Jump to ratings and reviews
Rate this book

Humayun Ahmed (Chronological List) #298

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ

Rate this book
ফ্ল্যাপে লিখা কথা
বাংলা কথাসাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একজন প্রবাদপুরুষ। জীবন্ত কিংবদন্তি। চার দশক ধরে লিখছেন অবিরাম। উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ উপাখ্যান, আত্মজৈবনিক, রম্যরচনা কিংবা শিশুতোষ রচনা-সৃষ্টিশীলতার যে মাধ্যমটিতেই হাত দিয়েছেন, অন্য এক আলোর দ্যুতিতে তা উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। পাঠকরা তাকে গ্রহণ করেছেন গভীর ভালোবাসায়। পাঠকপ্রিয়তায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে তার মতো তুংগস্পর্শী কাউকে আমরা লক্ষ করি না।
কৈশোরে 'জোছনার ফুল'- সৌন্দ্রর্যে মুগ্ধ এই শব্দশিল্পীর দেহে বাসা বেঁধেছে কর্কট রোগ। প্রকৃতি জীবনের সৌন্দর্য সন্ধানে যিনি নিবেদিত, কর্কট রোগের কী সাধ্য তাকে হার মানায়!

ভূমিকাঃ
এই গ্রন্থের সব লেখাই নিউইয়র্কে বসে লেখা। লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থেকে কেমোথেরাপি নামক চিকিৎসার যন্ত্রণা ভোলার চেষ্টা। এই চেষ্টা খুব যে কাজ করেছে তা না, প্রায়ই কলম ছুড়ে ফেলে বিছানায় চাদর মুড়ে শুয়ে ভেবেছি-‘আর কত?’
যাই হোক, বেশ কিছু লেখা লিখেছি, প্রথম আলো গুরুত্বের সঙ্গে ছেপেছে। মতি তাতে বিস্মিত এবং অভিভূত। মনে হয়েছে আমার লেখক-জন্ম সার্থক।
এই গ্রন্থে তিনটি গল্পও আছে। গল্পগুলো লিখে আনন্দ পেয়েছে। কঠিন ব্যাধি শরীরে নিয়ে আনন্দ পাওয়া বিস্ময়কর ব্যাপার।
বিস্ময়কর এই ব্যাপারগুলো আমার জীবনে ঘটছে। কেন ঘটছে, কে ঘটাচ্ছেন, তা জানি না। জানতে ইচ্ছে করে।

হুমায়ূন আহমেদ
জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক

94 pages, Hardcover

First published February 17, 2012

Loading...
Loading...

About the author

Humayun Ahmed

454 books3,104 followers
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.

Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.

Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.

Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.

Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.

Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
138 (20%)
4 stars
266 (38%)
3 stars
217 (31%)
2 stars
53 (7%)
1 star
12 (1%)
Displaying 1 - 30 of 39 reviews
Profile Image for Ësrât .
522 reviews94 followers
March 7, 2023
হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কের ঝকঝকে আকাশে তারা হয়ে রয়ে গিয়েছিলেন।

মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসিমুখে ফিরে আসার ছাড়পত্র পাওয়ার এক মূহুর্ত আগ অব্দি বুকচেরা তীব্র বর্ণনাতীত ব্যাথা-শঙ্কার দোলাচলে বিষাদের কালো মেঘ গাঢ় থেকে গাঢ়তর হবে; না শুভ্রশান্ত নীলাকাশের রংধনুতে রাঙিয়ে উঠবে জীবন আবার আগের ছন্দে সেই দ্বিধাতেই আছি।
Profile Image for Rubell.
198 reviews23 followers
August 9, 2021
হূমায়ুন আহমেদের ক্যান্সার ধরা পড়ে চতুর্থ স্টেজে। মেটাস্টেসিস হয়ে গেছে। হাতে আর বেশিদিন সময় নেই একথা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। নিউইয়র্কে তাঁর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু হয়, তখন প্রথম আলোতে এই কলামগুলি নিয়মিত লিখছিলেন তিনি। তখন পড়েছিলাম। প্রায় দশ বছর পর আবার পড়লাম।
হূমায়ুন আহমেদের লেখা পড়লে মনে হয় রসিক আড্ডাবাজের মুখে গল্প শুনছি। পাঠকের সাথে এটা ছিল তাঁর শেষ আড্ডা। তিনি হালকা রসিকতায় সময় নষ্ট কম করেছেন। হূমায়ুনসুলভ রসিকতা যেমন আছে রচনাগুলিতে, বিদায়ের আভাসও আছে। ভালোবাসা, আক্ষেপ, অপূর্ণ স্বপ্ন, সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ - বিদায়বেলায় মানুষের মনে এসবই আনাগোনা করে।
Profile Image for Quazi Sanjid.
163 reviews2 followers
October 30, 2026
শেষ জীবনে এসে লেখা প্রিয় লেখকের কিছু গল্প এই বইটিতে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিটি গল্পই লেখকের আত্নকেন্দ্রীক।
তবে বইটা শেষ করে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছে।
কারণ এই গল্পগুলো বলার কয়েকমাস পরেই তো উনি চলে গেলেন এক অজানার দেশে। আর কখনো
কলমের মাধ্যমে উঠে আসবে না হিমু, মিসির আলি, শুভ্রের মতো চরিত্রগুলো।

লেখক যেখানেই থাকুক ভালোই থাকবেন এই আশা করি।
Profile Image for Masudur Tipu.
222 reviews9 followers
August 20, 2025
সেকেন্ড টাইম পড়লাম!
ভালোই লাগলো আবারো! মৃত্যুর আগের লিখার একটা আবেগঘন ব্যাপার আছে বইয়ে
Profile Image for Nahiyan Asadullah.
112 reviews29 followers
September 8, 2015
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর আগে অনেকেই তাঁর ধর্ম বিশ্বাস নেই বলে নানা কথা বলত। আমার মনে হয় হুমায়ুন পাঠক না হলে এমন ধারনা করার যুক্তি নাই। কম বেশি প্রায় প্রতি গল্পেই তিনি ধর্ম দর্শন এবং জীবন নিয়ে কথা বলেন। তিনি যে আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাসী সেটা এই বইটা পড়ার পর সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল। এই প্রথম তিনি তাঁর কোন বইয়ে কুরআনের কিছু আয়াত কোট করলেন একটা ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে।

এই বইয়ের কাঠামোটা একি সাথে অদ্ভুত এবং আনকম্ন। এটাকে একটি সাথে ননফিকশন এবং ফিকশন বলা চলে। কারণ বইয়ের প্রায় পুরোটাই লেখকের চিকিতসাসুত্রে আমেরিকায় অবস্থানের স্মৃতিচারণ। শেষ বিশ পাতায় তিনি তিনটা ছোট গল্প রচনা করেছেন।
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
538 reviews23 followers
May 1, 2023
২০১১ সালের কথা! প্রথম আলোতে হুমায়ূন আহমেদের সাপ্তাহিক কলাম পড়তাম। কলামের শিরোনাম - নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ। খুব আগ্রহ নিয়ে প্রিয় লেখকের সেই কলাম গোগ্রাসে গিলতাম কৈশোরে। ঠিক তার পরের বছরেই লেখাগুলো মলাটবন্দি হয়ে আসে বইমেলায়। এর ঠিক কয়েক মাস পরেই লেখকের মৃত্যু হয় মরনব্যাধী ক্যান্সারে। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ের লেখার এই সংকলন সংগ্রহে রাখতে ইচ্ছে হল। সেদিন বাতিঘরে গিয়ে বইটি হাতে নিয়ে সংগ্রহে রাখতে ইচ্ছে হল। অনেক আগে পড়েছিলাম বলে লেখার কন্টেন্টগুলোও ঠিক মনে নেই। আবার পড়তে বসে নতুন করে যেন আবিস্কার করলাম হুমায়ূন আহমেদকে।
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
497 reviews90 followers
July 10, 2026

পৃথিবীতে আছে লক্ষ লক্ষ অপূর্ব সব বই ৷ একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় এইসব বইয়ের অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশই পড়তে পারে৷ ষাট বছর যার আয়ু, সে যদি জন্মের দিন থেকেই প্রতিদিন একটা করে বই শেষ করে, তা হলে ষাট বছরে সে পড়বে মাত্র একুশ হাজার ছয় শ’ বই। আমার হিসেবে কোনো বুভুক্ষু সর্বগ্রাসী পাঠকেরও এক জীবনে দশ হাজার বই পড়া সম্ভব না! তারাশংকরের "কবি" উপন্যাসের নায়কের মতো বলতে ইচ্ছে করে, ‘জীবন এত ছোট কেন?'


এই বইটা এক চাপা বিষন্নতায় ঘেরা কিন্তু হুমায়ূন স্যার তার স্বভাবত রসিকতা করে গেছেন।
Profile Image for Shihab Siddiquee.
118 reviews3 followers
July 29, 2026
ক্যান্সার আক্রান্ত লেখকের কয়েকটি ছোট ছোট গল্পের সংকলন । মানুষ যখন বুঝতে পারে টার হাতে আর খুব বেশি সময় নেই তখন হয়ত বস্তুগত চিন্তার ছেয়ে জীবনের অনেক ছোট ছোট জিনিসের দিকে ফোকাস করতে শুরু করে । হুমায়ুন আহমেদ ও এই বইয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন এক বিশ্বমানের ক্যান্সার হাসপাতাল বানানোর । তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি শেষ পর্যন্ত । তার আগেই চলে যেতে হয়েছে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে । খুব মজার বাপার হল তাঁর লেখায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের তথাকথিত বড়লোক দের সম্পদ নিয়ে দৃষ্টি ভঙ্গি । এখানে কেউ যত বড় ধনীই হোক না কেন ভাল কাজ করে মানুষের উপকার করার আগ্রহ খুবই কম । খুব খারাপই লাগল পড়ে যে লেখকের হাসপাতাল বানানোর স্বপ্ন পূরণ শেষ পর্যন্ত পূরণ হয় নি বলে ।
Profile Image for Fahad Ahammed.
399 reviews47 followers
March 24, 2018
শেষ গল্পটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে
Profile Image for Ahmed Zisan.
62 reviews25 followers
February 23, 2022
যে কারো জীবন সম্পর্কে জানতে ভালো লাগে, তবে সেই লেখায় রস থাকা চাই। দুঃখ হলেও লেখায় রস থাকা প্রয়োজন। আর হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন ব্যক্তি, যার সব কিছুতেই রস আছে।
Profile Image for Adwitiya (অদ্বিতীয়া).
336 reviews48 followers
July 7, 2026
হুমায়ূন আহমেদের লেখা তো সবসময়ই স্মুথ। এই লেখাগুলো আরো বেশি স্মুথ লাগলো। উনার লেখা সর্বশেষ আত্মজীবনীমূলক রচনা হিসাবে এর আবেদনও বিশেষ। চতুর্থ স্টেজের ক্যান্সার পেশেন্ট হিসাবে পৃথিবীতে হাতে গোনা কদিন অবশিষ্ট আছে জেনে লেখকের মনের চিন্তাভাবনা কেমন ছিলো? তার কিছুটা জানা যায় হয়তো।

লেখক-পত্নী শাওনকে নিয়ে কদিন পর পর সমালোচনার ঝড় উঠে। জুলাই উপলক্ষে আবার উঠল। যতই সমালোচনা থাকুক হাঁটুর বয়সী মেয়ের সাথে লেখকের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে, উনার শেষের দিকের আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো পড়লে কিন্তু স্পষ্টই বোঝা যায় শাওনের সাথেই লেখকের পুরোপুরি মনের মিল ছিলো। আত্মার সম্পর্ক যাকে বলে৷ ভালোই। দুই পুত্র নিয়ে সুন্দর সজানো সংসার ছেড়ে লেখকের চলে যাওয়ার কোন ইচ্ছা ছিলো না বোঝাই যায়। সৃষ্টিকর্তার বিচার কঠিন। মানতে না চাইলেও মেনে নিতে হয়।


~ 5 July 2026
Profile Image for sab.
35 reviews26 followers
Read
October 29, 2026
আমি তো উনার ফ্যান হয়ে যাচ্ছি
Profile Image for Shahriar  Fahmid.
117 reviews15 followers
July 23, 2023
সংসার নামক স্মৃতিকথাটা একটু বেশি ভালো লেগেছে।
রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Klinton Saha.
410 reviews5 followers
April 12, 2023
এই বইয়ের সব লেখা নিউইয়র্কে কেমোথেরাপি নেওয়ার সময়কালে লেখা। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটা লেখায় ক্যানসারের প্রসঙ্গ চলে এসেছে।বইয়ে বিভিন্ন স্মৃতিকথার পাশাপাশি তিনটি গল্পও রয়েছে।বাঁচার এক অদম্য ইচ্ছা প্রতিটি লেখার মূল সুর। এছাড়া ভবিষ্যতে স্বদেশে বিশ্বমানের ক্যানসার নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও তাকে দেখতে দেখা যায় যা বর্তমানে হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
Profile Image for Heisenberg.
174 reviews8 followers
Read
July 20, 2026
লেখাগুলো খুব বেশি মেলানকোলিক, মরবিড।
মন ভারী হয়ে উঠছে মোটামুটি সব গুলা গল্পেই।
যেন নিজের মৃত্যুসংবাদ নিজেই সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন।
Profile Image for Nirjhar Ruth.
24 reviews14 followers
January 9, 2018
২০১১ সালে নিউইয়র্কের স্লোন ক্যাটেরিং হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে যাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা গ্রহণের সময়ের বিভিন্ন কাহিনী নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এই বইটি লিখেছেন। এমনিতেই আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখা আত্মজীবনীর ভক্ত, তার উপর ভীষণ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর লেখকের মন মানসিকতা জানার একটা ইচ্ছে ছিলো। তাই বইটা পড়া।

ক্যান্সারে আক্রান্ত শুনলেই আমাদের মনে তীব্র ভয়ের যে হেলদোল শুরু হয়ে যায়, লেখকের রসিক লেখায় সেটা প্রকাশ পায়নি। যদিও তিনি বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্সার সম্পর্কে তার ভীতি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সেই ভীতি স্বভাবসুলভ রসিকতায় উড়িয়েও দিতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়েও হুমায়ূন আহমেদের সহজভাবে জীবনকে দেখার মানসিকতা প্রমাণ করে, তিনি প্রচণ্ড দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন (যদিও বিভিন্ন লেখায় তিনি নিজেকে দুর্বল চিত্তের প্রমাণ করতে সচেষ্ট ছিলেন!)।

যা হোক, আমি এখানে লেখকের রিভিউ দিতে আসিনি, কিন্তু লেখার রিভিউ দিতে গেলে আমার হাতে লেখকের কথা চলে আসেই। তাই বেশি বকবক না করে একটা কুইজ দিচ্ছি সম্ভাব্য পাঠকদের। বইটিতে হুমায়ূনের লেখা তিনটি ছোট গল্প আছে। গল্পগুলোর থিম একই। বলতে হবে, থিমটি কী?
Profile Image for Saffat.
93 reviews67 followers
July 21, 2015
মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ হড়বড় করে কথা বলছেন।স্বাভাবিকভাবে কথাগুলো প্রলাপ হবার কথা অথচ না।অধিকাংশ কথা তাৎপর্য বহন করে,আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে।সেই কথা শুনে কে বলবে এই মানুষটা ক্যান্সারের সাথে লড়ছিলেন।
ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বইটি লিখেছেন তিনি।উঠে এসেছে অতীতের কিছু অভিজ্ঞতা,তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু ঘটনাবলী সেই সাথে ভবিষ্যতের স্বপ্নের আল্পনা আঁকা।
অজানা অনেক কিছুই জেনেছি।তিনি যে এডগার এলান পো এবং জাপানী লেখক হারুকি মুকারামি এর লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন সে কথা তিনি নিজ থেকেই বলেছেন।এও জেনেছি অচিনপুর নাকি তিনি এক রাতে লিখে শেষ করেছিলেন।
সবাই গেছে বনে বইটা তিনি বিদেশ বিভুইয়ে বসে লিখেছিলেন পিএইচডি করার সময়ে আর এটি লিখলেন হাসপাতালে শুয়ে বসে।
ভাললাগার মত অনেক কথাই ছিল বইটাতে।তবে এই তিনটি লাইন বেশি ভাল লেগেছে।"you dont 've to love too much of any creation of god.cuz he only knows when he will erase his creation.we don't" ।
পড়তে পড়তে হুট করে কিভাবে যেন শেষ হয়ে যায় বইটা তখন বাস্তব ও পরাবাস্তবতার মাঝামাঝি কোন অবস্থাতে আনমনে চমকে উঠবেন আপনি।
Profile Image for Tushi.
59 reviews44 followers
March 27, 2014
আসলেই হয়তো মৃত্যুর আগে অনেকেই আলামত পায় । বইটা পড়ে মাঝে মাঝে চমকে উঠেছি - কিভাবে উনি বুঝতে পারল কিভাবেই বা এত নির্দিধায় লিখতে পারল ! এই বইয়ে তেমন কিছুই নেই আবার অনেক কিছুই আছে । ওই কিছু একটা আছে জন্যই ৫ রেটিং দিতে বাধ্য হলাম ।

একটা শুধু আফসোস থেকে গেল । তার শেষ স্বপ্ন বাংলাদেশে ক্যানসা্র হাসপাতাল গড়ে তোলা-টা স্বপ্নই থেকে গেল । হয়তো কোনো এক সময় বাংলাদেশিরা ভিক্ষার থালি নিয়ে এ স্বপ্ন পুরণের জন্য মাঠে নামবে । যদি কখনো হয় তাহলে আমি অবশ্যই সেই ভিক্ষুকের দলে যোগ দিব ।
Profile Image for Salwa.
Author 2 books10 followers
February 18, 2015
হুমায়ূন আহমেদের লেখার প্রতিভার উপর ভরসা করে কিছু মানুষের জীবিকা চলতো। তিনি ছাইপাঁশ লিখলেও সেটা বেচে কিছু লোক দুপয়সা আয় রোজগার করত, এটা লেখক জানতেন, তাই খসড়া, আধাসিদ্ধ লেখা সবই ছাপাখানায় দিতে বাছবিচার করেন নাই, প্রকাশকের আব্দার মিটিয়েছেন। এটা তেমনি একটা হাবিজাবি লেখা বই।
Profile Image for Sitap Paul.
33 reviews3 followers
February 28, 2024
হুমায়ূন আহমেদ আমার পছন্দের লেখক। আমি প্রায়ই আমার কাছের মানুষদের বলি, "আমি হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসি। মানুষটা বেঁচে থাকলে নিশ্চিত প্রায়ই তাকে জ্বালাতাম। (যদিও বাস্তবে এই সাহস কখনোই করতে পারতাম বলে মনে হয় না।)" যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরি। হুমায়ূন আহমেদের কর্কট ব্যাধি ছিল। এই ব্যাধির চিকিৎসার জন্য তিনি নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ের গল্পগুলোই 'নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ' এর মলাটে বন্দি হয়েছে। আমি বরাবরই ভালোবাসার এই মানুষটার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব আগ্রহী। এই বইটাও আগ্রহের সাথে পড়েছি, অজানা অনেক কিছু জানতে পেরে নীলাকাশে উড়ে বেড়িয়েছি।
হারুকি মুরাকামির বই নিয়ে লিস্টের অনেককেই পোস্ট, রিভিউ দিতে দেখি, লেখালেখি করতে দেখি। কখনো এই লেখকের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বোধ করিনি। কিন্তু এই বইয়ে হুমায়ূন আহমেদ মুরাকামির এত প্রশংসা করলেন, এতবার তার কথা উল্লেখ করলেন যে জাপানি এই লেখকের বই পড়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে 'কনফেশনস অব আ শিনাগাওয়া মাংকি' অর্ডার করেছি। আমার যখন যা মাথাচাড়া দেয়, তা তাৎক্ষণিক না করতে পারলে শান্তি লাগে না। 😁
Profile Image for Ahnaf Karib.
15 reviews
June 20, 2021
বইটা বেশ ছোট হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে এটি একটি, এবং এখানে তিনি নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থার সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুর আগে ওনার চিন্তা ভাবনা কেমন ছিল, এ নিয়ে হুমায়ূন গবেষকরা বইটি থেকে বেশ ভালো কিছু পাবেন। হুমায়ূন আহমেদ জানতেন সময় বেশি নেই, সেটা মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর প্রস্ততি, সেটা সম্পর্কে ভাবনা এবং আশেপাশের মানুষ যেন তাকে নিয়ে চিন্তিত না হয় তাই সেই অবস্থাতেই ওনার রসিকতা - বিষয়গুলো আগ্রহ জাগিয়েছে। বইটি আরো কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হুমায়ূন আহমেদের যে বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ আজীবন সন্দেহের মাঝে ছিল, তার দর্শন এবং ধর্ম বিশ্বাসের বিষয়গুলো এখানে তিনি প্রকাশ করেছেন। বইটা পড়তে পড়তে হৃদয়ে এক ধরনের হাহাকার চলে আসে, যে হুমায়ূন আহমেদ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে দোর্দন্ড প্রতাপে রাজত্ব করেছেন, তার স্বর্ণযুগের অবসান হতে যাচ্ছে। আর খুব বেশি বই আমরা পাচ্ছি না। অনুভূতিটা অবর্ণনীয়।
Profile Image for Munem Shahriar Borno.
233 reviews12 followers
February 4, 2025
লেখক ক্যান্সার-আক্রান্ত হওয়ার পর নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর কাটানো দিনগুলি সম্পর্কে লিখেছেন অণুগল্প আকারে। লেখকের আর বাকি কাজ গুলোর থেকে এটা আলাদা। কেমন গঠনহীন লেখা, জিস্টবিহীন গল্প অনেকটাই বোর করে। অথচ তিনি এর চেয়ে ভালো লেখেন।

আর হুমায়ূন আহমেদ আত্মজৈবনিক ধাঁচের লিখলেও সেটা পুরোপুরি সহী বলে ধরে নেয়া যায়না। এই যেমন সাব্বির এর সাথে দেখা হওয়ার গল্পটা। সাব্বির মাটিতে পড়েছিলো, লেখক তাকে তুলতে গেলে সে বলতেছিলো, "আমাকে বাঁচান! আমি চশমা ছাড়া দেখতে পারিনা। আমার চশমার পাওয়ার সিক্স ডায়অপ্টার।" এগুলি ওনার গল্পে হয়। আত্মজৈবনিক লেখায় এসব শুধু 'হিউমর' খাটানোর জন্য এসব জোর করে আনলে বিরক্ত লাগে।
Profile Image for Syed.
29 reviews
January 2, 2026
ছোট আত্মজীবনী বই, সাথে তিনটা ছোট গল্প। নিউইয়র্কে ক্যন্সারের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে লিখা।বইটি নিউইয়র্কে তাঁর চিকিৎসার দিনগুলোর এক অনন্য দলিল। এক বসাতেই পড়ে ফেলার মতো ছোট এই বইটিতে জীবনের শেষ সময়ের বিভিন্ন অজানা টুকরো ঘটনা আর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প উঠে এসেছে। মৃত্যুর আগে তাঁর চিন্তা-চেতনা কেমন ছিল, তা বুঝতে গবেষকদের জন্য এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ পাঠকের জন্য এটি এক আবেগঘন ভ্রমণ। চরম অসুস্থতার মাঝেও তাঁর স্বভাবসুলভ রসিকতা 🎭 আর মৃত্যুচিন্তার পাশাপাশি এখানে ফুটে উঠেছে তাঁর গভীর জীবনদর্শন ও ধর্মবিশ্বাস। বইটি পড়ার সময় হৃদয়ে এক হাহাকার 💔 সৃষ্টি হয়, কারণ এটি কেবল একজন মানুষের বিদায়ের গল্প নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের এক অপরাজেয় স্বর্ণযুগের অবসানের সুর।"
Profile Image for HRidoy AHmed.
31 reviews
May 2, 2020
নিজের মা' ই যখন ক্যানসার নামক ব্যধিতে আক্রান্ত তখন এই বই পড়ে আমার কেমন লাগছে তা কীভাবে প্রকাশ করি? আমি হুমায়ূন স্যারকে বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা আমার মা'য়ের মনেও কি হুমায়ুনের মতো মৃত্যু চিন্তা ঘুরঘুর করছে? আসছে নানারকম ভাবনা। মায়ের সুন্দর চুল আর চেহারা আমার চোখে ভাসে। আর কোনদিন কি দেখতে পারবো সেই হাসিহাসি মুখ আর ঘনকালো চুলগুলো ?
Profile Image for Taif Tofa.
14 reviews1 follower
September 23, 2021
ক্যান্সার রোগ শরীরে বয়ে নিয়েও এত সাবলিল লেখা আমাকে মুগ্ধই করে। কি লিখেছেন তার চাইতেও কি পরিস্থিতিতে লিখেছেন তা ভেবেই আমি ৫ স্টার দিতে পারি। আমার বাবাকে নিয়ে একই রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ক্যান্সার নিয়ে বাংলাদেশের সত্যি কিছু করার দরকার। গবেষণা, হাসপাতাল, চিকিৎসা ব্যায়, সব বিষয়েই আমরা পিছিয়ে আছি।
Profile Image for রায়হান রিফাত.
262 reviews9 followers
August 9, 2024

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ
-হুমায়ূন আহমেদ

সচরাচর উনার বই পড়ে আমার হয়ত বিরক্ত লাগে নাহয় কেমন যেন একটা গুমোট আবহে বন্দী হয়ে থাকি।
এই বই টা পড়ে তেমন কিছুই অনুভব হচ্ছেনা।

শুধু মনে হচ্ছে মৃত্যুর সন্নিকটে গেলে মানুষের চিন্তা ভাবনা কি একটু কেমন হয়ে যায়? সে কি মৃত্যুর স্বাদ পেতে শুরু করে?
কেন যেন মনে হচ্ছে উনি বোধয় জানতেন উনি আর বেশিদিন নেই, তাই মনের কথা উগড়ে দিয়েছেন।

এই বই ভাল লাগা বা খারাপ লাগার না, এ বই উনাকে অল্প বিস্তর চেনার একটা রাস্তা।

রেটিং : ৮/১০
Profile Image for Najmul Huda  Tanjeem.
27 reviews1 follower
September 2, 2023
লেখক তার জীবনের সায়াহ্নে এসে দাড়িয়েছেন।দীর্ঘ ষাটটু বছর লিখে গেছেন অবিরত।আজ লেখক ক্লান্ত।ক্যান্সার এসে বাসা বেঁধেছে তার শরীরে....
নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে বসে লেখক লিখে গেছেন ঝকঝকে আকাশের অপরুপ সৌন্দর্যে মৃত্যুপথযাত্রীর ভাবনাগুলো।
Profile Image for Kazi Md. Al-Wakil.
297 reviews8 followers
October 6, 2020
হুমায়ন আহমেদ এর নিজস্ব কিছু বক্তব্য যা তিনি নিউইয়র্ক এ বসে লিখেছিলেন।
Profile Image for Jannatul Firdous.
89 reviews185 followers
December 1, 2021
চমৎকার লেখনী। ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় প্রবল মানসিক চাপ,মৃত্যুচিন্তা নিয়েও লেখার স্টাইল বা মানে এতটুকু কমতি আসেনি। ওনার আত্নজীবনীগুলো পড়তে বরাবরই গল্পের মতো লাগে। ❤️
Displaying 1 - 30 of 39 reviews