Syed Iqbal is a painter and senior visual artist, lived and worked in Bangladesh prior to moving to Montreal in 1996. Iqbal is also a writer and illustrator. He has illustrated many children's books and written 14 publications, novels and short story books in Bengali language.
১৯৯৮ সালেও আওয়ামী লীগই ছিল ক্ষমতায়। তারপরও শিশু একাডেমির হাত ধরে এমনতর বই বেরিয়েছে, এটা আজকের দিনে—আরেক আওয়ামী শাসনামলে—অপ্রতীতিকর-অবিশ্বাস্য! আজকের দিনে সবেতেই তো বঙ্গবন্ধুস্তুতি, এতটা তেলে মর্দিত অবস্থা চব্বিশ বছর আগে ছিল না তবে! অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা ইকবালের পিতা সৈয়দ ইকবাল তিন গোষ্ঠীর কথা নিয়ে এসেছেন বইতে: মেথর, পার্বত্য আদিবাসী ও সমতলের দরিদ্র কৃষক শ্রেণি। শুভ পরিণতির অলীকত্বে গল্প শেষ করেন নি, গল্প শেষই করেন নি বলতে গেলে।
মেথরদের হিন্দিমিশ্রিত বাংলা (তাদের ভাষাটা কি আদতে?) সুদক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। মেথরপুত্র লছমন স্কুলে সম্মিলিত গঞ্জনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভাবে গঙ্গাদাদু আচ্ছা শিক্ষা দেবে রগড় করা ছেলেদেরকে, শিক্ষককে। লছমন ধাক্কা খায়: দাদু উলটো ক্ষমা চাইল তাদের কাছে! গল্প এখানেই শেষ, কোনো বাস্তবতাবিবর্জিত পরিণাম নেই। আরো ভালো লেগেছে নামগল্প 'খাগড়াছড়ির কংজুরি' আর 'ডানাওয়ালা মানুষেরা'। শান্তি বাহিনীর সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ, বাঙালিদের ভূমিদখল, পাহাড়িদের ওপর নির্যাতন এ গল্পের পটভূমি। ছোট্টো কংজুরির সাথে সাংবাদিক-আঁকিয়ে শারাফাতের খাতির হয় বিচিত্র উপায়ে; প্রবল ঘৃণা রূপ পায় মায়ায়। মূল কাহিনির পেছন পেছন রং মাখায় মৃত্যুৎসব–অনির্বাণ উৎসব। সমতলের সুরুজের বাপের প্রাণসংহার হয় গ্রামের মোড়লের হাতে। বিশালবপু বাপের পানিতে ততোধিক ফুলে ওঠা বপুকে সৈয়দ ইকবাল সুচারুরূপে চিত্রিত করেছেন লেখায়। ভীত জননীর ধারণা হয় শহরের মানুষ গ্রামের মানুষগুলোর মতন হৃদয়শূন্য নয়। কিন্তু সেখানেও তো সুরুজের জন্য ওঁত পেতে থাকে ডানাওয়ালা মানুষেরা, এক মানুষ কিছুটা খেয়ে আরেক মানুষকে দেয় খেতে; এভাবেই লোফালুফি চলে সুরুজের ওইটুকু দেহের ভেতর আটকে পড়া জ়েহেনটা নিয়ে। সপক্ষ মানবের কথা মনে হলেই ফেরেশতার কথা মনে পড়তে পারে, মনে হতে পারে দয়ার্দ্র-প্রেমার্দ্র কোনো চরিত্রের কথা। কিন্তু গল্পে, ছবিতে পুরো বিপরীত চরিত্রেই এঁকে দিলেন ইকবাল।