Shawkat Osman (Bengali: শওকত ওসমান; Sheikh Azizur Rahman; 1917 – 1998) was a Bangladeshi novelist and short story writer.Osman's first prominent novel was Janani. Janani (Mother)is a portrait of the disintegration of a family because of the rural and urban divide. In Kritadaser Hasi (Laugh of a Slave), Osman explores the darkness of contemporary politics and reality of dictatorship.
Awards Bangla Academy Award (1962) Adamjee Literary Award (1966) President Award (1967) Ekushey Padak (1983) Mahbubullah Foundation Prize (1983) Muktadhara Literary Award (1991) Independence Day Award (1997)
একটা গুদাম ঘর। সিভিল সাপ্লাইজের গুদাম ছিল কিছুদিন আগ পর্যন্ত। হেরেম বানিয়েছে সেটাকে হানাদার বাহিনী। ভেতরে শখানেক মেয়ে, নানা বয়সি। সবাই উলঙ্গ। খান সেনাদের একেকজনের একেক রকমের মেয়ে পছন্দ। কারও কচি মেয়ে লাগে, কারও বা বয়স্ক। কেউ পাতলা মেয়ে পছন্দ করে, কেউ একটু মোটাসোটা, কেউ আবার একটু কুৎসিত পছন্দ করে। কারও কারও স্ফীত নিতম্ব পছন্দ। সব রকমের মেয়েই আছে গুদামে। যার যখন ইচ্ছে খায়েস মেটায়। আধা হিন্দু আধা মুসলমান এই বাঙালী মেয়েগুলোর গর্ভে সাচ্চা মুসলিম বীজ বপন করে দিয়ে যেতে হবে। আবার গুদামের প্রহরার দায়িত্বে থাকা আলী খানের নপুংসক শরীর সারা না দিলেও হাতের মজা ঠিকই লুটে নিতে ছারে না।
পাপের সামনে সাধু-সন্তরা হয়তো নির্ভয় নিলাজ দাঁড়াতে পারে। সাধারন মানব মানবী সেখানে পঙ্গু। মেয়েগুলোর কষ্ট গুদামের চারদেয়ালে ক্রমাগত বাড়ি খেয়ে ফিরে আসতে থাকে। একজন হঠাৎ বলে ওঠে আসো সবাই আল্লাহরে ডাকি, নামাজ পড়ি। মসিবত তিনি দ্যান আবার তিনিই দূর করেন। আরেকজন প্রশ্ন করে "আমরা ল্যাংটা দেখো না?" নামাজ পড়তে তো সতর ঢাকতে হবে, কি দিয়ে ঢাকবে তারা? সখিনা হেসে ওঠে হো হো করে। "সিপাইদের কাছে ল্যাংটা হতে পারি আর আল্লাহর কাছে ল্যাংটা হইলে দোষ কি?"
একজন হঠাৎ মারা গেছে। মৃত্যু কিছু কিছু সময় মুক্তি ও দেয়। তাকেও দিয়েছিল হয়তো। সব মেয়েরা জড় হয় মৃত মেয়টির পাশে। একজন সবাইকে বলে দোয়া দুরুদ পড়তে, মৃত মেয়েটির তাতে মঙ্গল হবে। আরেকজন জিজ্ঞেস করে মৃত্যুর থেকে আর কি বা বেশি মঙ্গল হবে? যেখানে বেঁচে থাকার থেকে মৃত্যু মঙ্গলজনক সেখানে আর কি তারা চাবে? রশিদা বিবির দু'পা জড়িয়ে তনিমা কাঁদতে থাকে আর চিৎকার করে বলে- চাচী, আমার গলা টিপে আমাকে ওর কাছে পৌঁচে দিন।তনিমার চোখের পানি মুছে দিতে রশিদা নিজের আচলের দিকে হাত বাড়ায়, কিন্তু কোথায় আচল, বস্ত্র তো কবেই খুলে নিয়েছে শুওরগুলো।
কি কষ্ট হচ্ছে পড়তে? শওকত ওসমানের "নেকড়ে অরন্য" নিতান্তই একটা ফিকশন। বাস্তবতা আর ও কঠিন ছিল। নীলিমা ইব্রাহীমের "আমি বীরাঙ্গনা বলছি" পড়ে আমার কয়েকদিন গা গুলাতো।