অবিশ্বাস: অ্যামবুশে পিতা মারা যাওয়ার পর র্যাঞ্চ রক্ষার ভার পড়ল তরুণী জেনের ওপর। দুনিয়ায় আপন বলতে একমাত্র নাবালক ভাই। শহরের ব্যাংকার, শেরিফ, আশপাশের র্যাঞ্চমালিক… সবাই চাপ দিতে শুরু করেছে র্যাঞ্চ বেচে দেয়ার জন্যে। এমন সময় এল স্টিভ রাসেল। পাঁচ বছর আগে মাসছয়েক কাজ করেছিল ওদের র্যাঞ্চে। বাড়িয়ে দিতে চাইল সাহায্যের হাত। কিন্তু জেন কি ওকে বিশ্বাস করতে পারে?
যোদ্ধা: অ্যাপাচি সর্দার শা-তা-নে বারোজন যোদ্ধা-সহ পিছু নিয়েছে জেরেমিয়াহ ট্রিস্টের। পালাচ্ছে ট্রিস্ট। কিন্তু শা-তা-নে জানে, এ লোক পালাবে না। সুযোগ বুঝে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে। দাঁড়ালও। তারপর? নিঃসঙ্গ নেকড়ে: লুইস ক্যানট্রেল আর লি অ্যান। লি টানে, লুইস পালায়। ওর পেছনে শত্ৰু। লি-কে নিজের সঙ্গে জড়ানোর ইচ্ছে নেই। কিন্তু ছাড়বে কেন লি? সে যে ভালবাসে লুইসকে…
ঝামেলা: ওয়েস্ট উঠে নিজেকে সেরা হিসেবে দেখতে চেয়েছিল ব্ল্যাক হান্টার। পেতে চেয়েছিল অসামান্য এক নারী মেরি ওয়েবসনকে। কিন্তু জিম টার্নার এসেই পাল্টে দিল পুরো পরিস্থিতি।
এ ছাড়াও আছে প্রমাণ, বাকশটের বউ ও শাস্তি নামে আরও তিনটি দুর্দান্ত গল্প। আজই সংগ্রহ করুন।
মাসুদ আনোয়ারের জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯৫৯ সালে (সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম)। বর্তমানে সাংবাদিকতার ও বার্তা বিভাগের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য লিখে যাচ্ছেন ওয়েস্টার্ন বই। সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার বই এর সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগে।
এসএসসি'র প্রস্তুতি নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম গত একমাস, বিশ্বাস করা শক্ত- তবে এ সময়টা সত্যসত্যই বইয়ের সান্যিদ্ধ-হীন অবস্থায় কেটেছে আমার। এসএসসি'র মাত্র কিছুদিন আগে সিলেবাস শেষ করেছি, পরীক্ষার মাঝে ছুটিও পাচ্ছি বিস্তর- তাই প্রায় প্রতি সপ্তাহের ছুটিতেই একটা করে বই শেষ করছি এখন। এতে দুটো উপকার হচ্ছে:- এক- বইয়ের সান্যিদ্ধেই থাকতে পারছি, নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছে না। দুই- ভাষার চর্চাও হচ্ছে। পরীক্ষার খাতায় সাহিত্যরচনা করা যাবে....
এদের মাঝে সবার আগে ধরেছি যেটা- সেটা নিঃসঙ্গ নেকড়ে। গল্প সংকলন বলেই কোন সিরিয়াল মানিনি। যখন যেটা ইচ্ছে হয়েছে পড়েছি। সবগুলো পড়ার ইচ্ছা ছিল না, তাই শেষ করতে করতে দেরি হয়ে গিয়েছে।
মোট সাতটা গল্প-উপন্যাসিকা স্থান পেয়েছে সংকলনটায়। এদের মাঝে দুটো মৌলিক, বাকী পাচটা এডাপ্টেশন আর অনুবাদ।
প্রথম লেখাটাই উপন্যাসিকা- সংকলনের সবচেয়ে বড় লেখা; একাই ১১৫ পৃষ্ঠা দখল করে আছে বইটার। নাম "অবিশ্বাস"। অবশ্য "বিশ্বাস" হলেই বেশি কাহিনিসঙ্গত হতো নামটা।
উপন্যাসিকাটা চমৎকার, মার্জিত। উপাদেয়। আর সবচেয়ে বড় কথা যেটা- উপভোগ্য। পড়ার সময় এই মন্তব্যগুলোই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল বারবার। ভালোই লাগছিল পড়তে। তবে চমৎকৃত হলাম যখন মাসুদ ভাই বললেন এটা তার মৌলিক লেখা। কথাটাবিশ্বাস করতে কস্ট হচ্ছিল, কারন এত দারুন বর্ননা ভঙ্গি, কাহিনির গতিময়তা, চরিত্রগুলোর যথাযথ বিকাশ কোন মৌলিক ওয়েস্টার্নে চোখে পড়েছে বলে মনে করতে পারিনা। অবশ্য মৌলিক ওয়েস্টার্নই বা বাংলায় লেখা হয়েছে কয়টা?
এডাপ্টেশনে এসব ক্ষেত্রে ভালো করা হয়ত খুব কঠিন কিছু না, তবে মৌলিকের বেলায় অবশ্যই কঠিন। বাংলা ওয়েস্টার্ন সাহিত্যেও যে আমাদের বাঙালী লেখকরা মুন্সিয়ানার পরিচয় দিচ্ছেন- ব্যাপারটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
পড়াশেষে সকলেই স্বিকার করতে বাধ্য হবেন, লেখকের লেখনি অসাধারন, অসাধারন তার কল্পনাশক্তি।
দ্বিতীয় গল্পটা "যোদ্ধা"। অ্যাপাচিদের নিয়ে লেখা, আমি এসব ব্যাপার এড়িয়ে চলি। কারন আমার রঙ্গীন রঙ্গীন কল্পনাপ্রবণ মগজটা শুধু ওয়েস্টার্ন লাইফের আকর্ষনীয় দিকগুলোই দেখতে পায়। ওয়েস্টার্ন আমলে না জন্মানোর জন্য আফসোস করে স্রেফ এসব কারনেই। এর কঠিন-বাস্তবতাটা মানতে চায় না। ইচ্ছে হয় দিগন্তবৃস্তিত ধুলিধুসর ট্রেইল ধরে ঘোড়া ছোটাতে, ক্যাম্পফায়ারের মৃদু আলোয় কাঙ্খিতা নারীর সহচর্য্য লাভ করতে, উইক এন্ডে আকন্ঠ মদে চুর হয়ে থাকতে। এ জীবনের যে কঠিন কিছু দিকও থাকতে পারে সেটা মাথায় আসে না। তবে এসব পড়লে নিজের মাঝে কর্মস্পৃহাটা বাড়ে।
তৃতীয় গল্প- "প্রমাণ" তেমন একটা ভালো লাগেনি গল্পটা। ওয়েস্টার্ন আমলের শেষ সময় নিয়ে লেখা, যখন টেলিফোন আবিস্কৃত হয়েছে, যথেস্ট সভ্য হয়েছে (আ)মেরিকা। আসলে এটাকে একটা ওয়েস্টার্ন গল্প না বলে রহস্য বা গোয়েন্দা গল্প বললেই ভালো মানাবে।
চতুর্থ লেখাটা- "নিঃসঙ্গ নেকড়ে", এ সংকলনের টাইটেল গল্প।
মাসুদ আনোয়ারের ফ্যান আমি অনেক আগের থেকেই। "বাধা" ছিল আমার পড়া তার প্রথম ওয়েস্টার্ন, প্রথম বইতেই দারুন দাগ কাটেন তিনি আমার মনে। এরপর থেকেই তার কিছু পেলে সোল্লাসে পড়তাম, কিন্তু বিধি বাম- বাড়ী আমার ফরিদপুরে। তারচেয়ে বড় কথা আমাদের বায়তুল আমান-কে প্রায় অজপাড়াগাও বলা চলে, সেবা ওয়েস্টার্ন এখানে তেমন আসেনা। আসলেও নতুনগুলো, অর্ডার করে আনাতে হয়।
ফেসবুকে তার সাথে অ্যাড হওয়ায় তার নোট থেকে কিছু গল্প পড়ার সুযোগ পেলাম। এর মাঝে ছিল শাস্তি আর নিঃসঙ্গ নেকড়ের অর্ধাংশ। শাস্তি মোটামুটি লাগলেও নিঃসঙ্গ নেকড়ে আমার আগ্রহ সৃস্টি করে। কিন্তু কি করার, বাকী অর্ধেক পড়ার কোন উপায় নেই যে!
এরমাঝে সেবা থেকে বইটা বের করায় আমার লাভই হয়। কাঙ্খিত গল্পটা পড়ে ফেলি সবার আগে। অবশ্য পুড়োটাই পড়েছি এবার, কবে কতটুকু পড়েছিলাম তার সব কি এখন মনে আছে!?
এর পরের গল্প:- "বাকশটের বউ" এক বিয়ে পাগলাকে নিয়ে লেখা রম্য ওয়েস্টার্ন। দারুন লেগেছে গল্পটা, সেইসাথে আমার নিজেরও বিয়ের কুড়কুড়ানি কমেছে!
এরপর আছে "শাস্তি"। এটা আগেই পড়া, তাই আরেকবার পড়িনি। স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা না করলে দারুন ছিল বলেই মনে পড়ে।
শেষ গল্পটা- "ঝামেলা"। এটাও মৌলিক, এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল শব্দঘড়ের এক বিশেষ সংখ্যায়। তখনই পড়েছিলাম। মৌলিক হিসেবে ভালো। তবে অবিশ্বাসের মত অসাধারন নয়।