কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
পলিটিকাল থ্রিলার কি তা প্রতি পাতায় পাতায় চিনিয়ে দিয়েছে মাসুদ রানার আরেকটি অসাধারণ বইটি। অ্যাকশন কম হলে কি হবে শেষের দিকে যা যুদ্ধের যা বর্ণনা পড়লা পড়লাম তা অনেক দিন মনে থাকবে। প্রথন দিকের অ্যাকশনের আক্ষেপ পুরোপুরি মিটিয়ে দিয়েছে শেষের দিকে। মাসুদ রানার সাথে লংফেলো, ফাদার ভ্যাসিলি সাথে শত্রু ভাদিম বুদানিনের চরিত্রগুলো দুর্দান্ত ছিলো। পাতায় পাতার থ্রিলের জন্য শেষ না করে উঠাই যাচ্ছিলো না। যারা সেরা মাসুদ রানার বই খুঁজেন তাদের জন্য এটা মাস্ট রিড বই।
বইটা ফ্রেডরিক ফরসাইথের 'দ্য আইকন' বই থেকে রূপান্তর করা হয়েছে।
এতো এতো পজিটিভ রেটিং আর রিভিউ দেখেই মূলত অনেকদিন পর মাসুদ রানা নিয়ে বসা। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি...
শুরুর প্রেমিজটাই ঠিক জমলো না। ক্লিনার ফ্রল কজলভের চুরি করা কালো ফাইলটা ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়ার মোটিভটাই ঠিক সন্তোষজনক মনে হলো না। তার ওপর পুরো ঘটনায় রানাকে ইমোশনালি কানেক্ট করতে যেই ব্যাকস্টোরি নিয়ে আসা হলো তা খুবই খেলো মনে হলো। আর তারপর পুরো ঘটনায় সর্বদ্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ রানার দৃশ্যপটে অন্তর্ভুক্তি। এমন কোনো ঘটনা বইতে ঘটেনি যা রানার চিন্তার বাইরে ঘটেছে, এমনকি রানার প্রতিপক্ষকে তথ্য পাচারকারী ফাদারের কার্যকলাপও। আর রানার প্রতিপক্ষ? নাহ... সমীহ করার মতো কিছুই নেই, রানার হাতের পুতুল সে। যেকোনো থ্রিলারে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, গল্পের আনপ্রেডিক্টেবিলিটি - এসব না থাকলে ঠিক সন্তুষ্টি আসার জায়গা কমে যায়। এই বইটিতে ঠিক তাই তাই ঘটেছে।
ভালোই। তবে বইটার রিভিউ দেখে এক্সপেকটেশন বেড়ে গিয়েছিল,সেই অনুযায়ী ভালো লাগে নাই।কালো ফাইল হারানোর ঘটনাটাই কাকতালীয় ছিল।এছাড়া ল্যাপটপ আর ইন্টারনেটের ব্যবহার সেই সময়ে যেভাবে হাই ক্লাস প্রযুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে বর্তমানে এসে কিছুটা হাসিই পায়।
অসম্ভব রকমের মজার একটা স্পাই থ্রিলার। স্পাইং কূটবুদ্ধির খেলা পুরো গল্প জুড়ে। মাসুদ রানার অল্প কিছু বইয়ের মধ্যে একটা, যেখানে নায়িকা নেই। আরেকটা ব্যাপার ভালো লেগেছে, মাসুদ রানার নেপথ্যে থেকে কাজ উদ্ধার করা। সরাসরি কোন অ্যাকশনে রানা নেই এই গল্পে। তারপরও উপভোগ্য একটা গল্প।