একদল খুনি। ওদের কেউ প্রথমবারের মতো খুন করতে যাচ্ছে, কেউ আগে দুর্ঘটনাবশত খুন করেছে, কারো আবার খুন করাটাই নেশা। ওদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মাটির গভীরে রহস্যময় এক গোলকধাঁধায়। ওরা জানতে পারলো এখানে ওদের জন্য অপেক্ষা করচে ভয়ংকর অপার্থিব রহস্যময় এক প্রাণী। পালাতে চাইলে ফাঁকি দেওয়া যাবে না তাকে। পথের কাঁটা সরাতে হলে আবার খুন করতে হবে, প্রাণীটাকে, এবং হয়ত মানুষকেও। শুরু হলো বেঁচে থাকার এক রোমহর্ষক অভিযান। বেরিয়ে আসতে শুরু করলো একের পর এক রহস্যের জাল। গোলকধাঁধার অজানা বিপদ, শিকারী প্রাণীটির নারকীয় হত্যা আর একে অপরের ষঢ়যন্ত্রে টানাটান হয়ে ওঠে কাহিনী।
একটা বইকে অসাধারন বুঝাতে কি কি বিশেষন দেওয়া যায়? !! ওকে এই বইটার প্লট পুরাই তারছিড়া টাইপ। হরর আমার খুব প্রিয় জনেরা না কারন সচারচ ভয়টয় পাই না । বই পড়ে ভয় পেয়েছি এই রকম ও হয় না কিন্তু আমি যদি আসলেই কোন কিছুতে ভয় পেতে চাইতাম তাহলে সেটা এখন থেকে হবে আর্কন।
৫ জন মানুষকে অন্ধ করে নামিয়ে দেওয়া হল এক গোলকধাঁধায় যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক নারকীয় দানব। এই ৫জনের মধ্যে এক মিল আছে তারা সবাই খুনি কেউ ভাগ্যেরফেরে খুনি কেউ পেশাদার খুনি। এই খুনি দলের কাজ একটা বিশেষ ছুরি দিয়ে মারতে হবে ভয়াবহ এক দানবকে যেটা কিনা এই গোলক ধাধায় আটকা পড়েছে। যদি মারতে পারে তাহলে সামান্য চোখের বিনিময়ে বেঁচে যাবে আর যদি না পারে তাহলে চোখের জন্য আফসোস করার আর কেউ থাকবে না। সবচেয়ে ভয়াবহ হল এই ৫জনের ভিতর একজন জানে কি হচ্ছে এই গোলকধাঁধা। কিন্তু তার কাছেও সেই একটামাত্র উপায় নির্দিষ্ট ছুরি খুজে বের করতে হবে নয়ত................(বাকিটা নিজে পড়ে জেনে নেন আমি আর কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে :( )
যারা টুইস্ট ভালবাসেন তারা হয়ত খুব বেশি ধাক্কা খাবেন না যেটা খাবেন সেটাও কম না। কিন্তু হরর আর থ্রিলারপ্রেমিরা নড়েচড়ে বসতে পারে একই সাথে ভয় পাবেন আর দৌড়াতে থাকবেন । পুরো বইটা অসাধারন এক প্লটের উপরে বেস করে লেখা। সত্যি বলতে কি আমি মানিকেয়িজম নামের প্রাচীন ধর্মের উপর তীব্র আগ্রহ পাচ্ছি। ৫ টা চরিত্রের নিজেদের আলাদা আলাদা গল্প আছে । প্রত্যেকের গল্পটাই আলাদা । পড়া শুরু করে দেন এন্ড দেখেন খুজে বের করতে পারেন কিনা কে বাকি ৪জনকে অন্ধ করে নিয়ে এসেছে এই গোলকধাঁধায় প্রাচীন রিচুয়াল এর অংশ হিসাবে।
এইবার আসি যে জিনিসটা খুব বেশি বিরক্ত করেছে বইয়ের কিছু জায়গায় শুভ্র আর সিড এই ২টা নাম খুব দৃষ্টিকটু ভাবে উল্টাপাল্টা হয়েছে .।যদিও বইটা এতই দূর্দন্ত গতির যে হয়ত টেরই পাবেন না। তাও নেক্সট এডিশনে আশা করি ব্যাপারটা ঠিক করা হবে। আর মানিমেয়িজন সম্পর্ক এ আরেকটু বিস্তারিত বললে খুবই ভাল লাগত।
প্রথম অনেকদূর পড়ে আমার কাছে বইটাকে ওভাররেটেড বলে মনে হয়েছে। খুব যে টান টান উত্তেজনা প্রতি পাতায় পাতায় এমনটা ঠিক লাগেনি। কেন কে জানে! কয়েকজন অন্ধ লোককে একটা বিশাল গোলকধাঁধায় আটকে রাখার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক কিছু কিছু জায়গায় কতগুলো লুপহোল তৈরি করে ফেলেছিলেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এই অন্ধত্বটা কে লেখক ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। ঠিকভাবে ব্যবহার করলে আরও আতংক সৃষ্টি করা যেত। কিছুদূর পরপর চরিত্রের নাম ভুল ছাপানো আরেকটা বিরক্তিকর জিনিস। এ সমস্ত ব্যাপার হলে মূল গল্প পড়া বাদ দিয়ে দেখা যায় পাঠক তখন ভুল ধরতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পরে। তবে বইয়ের শেষ ৪০ পৃষ্ঠা যে কি ছিল রে ভাই! বাপ রে বাপ! মানুষজন এত কেন পছন্দ করেছে বইটা তা এই কয়টা পৃষ্ঠা পড়লে বুঝা যায়। জায়গামতো টুইস্ট আর একদম ধামাকা মার্কা টুইস্ট! কি ভাল লেগেছে? হরর ফ্যান্টাসি জন্রায় বেশ ভাল্ভাবে উতরাতে পেরেছেন লেখক গল্পটাকে, এই কাহিনীটা নিয়ে আমাদের দেশে কেউ যদি একটা ফ্যান্টাসি টাইপ সিনেমা বানাতে চায় তবে মন্দ হয়না। আর ভাল লেগেছে একদম বইয়ের শুরুতে লেখকের অ্যাকনলেজমেন্ট! খুব সুন্দর গুছিয়ে সাবলীল ভাষায় তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তার লেখার উপর অন্যান্য বই-সিনেমার প্রভাব স্বীকার করাটা মূল গল্পের চেয়েও বেশি মন ছুঁয়েছে।
বাপস! সিনেমার সেই দৃশ্যগুলো ভেবে দেখুন, যেখানে ট্রেনের ছাদের ওপর মুখোমুখি হয়েছে নায়ক আর খলনায়ক— আর ঠিক তখনই ট্রেন ঢুকেছে একটা টানেলে! ঘন অন্ধকার, গুমগুম শব্দ... আর কেউ জানে না ঠিক কোথায় রয়েছে দুই যুযুধান। এবার ভাবুন একটা প্রেশার-কুকারের কথা— যার মধ্যে ভরে দেওয়া হয়েছে অনেকগুলো আলাদা-আলাদা উপাদান। তারা অন্যের হাতে ক্রীড়নক মাত্র, বা অন্যের বিনোদনের উপাদান হিসেবে খাদ্যের সঙ্গে তুলনীয়। এও অন্ধকার, এখানেও জানা নেই কোন উপাদান মিশে যাবে কার সঙ্গে। এখানেও কেউ জানে না— কে হবে জল, আর কে অনল। অথচ তাপ বাড়ছে! আলোচ্য বইটিকে এই দু'ধরনের পরিস্থিতির কম্বিনেশন বলা চলে। এতে একদল খুনিকে একটা বিচিত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার শেষে কে টিকে থাকবে, বা আদৌ কেউ থাকবে কি না— এই নিয়েই আর্কন। তানজীম রহমান তিনটি কাজ অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে করে দেখিয়েছেন। তাদের জন্যই এই হরর নভেলটিকে স্বচ্ছন্দে পাঁচ তারা দেওয়া যায়। কাজগুলো হল: ১. গল্পের গতি শ্লথ না করেও তিনি ধাপে-ধাপে চাপ বাড়িয়েছেন— চরিত্রদের ওপর এবং পাঠকের ওপর! এ যে কী দুঃসাধ্য কাজ তা সুধীজন বুঝবেন। ২. এতে দেখানো প্রতিটি চরিত্রই আমাদের সহজ য়িন-য়াং মতে কালো। কিন্তু কালোর মধ্যেও যে কতরকমের শেড হয়, তা স্পষ্ট হয়েছে ধীরে-ধীরে। আমরা এদের মধ্যে কারও হয়ে চেঁচাতে চেয়েছি, আবার কারও মৃত্যুকামনা করেছি। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, আমাদের অভিমত বদলেছে অধ্যায়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ৩. গ্রিসের মিনোটর কিংবদন্তিকে যে বাংলায় আনা যায়— এ-কথা 'আর্কন' না পড়লে আমার বিশ্বাসই হত না। বইটার কি কোনো খারাপ দিকই নেই? আছে। উপন্যাসের শেষ তথা কার্য-কারণ ব্যাখ্যাটা বড়ো বেশি মাত্রায় অতিলৌকিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। তবু, সব মিলিয়ে আমি এই বইটিকে বাংলা ভয়ালরসে একটি দিকচিহ্ন বলেই মনে করব। যদি এখনও না পড়ে থাকেন, তাহলে অতি অবশ্যই বইটি পড়তে অনুরোধ করব। তবে হাতে সময় রাখবেন, কারণ শুরু করার পর এই বই ছাড়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব।
সত্যিই অসাধারণ। দুই কথায় যদি বলতে হয় তাহলে এটুকুই বলব। এই বছর বইমেলাতে বের হওয়ার পর থেকেই সবার কাছে প্রশংসা শুনে আসছিলাম বইটার, তাই জমিয়ে রেখেছিলাম। কিছুদিন যাবত বাংলা থ্রিলার গুলোতে ঐ একই রকম সাংকেতিক রহস্য, সিম্বোলিজম এই ব্যাপারটা যখন ক্লিশে লাগতে শুরু করেছে(যদিও বেশীরভাগ থ্রিলার গুলোই অসাধারণ) তখনই এই বইটা পড়লাম। এবং ভুল হয়নি, প্লটটা আসলেও অন্যরকম। ইউনিক। গতানুগতিক থ্রিলার এর থ্রিল, মিস্ট্রি, একশন সব তো আছেই। কিন্তু এসব ছাপিয়ে বই এর মূল উপাদান হরর/ভয়। অনেকদিন পর কোন বাংলা বই পড়ে এভাবে গা শিরশির করে উঠলো। গল্পটা দুই ভাগে বর্ণনা করা হয়েছে, অন্ধকারে (যা ঘটছে বর্তমানে) আর আলোতে(ফ্ল্যাশব্যাক বা স্মৃতিচারণ)। গল্পের শুরুতে দেখা যায় যে পাঁচজন লোককে অন্ধ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে একটা গোলকধাঁধায়। সাথে দিয়ে দেয়া হয়েছে একটা টেপ রেকর্ডার, যেখানে বলা আছে যে এই গোলকধাধা থেকে একটা ছুড়ি খুঁজে বের করে তাদের মুখোমুখি হতে হবে এক ভয়ংকর দানবের। মূল প্লট এটুকুই, কিন্তু এর ভেতরই আছে নানা সাবপ্লট। যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে গোলকধাঁধারর ভেতর তাদের কেউই নিরীহ নয়। কেউ খুন করেছে, নয়তো কেউ করতে যাচ্ছে। ঘটনা একটু পরপরই মোড় নিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দিকে, তবে প্রতিটা মোড়ের সাথেই ভয়ের মাত্রাটা বেড়ে গিয়েছে একটু একটু করে। আর গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে প্রাচীন এক ধর্মের লোমহর্ষক এক রিচুয়াল। বই এ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এর সুযোগ কমই ছিল, কারণ চরিত্র গুলো দৌড়িয়েই কূল পাচ্ছিল না, তবে এর মাঝেই লেখক পাকা হাতে প্রতিটা চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। একটা আদর্শ হরর থ্রিলার। লেখককে ধন্যবাদ, আরো বই এর অপেক্ষায় থাকলাম।
পুরা তব্দা খায়া আছি। মনে হলো জমজমাট রুদ্ধশ্বাসীয় কোনো হলিউড সিনেমা দেখে ঊঠলাম। এটাকে জনরা দিয়ে বিচার করলে এটাকে হরর টাইপ ফ্যান্টাসি বলব। বাংলার অন্যান্য হরর কাহিনীর মত বাপ-দাদার আত্মা দিয়ে এন্টাগনিস্ট তৈরি না করে একটা আলাদা ইউনিভার্স তৈরী করেছে, তার জন্য লেখককে হ্যাটস অফ। সাথে থ্রিল, সাসপেন্স, এডভেঞ্চার, মিথোলজি, নৃশংসতা তো আছেই। বইয়ের চরিত্রদের মধ্যে শুভ্রকে জন, অমুককে টম ক্রুজ আর তমুককে হ্যাকস হিসাবে ধরে আমি পড়ছি (স্পয়লার এড়াতে চরিত্র গুলার নাম নিলাম না)। গল্পটার দুটা দিক। এক. আঁধারে, দুই. আলোতে। আঁধারের কাহিনীটা বর্তমান। পাঁচটা চরিত্র সম্পূর্ণ পাঁচধাঁচের। লেখক এই পার্টে কখনো উত্তেজিত করেছে, কখনো ভয় পাইয়ে দিয়েছে আবার কখনো হালকা ট্র্যাজেডি এনেছে। তবে লেখকের সব চেয়ে বড় সফলতা হলো এখানে কোনো চরিত্রকে আবেগতাড়িত করে নি। আবেগ থাকলে হয়ত ঘটনা গুলোতে এত সাসপেন্স থাকতো না। আরেক দিক হলো আলোতে, এটা হচ্ছে অতীত কাহিনী। এখানে লেখক চরিত্রদের পরিচয় দিয়েছে। তবে এখানে লেখায় প্রচুর জড়তা ছিলো। অযথাই অনেক কিছুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য একতারা কাটতে চাইছিলাম। কিন্তু শেষ এক-দেড়শো পৃষ্ঠা যেভাবে আমাকে টুইস্টের আগুনে বসিয়ে রাখছে, তাতে আর তারা কাটতে মন সায় দেয় নি। লেখকের জন্যও শুভকামনা। বাংলা হররে ওনার আরোও লেখা আশা করি। আর বাতিঘরের প্রচ্ছদটা অমায়িক। গুডরিডস কাভার থেকে এই পুরান প্রচ্ছদ সরিয়ে নতুন এডিশনের প্রচ্ছদ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি, নয়ত সামনের সপ্তাহে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়া হবে 😷
সর্বপ্রথমে বলে নেয়া দরকার এরকম উপন্যাস লেখার জন্য মাইন্ডটা একটু অন্যরকম হওয়া লাগে। লেখক তানজীম রহমানের অরেকটা বই আগেই পড়েছিলাম। উনার এই জনরায় আগ্রহ আগেই বুঝা যায়। আমি আমেরিকান গডস পড়ার পরে থেকে এই জনরার সাথে পরিচিত হই। তার পরে এ লেখকের “কেটজালকোয়াটল ও সৃষ্টিবিনাশ রহস্য“ পড়ে বুঝতে পারি বাংলাদেশেও এমন লেখা শুরু হয়েছে। আমি গল্পের ভেতরের বেশী কিছু বলতে চাই না। কারণ সামান্য হিন্টসও প্লটের মজাটাকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। যারা ধারণা নিতে চান তারা এই বইয়ের গুডরিডসের বইয়ের বর্ণনাটা পড়ে নিতে পারেন। তবে বই সম্পর্কে এদ্দুর বলি গল্পের গতি, চরিত্রায়ন আর ছন্দ অপূর্ব হয়েছে। আর প্লটটা খুব অদ্ভুত হলেও লেখক কোন গ্রীক উপকথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন তা নিজেই বলে দিয়েছেন। আর জ্য পল সর্ত্রের থেকে মূল নায়কের অনুপ্রেরণা প্রমান করে লেখকের পড়াশুনার ব্যপ্তি। আমার আবার লিখাপড়া বেশী জানা লোককে ভাল্লাগে। সে জন্যও বইটার প্রতি ভালবাসা বেড়ে গেছে। যাই হোক, অনেক প্যাচাল পেড়ে ফেললাম। সবাইকে বইটা পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় নেই।
ওয়াও! মনে হল, একটানা নেটফ্লিক্সে একটা ধুন্ধুমার ডিস্টোপিয়ান হরর সিরিজ বিঞ্জ করলাম। বাই ফার, আমার পড়া বাতিঘরের সেরা বই। তবে বলতে হবে এটার প্লটের সাথে 'প্রেডেটরস' ও 'দ্য মেজ রানার' এর কিছুটা সিমিলারিটি আছে। আর কিছু যুক্তিগত ত্রুটিও ছিল। তাই এক স্টার কম দিলাম।
শেষ করলাম। অনেকদিন পর একটা বাংলা বই পরলাম যেটা একটানে শেষ করা হোল। তানজিম রহমানের " অক্টারিন" পড়ার পর থেকেই তার বাকি বইগুলো পড়ার অনেক ইচ্ছা ছিল। বেশি লিখলে স্পয়লার দেওয়া হবে, শুধু এটুকুই বলবো, যারা অক্টারিন পড়ে মজা পেয়েছেন, তাদের বইটা ভাল লাগবে।
প্রকাশকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি - দয়া করে "proof read" করবেন। বইয়ের ভেতর অজস্র typo, spelling error
এই বছরের বইমেলায় প্রকাশ হওয়া সবচেয়ে প্রশংসিত বইগুলোর মধ্যে আর্কন অন্যতম এবং গ্রুপে সম্ভবত এই বই নিয়ে সবচেয়ে বেশী রিভিউ এসেছে ।তাই এই অধমের রভিউ এত আহামতি কিছু না পড়লেও কিছু হবে না আর না পড়লেও কিছু হবে না । কিছুটা দেরিতে হলেও শেষ করলাম আর্কন । বইটি বের হওয়ার সাথে সাথে দারুন হাইপ তুলেছিল আর এত প্রশংসিত হয়েছিল যে আমি মোটামোটি নিশ্চিত ছিলাম এই বই আমার ভালো লাগবেই । যাইহোক কি রকম লেগেছে সেইটা কাহিনী সংক্ষেপের পরেই আসছি
প্লট - পাঁচজন মানুষ । তাদের কারো সাথে কারো আগে পরিচয় নেই । নেই কারো সাথে শারীরিক বা মানসিক কোন সম্পর্ক । কিন্তু একটা জিনিস সবার সাথে সবার মিল আছে তা হইল সাহস আর পেশা । এরা সবাই আন্ডারওয়াল্ডের লোক । সবাই নিজ নিজ পেশায় রাফ এন্ড টাফ লোক । ও হো আরেকটি মিল আছে এদের সবাইকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসাহয়েছে একটি অন্ধকার গুহার মতন জায়গায় । সবাইকে অন্ধ করে দেওয়া হল এবং বলে দেওয়া হল এই গুহায় আছে একটি অদ্ভুত জন্তু । ওদেরকে কোন অস্ত্র দেওয়া হয়নি । এই গুহার কোথায়ও আছে একটি ছুরি । খুঁজে বের করতে হবে সেই ছুরি এবং মেরে ফেলতে হবে সেই অদ্ভুত জন্তুটিকে । তবেই মিলবে মুক্তি ।
বাংলায় একটা কথা আছে “সকালের সূর্য দেখে বলা যায় দিনটি কেমন যাবে ” কিন্তু কথাটা যে পুরোপুরি সত্য নয় সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল আর্কন । যখন বইটি শুরু করেছিলাম তখন মনে হয়েছিল নিঃসন্দেহে এইবারের বাতিঘর তো বটেই বইমেলার অন্যতম সেরা বইটি পড়ছি । কারন বই পড়া শুরু করতেই যেটা লক্ষ্য করেছি সেটা হল ক্যারেক্টার ফ্লো । এইবার বাতিঘরের সব বইয়ের ভিতর এই প্রবলেমটা ছিল । এক একটি ক্যারেক্টার এক এক সময় ভিন্ন ভিন্ন রুপে দেখা যেত । একবার একটি ক্যারেক্টারকে দেখা গেল ভীষণ বুদ্ধিমান আবার কিছুক্ষন পর সেই একই ক্যারেক্টারকে এমন একটা কাজ করালো যেটা তার সাথে যায় না । মানে সে যদি আগের দৃশ্যের সেই বুদ্ধিমান লোকটি হয় তাহলে পরের দৃশ্যের এই কাজটি সে কোনভাবেই করতে পারে না । এই কারনে অনেক গুলো ভালো ভালো বই টপ লেভেলের অসাধারণ হতে গিয়েও শুধুই অসাধারণ হয়ে রইলো । কিন্তু আর্কন বইটি এর ব্যাতিক্রম । কারণ এই একটি বইতে আমি দেখলাম ক্যারেক্টার ফ্লো ফাস্ট টু লাস্ট একই রকম ছিল । কাহিনীর শুরুতে প্রতিটি চরিত্র যে রকম ছিল একদম শেষ পর্যন্ত তার কোন নড়চড় হয়নি । এই জিনিসটা খুব ভালো লেগেছে । আরেকটি ব্যাপার ছিল ক্যারেক্টার বিল্ডআপ । এইরকম একটি অন্ধ মিশনে যে কাজটি অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল । কারণ এখানে কেউ কাউকে আগে থেকে চিনে না । তাই সবার ক্যারেক্টার সঠিকভাবে তাদের নিজ নিজ ওয়েতে বিল্ডআপ করতে হয়েছে । এবং এর জন্য প্রচুর সময় নিতে হয়েছে । এই জিনিসটা ভালো লাগছে । কারণ প্রায় ৩৫০ পেজের মত একটা বইতে যদি ১৫০ পেজও ক্যারেটার বিল্ডআপে যায় তাহলে কোন সমস্যা নেই বরং প্রতিটি চরিত্র বুঝতে সুবিধা হয় । বাকি পেজগুলো নির্দ্বিধায় মূল ঘটনায় ব্যাবহার করা যায় । কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক । এই বই দুইটি পার্টে ভাগ করা । প্রথম খন্ড ছিল শুধুই চরিত্র বিশ্লেষণ এবং রহস্য দ্বিতীয় খন্ড ছিল উত্তর । বইয়ের প্রথম খণ্ড নিয়ে কোন কথাই হবে না । কারণ উপরে যা কিছু বলেছি সব ছিল প্রথম খণ্ডে । তাই যখন দ্বিতীয় খন্ড শুরু করছিলাম আমার আশা আগের থেকে আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেল । কিন্তু দ্বিতীয় খন্ড শুরু করার দুই পেজের মধ্যেই আমার বাড়া ভাতে লেখক চাই ঢেলে দিল । ব্যাপারটা অনেকটা গাধাকে মুলোর লোভ দেখিয়ে আগ বাড়ানোর মত । সবশেষে পাওয়া যায় কাঁচকলা । লেখকের লেখার হাত নিয়ে কোন কথা হবে না । এই রকম দুর্দান্ত আর শক্তিশালী লেখার হাত আমি কিছুদিনের মধ্যে দেখি নাই একটাও । কিন্তু লেখক যেটা করলো বইয়ের প্রধান টুইস্ট দিয়ে দিল বইয়ের মাঝখানে । দ্বিতীয় খণ্ড শুরু হয়ই টুইস্ট দিয়ে । একটি বই এখনো অর্ধেক পড়া বাকি আর আপনি এখন জেনে গিয়েছেন তারপর কি হবে । এখন আর বইটি পড়াও যে কথা না পড়াও একই কথা । শুধুই প্রায় ১৫০ পেজ পড়তে হবে কাহিনী জানা সত্ত্বেও । তাহলে আর থ্রিলার বলার দরকার কি ছিল । ড্রামা বললেই তো হয় । এই কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে লেখক ইচ্ছে করলেই পারতো । কারণ যে এত শক্তিশালী একটা লিখা লিখতে পারে সে সামান্য টুইস্ট জায়গা মত দিয়ে পারবে না এটা বিশ্বাস হয় না । শুধু যদি লেখক মেইন ঘটনার পর ২১২-২৫০ পেজের ঘটনাটা দিত তাহলে নিঃসন্দেহে আর্কন হত এই বছরের সেরা একটা বই (আমার মতে ) ।
বাকি খারাপ লাগা নিচে স্পয়লার হিসেবে আছে নিজ দায়িত্বে পড়ুন ।
********************* স্পয়লার***************
আরেকটি বিষয় হল যেই জন্তুটিকে মারার জন্য এত আয়োজন এত কিছু ঘটে গেল তার উপস্থিতি মাত্র শেষের দুই পাতা । জন্তুটাকে আরো আগে এনে বেশ কিছুক্ষণ লুকোচুরি করলে ভালো হত । যে পাঁচজন কে চুজ করা হল তাদের সবার লাস্ট সিনটাও পছন্দ হয় নাই । এইভাবে না দিয়ে একটু অন্য রকম করে দিলেই পারতো । তাহলে বেশ উপভোগ্য হত । জন্তু মারতে এসে নিজেরা নিজেরা মারামারি করে মরবে এটা একজনের ক্ষেত্রে মানা গেলেও সবার জন্যই এই পদ্ধতি একই সময়ে ইউজ করা পছন্দ হয় নাই । শুভ্র কে সবার শেষে মারলে ভালো হত । কাহিনী জমতো । শুভ্র মরার সাথে সাথেই কাহিনীর সব ইন্টারেস্ট শেষ হয়ে গেল আমার । **************************************************************************************
এই ছোটখাটো বিষয় যদি খেয়াল রাখতো তাহলে আর্কন নিয়ে আমি এতক্ষণ উচ্ছসিত প্রশংসা করতাম । অনেকেই বলতে পারেন- ভাই তুমি কেডা । তুমি প্রশংসা করলেই কি না করলেই কি । তুমি লেখকের ভুল ধরার কে । আমাদের ভালো লাগছে পছন্দ হইছে এই হল কথা । কথা ঠিক আমি কিছুই না । একজন ক্ষুদ্র পাঠক । নিজের ভালো লাগা মন্দ লাগা শেয়ার করলাম, এই আরকি ।
অসাধারন। কি নেই গল্পটিতে। হরর,থ্রিলার, ক্রাইম, মিথলজি, কাল্ট,লাভক্রাফটিয়ান স্টাইল। বইটা নিয়ে অনেকেরই মিক্সড রিএকশান আছে। তবে আমার কাছে ইম্পসিবল টু পুট ডাউন মনে হয়েছে। সব কিছুর একটা দুর্দান্ত মিশেল। গল্পের মাঝখানে আর শেষের দুটো টুইস্ট আরো উপভোগ্য করে তুলেছে। ক্যারেক্টারগুলোর বিল্ডআপও নিখুঁত। প্রধান চরিত্রটি অসাধারন বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। যাদের কাল্ট, মিথলজি, হরর এই সব শেষে থ্রিল পছন্দ বইটা তাদের জন্যেই।
আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি গল্প এক একটি অভিযানের মতো, যেখানে প্রত্যেকটি চরিত্রের গুরুত্ব থাকা আবশ্যক, প্রত্যেকের অতীত জানা প্রয়োজন। কিংবা গড়ে ওঠা সমাজের কাঠামো, ঘটনার প্রেক্ষাপট হতে হবে সুবর্ণিত কিন্তু প্রাঞ্জল, যা পড়ে একঘেয়েমি আসবে না। আর্কন গল্পটি এক কথায় সফল এই দিকগুলো বিবেচনায়।
গল্প যেখান থেকে শুরু হবে, যেই স্কেল থেকে শুরু হবে সেই স্কেলে শেষ হবেনা। অধিকাংশ চরিত্রই শুরুতে যেরকম মনে হবে, শেষে গিয়ে তার থেকে ভিন্নতা পাবে। যদি এক দুইটি চরিত্র সম্পর্কে আমার ধারণা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিলে গেছে, তবুও তাতে গল্পে আনন্দলাভে বিশেষ কোনও ক্ষতি হয়নি।
কাহিনী কোথায় যাবে সেটা বুঝতে গল্পের অর্ধেকের বেশি পড়তে হয়েছে। এবং কিভাবে যাবে সেটা বুঝতে বুঝতে আরও অনেকটাই যেতে হয়েছে।
লেখক ভূমিকাতেই বলেছেন কিছু কিছু বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গল্পের সূত্রপাত করেছেন তিনি। এবং সেই ছাপ স্পষ্ট, ভূমিকাতেই সেসব বইয়ের নাম পাবেন। আমি অবশ্য আরও দুই একটি বই পড়েছি যা আংশিক এর সাথে মেলে, যেমন House of Stairs। কিংবা মুভি, The Cube, অথবা, টেলিভিশন সিরিজ - LOST. কিন্তু তার কোনটার সমাপ্তিই এর ধারে কাছে যায়নি। এবং গল্পটি ভালো লেগেছে সেই জন্য আরও বেশি।
বিভিন্ন বিষয়ে লেখকের রিসার্চ খুব সুন্দরভাবে গল্পে যুক্ত করেছেন তিনি, যা পড়ে কখনও বিরক্তি আসেনি, বরং নতুন তথ্য জেনে উপকৃত হয়েছে এমনটা মনে হয়েছে। হয়তো পরবর্তীতে এই তথ্য আমার নিজেরও কাজে আসবে লেখালেখির সময়! এভাবেই তো জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হয় তাইনা? :)
আর লেখার ধরন সত্যিই দারুণ। এক ষ্টেজ থেকে অন্য ষ্টেজে ট্রানজিশন একদম মসৃণ হয়েছে। এক এক জনের অতীত প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। তবে গল্পের একটি চরিত্রের অতীতে আরও কিছুটা তথ্য প্রাথমিকভাবে সংযুক্ত করে ব্যাপারটা আরও ঘোলাটে করা যেত। :P হাহাহা। তবে সেটা কোনও বড় ব্যাপার না।
গল্পের সমাপ্তিও দারুণ হয়েছে, যদিও একশনগুলো কিছুটা অবাস্তব, তবে অযৌক্তিক নয়। লেখক মোটামুটি সব কিছুর পেছনেই লজিক দেখিয়েছেন, এবং পাঠক হিসাবে সেসব মেনে নিতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি হয়নি। কেবল খাদের মধ্যে ২০ ফিট উপর থেকে লাফ মারাটা একটু কেমন যেন ছিল। ২০ ফিট নেহাত কম উচ্চতা নয়!! খাদ তো না থাকলেও চলতো! এমন কোনও সমস্যা হতোনা তাতে। পাঁচ অন্ধ বেচারার জন্য কষ্টও পেয়েছে কয়েকবার। পাগল হয়ে যাবার জন্য ওটুকুই যথেষ্ট।
দারুণ এক রোমাঞ্চকর উপন্যাস, আর্কন। সুলিখিত এবং অবশ্যপাঠ্য। :)
বইটি আমার কাছে প্রচুর ধীরগতির মনে হয়েছে ফলস্বরূপ একবার পড়াই বাদ দিতে চেয়েছিলাম।যার কারণে আমি হতাশ। কিন্তু ভাল ভাল রিভিউয়ের কারণে পড়ে যেতে হয়েছে। বইয়ের প্রায় পুরো অংশ ধীরলয়ের হলেও শেষের ৪০/৪৫ পাতা ঝড়ের গতিতে শেষ হয়েছে। মানে শুরুর দিকে বৃষ্টি বাদলার অভাব আর শেষে ঘূর্ণিঝড়! কাহিনী সত্যিই ইউনিক আর প্রশংসনীয়। অপহরণ করে ৫জন লোকের চোখ তুলে নিয়ে চোখের পাপড়ি সেলাই করা হয়েছে বীভৎসতা এড়ানোর জন্য। আ�� এই ৫জন অন্ধ ব্যক্তিদেরই ফেলে আসা হয়েছে এক গোলকধাধার ভেতরে যাতে তারা এক ভয়ানক প্রাণীকে হত্যা করতে পারে। এই ৫জনের কেউই কাউকে চেনে না সবচেয়ে থ্রিলিং ব্যাপার হচ্ছে এখানে ঐ ব্যক্তিটিও আছেন স্বয়ং যিনিই এই অপহরণের আর চোখ তুলে নেয়ার পেছনে আছেন। এই যে নতুন নতুন অন্ধলোকরা মোটামুটি দারুণ ভাবে ভূ- গর্ভস্থ গোলকধাঁধায় চলাচল করতেছে কিংবা পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে! ব্যাপারটা কেমন কেমন লাগলো!
চোখ তুলে নেয়া লোকটি কি আদৌ সুস্থ? কেন লোকটি নিজের আর বাকি চারজনের সাথে এমন বীভৎস আচরণ করলেন!! এগুলো জানতে হলে বইটি পড়তে হবে🐸
৪.৫ তারা। লেখকের আরেকটা বই অক্টারিন এর রিভিউ লিখতে গিয়ে অনেকেই এই বইটার কথা লিখেছেন! অক্টারিন পড়ার পর আর গুডরিডস এ এত ভালো রিভিউ দেখার পর বইটা পড়ার ইচ্ছা প্রবল হয়! পড়েও ফেললাম। অসাধারণ একটা থ্রিলার! একেবারেই নতুন আর উপভোগ্য! সময়টা কাজে লাগলো... :)
একদল খুনী। ওদের কেউ নতুন খুন করেছে, কেউ দুর্ঘটনাবশত খুন করেছে, কারও আবার খুন করাটাই পেশা। ওদের সবাইকে ছেরে দেয়া হয়েছে মাটির গভীরে এক রহস্যময় গোলকধাঁধায়। ওরা জানতে পারল এখানে ওদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর, অপার্থিব এক প্রানী। প্রানীটা এতই ভয়ংকর যে কেউ দেখলে সে হয়ে যায় বদ্ধ উন্মাদ। তাই তাদের চোখ উপরে ফেলা হয় যাতে প্রানীটাকে দেখে উন্মাদ হয়ে না যায়। পালাতে চাইলে যে করেই হোক সেই প্রানীটাকে মারতে হবে তাদের। শুরু হলো বেঁচে থাকার এক রোমহর্ষক অভিযান। বেরিয়ে আসতে শুরু করলো একের পর এক রহস্যের জাল। গোলক ধাঁধার অজানা বিপদ, শিকারি প্রানীর নারকীয় থাবা আর একের পর এক ষড়যন্ত্র থেকে কেউ কি পারবে রেরিয়ে আসতে।
#কাহিনী_সংক্ষেপঃ ৫ জন খারাপ মানুষকে অন্ধ করে ছেড়ে দেয়া হলো একটি গোলকধাঁধায়। যেখানে রয়েছে অন্ধকার জগতের ভয়ংকর এক প্রানী যাকে মারতে হলে লাগবে নির্দিষ্ট একটি ছুড়ি। আর সেই ছুড়িটাও আছে এই গোলকধাঁধারই কোনো এক জায়গায়। এই অন্ধ ৫ জন মানুষের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় আর তা হলো খুঁজে বের করো ছুড়ি আর মেরে ফেলো সেই অন্ধকারের প্রানী কে। কাজটা কি এতোটাই সহজ??
#পর্যালোচনাঃ বেশ অদ্ভুত একটা বই পড়ে শেষ করলাম। এর আগে এমন কোনো ধরণের বই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিলো না। বইটাকে একাধারে মিথোলজিক্যাল হরর থ্রিলার জনরাতে ফেলা যায়। সত্যি বলতে গতানুগতিক থ্রিলারের বাইরের এই বইটি পড়ে আমি বেশ অভিভূত হয়েছি। লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসাবে চমৎকার লেখনী। বইয়ের একদম শেষ পর্যন্ত টানা ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি আমাকে। শুরুটা ভয়াল একটা অংশ দিয়ে হলেও একে একে উন্মোচন করেছেন গল্পের প্রতিটা চরিত্র এবং তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড। কে এই মানুষগুলাকে অন্ধ করে এখানে এনে ফেললো সেই প্রশ্নটার জবাব সহজেই অনুমান করা গেলেও, কেনো এনে ফেললো এই প্রশ্নের জবাবটা বেশ ইউনিক ছিলো। মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো টুইস্ট না থাকলেও, যে ছোটো ছোটো চমকগুলা ছিলো বইয়ে তা বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শুভ্রর "জায়গাটায়" বেশ ভালো ধাক্কা খেয়েছি। শুভ্রকে মূখ্য চরিত্র হিসাবে রেখে এগিয়ে যাওয়া গল্পটায়, বইয়ের অর্ধেকেই এমন একটা ব্যাপার ঘটে যাবে তা ভাবতে পারিনি। হরর হিসাবে শুরু হয়ে, রহস্যময়তা আর থ্রিল ধরে এগিয়েছে কাহিনী। মাঝে এসে প্রাচীন মানিকিয়েজম ধর্মের অবতারণা করে সেটার সাথে এক চিমটি মিথোলজি মিশিয়ে চমৎকার উপভোগ্য একটা বই লিখেছেন তানজীম রহমান। মৌলিক উপন্যাস হিসাবে এটা আমার মতে একটা #মাস্টরিড বই।
কিছু ছোটোখাটো আক্ষেপ যে ছিলো না বইটা নিয়ে তা নয়। বিশেষ করে শেষ ফাইটিং দৃশ্যটা আরো একটু বিশদ এবং পরিপক্ক্ব হতে পারতো। আর একজন সুস্থ মানুষের অন্ধ হয়ে যাওয়ার যে স্ট্রাগল কিংবা অমন একটা জায়গায় অন্ধ হয়ে তাদের যতোটা বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার কথা, সেটা ততটা ভয়ানকভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। তবে এ সবই ছোটোখাটো বিষয়। এইগুলা বাদ দিয়েই বলবো বেশ উপভোগ্য বই এটি।
#চরিত্রায়নঃ দেশীয় কোনো লেখকের এতো সুন্দর চরিত্রায়ন আমাকে বেশ অবাক করেছে। গল্পের গতি ধরে রেখে কারেক্টার বিল্ডআপ করে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। শুভ্র, বশীর, পিন্টু, শীতল এবং সিড মূল এই ৫টা চরিত্রের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনী বেশ সুন্দর আর ইউনিক ছিলো। আবার বর্তমানের গোলকধাঁধাতেও তাদের যার যার পেশা অনুসারের অবস্থানটুকুও বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়েছেন লেখক। শুভ্র এর আর্মি ট্রেনিং, বশীরের ধর্মভীরুতা, পিন্টুর মাদকাসক্তি, শীতলের খুনে মনোভাব আর সিডের বই পড়ে পাওয়া অগাধ জ্ঞ্যান, সবই পারফেক্টলি ব্লেন্ড করেছেন লেখক। এর মাঝে সিদরাতের বাবার চরিত্রটুকুও ভালো ছিলো। উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানুষকে কোথায় নিয়ে যায় তার বাস্তব উদাহরণ ছিলেন উনি।
তবে এখানেও আক্ষেপ হলো বশীর চরিত্রটা। পরবর্তীতে তার যে পরিচয় বইয়ে উত্থাপন করা হয় বাকী পুরো বইয়ে তাকে সেই অনুসারে কিছুই করতে দেখা যায় না। এটা শুধু চরিত্রায়নের নয়, গোটা বইয়েরই সবচেয়ে বড় দূর্বলতা মনে হয়েছে আমার কাছে।
#প্রোডাকশনঃ ২০১৫ সালের বাতিঘরের প্রোডাকশনকে ভালো কিংবা চালিয়ে যাওয়ার মতোও বলা সম্ভব না। এক বাইন্ডিংস ছাড়া বাকী কিছুই ভালো লাগেনি। প্রচ্ছদ যেমন তেমন, অজস্র বানান ভুল, বইয়ের মাঝে থেকে এসে বারবার সিড আর শুভ্র এর নাম কে গুলিয়ে ফেলা, সবকিছুই বেশ বিরক্তির উদ্রেক করেছে। তবে আমার কাছে বইটি সম্ভবত প্রথম সংস্করণের, হয়তো নতুন সংস্করণে এসব কিছু ঠিক করা হয়ে থাকতে পারে!!
#রেটিংঃ ৮/১০ (সুন্দর সাবলীল লেখনী, ইউনিক প্লট, দূর্দান্ত কারেক্টারাইজেশন, আর গতিময় থ্রিল। হয়তো আক্ষেপের জায়গাগুলো না থাকলে পারফেক্ট বইই হতো এটা আমার জন্য)
#পরিশিষ্টঃ অনুবাদক তানজীম রহমান যতোটা ভালো, লেখক তানজীম রহমানও ততটাই ভালো। এই বিষয়টা আমাদের দেশের সকল লেখক/অনুবাদকের ক্ষেত্রে বলা যায় না। তানজীম রহমান সেই জায়গায় একটা আলাদা মুগ্ধতার নাম। লেখকের বাকী বইগুলো অচিরেই কালেক্ট করে নেয়ার আশায় রইলাম।
৫ জন খুনি কে একটি ভূ- গর্ভস্থ গোলকধাঁধায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের কাছে দেওয়া হয় এক লিটার পানি এবং একটি টেপ রেকর্ডার যেখানে নির্দেশনা দেওয়া থাকে একটি বিশেষ ছুড়ি খুজে বের করতে হবে এবং এই ছুড়ি দিয়ে একটি ভয়ংকর প্রাণীকে মারতে হবে! কিন্তু এর পূর্বেই অপারেশনের মাধ্যমে তাদের চোখ খুলে নেয়া হয়!! এই অন্ধ অবস্থায় তারা কি পারবে এই প্রাণীটিকে মারতে? প্রাণীটিকে মারার পূর্বেই তাদের আরও অনেক কিছুর মোকাবিলা করতে হয়! তারা কি পারবে শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় বের হতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটা শুরুর দিকে খুব একটা ভালো লাগছিলো না! তবে শেষ ১০০ পেজ মারাত্মক রকমের ভালো লেগেছে! লেখক বইটাতে "আলোতে" "অন্ধকারে " দুটো পার্ট রেখে বেশ ভালোভাবেই চরিত্র ডেভেলপ করতে পেরেছেন। তবে কিছু জিনিসকে একটু অতিরঞ্জন মনে হয়েছে। কয়েকটি চরিত্রকে বারবার আঘাত পাওয়ার পরও এমনভাবে ছুটতে দেখা গেছে যেটা বাস্তবে সম্ভব না! এসব জায়গায় বাংলা সিনেমার ফ্লেভার ছিলো :3 আবার কিছুটা অতিপ্রাকৃত বিষয় বেশি হয়ে গিয়েছে মনে হচ্ছিলো! তবে সব মিলিয়ে বেশ ভালই বলতে হবে!
অজানা বিপদের আতঙ্কে ঘেরা রহস্যময়ী অন্ধকার গোলকধাঁধায় শ্বাসরুদ্ধকর যাত্রা আর্কন।জনরার কথা বলতে হলে আমার মনে হয়েছে আর্কনকে ফ্যান্টাসি থ্রিলার বলাই শ্রেয়। লাভক্রাফটিয়ান থ্রিলারও হয়তো বলা যায় যেহেতু ‘দ্যা ফিয়ার অফ আননোউন’ ছিল বইজুড়েই আর সেটাপটাও সেরকম ছিল(এই ধারা নিয়ে খুবই স্বল্প জ্ঞান রাখি তাই ঠিক বলতে পারছি না)।
আর্কন অতীত ও বর্তমান দুই টাইমলাইনে খুবই মসৃণভাবে এগিয়েছে। অতীতের টাইমলাইন আলোতে আর বর্তমানের টাইমলাইন অন্ধকারে। কাহিনীর শুরুতেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, শুভ্রকে রহস্যময়ী অন্ধকার গোলকধাঁধায় আঁটকে থাকতে দেখি আমরা।কীভাবে ও কেন সে এখানে এসছে তা সে জানে না, আমরাও জানি না। অজানা বিপদের আতঙ্কটা শুভ্রর পাশাপাশি আমার মধ্যেও তখনই জেঁকে বসতে শুরু করে। শুরুতেই হুকড যাকে বলে। পরবর্তীতে লেখক প্লট বিল্ডাপ করতে বেশ ভালো সময় নিলেও গল্প ধীরলয়ে এগিয়েছে বলা যাবে না। টেনেছেন।সময় নিয়ে বিল্ডাপ করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তা পড়তেও ভালো লাগছিল। একটা সুন্দর গতিতে লেখক গল্পটা বলে গেছেন এবং যখন দরকার পেইস পিক আপ করেছেন ও যখন দরকার লাগাম মাঝে একের পর এক একশন ও চেইস সিকুয়েন্সের কারণে বইয়ের পাতা থেকে থেকে চোখ সরানো দায় ছিল। সাসপেন্স বিল্ডিংয়ে লেখক অসাধারণ কাজ করেছেন। একে একে চরিত্রগুলো দৃশ্যপটে পর্দাপন করেছে এবং অজানা বিপদের আতঙ্ক , সাসপেন্স , থ্রিল, সব পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। গল্পে প্রতিটা এলিমেন্টের পরিমাণ একদম পরিমিত মনে হয়েছে।
পূর্বে তানজীম রহমানের দুটো ছোট গল্প পড়েছিলাম এবং দুটোই ‘চলে’ টাইপ লেগেছিলো। তবে প্রথমবারের মতো লেখকের বই পড়ার অভিজ্ঞতাটা বেশ সুখকর। যতক্ষণ পড়েছি রুদ্ধশ্বাস কাহিনী আর মসৃণ স্টোরিটেলিংয়ের গোলকধাঁধায় আবদ্ধ ছিলাম। প্রথম বই হলেও তানজীম রহমানের লেখায় অপরিপক্বতার ছাপ ছিল না। হ্যাঁ,একদম শুরুর দিকে কিছুটা আড়ষ্টতা ছিল। তবে সেটা সামান্য এবং কেটে যেতেও সময় নেয়নি। যেমনটা বললাম স্টোরিটেলিং দারুণ মসৃণ ও প্রাঞ্জল। পড়তে কোথাও আঁটকে যেতে হয় না, তরতর করে পাতা উলটে যাচ্ছিলাম। সংলাপ, হেভি ডিটেইলিং , সবই দারুণ ছিলো। খুব সহজেই প্রতিটা দৃশ্যই কল্পনা করা যাচ্ছিল। কিন্তু কিছু কিছু একশন সিকুয়েন্সে যেরকম পটেনশিয়াল ছিল সেই লেভেলের এক্সিকিউশন না পাওয়া খানিকটা হতাশ করেছে। যেই ব্যাপারটা ভালো রকমের হতাশাজনক ছিল তা হলো চরিত্রগুলো যে অন্ধ এটা মাঝেমধ্যে বেমালুম ভুলেই বসছিলাম! হুট করে অন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচজন লোককে একের পর এক একশন ও চেইস সিকুয়েন্সে ফেলানো হচ্ছে এবং সেখানে তাদের অন্ধত্বকে বিশেষ কোন বাঁধা বলেই মনেই হচ্ছিল না! যেরকম আবহ ও পরিবেশ লেখক তৈরি করেছিলেন কাহিনীর বর্তমান (অন্ধকার) অংশে সেখানে অন্ধত্বটাকে আরেকটু গুরুত্ব দিলে সিকুয়েন্সগুলো নিঃসন্দেহে আরও লোমহর্ষক হতো এবং চরিত্রদের সাথে সাথে পাঠকের মনেও আতঙ্ক বাড়তে থাকতো। এই ব্যাপারটা বাদ দিলে লেখক যেরকম আবহ সৃষ্টি করেছেন এবং পাঠককে অন্ধকার জগতের সাথে যেভাবে পরিচয় করিয়েছেন তা প্রশংশনীয়। প্রাচীন বিলুপ্তপ্রায় ধর্মের মিথের সাথে পুরো গল্পটাকে যেভাবে কানেক্ট করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রিচুয়াল , দেব দেবী ও মিথের ব্লেন্ডিং করা হয়েছে তা এক কথায় চমৎকার। আর্কন একটা দুর্দান্ত ক্রিয়েশন বলতেই হবে।
চরিত্রায়ণ এই বইয়ের অন্যতম শক্তিশালী দিক। যেভাবে লেখক প্রতিটা চরিত্রকে দৃশ্যপটে এনেছেন এবং সঠিক সময়ে অতীতের টাইমলাইনে শিফট করে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরেছেন তা অসাধারণ। চরিত্রগুলোর মাধ্যমে আসা টুইস্ট গুলো অনুমান করা তেমন কঠিন হবে না। কিন্তু তাও বলতে হয় বেশ বুদ্ধিদীপ্তভাবে সেগুলো এক্সিকিউট করেছেন লেখক এবং টুইস্টগুলো যথেষ্ট ভালো। দুই একটা চরিত্রের অতীত অংশের কিছু বর্ণনা বাহুল্য মনে হতে পারে যেহেতু সেগুলোর গল্পে তেমন ইম্প্যাক্ট নেই। সত্যি বলতে, আমার সেই বর্ণনাগুলোও খারাপ লাগেনি। চরিত্রগুলোকে বেশি বেশি জানতে ভালোই লাগছিল। চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কিছু ফিলোসফি তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে মনে হয়েছে যা একটু সময় নিয়ে ভাবলে বলতেই হয়- তানজিম রহমান ইজ আ জিনিয়াস। এরকম বই নিয়ে আলোচনা, আড্ডা করার মজাই আলাদা।
আর্কনের সমাপ্তিটাও আমার কাছে ভালো লেগেছে। শেষ ৬০ পৃষ্ঠা এগিয়ে গেছে দূর্বার গতিতে। তাই, আশা করেছিলাম ক্লাইম্যাক্স আরেকটু জমজমাট হবে। আর সত্যি বলতে আমি সমাপ্তিটা অন্যভাবে হবে ভেবেছিলাম।তবে যেভাবেই যা হয়েছে তা সন্তোষজনক ছিল। আমি বইটার দ্বিতীয় মুদ্রণ পড়েছি। বাতিঘরের বই হিসেবে বাঁধাই ইম্রেসিভ ছিল, মেলে পড়তে সমস্যা হয়নি।মুদ্রণ প্রমাদও বাতিঘরের বই হিসেবে কমই ছিল, পড়তে সমস্যা হয়নি। তবে চরিত্রদের নাম দ্বিতীয় মুদ্রণে এসেও এতবার অদল বদল হয়ে যাওয়াটা, তাও গুরুত্বপূর্ণ অংশে এসে, বিরক্তিকরই।ওয়াসিফ নূরের করা প্রচ্ছদটা বেশ রিফ্রেশিং। বিশেষ করে ব্যাক কভারটা দারুণ লেগেছে।কিন্তু বইয়ের ভেতরে প্রথম মুদ্রণের প্রচ্ছদকারের নাম রেখে দেওয়াটা দৃষ্টিকটু ।
সর্বোপরি, আর্কন আমার কাছে দারুণ লেগেছে। বই পড়ার সময়টা অনেক বেশি উপভোগ করেছি। রেটিং দিতে হলে, ৫ এ ৪.৫ দিতে একবারের বেশি ভাবতে হবে না। ফ্যান্টাসি, হরর ও থ্রিলার প্রেমীদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড। এরকম দারুণ মৌলিক ফ্যান্টাসি থ্রিলার আসলে সবাইকেই চেখে দেখতে বলবো। হ্যাপি রিডিং।
অসাধারন একটা হরর থ্রিলার।একেবারে ইউনিক একটা প্লট।লেখকের প্রথম বই বোঝা অসম্ভব।লেখা পাকা লেখকের মতো দারুন সাবলীল সেইসাথে অসাধারন একজন স্টোরিটেলার।বাতিঘরের এবার বইমেলায় সেরা বই সম্ভবত এটাই।
অনেক কষ্টে শেষ করতে হয়েছে। তেমন কিছুই পেলাম না গল্পটাতে যেটা আমাকে আটকে রাখবে শেষ অবধি। তবে হ্যাঁ, চরিত্র উপস্থাপন ভালো লাগলেও কেমন জানি অনেক কষ্টে অনেক সময় লাগিয়ে শেষ করতে হলো। চরিত্র সাজানো অনুযায়ী শেষটা আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম। কিন্তু পাইনি তেমন কিছুই। যাইহোক, কনসেপ্টটা ভালো৷ তাই ৩ স্টার দেয়া।
এই উপন্যাসটা পড়েছিলাম আজ থেকে আরো দুই মাস আগে। তখন থেকেই রিভিউ দিতে চাচ্ছিলাম। দেবো-দেবো করে আর দেয়াই হয়ে উঠেনি। যদিও আগের বইমেলা গিয়ে পরের বইমেলা চলে এসেছে, এরপরেও ভাবলাম, প্রেম করার যেমন কোনো বয়স নেই, বুক রিভিউ দেয়ারো তেমন কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। তাই লিখেই ফেললাম।
গল্পের শুরুতেই চমক, ক���রণ গল্পটা শুরু হয়েছে ইন মিডিয়াস রেইস নামক লিটারারি ডিভাইস এর মাধ্যমে—কাহিনীর একদম মাঝখান থেকে। এবং শুধু মাঝখান থেকেই নয়, রীতিমত ন্যারেটিভ হুক এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে সবকিছু। প্রথম লাইনটাই যদি এমন হয়, ‘নিরেট গাঢ় অন্ধকারে ডুবে আছে সবকিছু’, তাহলে পাঠক আকৃষ্ট না হয়ে উপায় আছে? হুক দিয়ে যেভাবে কোনো কিছুকে আঁটকে রাখা হয়, ঠিক সেভাবেই এই প্রথম লাইনটি পাঠককে ইন্দ্রজালে বেঁধে ফেলবে একদম বইয়ের শুরুতেই।
কাহিনীর গোড়াতে প্রটাগনিস্ট শুভ্র নিজেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আবিস্কার করে এক টানেলে, এবং সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হচ্ছে, তার দুই চোখই কেউ একজন সেলাই করে জোড়া দিয়ে রেখেছে! ওর খুব কাছ থেকে একটি টেপ রেকর্ডার এ ভেসে আসছে অপরিচিত কারো কণ্ঠস্বর, ‘তোমার চোখ সরিয়ে নেয়া হয়েছে, কারণ প্রাণীটা এত ভয়ংকর যে তুমি ওটাকে দেখলে ভয়ে পাগল হয়ে যাবে...’
কণ্ঠস্বরটা তাকে এও বলে যে এই গুহার কোথাও একটা ছোরা আছে। ওর অবজেক্টিভ সিম্পল, ছুরিটা নেয়া, আর সেই অপার্থিব জন্তুটাকে হত্যা করা।
এতটাই সিম্পল? ইজিয়ার সেইড দ্যন ডান।
এরপরেই শুরু হয় ফ্ল্যাশ ব্যাক। কাহিনী সোজা পেছন দিকে দৌড়ানো শুরু করে। উন্মোচিত হতে থাকে পূর্বের কাহিনী। এরপর আবার ফ্ল্যাশ ফরোয়ার্ড করে গল্পটি বর্তমান সময়ে ব্যাক করে। পুরো গল্পের একটা বিশাল অংশ জুড়ে এই ফ্ল্যাশ ব্যাক এবং ফ্ল্যাশ ফরোয়ার্ড খেলা চলতে থাকে। যখনই কোনো এক অংশ ক্লাইমেক্স এর চুড়ান্ত যায়গায় থাকে, ঠিক তখনি, লেখক পাঠককে নিয়ে যান অন্য কোনো সময়ে।
একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর ব্যাপার ঘটতে থাকে টানেলের ভেতর। খুব শিঘ্রই শুভ্র জানতে পারে যে সে এখানে একা নয়, আরো চারজন আছে, যাদেরকে শুভ্রর মতই অন্ধ করে এই টানেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে, একই উদ্দেশ্যে। এরপর ওরা সবাই মিলে খোঁজ করতে থাকে সেই ছুরিটার, যেটা দিয়ে খুন করা যাবে ঐ অপার্থিব প্রাণীটাকে, যাকে দেখলে যে কেউ পাগল হয়ে যায়...
উপন্যাসটার সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে রেড হারিং টেকনিক এর অসাধারণ ব্যবহার। বেশ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিলাম তখন। আমি একা না, যারা পড়েছে, সবাই-ই খেয়েছে। কী ভাবল, আর কী হলো! আর এখানেই লেখকের স্বার্থকতা।
এছাড়া ফোরশেডোগুলো খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করা হয়েছে, পাঠক অভিযোগ করতেই পারবে না যে আগে থেকে কোনো ক্লু দেয়া হয়নি। লেখক ঠিকই দিয়েছেন, কিন্তু এমনভাবে দিয়েছেন, যে পাঠক ধরতে পারবেন না। এই কাজটা অনেকে ভজঘট করে ফেলে। ফোরশেডো ডিভাইসটা ব্যবহার করতে গিয়ে পাঠকের হাতে সমস্ত জারি জুরি ফাঁস করে দিয়ে বসে থাকে আগেই। এরপর তো মাথায় হাত। 'ইহা আমি কি করিলাম।' কিন্তু এ গল্পে লেখককে মাথায় হাত দিতে হয়নি, হবেও না। এভ্রি থিং ইজ ওয়েল হিডেন।
গল্পটার মাঝে সব সময়ই একটা টানটান উত্তেজনা ভাব ছিল। কী হবে, কী হবে টাইপ ফিলিংস বিদ্যমান ছিল পুরো গল্পটি জুড়ে। যে গল্পে এটা যত বেশি থাকে, সে গল্প তত বেশিই স্বার্থক। বলতেই হয়, আর্কন আসলেই স্বার্থক। সব দিক দিয়েই।
এন্ডিং এ আরো একটা মেগা টুইস্ট ছিল। ওটার কারণেই উপন্যাসটা শেষের দিকে আরো পরিপূর্ণতা পেয়েছে। একদম পার্ফেক্ট এন্ডিং, কোনো অভিযোগের সুযোগই নেই।
এছাড়া গল্পটার আরেকটা অসাধারণ দিক হচ্ছে এর ন্যারেটিভ মোড—ওটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল; বেশ কিছু থার্ড পার্সন লিমিটেড পয়েন্ট অফ ভিউ এর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে পুরো গল্পটি। ফলে পাঠক কখনো শুভ্রর মাথার ভেতর, কখনো সিড এর মাথার ভেতর, কখনো বা বশির ভাই এর মাথার ভেতর ঢুকতে পেরেছে। আর তাই সামগ্রীক পরিস্থিতি নিয়ে তারা কে কী ভাবছে, তারা পরস্পরকে কেমন দৃষ্টিতে দেখছে, কে কী প্ল্যান করছে মনে-মনে, এ সম্পর্কে খুব ভালো আইডিয়া পাওয়া যায় পুরো গল্পে। বর্তমানে এই ন্যারেটিভ মোডটা বেস্ট সেলার রাইটাররা খুব ব্যবহার করেন, আধুনিক সাহ্যিত্যে বেশ ফ্যামাস হয়ে উঠেছে এই লিটারারি টেকনিকটা।
উপন্যাসটার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চেকফস গান প্রিন্সিপাল এর যথাযথ ব্যবহার। এভ্রি থিং ওয়াজ দেয়ার ফর এ পার্টিকুলার রিজন। কোনো বাড়তি ইলিমেন্ট নেই। নিট এন্ড ক্লিন।
তবে ফিগারেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ এর ব্যবহার তেমন একটা চোখে পড়েনি, এই দিকে লেখকের কাছে আরো ভালো কিছু আশা করছি, পরবর্তী বইতে আশা করি এই দিকটাও পাবো তার কাছে।
উপন্যাসটা পড়ে আমি সাথে-সাথে ত্বরিত গতিতে একটা কনফেশান করেছিলাম নিজের কাছে—এটা এখনো পর্যন্ত আমার পড়া যেকোনো বাঙ্গালী রাইটারের বেস্ট বই। তানজীম রহমানের পরবর্তী বইটির জন্যে অপেক্ষা করছি অধীর আগ্রহে। আর্কন পড়ে বুঝতে পারলাম, নিরাশ হতে হবে না মোটেও।
পাঁচ জন ব্যাক্তিকে অন্ধ করে ছেড়ে দেয়া হল এক গোলক ধাধায়।বলে দেয়া হল এই গোলকধাঁধায় এক প্রাণী আছে তাকে মারতে হবে।আর এর জন্য চাই নির্দিষ্ট এক ছুড়ি। সেটা খুঁজে বের করে মারতে হবে অন্ধকার জগতের ভয়ংকর সেই প্রাণীকে। এই পাঁচজনের মধ্যে সবাই খুনি। পেশাদার খুনি যেমন আছে,তেমনি দূর্ঘটানবশত খুন করা ব্যাক্তিও আছে। সবাই একসাথে এগিয়ে যায় লক্ষের দিকে।এর মাঝেই ঘটে নানারকম বিপদ।একে অপরের প্রতি সন্দেহ পরিস্থিতিকে করে তুলে আরও জটিল।একে একে বেড়িয়ে এল অজানা অনেক রহস্য।হিংস্র জোম্বি আর ভয়ংকর প্রাণী আর অজানা সব বিপদ এড়িয়ে এগিয়ে চলল পাঁচজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছুড়ি কি খুঁজে পাবে আর পেলেও কি একে অপরের ষড়যন্ত্র আর ভয়ংকর প্রাণিটার হাত থেকে বাঁচবে?
ভাল লাগা বিষয়- প্রথম থেকেই টান টান উত্তেজনায় ছিলাম।পাঁচ জনের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দর ভাবে।তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড জীবনের লেখাগুলো তাদের চরিত্র বুঝতে সাহায্য করেছে।লেখকের লেখার স্টাইলও ভাল।
খারাপ লাগা বিষয়- বইয়ের ২য় পার্টে আসল রহস্যটা বলে না দিলেও চলতো।যদিও পরের টুকু পড়তে খারাপ লাগে নি।তারপরেও শেষে দিলে বইটা আর জমে যেত নিঃসন্দেহে। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে বইটিতে শুভ্রর নামের জায়গায় সিড,পিন্টুর জায়গায় শুভ্র,সিডের জায়গায় পিন্টু এইরকম হয়েছে।যা পড়ার সময় বিরক্তির কারন হয়েছে।
বইটা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম। টুইস্টের পর টুইস্ট ছিল। বইটাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, এক ভাগে রহস্যের নায়কেরা কারা, অন্য ভাগে হলো রহস্যের বিশ্লেষণ। প্রথম অংশের বর্ণনাগুলো আসলেই অসাধারণ ছিল, পরের অংশে দেখা যায় সেই রেশ আর ধরে রাখতে পারে নাই লেখক। শুরু সুন্দর হলেই যে শেষটাও ভাল হবে, এই কথাটাকে একদম মিথ্যে প্রমাণ করেছে। অনেক আশা নিয়ে, প্রথম অংশ সাজিয়েছেন উনি... এবং যৌক্তিক ছিল সবগুলা চরিত্র বিশ্লেষণ , ঘটনার বর্ণনায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। প্রথম অংশে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলাম, পরের অংশে এসে ঠিক ততটাই হতাশ হতে হয় আমাকে... শেষে এত্ত পেঁচানোর কোনই মানে হয় না!
অন্ধকার একটা গোলকধাঁধা। এখানেই ছেড়ে দেওয়া হলো পাঁচ জন মানুষকে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নয়, সবাইকে অন্ধ করে কেননা এখানে যে প্রাণীটা আছে তাকে দেখলেই নাকি পাগল হয়ে যাবে স্বাভাবিক মানুষ! এই পাঁচ জন লোক একে অপরকে চেনে না কিন্তু তাদের মধ্যে মিল হলো তারা প্রত্যেকেই এক বা একাধিক খুন বা খুনের পরিকল্পনার সাথে জড়িত। কাজটা খুবই সহজ তাদের জন্য, গোলকধাঁধা থেকে খুঁজে বের করতে হবে একটা ছুরি এবং হত্যা করতে হবে অপার্থিব ঐ প্রাণীটিকে। কিন্তু কাজটা এতটা সহজ হবে না; গোলকধাঁধার অজানা বিপদ, অপার্থিব প্রাণীটার আক্রমণ আর একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কাটিয়ে উঠতে হবে দলটাকে। শুর হলো এক রোমহর্ষক অভিযান, সফল হতে পারবে কি তারা?
পছন্দের দিক বলতে গেলে প্রথমেই আসবে প্লটটার কথা। ভীষণ ইউনিক একটা প্লট, অন্তত আমার কাছে। যাদের প্রচুর বিদেশী থ্রিলার পড়া আছে বা যারা লেখকের ভূমিকায় দেওয়া বইগুলো ( যেগুলো থেকে লেখক আইডিয়া নিয়েছেন) পড়েছেন তাদের হয়তো প্লটটা পরিচিত মনে হতে পারে কিন্তু আমি শুরুতেই ইমপ্রেসড! অন্ধকার এক গোলকধাঁধা, অন্ধ একদল খুনী আর অপার্থিব এক প্রাণী – মুগ্ধ হতে আর কি লাগে! এরপরেই বলব শুরুটার কথা। লেখক যেখানে শুরু করেছেন তাতে পাঠককে অকূল পাথারে পড়তে হয়। ঘটনার একদম মাঝামাঝি থেকে যেন শুরু হয়েছে বইটা, এর আগে কি হয়েছে বা এরপরে কি হতে চলেছে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা করার কোনো উপায় নেই। কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কে ওদের আটকালো, প্রাণীটা কি, পাঁচজনের কে ঘটনার মূলহোতা, বেঁচে ফিরবে কি ওরা ইত্যাদি নানা প্রশ্ন শুরুতেই পাঠককে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।
এরপরে বলা যায় বর্ণনাভঙ্গির কথা। এখানেও লেখক ফুল মার্কস পাবেন। লেখণীর মাধ্যমে লেখক এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছেন যা পাঠককে সবকিছু ভুলিয়ে দেয়, বইয়ের উপর থেকে চোখ সরানোর কোনো উপায় থাকে না! আনডেডগুলোর কান্না, পশুটার মেঝে ঘষতে ঘষতে এগিয়ে আসা, দলটার গোলকধাঁধার মধ্য দিয়ে দৌঁড়ানো, পশুটা এবং দলটার সদস্যদের হাতাহাতি ইত্যাদি লেখক এত নিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন যে কখনও শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের স্রোত নেমে যায়, কখনও কপালে ঘাম জমে বা কখনও উৎকন্ঠায় উঠে বসতে হয়! একই কথা খাটে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও। চরিত্রগুলো পুরো বইয়ে আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছে, একটা ধারাবাহিকতা আছে তাদের মধ্যে, হুট করে কোনো পরিবর্তন তাই কোথাও দেখা যায় নি। মিনোটর কিংবদন্তি আর শেষের টুইস্টের কথা না বললেই নয়। প্রথম যখন মিনোটর কিংবদন্তির গল্পটা বলা হচ্ছিল যখন আমি বেশ বিরক্ত হচ্ছিলাম কিন্তু লেখক যখন বিষয়টাকে অত্যন্ত নিপুণতার সাথে বইয়ের প্লটের সাথে খাপ খাইয়ে ব্যবহার করলেন তখন লেখকের নিপুণতার তারিফ না করে পারলাম না। শেষের টুইস্টটাও বেশ ভালো ছিল, আর্কনের নতুন পরিচয় পাওয়ার পর ওর উপর কিছুটা করুণাও হচ্ছিল।
এত এত ভালো পয়েন্ট থাকার পরও কিছু অভিযোগও আছে আমার! প্রথমেই আসবে বিরক্তিকর ফ্ল্যাশব্যাকের কথা! অন্ধকার আর আলো শিরোনামে লেখকের ভাগ করার বিষয়টা ভালো লেগেছে কিন্তু আলোতে লেখক যত কথা আর পৃষ্টা ব্যবহার করেছেন আমার মনে হয়েছে তত কথা না বললেও চলতো। তার চেয়ে লেখক অন্ধকারেই আরও সময় ব্যয় করলে বইটা আরও টু দ্য পয়েন্ট হতো! ফ্ল্যাশব্যাক দরকার ছিল কিছুটা কিন্তু যতটা করা হয়েছে ততটা না আর কি! এরপরে বলব আর্কনের সাথে দলটার সরাসরি সাক্ষাতের সংখ্যা খুবই কম বলে মনে হয়েছে। লেখক আর্কনের সাথে আন্তঃদ্বন্দ্ব না দেখিয়ে দলটার নিজেদের মধ্যে অন্তঃদ্বন্দ্ব-ই বেশি করে দেখিয়েছেন। এক শুভ্রব ব্যাপারটা বাদে বাকি তিনটা ক্ষেত্রেই অন্তঃদ্বন্দ্ব-ই প্রধান হয়ে উঠেছে যা কিছুটা বিরক্তির কারণ হয়েছে। আরেকটা ব্যাপার হলো অর্ধেকেই প্রধান চরিত্র মানে বলতে চাচ্ছি যাকে লেখক সবচেয়ে বেশি সময় দিলেন সেই চরিত্রটার দল থেকে বাদ পড়ে যাওয়া এবং ‘বস’কে প্রকাশ করে ফেলার ব্যাপারও তেমন ভালো লাগে নি! বসের পরিচয় মাঝখানে না দিয়ে আরও পরে দিলে ভালো হতো বলে মনে হয়েছে। আর উত্তর অংশ তথা বিশ্লেষণ ও সমাপ্তিও বেশি বড় করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। আর শেষ কথা হলো শেষ পর্যন্ত ‘বস’ এর নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হওয়াটাও কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছে।
অনেক প্যাঁচাল পারলাম, আর না বাড়াই! কয়েকটা বিষয় বাদে বইটা আমাকে মুগ্ধ করেছে বলতেই হচ্ছে। হরর, থ্রিলার, ফ্যান্টাসি সবকিছুকে লেখক যেভাবে একত্রিত করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একটা নতুন জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ!
Ω 𝐎𝐧𝐞-𝐒𝐞𝐧𝐭𝐞𝐧𝐜𝐞 𝐒𝐲𝐧𝐨𝐩𝐬𝐢𝐬: In Tanzim Rahman's (তানজীম রহমান) ambitious debut survival horror thriller Arkon (আর্কন), a group of killers—some first-timers, others accidental, and some who murder for pleasure—find themselves trapped in an underground labyrinth where murder is not a crime, but the only way to survive a cosmic horror threatening to unravel reality itself.
💭 𝐌𝐲 𝐓𝐡𝐨𝐮𝐠𝐡𝐭𝐬: Tanzim Rahman makes a confident entry into fantasy with আর্কন, crafting a meticulously detailed world that promises an ambitious narrative and highlights his imaginative strength. The real triumph lies in his character work—each killer carries distinct motivations and shades of guilt, making their moral descent through this hellish maze both disturbing and compelling. However, the book sometimes struggles with pacing, and certain supernatural elements feel underdeveloped next to the stronger psychological horror at its core. Still, despite a few narrative missteps, আর্কন lays a solid foundation for an epic saga—a worthy pick for fantasy readers from Dhaka and beyond who appreciate expansive, thought-provoking world-building.
⁉️ 𝐐𝐎𝐓𝐃: If survival required you to become the very thing you fear most, would you still choose to live?
📌 Save if you're drawn to psychological horror with moral complexity, enjoy survival thrillers with supernatural elements, or appreciate Bengali authors who aren't afraid to explore the darkest corners of human nature.
🔔 𝐅𝐨𝐥𝐥𝐨𝐰 𝐦𝐞 for more bookish ramblings, reviews, and recommendations. 🔗 𝑮𝑶𝑶𝑫𝑹𝑬𝑨𝑫𝑺: Nazmus Sadat → goodreads.com/dsony7 📸 𝑰𝑵𝑺𝑻𝑨𝑮𝑹𝑨𝑴: @dSHADOWcatREADS
কখনো ভেবেছেন হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে কেমন লাগবে? আপনার মনে আশা জেগে উঠছে দৃ্ষ্টিশক্তি আবারো ফিরে পাওয়ার। কিন্তু তখন যদি জানতে পারেন আপনার চোখটাই সরিয়ে ফেলা হয়েছে?
কাহিনী সংক্ষেপ: একদল খুনি। তাদের সবার চোখ উপড়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এক ভয়ানক গোলকধাঁধায়। যেখানে পদে পদে লুকানো বিপদ। জানানো হয় ওদের এক ভয়ানক পশুকে হত্যা করতে হবে। সে পশুকে হত্যার জন্য একটা তলোয়ার লাগবে। যেটা এই মুহূর্তে গোলকধাঁধার কোনো এক অংশে রয়েছে। আগে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তারপর পশুটাকে হত্যা করতে পারলেই ওরা খুঁজে পাবে মুক্তির পথ। কিন্তু এসবের পেছনে কার হাত রয়েছে? আর গোলকধাঁধাটাই বা কি এমন রহস্য ধরে রেখেছে? হিংসা, ঘৃণা, সন্দেহ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র সব মিলিয়ে খুনির দলটার সাথে আপনারও যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে অন্ধকার গোলকধাঁধায়।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: এক কথায় বলে দিচ্ছি বইটা আমার চমৎকার লেগেছে। এরকম থ্রিলার বাংলা ভাষায় আর্কন ছাড়া আর আছে বলে মনে হয় না। একটা ভিন্নধর্মী অসাধারণ প্লট। চরিত্রগুলো পুরোপুরিই অন্ধ। এই অন্ধ চরিত্রগুলোর সাথে এক অজানা গোলকধাঁধা ঘুরে বেড়ানো। ভেবেছিলাম বইটা বোরিং হয়ে উঠবে না তো? সত্যি বলতে একবারের জন্যও মনে হয়নি এমন।অধ্যায়গুলো বেশ বড়ো বড়ো। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত গতি কমে যায় কিংবা একসময় বিরক্ত লেগে ওঠে। আর্কন পড়ার সময় এমন কিছুও হয়নি। তানজীম রহমানের যেকোনো বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ পড়লেই বুঝবেন লেখক ভিন্নধর্মী প্লটভিত্তিক কাহিনী লেখেন। আর এ ব্যাপারটাই প্রাথমিক আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।
দ্বিতীয়ত লেখকের বর্ণনাভঙ্গী অসাধারণ।বইয়ে মিথ, কাল্ট, হরর সবকিছুর সাথেই অ্যাকশন ব্যাপারটা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সেই বর্ণনাগুলোও দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। তাছাড়া অন্ধ চরিত্রগুলোর অনুমানের উপর গোলকধাঁধার পরিবেশ,বিপদ,আবহাওয়া বর্ণনার বিষয়গুলো নিঁখুতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি চাইলেই নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে কাহিনী তুলে ধরতে পারতেন। তাহলে পাঠকও একটা ভালো ধারণা পেতো। কিন্তু চরিত্রদের অনুমানের উপর ভিত্তি করে বর্ণনা..এটা যাস্ট ওয়াও। কারণ এতে একটা ব্যাপার বেশ ভালোভাবে চোখে পড়ে। অজানা আতঙ্ক। চরিত্রগুলোর পাশাপাশি আমিও সেই অজানা আতঙ্ক টের পাচ্ছিলাম।
তৃতীয়ত ভাইয়ার লিখনশৈলী। এই বইটা ওনার প্রথম বই। প্রথম বই মানেই কিছু খুঁত থাকা,বর্ণনায় কিংবা লেখায় হালকা জড়তা থাকা..বিচিত্র কিছু নয়। কিন্তু এই বইটা পড়ার সময় আমার বারবার মনে হচ্ছিল উনি জাত লেখক। অনেকটা born to be a writer টাইপ। আমার বেশ মনে ধরেছে ভাইয়ার লেখা। আবার কবে পড়তে পারবো কে জানে। লকডাউনে অক্টারিন আটকে আছে।
শেষে কাহিনীর ব্যাপারে কিছু বলি। বইটা দুইভাগে বিভক্ত। প্রথম পর্ব-প্রশ্ন ও দ্বিতীয় পর্ব-উত্তর। বইয়ের অনেকটা মাঝ বরাবর উত্তর পর্ব শুরু হয়। আর অধ্যায়টা শুরুই হয় এতোক্ষণ ধরে মনের ভেতর জমে ওঠা সব প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে। তাহলে বাকি কাহিনী কি নিয়ে।আসলে এটাই মজার। উত্তর পেয়ে গেছি।কিন্তু বই তো শেষ হয়ে যায়নি। আরও অনেক কিছু লুকিয়ে আছে সামনে। সবশেষে আরও কিছু টুইস্ট। আরও কিছু অজানা কাহিনী। চমৎকার কাহিনীবিন্যাস। বারবার বোকা বনে গেছি।
বইয়ে মিথ, থ্রিল, হরর, কাল্ট, সাইন্স, অ্যাকশান কি নেই! মনে হতে পারে জগাখিচুরি পাকিয়ে বসেননি তো লেখক? কোনো একটা রান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো পরিমিত উপাদানে থাকলে যেমন রান্নার স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে যায় তেমনই এই বইটার ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। লেখক সবই পরিমিত রেখেছেন। ধীরে ধীরে সুতো ছেড়েছেন। এ ব্যাপারটাও আমার দারুণ লেগেছে। সময়ের অপেক্ষা করে সঠিক সময়ে পাঠকের জন্যে একটা চমক..বোর হওয়ার কোনো সুযোগই দিতে চাননি লেখক।
বইটাতে অনেক জনরার সমাবেশ ঘটলেও মোটাদাগে এটি কাল্ট-হররই আসলে। অনেকটা লভক্রাফটিয়ান ধাঁচের। তেমন ভয় জাগানিয়া না হলেও বারবার শিউরে উঠেছি লেখকের বর্ণনাভঙ্গীর অবদানে। আপনি যদি লভক্রাফটিয়ান কিংবা হরর থ্রিলার পছন্দ করেন তাহলে নির্দ্বিধায় বইটা তুলে নিতে পারেন। ভালো লাগবে। শুধু থ্রিলার পছন্দ করলেও আমন্ত্রণ রইলো। পড়ে দেখতে পারেন।
চরিত্রায়ণ:
আমার মতে চরিত্রগুলোই কাহিনীর প্রাণ। চরিত্রগুলো ভালো লেগে উঠলে মনের অজান্তেই আগ্রহ বেড়ে যায়। আর প্রিয় হয়ে উঠলে ধীরগতির বইও ভালো লেগে ওঠে কখনো কখনো।
এই বইটার প্রধান যে পাঁচ চরিত্র। মানে পরস্পরের অপিরিচিত পাঁচজন খুনি। প্রত্যেকের জন্যেই মনের ভেতর আলাদা আলাদা জায়গা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে শীতল চরিত্রটিকে রীতিমতো ঘৃণা করছিলাম। কেন? নিখুঁত চরিত্রায়ণ আসলে। এই চরিত্রটিকে এভাবেই সাজানো। এখন এই লেখাটা লেখার সময় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি চরিত্রায়ণ কতোটা সুন্দর ছিল। না হয়, ঘৃণা জিনিসটা কোনো চরিত্রের প্রতি খুবই কম প্রকাশ পায়। ওহ, চরিত্রগুলোকে ঘিরে আরও একটা চমক আছে লেখায়। বললাম না। পড়তে চাইলে আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। বইয়ে পছন্দের চরিত্র বলতে শুভ্র আর সিডের প্রতি ভালোলাগা অনুভব করছিলাম। সিডের কথাগুলো প্রথম প্রথম বেশ হাস্যকর লাগছিল। মজার একটা চরিত্র। কিন্তু পিকচার তো আভি বাকি হ্যা..... বই পড়ার ক্ষেত্রে যেটা প্রত্যেক চরিত্রের প্রতি আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। এই বইয়ে সেটা দুইরকম। লেখক প্রথমত চরিত্রগুলোর একটা ভাসা ভাসা চিত্র পাঠকমনে সঞ্চার করেন। আর তারপর যখন চরিত্রটির ব্যাকস্টোরি মানে তার জীবনকাহিনী জানান তখন সে চিত্র বেশ অনেকটাই বদলে যায়। এই ব্যাপারটা কার কেমন লাগবে জানি না। আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর চরিত্রগুলোর জীবনকাহিনী গল্পে আলাদা একটা মাত্রা যোগ করেছে। আর বলা বাহুল্য চরিত্রগুলোকে এভাবে তুলে ধরার কারণেই একটা পারফেক্ট চরিত্রায়ণ পাওয়া গিয়েছে।
প্রোডাকশন:
বাতিঘরের বর্তমান বইগুলোর প্রোডাকশন খেয়াল করেছেন? এদিক দিয়ে বাতিঘর বেশ ভালোরকম উন্নতি করেছে। বলা যায় দামে কম, মানে ভালো বাতিঘর প্রকাশনী।
কিন্তু এই বইটার ক্ষেত্রে এমন কেন হলো? বইয়ের বাঁধাই আগের মতো দুর্বল। সাবধানে পড়ার কারণে ক্ষতি হয়নি যদিও। কাগজ একেবারে সাধারণ। আমার সংগ্রহে ঈশ্বরের মুখোশ, ২৫ শে মার্চের মতো পুরনো বইগুলো আছে। যেগুলো নতুনভাবে ক্রিম কাগজ আর চমৎকার বাঁধাইয়ে বাঁধানো হয়েছে আর মুদ্রিত মূল্যও আগের মতোই কম। কিন্তু এই বইটার ক্ষেত্রে এমন হলো কেন? ঝকঝকে নতুন প্রচ্ছদের সাথে প্রোডাকশনের এমন দুর্বলতা বেমানান লেগেছে। আর হ্যাঁ ওয়াসিফ নূরের করা প্রচ্ছদটি ভালো হয়েছে। তবে ব্যাককভার একটু বেশিই ভালো লেগেছে। শুভকামনা প্রচ্ছদকারকে।
রিভিউটাকে আর লম্বা না করি। বইটা পড়তে আমার দুইদিন সময় লেগেছে।একটু বেশিই।:)
আরও একটা কথা। আপনার যদি মনে হয় আমি বাড়িয়ে বলছি তবে আপনার ধারণা আপনার প্রকাশ না করলেই খুশি হবো। আমি আমার পাঠপ্রতিক্রিয়া দিলাম। আমার কাছে যেমন লেগেছে সেটাই প্রকাশ করলাম শুধু।
বই :আর্কন লেখক :তানজীম রহমান প্রকাশনী :বাতিঘর প্রচ্ছদ:ওয়াসিফ নূর পৃষ্ঠা :৩৩৬ মু্দ্রিত মূল্য:৩০০ টাকা
পুরো দুইদিন পর তানজীম ভাইয়ার গোলকধাঁধা থেকে বের হলাম। ফ্রেশ লাগছে!
দুইদিন পর বের হলাম তানজীম ভাইয়ার গোলকধাঁধা থেকে।ফ্রেশ লাগছে!