Jump to ratings and reviews
Rate this book

পারাপার

Rate this book
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল একত্রিশ বছরের তরুণ যুবা ললিত। সাময়িক সুস্থতার পর ছাড়া পেল হাসপাতাল থেকে— তাকে নিতে এল বাড়িওলার ছেলে শম্ভু আর অভিন্নহৃদয় বন্ধু তুলসী।... সূচনার এই সামান্য আয়োজন থেকে ‘পারাপার’ উপন্যাসের কাহিনিকে ধীরে ধীরে, কিন্তু আশ্চর্য নৈপূণ্যে, লেখক যান এক বিশাল, ব্যাপ্ত জগতের মধ্যে— ঘটনার সংঘাতে যেখানে প্রত্যক্ষ ও অনুভব্য যাবতীয় অভিজ্ঞতা বদলে যায় প্রতি মুহূর্তে, গার্হস্থ্য আর অধ্যাত্ম হয়ে পড়ে একাকার। ললিত, ললিতের বুড়ি মা, তুলসী, মৃদুলা, সঞ্জয়, রিনি, আদিত্য, শাস্বতী, অপর্ণা, বিমান আর রমেন (যার চোখের দিকে তাকিয়ে আত্মহত্যায় মগ্ন দুঃখী মানুষও পায় ঈশ্বরের সানিধ্য), বিভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী এইসব চরিত্রের সংলগ্ন হয়ে এগিয়ে চলে জীবন— এক বিচিত্র সমগ্রতার দিকে। দুঃখ থেকে আনন্দের, প্রত্যাখ্যান থেকে প্রেমের, মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে চলেছে মানুষের নিরন্তর ও তাৎপর্যময় পারাপার। পাঠককে সেই মহত্তম বোধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর এই আন্তরিক উপন্যাসে।

250 pages, Hardcover

First published June 1, 1979

25 people are currently reading
279 people want to read

About the author

Shirshendu Mukhopadhyay

415 books933 followers
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
95 (27%)
4 stars
152 (44%)
3 stars
73 (21%)
2 stars
20 (5%)
1 star
3 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 35 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,663 reviews422 followers
August 21, 2023
০/৫

বাংলা সাহিত্যে আর কোনো লেখক কি শীর্ষেন্দুর মতো নির্লজ্জভাবে নিজের জাত্যাভিমান প্রকাশ করেছেন? বাংলা সাহিত্যে আর কোনো বইতে কি "পারাপার" এর মতো বর্ণভেদ প্রথাকে খোলাখুলি সমর্থন করা হয়েছে? মনে হয় না। বইতে থাকা বিভিন্ন দম্ভোক্তি বিশ্লেষণ করা যাক -

১. "বর্ণ হিন্দুরা না থাকলে গাঁ গ্রামের মধ্যে নিরেট একটা অন্ধকার টের পাওয়া যায়।" ( লেখকের মতে শুধু বর্ণ হিন্দুরাই পড়ালেখা করে, সুকুমারবৃত্তির চর্চা করে। নিচু শ্রেণির হিন্দুরা শুধু জানে গালিগালাজ আর ঝগড়া। এজন্য বর্ণহিন্দু ছাড়া গ্রাম অন্ধকার। )

২. "এর প্রতি তোমার কীসের আকর্ষণ? বিয়ে করার ইচ্ছে হলে আমাকে এসে বলোনি কেন? আমি তোমার বিয়ে দিতাম। দরকার হলে ব্রাহ্মণের সাথেও।
মেয়েটি হঠাৎ বলল, তাতে কী হয়েছে?
দাদু উত্তর শুনে একটু চুপ করে থাকলেন। তারপর আস্তে আস্তে বললেন, তোমার গলার স্বর শুনে মনে হয় তুমি স্বাধীনচেতা। আমার এলাকায় মেয়েরা ততখানি স্বাধীন যতখানি মেয়েদের পক্ষে হওয়া সম্ভব। তারা পুরুষের মতো স্বাধীন নয়। আমি তোমার মুখ দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু তোমার পুরুষালি স্বর শুনে মনে হয় তোমার চরিত্রও পুরুষের মতো। তুমি মেয়ে হয়ে তোমার বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারোনি, তাই তুমি অসহিষ্ণু, অসুখী। মেয়েটা মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইল।
দাদু ধীর অনুত্তেজিত স্বরে বললেন, বিয়ের উদ্দেশ্য প্রজাবৃদ্ধি। তাই প্রজাপতি বিয়ের দেবতা।
বিয়ের একটা অনুশাসন আছে। যাঁরা মনুষ্য-বিজ্ঞান জানতেন তাঁরা এই নিয়ম তৈরি করেছিলেন। তুমি সেই নিয়ম ভেঙে জাতিনষ্টকারী পাপ করেছ।
মেয়েটি সামান্য বিদ্রোহের ভঙ্গিতে বলল, আমি জাত বিচার করিনি। মানুষ দেখেছিলাম।
দাদু সামান্য হাসলেন, তুমি বিচার করার কে? মানুষের তুমি কতটুকু জানো? মানুষের বিচার হয় তার বংশগতি তার বর্ণবৈশিষ্ট্যের ওপর। তোমরা আমার এলাকায় থাকতে পারো, কিন্তু স্বামী-স্ত্রী হয়ে নয়। আমি তোমাদের সম্পর্ক ভেঙে দিলাম। তোমরা আলাদা-থাকবে, অনাত্মীয়ের মতো। আর, তোমার ছেলেমেয়েরা কোনও দিন বিয়ে করতে পারবে না। তাদের প্রজাবৃদ্ধির অধিকার নেই ।" ( ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন!)

৩. "বিয়েটা খুব পবিত্র জিনিস। ভুল বিয়ে দুঃখী, অলস, অকর্মণ্য এবং বিশ্বাসঘাতক মানুষকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে। এবং তার জন্য, ভুল বিয়ে যারা করে তারা সমাজের কাছে দায়ী থাকে। তাদের বিচার হওয়া উচিত।" ( এটারও বিশ্লেষণ প্রয়োজন নেই। বিয়ে খুব পবিত্র, শুধু ব্রাহ্মণ ব্যতীত অন্য মানুষগুলোই পবিত্র না। লেখকের ইঙ্গিতে এটা স্পষ্ট যে তারা আসলে মানুষই না।)

শীর্ষেন্দুর উপন্যাসের একটা সাধারণ বিষয় - পূর্বপুরুষ হবে দাম্ভিক ও জাতের গর্বে উচ্ছ্বসিত। ছেলে হবে বিপ্লবী। তারা জাত মানবে না, বাঁধা মানবে না। কিন্তু দিনশেষে তারা সেই অহংকারী পিতা বা দাদার কাছেই ফিরবে। বলবে, "তোমরাই সঠিক। আমাদের পথ ভুল ছিলো। "

"পারাপার" এর "নায়কেরা" অতিমানব। নিজের প্রেমিকা শাশ্বতীকে বন্ধু ললিতের কাছে দেখা করানোমাত্রই আদিত্য বুঝে ফ্যালে শাশ্বতী আর ললিতের মধ্যে "কিছু একটা আছে" (পড়েন made for each other)। কারণ দুজনই ব্রাহ্মণ আর সে "ছোটজাত"। সে শাশ্বতীর যোগ্য না শুধু এই কারণেই।
অর্ধেক উপন্যাস যাও বা চলছিলো, রমেন আর তার জমিদার দাদা দৃশ্যপটে আসার পর তো তাদের দম্ভের চোটে টেকা যাচ্ছিলো না। লেখকের মতে, ব্রাহ্মণরাই ভারতবর্ষের ত্রাতা। তারাই দেশবাসীকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে টেনে তুলেছেন। অথচ বাস্তবতা বলে অন্য কথা। হাজার বছরের শোষণ আর বঞ্চনার ইতিহাস লেখক মুছে দিতে চেয়েছেন কলমের খোঁচায়। পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বর্ণবৈষম্যের নিষ্ঠুর ও রক্তাক্ত ইতিহাস।

আমি শহরের কথা জানি না। গ্রামে এখনো বর্ণবৈষম্য 'র যে ভয়ংকর চেহারা দেখি তাতে আতঙ্কিত হই প্রতিনিয়ত। কেউ বিয়ে করতে গেলেই শুনি "জাত মেলে না। জাত মেলে না!" ( আপনি ভাবছেন ব্রাহ্মণের সাথে ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যের সাথে শূদ্রের জাত নিয়ে সমস্যা? এতোদূর যাবেন না। ক্ষত্রিয়ের সাথে ক্ষত্রিয়ের, শূদ্রের সাথে শূত্রের, এমনকি একই পদবীধারীদের মধ্যে বিয়েতেও সমস্যা। এদের মধ্যেও হাজারটা ভাগ। আমাদের এলাকায় "ঘোষ" পদবীধারী আছে দুই জাতের - লাল ঘোষ আর নীল ঘোষ। লালদের সাথে নীলদের বিয়ে হয় না।)

পাত্রপাত্রী খুঁজতে যেয়ে জেরবার হতে হয় সাধারণ হিন্দুদের। এজন্য জাত মিলে গেলেই তড়িঘড়ি বিয়ে দিয়ে দ্যায়। প্রায়ই দেখা যায় পাত্রপাত্রীদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২০ বছর বা তারও বেশি। কী আর করা! বিয়ে দেওয়া গেছে। সমাজের কাছে মুখরক্ষা হয়েছে সেটাই বড় কথা।
এই ঘোরতর অন্ধকার প্রেক্ষাপটে যখন "পারাপার"
প্রকাশিত হয় আর হাততালি পায় অর্ধশতাব্দী ধরে তখন দুঃখে আর কিছুই বলার থাকে না।
Profile Image for ফারহানা জাহান.
Author 5 books58 followers
July 29, 2021
শীর্ষেন্দু মশাই আমাকে নিঃস্ব করে ফেললেন এবার!

সত্যিই তাই। বইটা শেষ করার পর নিজেকে অনাবৃত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ একজন একটানে আমার ভেতরের সবটা দেখে ফেললো, নিংড়ে নিলো, নিঃস্ব করে ফেললো।
কথাগুলো খুব বেশি বেশি শোনালেও আসলেও আমার অনুভূতি এরকমই। নিজের জীবন দর্শনের আদ্ধেকটাই শীর্ষেন্দু মশাই লিখে ফেলেছেন, কতগুলো বছর আগে, তাও একটা মাত্র বইতে। এরপর আর কী লিখবো আমি? লেখার কি কিছু আছে আমার আদৌ? জানি না।

ক্যান্সার আক্রান্ত ললিতকে ঘিরে পারাপার এর কাহিনি বর্ণিত হলেও তাতে উঠে এসেছে তুলসী, সঞ্জয়, বিমান আর রমেনের ভিন্ন ভিন্ন জীবনাদর্শ। একবারের জন্যেও মনে হয়নি লেখার সমাপ্তি আগে থেকে ঠিক করা, কেবল মনে হয়েছে চরিত্রগুলো নিজেরাই বয়ে চলছে, নদীর মতো, সাগরে যেয়ে মিলবে তা জানে, তবে কীভাবে যাবে তার বাঁধাধরা কোনো রাস্তা নেই। প্রত্যেকটা ঘটনা স্বতঃস্ফূর্ত, প্রত্যেকটা মোড় চলে এসেছে জীবনের ধারাবাহিকতায়।

২৬৪ পৃষ্ঠার বইটা আমি অনেক সময় নিয়ে পড়েছি, অনেক যত্ন করে প্রতিটা লাইনের অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছি, চোখের সামনে প্রত্যেকটা চরিত্র নিজের স্বকীয় জগৎ তুলে ধরেছে, সবটাই আমি যেন দেখতে পারছিলাম। সাম্যবাদের পক্ষে-বিপক্ষের অনেক কথা যেমন এসেছে, তেমনি বাস্তববাদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়া মানুষের অসহায়ত্বও অনুভব করেছি। মানব মনের সারাজীবনের টানাপোড়েন নিয়ে লিখতে গেলে হয়তো শেষ হবে না কখনো, তবে লেখক খুব আলাদা, কিন্তু সাধারণ কিছু দোদুল্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সেখানে ভিন্নতা ছিল এখানে যে প্রতিটা বিষয় উঠে এসেছে তার চরিত্রগুলোর মুখ থেকে। গল্পকথকের এখানে বিশেষ কোনো কর্তৃত্ত্ব যেন ছিলই না কখনো।

একটি বা দুটি খুন করার পর মানুষের চোখ ওরকম স্থির হয়ে আসে। তখন চোখের পাতার একটা ছায়া পড়ে মণিতে। আর সেখানে চোখের গভীরে ধিক ধিক করে একটা চোরা আলো।


কখনো-সখনো আমাদের প্রিয়জন চলে যায়, তার শূণ্য স্থানে অন্তরে চলে আসে দয়া, মায়া কিংবা বিস্তার।...ছেলে না থাকায় দুঃখই ছেলে হয়ে তার কাছে আছে।


কেবলই মনে হয় পারাপার জুড়ে শুয়ে আছে কর্ষিত ভূমি। তার হাতে বীজ।


বোধ হয় চিরকাল প্রকৃতির সঙ্গে মেয়েরা গোপন ষড়যন্ত্র করে আসছে_ঠকাচ্ছে পুরুষদের। তাদের যেটুকু দেওয়ার_সেইটুকু, সেই তুচ্ছ শরীরটুকু সামনে ছুঁড়ে দিয়ে গোপন করছে মূল্যবান কিছু। পুরুষেরাও এর বেশি মেয়েদের বোঝে না। কিন্তু সে কেবল অতৃপ্ত থেকে যায়।


এবং আমার সবথেকে প্রিয়,
দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরোনো হয়ে গেল! তবু মানুষের জন্ম এখনো কী রোমাঞ্চকর!


সর্বোপরি, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এ���ে, কিংবা খুব বেশি ভালোবেসে ফেললেও, এই বইটা পড়ে দেখার অনুরোধ থাকবে।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,475 reviews559 followers
October 5, 2019
ললিত এ উপন্যাসের কেন্দ্র। তাকে ঘিরেই রয়েছে কতগুলো মানুষ। আর সে সব মানুষের জীবন কথন ই উপন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে নানা ঘটনায়।

হাসপাতাল থেকে প্রায় দু'মাস পর ছাড়া পেল ললিত। ললিতকে নিয়ে যেতে এসেছে তার বাড়িওয়ালার ছেলে মাসলম্যান শম্ভু। ললিতের বন্ধু তুলসী। বাসায় ললিতের বুড়ো মা অধীর আগ্রহে বসে আছে ছেলের জন্য।

শম্ভু এলাকার বেকারদের নেতা। ইদানীং সে পুলিশে চাকরি পেয়েছে। সারাদিন জিম আর এলাকায় নানা কাজের মধ্যে তার সময় কেটে যায়। ললিত দা কে বড্ড আপন ভাবে আত্মভোলা শম্ভু।
ললিতের সেই কলেজ থেকে বন্ধুত্ব তুলসীর সঙ্গে। সাধারণ ঘরের ছেলে তুলসী সবসময় একধরনের আত্মদ্বন্দে ভোগে। বউকে সহজভাবে নিতে পারেনা, অতিসাধারণ এক আধগেঁয়ো স্কুলে পড়ায় কিন্তু বেতনটাও ঠিকভাবে পায় না। তুলসী যেন সর্বদা নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা ভেবে নেয়, বলতে গিয়েও বলা হয়ে ওঠে না মনের কথা।

গরীবঘরের ছেলে সঞ্জয় স্রেফ নিজের চেষ্টা আর বউ রিনির কেরামতিতে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বন্ধু ললিতকে দেখতে যায় সে।

'কাঠ বাঙাল' শাশ্বতীকে ভালোবেসে বিয়ে করতে যাচ্ছে আদি কলিকাতার ব্যবসায়ীর ছেলে আদিত্য। সে শাশ্বতীর জন্যে বাড়ি ছাড়তেও একপায়ে রাজি, কেননা বাড়িতে শাশ্বতীকে মেনে নেবে না। সে শাশ্বতীকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ললিতের সঙ্গে। আদিত্যর যতো স্বপ্ন শাশ্বতীকে ঘিরে।

ললিতসহ তার অন্যান্য বন্ধুরা প্রায়শই ভাবে পূর্ববঙ্গের জমিদারবংশের ছেলে রমেনের কথা। কতো স্মৃতিঘেরা রমেনকে নিয়ে। অথচ সেই রমেন আজ নিরুদ্দেশ।

এদিকে, শাশ্বতী ললিতকে নিয়ে ভাবতে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করে সে স্মৃতিরোমন্থন করছে। ভাবছে তার দিদির কথা যে পরিবারের সবকিছু পাল্টে দিয়েছিলো। চিন্তা করছে তার সাময়িক গর্তবাসী অর্ধপাগল বাবা, কুৎসিত বোন আর পরিবারের চাপে পিষ্ট ভাই কালীনাথেরর কথা। কিন্তু তার সবভাবনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে একান্তই নিজস্ব কিছু স্মৃতি।

শাশ্বতী যেন হঠাৎ সরে আসতে চাইছে আদিত্যের থেকে, আদিত্যের প্রতি কাজ করছে না কোনো অনুভূতি। শাশ্বতীর এ ভাবনা অনেকটা আদিত্যও বুঝে ফেলে। সে সিদ্ধান্ত নেয় শাশ্বতীকে অনেকটা জোর করে বিয়ে করার। কিন্তু বিয়েটা হলো না।

শাশ্বতী হঠাৎ ললিতের বাড়ি আসে। কেন আসে সে নিজের তা বুঝতে পারেনা।

হারিয়ে যাওয়া রমেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী ফিরে আসে কলিকাতায়
।ফিরে আসে তার সেই প্রজাদের কাছে যাদের কাছে আজীবন সে ছোটকর্তা। সেই রমেণ কেন বিবাগী হয়েছিল? তা কী তার কর্মফল নাকি অন্যকিছু?রমেণ যায় বন্ধু ললিতের সঙ্গে দেখা করতে।সন্ন্যাসী রমেণের সঙ্গে মেলামেশা মানতে পারেনা ললিতের মা। শঙ্কায় ভোগে তার ছেলের আবার সন্ন্যাস হবার শখ জাগে।
এদিকে,শাশ্বতীর কোনো কাজেই মন বসে না ললিতের সাথে দেখার করে আসার পর। কোথায় যেন একটা শূন্যতা বোধ করে সে।ললিতের ক্যান্সার সারবে তো? কিন্তু আদিত্যের ভাবনা বাদ বাদ দিয়ে কেন সে ললিতের দিকে আগাচ্ছে? আর ললিত,সে কী শাশ্বতীর কান্ড বুঝতে পারছে? বুঝলেই বা কি শাশ্বতী তার বন্ধু আদিত্যের ভালোবাসা, সে নিজে হয়তো বাচঁবেনা।

মৃদুলাকে বড্ড ভালোবাসে বিভু।কিন্তু মৃদুলা আর তার পরিবারের চোখে বিভু তো প্রেমিক নয় গুন্ডা। তাই বিভুকে ফাঁকি দিয়ে রোগা-পটকা তুলসীকে বিয়ে করলো মৃদুলা। বিভু তা মানবে কেন? সে দেখে নেবে তুলসী আর মৃদুলার পরিবারকে।

এ উপন্যাস পড়তে গিয়ে আবারো উপলব্ধি করলাম মানবমন বড্ড রহস্যময়। মানবের মনের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে আছে পারস্পারিক দ্বন্দ্ব। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র যেন একএকটি মানব মনের প্রতিচ্ছবি।ললিত,রমেণ,সঞ্জয়, আদিত্য,মৃদুলা আর শাশ্বতীরা আমাদের চারপাশের ই মানুষ।তারা যেন প্রতিনিধিত্ব করছে আমাদেরই।
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews64 followers
September 15, 2018
কেউ যদি জীবন সম্পর্কে বিতশ্রদ্ধ হয়ে যান, তাহলে তার দুইটা বই পড়া উচিৎ। হুমায়ূন আহমেদের এপিটাফ আর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পারাপার। আর কিছু বলার প্রয়োজন দেখছি না। সোনা দিয়ে বাধিয়ে রাখার মতো একটা বই।
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
368 reviews12 followers
July 16, 2023
অসময়ে গার্ড নিশান উড়িয়ে গাড়ি ছেড়ে দিবে,প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকবে গাঁটরি...
Profile Image for Swajon .
134 reviews76 followers
May 2, 2019
" দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরনো হয়ে গেল। তবু মানুষের জন্ম এখনও কী রোমাঞ্চকর। "
Profile Image for Ësrât .
515 reviews85 followers
August 20, 2023
যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন ☺ শুরুতে ললিতের কাহিনী তার মায়ের তাকে নিয়ে আশা স্বপ্ন কিংবা শ্বাশতী সাথে বড়লোক বাপের আদুরে সন্তান আদিত্য এর সম্পর্ক অথবা পাড়ার প্রয়োজন অপ্রয়োজনে নিজেকে জাহির করা শম্ভু,সদ‍্য বিবাহিত স্বামীসোহাগী অথচ ভাসুরের বাড়িতে নিজের অতীত নিয়ে কাটা হয়ে থাকা মৃদুলাকে কটাক্ষ করে বলা তারই জার কথা সংসারে স্বরস্বতীর চেয়ে লক্ষীর কদর বেশি,গৃহত‍্যাগী রমেনের হঠাৎ প্রত‍্যাবতন কিছুই যেন টানছিল না, কিন্তু মানব মন বড়ই অদ্ভুত আর এই অদ্ভুত মনকে কিভাবে লেখনির মায়াজালে আটকে রাখা যায় তার উপর বোধহয় লেখক মহাশয়ের গোপন জারিজুরি আছে, নয়তো প্রতি বারেই কি একই শব্দজালে ফেলা যায়
Profile Image for Chandreyee Momo.
219 reviews30 followers
June 16, 2023
বইটায় যে কত কি আছে, জীবনের, মনের কত কথা উন্মোচিত হয়ে গেলো ললিত, আদিত্য, বিমান,রমেন, তুলসী, সঞ্জয়, শ্বাশতী, অপর্নার জীবনের মধ্য দিয়ে। মনের কথা মধ্য দিয়ে, তাদের জীবনদর্শন দিয়ে। মনের কথা দিয়ে সেটা বলে বোঝানো যাবেনা। কত সুন্দর।
বেশ বেশ ভাল লাগলো আমার। খুব গভীর কথাবার্তা আছে সত্যি। তবে যারা জীবনকে বুঝতে চায়, তারা পড়ুক বইটা।
Profile Image for Preetam Chatterjee.
6,833 reviews369 followers
May 26, 2022
স্বর্গীয়। অসামান্য !! এডিট করে বড় লেখা লিখবো পরে , ইচ্ছা হলে।
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews42 followers
June 10, 2021
দুঃঘময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরনো হয়ে গেলো! তবু মানুষের জন্ম এখনও কী রোমাঞ্চকর!
Profile Image for Rokaiya Shatadru.
26 reviews13 followers
January 11, 2021
পড়তে পড়তে হারিয়ে গিয়েছিলাম কোথাও।
Profile Image for Nahidur Rahman.
25 reviews5 followers
March 21, 2021
মোটিভেশনাল বইয়ের তালিকায় আরেকটা প্রিয় বই যুক্ত হলো। বেঁচে থাকাটা কতো আনন্দের, সেটা বোঝার জন্য হলেও বইটা পড়তে বলবো।
Profile Image for Pranta Biswas.
122 reviews4 followers
June 23, 2022
ভাল মন্দ কোনরকম বোধ হচ্ছে না
Profile Image for فَرَح.
188 reviews2 followers
October 17, 2025
চিকনে বর্ণপ্রথার গুণগান গাওয়ার জন্যই ললিতের নাম দিয়ে এই কাহিনি ফাঁদসে।
Profile Image for   Shrabani Paul.
395 reviews23 followers
June 21, 2022
অসাধারণ 🍂
খুব ভালো লাগলো
Profile Image for তুরাস পিয়াল.
11 reviews3 followers
August 17, 2016
যেহুতু আগেই শীর্ষেন্দু এর বেশকিছু অসাধারন বই পড়ে ফেলেছিলাম, তাই বেশ আসা নিয়েই বসেছিলাম। হতাশ হতে হয়নি। ললিত, রমেন, সঞ্চয়, আদিত্য, শাশ্বতী, অর্পনা চরিত্র গুলোর গভীর বিশ্লেষণ একটা দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাবে মনে। সেই কলেজ জীবনের উত্তাল সময়ে যে সম্পর্ক গুলো গড়ে উঠেছিল সেইসব সম্পর্কগুলোই আবার কয়েক বছর পর শিকড়ে পানি পেতে থাকে। ললিতের রোগভোগে মৃত্যুচিন্তা, রমেনের সব ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া, সঞ্চয়ের তিন গুন হারিয়ে ফেলা, আদিত্যের নিজের বংশগত দেয়াল থেকে বেড়িয়ে চাওয়া কিংবা মাথায় আাকাশ নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানো বিমান আমাদের জীবন সম্পর্কে আবার যেন ভাবতে বলে। মধ্যপথে বিভুর আগমন যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার প্রশমন যেন তুলসি আর মৃদুলার মত আমাদেরও স্বস্তি দিয়ে যায়, কিছুটা কষ্ট কী মিশে থাকেনা সেই স্বস্তিতে?আমাদের ভিতরে কে যেন বলতে থাকে " ভাই রে... এ, তুই এঁকে বেঁকে ছোট, এঁকে বেঁকে ছোট...। " গভীর জীবনবোধ, কুশিলবদের নিজেদের মধ্যে অসাধারন ভাবে মিলিয়ে যাবার মাঝে কেমন জানি বেমানান লাগে অনিমার আগমন।
Profile Image for Hasibul Shuvo.
31 reviews3 followers
March 1, 2023
কী করব...কী করব... অনেককিছু করব রে। বিকেলে
আমাদের উঠোনে একটা অদ্ভুত আলো এসে পড়ে কোনোদিন লক্ষ্য করিনি—সেই আলোটুকু রোজ চুপ করে বসে দেখবো একা একা । ... ঠিক দুপরবেলা – মা যখন একা থাকে সেইসময়ে ঐ জানালার পাশে চৌকিতে বসে লুডো খেলবো মায়ের সঙ্গে—– পেয়ারাগাছের ফাঁক দিয়ে একটু, রোদ এসে পড়বে মায়ের মুখে। ... একটা প্রেম করব—বুঝলি? সন্ধ্যের পর কলকাতার রাস্তায় দোকানের যে আলো পড়ে, সেই আলোয় তার পাশে পাশে হাঁটবো। ... বিয়ে করব। ... প্রথমে একটা মেয়ে হবে। তার শিশুমুখের গন্ধ নেবো বুক ভরে। ... তারপর আস্তে আস্তে বড়ো হবো...অসুখ হবে... মরে যাবো.....
Profile Image for Kazi.
159 reviews21 followers
May 21, 2017
শীর্ষেন্দু যেমনটা লেখেন- ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর।
Profile Image for Baishali Datta.
25 reviews51 followers
January 20, 2019
কারও কারও মৃত্যু পালকের মতো হালকা।কারও মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী।
Profile Image for Zannat.
41 reviews16 followers
May 8, 2024
দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরনো হয়ে গেলো, তবু মানুষের জন্ম এখনো কী রোমাঞ্চকর! 💚
Profile Image for Yeamin Resin.
2 reviews
May 5, 2021
দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরোনো হয়ে গেল! তবু মানুষের জন্ম এখনো কী রোমাঞ্চকর!
4 reviews
April 1, 2021
ললিত, আদিত্য, তুলসী, সঞ্জয়- ৫ বন্ধু'র আরেক বন্ধু 'রমেন'; প্রজাপালক রায় রমেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। বাকি ৪ এর 'রমেন' হবার বাসনার মাঝে লেখক মানুষের সাম্য আর বর্ণপ্রথা নিয়ে তার মনের তোলপাড়ের কথাই আমাদের বলেন। আর বিমান রক্ষিত- তাকে দিয়ে বলেন সীমাবদ্ধতার কথা যার মাথায় আকাশ ঢুকত।

*মানুষের মনভরা অভিশাপ- কেবল জানে না , কাকে দিতে হবে*
*দু:খময় পৃথিবীতে মানুষের কত দিন হয়ে গেল, তবু মানুষের জন্ম কত রোমাঞ্চকর।*
Profile Image for Rakibul Dolon.
167 reviews24 followers
June 6, 2019
ক্যান্সারে আক্রান্ত এক যুবক, যার নাম ললিত.
ললিত ও তার কিছু বন্ধু এবং তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে পারাপারের কাহিনী.
মৃত্যুপথযাত্রী ললিত হতাশায় ভোগে, আবার রমেন নামের তার এক বন্ধুর কারণে খুঁজে পায় জীবনের পূর্ণতার স্বাদ.
জীবন কতটা সুন্দর, এই পৃথিবী কতটা সুন্দর তাই যেন লেখক আমাদের দেখাতে চেয়েছেন এই উপন্যাসের মাধ্যমে.
Profile Image for Ratika Khandoker.
304 reviews33 followers
June 6, 2021
এই গল্পের কোনো সমাপ্তি নেই,শুধু আছে এগিয়ে চলা,বয়ে যাওয়া আর কি বিষাদময়,মায়ায় মাখা সে বয়ে চলা।শেষ করে ভাবলাম,ললিত আর কতদিন প্রেমিকার পাশে,সন্ধ্যার কলকাতার রাস্তায় দোকানের আলোয় হাঁটল?রমেন আর কতজন কে বুকে আগলে ক্ষনিকের শেষ আশ্রয় দিল? তুলসী পলাশপুরে সুখে আছে কি?
খুব মেলানকোলিক একটি উপন্যাস!
Profile Image for Sofayra Sadeka.
9 reviews1 follower
October 25, 2018
One of the best book of Shirshendu Mukhopadhyay. It's been a really long time since I've read such a great book. The characters life just absorbs you.
Profile Image for Shimul Tikadar.
19 reviews
April 17, 2021
" দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ কত পুরনো হয়ে গেল। তবু মানুষের জন্ম এখনও কী রোমাঞ্চকর। "

Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
March 31, 2025
লেখাপড়া শেষে একটা স্কুলে চাকরি পেয়ে প্রায় নিশ্চিন্ত একটা জীবন পার করছিল ললিত। হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং জানতে পারে তার ক্যান্সার হয়েছে। দুই মাস হাসপাতালে ভর্তি থেকে তারপর ছাড়া পায়। হাসপাতাল থেকে নিতে আসে বাড়ীওয়ালার ছেলে শম্ভু ও বন্ধু তুলসী।
এই দুই মাসে হাসপাতালে আসা-যাওয়া ললিতের মাকে দেখাশোনা করা সবটা করেছে তুলসী আবার এর মধ্যে বিয়েও করে নিয়েছে।
হাসপাতাল থেকে ফিরে ললিত মানসিক ভাবে নিজেকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে আসে যে সে আর খুব বেশী দিন বাঁচবে না তাই যে কটা দিন বাঁচে একটু সুন্দর করে বাঁচবে।
সঞ্জয়, রমেন, বিমান, আদিত্য সব বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে শুরু করে। এদের বন্ধুত্বটা কেমন সুতো আলগা হওয়া বন্ধুত্বের মতই তবে টানলে আবার এক জায়গাতে ���সে মিশে যায় এমনটা।

৪৫১ পৃষ্ঠার উপন্যাসে মূল চরিত্র ললিত, তবে প্রতিটি চরিত্রের আলাদা আলাদা একটা গল্প এখানে উঠে এসেছে এবং লেখক সবগুলো গল্পকে কোন না কোন ভাবে কেমন করে জানি একটা সুতোর সাথে জুড়ে দিয়েছেন।

বিশাল পরিসরের এই উপন্যাসে লেখকের একটা ব্যর্থতা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তিনি জাতি ধর্মের উর্ধে উঠতে পারেন নাই। হিন্দু বর্ণ বাদকে বাদ না দিয়ে বরং প্রবলভাবে তা লালল করেছেন এই উপন্যাসে। এটা লেখকের ব্যর্থতা।

একজন পাঠক হিসেবে এই সময়ে দাড়িয়ে যদি এই একটা দিক নিয়ে বইটাকে বিচার করি তবে এই বিশাল পরিসরের উপন্যাসের ব্যর্থতা লেখকের।

কিন্তু এই দিক বাদে আরও চমৎকার কিছু দিক আছে এই উপন্যাসের।

ললিত মূল চরিত্র হলেও তার সাথে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি চরিত্রের জীবনের গল্প গুলো যেমন বৈচিত্র্যময় তেমন সাংঘর্ষিক। ঘটনা বহুল জীবনে দেশ ভাগ, সামাজিক অবক্ষয়, পারিপার্শ্বিক জীবন ও আধ্যাতিক এক জীবন বোধের পরিচয় মেলে।

বইটি জীবনকে, জীবনবোধকে তুলে ধরে পাঠকের সামনে। যে জীবনে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, পাওয়া, না-পাওয়া কোন কিছুরই একতরফা আধিক্য থাকেনা। পার্থিব জীবনের সকল উপাদান উঁকি দিয়েছে।
যে মানুষ টা জানে না তার মৃত্যু কবে হবে সে যেমন নিশ্চিত এক জীবন পার করতে পারে মৃত্যু ভাবনা ছাড়া তেমনি যে মানুষ টা জানে আর কয়েকদিন পর তার মৃত্যু হবে সেই জীবনটা সে প্রতিটি মুহূর্ত চেখে দেখে দেখে উপভোগ করে।
তাছাড়া আছে চমৎকার এক বন্ধুত্বের গল্প।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'পারাপার' এ মূলত জীবন দর্শন দেখিয়েছেন পাশাপাশি কয়েকটি চরিত্র ও সেই চরিত্র গুলো র জীবনের গল্পের মধ্যে দিয়ে।



📖পারাপার
🖊️শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
26 reviews
December 30, 2024
কেন্দ্রীয় চরিত্র ললিত হওয়াতে গল্পটি পড়তে গিয়ে মন বারবার ভারাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যেও লেখক আশা, ত্যাগ আর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের এই ছোট অনিশ্চিত জীবনটা কত সুন্দরভাবে উপভোগ করে বেচে থাকা যায়, তাই যেন দেখিয়েছেন। সবমিলিয়ে চমৎকার একটি উপন্যাস।
Profile Image for Ashik Mahmud.
5 reviews2 followers
February 27, 2023
যাদের পার্থিব পড়ে ভালো লেগেছে, তাদের জন্য must read বই ।
7 reviews1 follower
June 11, 2023
As a shirshendu fan, it was little slow
Displaying 1 - 30 of 35 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.