কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
তুষার যাত্রা" পড়তে গিয়ে মাসুদ রানা চরিত্র কে অতীমানবীয় কিছু মনে হচ্ছিল।যে কিনা কে জি বি'র প্রধান পলায়নপর জেনারেল তুর্গেনিভ কে ইউরোপ থেকে বের করে নিরাপদে আমেরিকার ফ্লাইটে নিরাপদে উঠিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। মাসুদ রানা কে ঠেকাতে "কে জি বি" ও "জে ইউ আর" উঠে পড়ে লেগেছে।এবং পুরো ইউরোপ ধাওয়া করে ফিরছে। চিরাচরিতভাবে মাসুদ রানাকে এখানে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ইউরোপ ও পুরো পৃথিবীর সব গোয়েন্দাপ্রধান ও ইন্টিলেজেন্স সার্ভিসের লোকজন সমীহ করে চলে।বিষয়টি একদিকে যেমন হাস্যকর অন্যদিকে ঠিক বিরক্তিকর ও।
সাদামাটাভাবে একজন সাহসী ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা হিসেবে মাসুদ রানার চরিত্র টা ই পারফেক্ট ও ঠিক মনে হয়।তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশের একজন ইন্টেলিজেন্স অফিসারের আকাশচুম্বী এমন জনপ্রিয়তা ও বিশ্বের মোড়ল নেতাদের এত তোষণ কেমন যেন একটা অতিকল্পিত সায়েন্স ফিকশন ভাব নিয়ে আসে গল্পের মাঝে।
এতকিছুর পরেও বইটির কাহিনী ও প্লট চমৎকার লেগেছে।পুরো মাত্রায় থ্রিল ছিল গল্পটার মাঝে।বিশেষ করে বিশাল ইউরোপের বুকচীরে ট্রেনযাত্রার যে বর্ণনা রয়েছে সেটা খুব ভালভাবেই উপভোগ করেছি।
রাশিয়া থেকে উদ্ধার করে আনতে হবে আঙ্কেল ছদ্মনামধারী সোভিয়েট পলিট ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্যকে। উদ্ধারের গুরু দায়িত্ব পড়লো রানার উপর। ট্রেনে শ্বাসরুদ্ধকর চেজিং বেশ উপভোগ্য ছিলো। এবং আবারও রানার সফরসঙ্গী প্রিয় চরিত্র রূপা।