নির্জন পাহাড়ি পথে বাইক চালিয়ে ফেরার সময় প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর আরদিশির শাপুর শিপলুর দেখা হয় আতঙ্কিত এক খনি কর্মকর্তার সাথে। বনের গভীরে অবস্থিত একটি প্রজেক্ট বাংলো থেকে দুজন কর্মচারী কোনো চিহ্ন না রেখেই স্রেফ উবে গেছে। সন্ধ্যার আবছায়ায় বনের প্রতিটি গাছের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে জ্বলজ্বলে চোখের রহস্যময় কিছু ছায়ামূর্তি, যারা কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকে। এরা কি কোনো অপরাধী চক্র, নাকি আদিম অরণ্যের রক্ষক 'সাইলেন্ট ওয়াচার'? মানুষের সীমাহীন লোভের বিরুদ্ধে প্রকৃতির এই নির্বাক অথচ ভয়ংকর রুখে দাঁড়ানোর পরিণাম কী হতে পারে?
অনেকদিন পর একটা ইবুক পড়লাম। নাবিল মুহতাসিমের ❝গহন অরণ্য❞।
আদর্শির প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু বাইক চালিয়ে ফিরছিলেন নির্জন এক অরণ্য থেকে। পথের মধ্যেই দেখা হয় খনিতে কাজ করা এক আতঙ্কিত ব্যক্তির সাথে। এসব ঘটনায় ছাপোষা কেউ হলে হয়তো এড়িয়ে যেত। কিন্তু শিপলু রহস্যের গন্ধ পায় এখানে। জানতে পারে দুজন কর্মকর্তা বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে। আর অরণ্যের এই পথের দুইপাশে সে জ্বলতে দেখে জ্বলজ্বলে চোখ। কারা এরা? কোনো ডাকাত বা সুযোগসন্ধানী নাকি অরণ্যের নীরব কোনো প্রহরী? শিপলু এই জ্বলজ্বলে চোখের অদৃশ্য ছায়া থেকে বের হতে পারবে তো?
ছোট্ট একটা ইবুক। প্রথমে বেশ রহস্য রহস্য আর ভৌতিক একটা আবহ ছিল। তবে মনে হলো গল্পটা জমে ওঠার আগেই শেষ হয়ে গেল। তবে ছোটো পরিসরের মধ্যেও মানুষের কব্জা করার যে আদিম প্রবৃত্তি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে কিংবা সবকিছুর উপরই তার অধিকার এমন মনোভাবের একটা চিত্র লেখক এখানে তুলে ধরেছেন। মানুষের লোভের শিকার যে আসলে নির্বাক প্রকৃতি হয় সেটা তো যুগ যুগ ধরেই জানা। তবে প্রকৃতি কখনো ছেড়ে দেয় না। শেষটা আরেকটু বড়ো হলে মনে হয় ভালো হতো।