রাজস্থানের জয়পুর শহরে বহু বছরের নীরব আতঙ্কের নাম রূপমতী কি হাভেলি। যেখানে প্রতি বছর করবা চৌথের রাতে একটি করে পুরুষের মাথাকাটা লাশ পাওয়া যায়। বছরের পর বছর ধরে লাশগুলোর মাথা পুলিশ খুঁজে পায় না। এদিকে রাত নামলে ভুল করেও কেউ যদি থেকে যায় রূপমতীর হাভেলিতে, তাহলে সে শুনতে পায় কে বা কারা যেন অদ্ভুত গা ছমছমে গলায় প্রশ্ন করছে, ‘আমার শরীরটাকে কেউ দেখেছ তোমরা?’ এমনই এক ভয়ানক হাভেলিতে চাকরিসূত্রে গিয়ে বাসা বেঁধেছিল অলক্ষ্য। তারও বেশ কিছু বছর পর করবা চৌথের রাতে অলক্ষ্যকে খুঁজতে হাভেলিতে হাজির হয়েছিল সুজাতা। সঙ্গে ছিল তার স্বামী অরিত্র আর তার ছয় বছরের ছেলে। অতীতের করাল অন্ধকার ঠেলে উঠে এসেছিল অজস্র ছিন্নমাথা। তারপর… ইন্দ্রনীল তাদের নতুন বাড়িতে নিয়ে আসে আয়না বসা পালঙ্ক। শতাব্দীপ্রাচীন পালঙ্ক ঘিরে আতঙ্ক নেমে আসে ইন্দ্রনীল আর রিক্তার সংসারে। পালঙ্কর গায়ে বসানো আরশির সঙ্গে কথা বলতে বলতে উধাও হয়ে যায় ইন্দ্রনীল আর রিক্তার একমাত্র মেয়ে তিতির। উন্মাদ হয়ে যায় দুজনে। কীভাবে খুঁজে পাবে তাদের মেয়েকে? পেশায় ডোম শম্ভু। সে তার পোয়াতি বউ কাজলকে ভালোবেসে একটা শাড়ি উপহার দেয়। ঠিক তার পর থেকেই কাজল পাল্টে যেতে থাকে। কাজলের মধ্যে জেগে ওঠে অন্য কেউ! ভাটুর পাশের বাড়িটা বিক্রি হবে। কিন্তু যেই কিনতে আসে ভাটু তাদের কাছে ফাঁস করে দেয় বাড়িটার আসল রহস্য। সেটা শুনে পালিয়ে যায় সবাই। কিন্তু ভাটু জানত না, সে নিজেও জড়িয়ে পড়বে সেই বাড়ির হাড় হিম করা রহস্যে। ছোটভাই সমীরের স্মরণসভা যে দাদা নীহারের জন্য সত্যি সত্যি স্মরণীয় হয়ে যাবে, কেউ ভাবতেও পারেনি। দুটি উপন্যাসিকা ও তিনটি গল্প নিয়ে এই ভৌতিক সংকলন |
I have just finished reading the recently released horror book *Norodeho Niruddesh. One simply must mention the book's quality when discussing Avishek Chattopadhyay's work, its extremely well rounded with great flair in each depatment. নরদেহ নিরুদ্দেশ-রাজমহল ঘিরে কোন বিশেষ তিথির সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌতিক গল্পকথা তো প্রচলিত থাকেই, কিন্তু তার সঙ্গে প্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ কাহিনীকে লেখক অত্যন্ত সুন্দর ভাবে জুড়ে দিয়েছেন। গল্পটি খুবই ভালো, তবে আমার মনে হয় কিছু চরিত্রের কাজের পেছনের উদ্দেশ্যগুলো ঠিক ততটা জোরালো নয়।once you begin reading, you simply cannot stop. And a brilliant twist at the end makes the story even more compelling.
অনাহূত-একজন সন্তানহীনা রমনীর জীবনের কষ্ট ফুটে উঠেছে এই গল্পে , এটি ভৌতিকের থেকেও সামাজিক গল্প বলে মনে হয়েছে,খুবই চমৎকার একটি গল্প; এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গতি ধরে রাখে এবং গভীর আবেগের সঞ্চার করে। দোসর ডাকে-শুরুতে আমার মনে হয়েছিল এটা বেশ মজার , but as it ends it gives a shocking twist which I was not expecting ,গল্পটা আমার দারুণ লেগেছে, বেশ একটা গা ছমছমে ব্যাপার আছে শেষটায়। Extremely well written short story.
স্মরণসভা-একটি ছোটগল্প যা দেখায় যে, নিজের লোভী আকাঙ্ক্ষা মেটাতে একজন মানুষ কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে।I found many psychological nuances here as well. Hiding one's sins from others always weighs heavily on one's own conscience.
অলক্ষ্মীর আরশি-একটি পুরাতন খাট আর তার সাথে attached আয়না একটি পরিবার কিনে নেয়। তারপরেই তাদের জীবনে ঘটে একের পর এক অলৌকিক ঘটনা।Such a heart-wrenching backstory wow! It brought tears to my eyes while reading it.গল্পটি গা-শিউরে ওঠার মতো সব লোমহর্ষক উপাদানে পরিপূর্ণ।গল্পের শেষের showdown সাংঘাতিক ছিলো। Overall a very good book for booklovers,লেখককে অনেক অনেক অভিনন্দন 4/5
বইটি মূলত দুটি উপন্যাসিকা ও তিনটি ছোট গল্পের সংকলন।
🔵নরদেহ নিরুদ্দেশ- গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাজস্থানের জয়পুরের এক অভিশপ্ত হাভেলি- রুপমতী কি হাভেলি। যেখানে প্রতি বছর করবা চৌথের রাতে একটি করে পুরুষের মাথাকাটা লাশ পাওয়া যায়, কিন্ত মাথা কখনোই পাওয়া যায় না। সেই হাভেলিতে অলক্ষ্য চাকরি সূত্রে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে আসে। তার বহু বছর পর এক করবা চৌথের রাতেই তার খোঁজে সেখানে এসে হাজির হয় সুজাতা,তার স্বামী অরিত্র ও ছোট ছেলে রায়ান। তারপর কী হয়? সেটা নিয়েই এই উপন্যাসিকা।
🟢অনাহূত- শম্ভু পেশায় ডোম। সে তার গর্ভবতী স্ত্রী কাজলকে ভালোবেসে একটা কামরাঙা শাড়ি উপহার দেয়। উপহারটা পেয়ে কাজল খুব খুশি হয়। কিন্তু শাড়িটা গায়ে তোলার পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কেন কাজলের এমন পরিবর্তন হয়? তা নিয়েই এই গল্প।
🟠দোসর ডাকে- ভাটুর পাশের বাড়িটা দীর্ঘদিন ধরে খালি। বাড়িওয়ালা বাড়িটা বেচতে চায়, কিন্তু ভাটু চায় না সেখানে কেউ আসুক। তাই যেই বাড়িটা দেখতে আসে, ভাটু তাকে বাড়িটার নামে ভয়ের গল্প শুনিয়ে ভাগিয়ে দেয়। মজার ছলে শুরু হওয়া এই গল্পটা কখন যে ভাটুর দিকেই ঘুরে যায়, তা নিয়েই এই গল্প।
🟤স্মরণসভা- ছোট ভাই সমীরের মৃত্যুর পর তার দাদা নীহার তার স্মরণসভার আয়োজন করেন নিজের বাড়িতেই। অনুষ্ঠানটি ছিল ঘরোয়া, কাছের কিছু মানুষদের নিয়ে। তারপর কী হয় এই অনুষ্ঠানে? তা নিয়েই এই গল্প।
🔴অলক্ষ্মীর আরশি- ইন্দ্রনীল তার নতুন বাড়িতে নিয়ে আসে অনেক পুরানো এক আয়না বসানো পালঙ্ক। তারপর থেকেই ইন্দ্রনীল আর রিক্তার সংসারে আতঙ্ক নামে। তাদের একমাত্র মেয়ে তিতির আয়নার সাথে কথা বলতে বলতে একদিন উধাও হয়ে যায়। ইন্দ্রনীল ও রিক্তা কীভাবে খুঁজে পাবে তাদের মেয়েকে? তা নিয়েই এই উপন্যাসিকা।
☑️যা ভালো লেগেছে- 🔹️অলক্ষ্মীর আরশি উপন্যাসিকাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। ইন্দ্রনীল পুরানো পালঙ্কটি বাড়িতে আনার পর একের পর এক যে ঘটনা ঘটে, লেখক সেই দৃশ্যগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 🔸️নরদেহ নিরুদ্দেশ উপন্যাসিকাতে লেখক রুপমতী হাভেলির যে ছবি এঁকেছেন, তা অসাধারণ। পড়ার সময় একটা গা ছমছমে অনুভূতি কাজ করে। শেষটা একদম অপ্রত্যাশিত ছিল। 🔹️অনাহূত গল্পটি ছোট হলেও বেশ লেগেছে। বিশেষ করে এর ওপেন এন্ডিং সমাপ্তিটি গল্পটিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। 🔸️বইয়ের ভাষা খুব সহজ ও সাবলীল ছিল। অহেতুক বর্ণনা নেই। ১৬০ পৃষ্ঠার বই হওয়াতে এক বসায় পড়ে ফেলা যায়, একঘেয়ামি লাগে না। 🔹️বইয়ের প্রচ্ছদ আর পেজ কোয়ালিটি বরাবরের মতই খুব ভালো।
❎️যা ভালো লাগেনি- 🔹️দোসর ডাকে , স্মরণসভা গল্প দুটির শুরুটা ভালো হলেও শেষটা আমার কাছে ততটা ভালো মনে হয়নি।
যারা এক বসায় শেষ করার মতো ভৌতিক সংকলন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটা অবশ্যই পাঠ্য।
অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের "নরদেহ নিরুদ্দেশ" পড়ে শেষ করলাম। বইটিতে একটি উপন্যাসিকা ও চারটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পের বিষয় আলাদা হলেও সবগুলোর মধ্যেই রহস্য, ভৌতিক আবহ এবং একটি শক্তিশালী ব্যাকস্টোরি রয়েছে। লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিবেশ নির্মাণ। কয়েক পাতা পড়ার পরই যেন গল্পের জগতে ঢুকে পড়া যায়।
"নরদেহ নিরুদ্দেশ" বইটির সবচেয়ে বড় রচনা। রাজস্থানের এক পরিত্যক্ত দুর্গকে কেন্দ্র করে গল্পের শুরু। প্রতি করবা চৌথের রাতে সেখানে একজন করে পুরুষের মাথা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। সেই রহস্যের সূত্র ধরেই এগোয় কাহিনি। ইতিহাস, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং অলৌকিকতার মেলবন্ধনে গল্পটি অসাধারণ হয়ে উঠেছে। আর শেষের মোচড়টি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
"অনাহূত" গল্পটি ভয়ের চেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায় তার আবেগ দিয়ে। কাজলের চরিত্রর transformation খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পের সমাপ্তিটিও আমার খুব ভালো লেগেছে। একেবারে open ending হওয়ায় পাঠকের কল্পনার জন্য অনেকটা জায়গা রেখে দিয়েছেন, যা গল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
"দোসর ডাকে" গল্পে লোকবিশ্বাস ও ভৌতিক আবহ বেশ ভালোভাবে তৈরি হয়েছে। "স্মরণসভা" একটি ছোট ভৌতিক-মনস্তাত্ত্বিক গল্প। মূল ভাবনাটি ভালো হলেও গল্পটি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা অসম্পূর্ণ লেগেছে। ব্যক্তিগতভাবে এটিকেই সংকলনের সবচেয়ে দুর্বল এবং predictable রচনা বলে মনে হয়েছে।
সংকলনের সেরা গল্প "অলক্ষ্মীর আরশি"। একটি পুরোনো পালঙ্ক আর আয়নাকে কেন্দ্র করে এগোনো এই গল্পে যেমন ভৌতিক আবহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের নিষ্ঠুরতা এবং দুই মায়ের নিঃস্বার্থ মমতার হৃদয়স্পর্শী কাহিনি। তবে বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায় এর ভৌতিক পালঙ্ক গল্প টা মনে করিয়ে দেবে।
আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ, গল্পের সঙ্গে মানানসই অলংকরণ পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
লেখক অভিষেক চট্টোপাধ্যায় এবং বুক লুক পাবলিশিং-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ভবিষ্যতে তাঁর কলম থেকে আরও ইউনিক,পরিণত ও উপভোগ্য ভৌতিক গল্প পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।