ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: বইয়ে গল্প আছে, ১. ঝিঁঝিঁ ২. এই লাল পিঁপড়েটা ৩. কবি ও নূপুরের ডানা ৪. বরফ যুগ ৫. দাঁড়কাক ৬. এইচ টু ৭. ঘুঙুরের শব্দ ৮. শুনতে পাচ্ছে, চুপ ৯. শেষটা হল না
এই ন'টি গল্পে বইটি সাজানো হয়েছে। লেখক ধ্রুব এষকে চেনে না এমন বাঙালি পাঠক কম আছে। দশহাজারের বেশি প্রচ্ছদ করেছেন তিনি। আমি অবশ্য তাকে অন্যভাবে চিনি। কালের খেয়া ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদের পাশাপাশি তিনি রচনাও লেখেন। তো মাঝেসাঝে তার লেখা পড়া হয়। কিন্তু দুঃখজনক আমি তার লেখা বুঝিই না। হউক সেটা মুক্তগদ্য কিম্বা গল্প। মানে অস্পষ্টতা থেকে যায়। কোত্থেকে শুরু হলো, কোথায় শেষ হলো, কাকে সম্বোধন করলো, কী বার্তা দিতে চাচ্ছে কিছুই বোধগম্য হয় না। এটা শুধু নিজের না অন্যেরও হয় কিনা সেটা জানতে আমার একবন্ধুকে জিজ্ঞেস করি। সে-ও বলে তার রচনা সে বুঝে না। অর্থাৎ ভাষাগত কোনো সমস্যা নয়, গদ্যে অস্পষ্টতা থেকে যায় তার। যাকগে পরে গিয়ে ভাবলাম একটি বই পড়ে দেখি। সেইজন্য ঝিঁঝিঁ বইটি পড়া হলো।
যেই ভয়ে তার লেখা পড়ি না সেটা ঝিঁঝিঁ—প্রথম গল্পটিতেই হলো। লেখার আগামাথা বুঝিনি। এরপর একেকটা পৃষ্ঠা উলটেছি আর গল্প শুরু করেছি। কিন্তু গল্পের শেষ অব্ধি গিয়ে কিছুই বোধগম্য হয় না। অনেকটি তো শেষ অব্ধি যেতেও পারিনি। সেটা শুধু আমার ব্যক্তিগত মতামত। অন্য কারো বুঝে আসতে পারে। অন্যথা লেখক একচল্লিশ কি বিয়াল্লিশখানা বই লেখতেন না।
সবশেষে খারাপ লাগছে এত সুন্দর একটি বইছবির সঙ্গে এমন একটি আলোচনা লেখার জন্য। তবে অন্যদের মতামত জানতে আগ্রহী। যারা তার সাইন্স ফিকশন কিম্বা অন্যান্য গল্প, রচনা পড়েছেন তারা অভিব্যক্তি জানাবেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.