ইসরায়েলের অভ্যন্তরে প্রচন্ড নাশকতামূলক তৎপরতা চালাচ্ছে মনাদিল দাউদের অ্যাকশান পার্টি । মনে হচ্ছে এরা সাচ্চা মুক্তিযোদ্ধাই বটে । কিন্তু রানা লক্ষ করছে এদের অ্যাকশানের ফলে ইসরায়েলিদের কারও কোন ক্ষতি হচ্ছে না, মারা পড়ছে নিরীহ আরব শিশু, নারী, বৃদ্ধ । এই মনাদিল দাউদই কেড়ে নিতে যায় ফ্রিডম পার্টির জন্যে আনা অস্ত্র । চায় বশির জামায়োলের লুট করা বাংলাদেশের সম্পত্তি এক টন সোনার সন্ধান, তার ভাইঝির প্রেম !
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
মাসুদ রানার একটা উপন্যাস স্বর্ণতরীতে পাওয়া মুসোলিনির হারিয়ে যাওয়া এক টন স্বর্ণ নিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছিল একটা জাহাজ। কারণ সম্পদটা বাংলাদেশের। সমস্যা হলো সেটা লুট করেছে ফ্রিডম পার্টি। ঐ স্বর্ণ দিয়ে আবার গগলের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে চায় তারা। মাসুদ রানা যে কোনও মূল্যে সেই স্বর্ণ উদ্ধার করবে। রঙ্গমঞ্চে ওর সাথে সোহেলও আবির্ভূত হয়েছে। এমন সময় হাজির হলো মনাদিল দাউদের অ্যাকশন পার্টি! ফ্রিডম পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে ও, কেড়ে নেবে গগলের দেয়া অস্ত্র আর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক টন স্বর্ণ। কিন্তু সমস্যা এখানে হাজারটা। স্বর্ণের হদিস একজন ছাড়া আর কেউ জানে না। তার উপর অ্যাকশন অথবা ফ্রিডম পার্টি, দুটোর একটা দলের সাথে ইজরায়েলের আঁতাত আছে। আর রানার কাছেও তথ্য নেই বললেই চলে। সোহেলেরও হাত-পা বাঁধা। কারণ একজন নিয়েছে মেজর শাকেরের ছদ্মবেশ, অপরজন হয়েছে ইজরায়েলি ব্রিগেডিয়ার এলাকু মেয়ার।
ভিন্টেজ রানা। অন্যরকম স্বাদ। এখানেও শেষ মুহূর্তে টুইস্ট পেয়ে গেলাম। সুজা চরিত্রটা অসাধারণ ছিল। পুরো রানা সিরিজে সবেচেয়ে বেশি ফাস্ট পিস্তল ড্র করে যারা তাদের মধ্যে অন্যতম হয়ে থাকবে এই সুজা।
মোটামুটি বিরক্তিকর একটা বই। আরও বিরক্তিকর সুরাইয়া নামক নারী চরিত্রটি। কেন, পাঠক তা পড়লেই জানতে পারবেন। শুরুর দিকে সুজাকে ঘাড়ত্যাড়া বেয়াদব মনে হলেও শেষে গিয়ে মন কেড়েছে।