সমকালীন নারী ও জেন্ডার-ভাবনার আলোকে এমন এক বই যাতে নিছক নারীবাদী তত্ত্ব দিয়ে নয়, বরং নারীর জীবন থেকে সরাসরি নেওয়া হয়েছে ভাবনার খোরাক। তবু এটি মহিয়সী নারীদের জীবনীমাত্র নয়।
সমাজে, রাষ্ট্রে – এমনকি পরিবারেও – নারীকে নিজের জায়গা করে দিতে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, মিথ-পুরাণ থেকে শুরু করে একেবারে আজকের সমাজচিত্রে তার চিহ্নগুলো জড়ো করেছেন লেখক তাঁর কুশলী কলমে। পনেরটি অধ্যায়ে বিস্তৃত এই আকর-গ্রন্থে যেমন আছে একালের মিডিয়া তারকা অপ্রা উইনফ্রের কথা তেমনি আছে কালের ধুলোয় হারাতে বসা নবাব ফয়জুন্নেসার কথা, যেমন রয়েছে নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক নাদিন গার্ডিমার কিংবা ডরিস লেসিংয়ের কথা, তেমনি রয়েছে বাংলার প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর কথা।
বিজ্ঞানী, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। তাঁর গল্প প্রবন্ধাবলি ও বিবিধ রচনা নারী-ভাবনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনায় ঋদ্ধ। মুন্সীগঞ্জের সন্তান তিনি। শহরের এক জনপ্রিয় চিকিৎসকের কন্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ করেছেন ফার্মেসিতে অনার্সসহ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা। তারপর বিদেশ যাত্রা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল কলেজ অভ পেনসিলভ্যানিয়া ও ইউনিভার্সিটি অভ মিসৌরি থেকে লাভ করেছেন যথাক্রমে প্রাণ-রসায়নে এম. এস. ও পুষ্টিবিজ্ঞানে পিএইচ-ডি। বিজ্ঞানচর্চা তার পেশা। নিউইয়র্কের মেমেরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে গবেষণা ও কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যপনায় কেটেছে বেশ কিছুকাল। অজস্র গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সারা বিশ্বের নানা নামি জার্নালে। দীর্ঘ বিদেশবাসের পর দেশে ফিরে আসেন এক খ্যাতনামা ঔষধ প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে। দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক-এ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকও ছিলেন। সাহিত্যকর্মের জন্যে ২০০৫-এ তিনি অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।