স—এর কাজ এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে। একটি থ্রিলার ম্যাগাজিন দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়। সাসপেন্স—এর পরবর্তী কার্যক্রম গুলোর অপেক্ষায় রইলাম। আর তারা একটা কথা ঠিক বলেছে, বাংলা ভাষায় অন্ধকার, রহস্য, মনস্তত্ত্ব ও সাসপেন্সভিত্তিক সাহিত্যের জন্য এক বিশাল পাঠকসমাজ অপেক্ষা করে আছে।