যে কজন আসামীর জীবন ও বিচারকাহিনী এখানে লেখা হয়েছে, তাঁরা সকলেই মানব সমাজের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। শিল্প-সাহিত্য দর্শন-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যাঁরা নতুন চিন্তার প্রবর্তক তাদের অনেককেই সমকালের বিচারে লাঞ্ছিত হতে হয়। যাঁদের চিন্তা বা কীর্তির জন্য মানব সভ্যতা অনেকখানি এগিয়ে যায় জীবিতকালে তাদেরই কারুর ভাগ্যে জোটে তিরস্কার ,কারাবাস এমনকি মৃত্যুদণ্ড।
এই সব অসমসাহসী ও মহান মানুষের জীবন বারবার প্রমাণ করে দিয়ে যায় মানুষের আবিষ্কারের কোনো সীমা নেই। হৃদয় ও বর্হিজগতে মানুষ চিরকালের অভিযাত্রী । যে কোনো প্রকারে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতায় বাধা দিয়ে সমগ্রভাবে মনুষ্য সমাজেরই ক্ষতি হতে পারে। অতীতের এই সব কাহিনী হয়তো আমাদের ভবিষ্যতের পথ চেনাতে সাহায্য করতে পারে।
-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সূচি * সক্রেটিস * যীশুখ্রীস্ট * নির্বাসনে দান্তে * জোন অব আর্কের বিচার * ক্রিস্টোফার কলাম্বাস * দুঃসাহসী ব্রুনো * গ্যালিলিও * ওয়াল্টার র্যালের বিচার ও মৃত্যু * মৃত্যু থেকে ফিরে এসে অমর ডস্টয়েভস্কি * বায়রন * পল গগ্যাঁ * অস্কার ওয়াইল্ডের অকালমৃত্যু
Sunil Gangopadhyay (Bengali: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) was a famous Indian poet and novelist. Born in Faridpur, Bangladesh, Gangopadhyay obtained his Master's degree in Bengali from the University of Calcutta, In 1953 he started a Bengali poetry magazine Krittibas. Later he wrote for many different publications.
Ganguly created the Bengali fictional character Kakababu and wrote a series of novels on this character which became significant in Indian children's literature. He received Sahitya Academy award in 1985 for his novel Those Days (সেই সময়). Gangopadhyay used the pen names Nil Lohit, Sanatan Pathak, and Nil Upadhyay.
Works: Author of well over 200 books, Sunil was a prolific writer who has excelled in different genres but declares poetry to be his "first love". His Nikhilesh and Neera series of poems (some of which have been translated as For You, Neera and Murmur in the Woods) have been extremely popular.
As in poetry, Sunil was known for his unique style in prose. His first novel was Atmaprakash (আত্মপ্রকাশ) and it was also the first writing from a new comer in literature published in the prestigious magazine- Desh (1965).The novel had inspiration from ' On the road' by Jack Kerouac. His historical fiction Sei Somoy (translated into English by Aruna Chakravorty as Those Days) received the Indian Sahitya Academy award in 1985. Shei Somoy continues to be a best seller more than two decade after its first publication. The same is true for Prothom Alo (প্রথম আলো, also translated recently by Aruna Chakravorty as First Light), another best selling historical fiction and Purbo-Paschim (পূর্ব-পশ্চিম, translated as East-West) a raw depiction of the partition and its aftermath seen through the eyes of three generations of Bengalis in West Bengal, Bangladesh and elsewhere. He is also the winner of the Bankim Puraskar (1982), and the Ananda Puraskar (twice, in 1972 and 1989).
Sunil wrote in many other genres including travelogues, children's fiction, short stories, features, and essays. Though he wrote all types of children's fiction, one character created by him that stands out above the rest, was Kakababu, the crippled adventurer, accompanied by his Teenager nephew Santu, and his friend Jojo. Since 1974, Sunil Gangopadhyay wrote over 35 novels of this wildly popular series.
Death: Sunil Gangopadhyay died at 2:05 AM on 23 October 2012 at his South Kolkata residence, following a heart attack. He was suffering from prostate cancer for some time and went to Mumbai for treatment. Gangopadhyay's body was cremated on 25 October at Keoratola crematorium, Kolkata.
Awards & Honours: He was honored with Ananda Award (1972, 1979) and Sahitya Academy Award (1984).
সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যাদের মধ্যে কিছু আছে দোষ করে দোষী হওয়া, আর বাকি সব দোষ না করেও নির্মম বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। তেমন ১২ জন বরণীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এই বই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর লিখায় তেমন বারোজনকে নির্বাচন করেছেন যারা ছিলেন তাঁদের সমসাময়িক যুগ থেকে এগিয়ে। যাঁদের সম্মুখীন হতে হয়েছে মিথ্যে বানোয়াট সব বিচারের, আর মাথা পেতে নিতে হয়েছে নির্মম পরিনতি। তার মধ্যে অনেককে উৎসর্গ করতে হয়েছে নিজের মূল্যবান জীবন। কাউকে যেতে হয়েছে নির্বাসনে, কেউ কেউ করেছেন কারাবরণ। এমন হৃদয়বিদারক বারোটি বিচারের কথা লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অনবদ্য গদ্যশৈলী দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন পাঠকের সামনে।
বইয়ে উল্লেখযোগ্য বিচার গুলোঃ
- সক্রেটিস-এর নির্মম বিচার। এক অসাধারণ প্রতিভার সমাপ্তি ও এক যুগান্তকারী মতবাদের বিকাশ।
- যিশুখ্রিষ্টের সকল মানুষের দুঃখ, বেদনা নিজের করে নেয়ার এবং জীবন উৎসর্গ করার সেই বিচার।
- কবি দান্তে কেন বিশ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছেন? কেন বিচারকদের সম্মুখীন তাঁকে হতে হয়েছিল?
- জোন অব আর্ক, এক উনিশ বছরের মেয়ের দুঃসাহসিক সব পদক্ষেপ, ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে সকল অন্যায়, অভিযোগ মাথা পেতে নেয়া। ফলশ্রুতিতে ধর্মীয় গুরুদের ক্রোধের বলি হওয়া।
- কলাম্বাস-এর মতো সাহসী মানুষও যে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অন্যায় বিচারের সম্মুখীন হতে হলো, এত ঐশ্বর্য থাকা সত্ত্বেও শেষ জীবন কাটাতে হলো দৈন্যদশায়। তাঁর মতো এমন বিখ্যাত একজন ব্যক্তির বিচারসভা ঠিক কেমন ছিল?
- ব্রুনো, বিজ্ঞানের প্রমানিত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রাণ দেয়া প্রথম মানুষ। তাঁর ক্ষেত্রেও বিচারকদের মধ্যে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় কুসংস্কার কাজ করেছে মূল হাতিয়ার হিসেবে। বলা যায় তাঁর মতো সত্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করা মানুষ আজকের যুগেও দুর্লভ।
- ব্রুনোকে যে বছর জনসম্মুখে পুড়িয়ে মারা হলো, গ্যালিলিওর বয়স তখন ৩৬। গ্যালিলিও নিজেও ব্রুনোর মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। যার কারনে তাঁকেও ধর্মীয় গুরুদের চোখের কাটা হতে হয়েছে। ফলে তাঁকেও মিথ্যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যদিও তাঁর বেলায় ব্রুনোর মতো পুড়িয়ে মারা হয়নি, তবুও বিচারের রায়ে যে বন্দিত্ব তাঁকে দেয়া হয়েছিল সেটা তাঁকে একেবারে মৃত্যুর দারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
- ওয়াল্টার র্যালের বিচার। যে বিচারকে ইংলেন্ডের ইতিহাসে জঘন্যতম বিচার বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- বিশ্বসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র ডস্টয়েভস্কি। এত বড় মাপের সাহিত্যিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে মেনে নিতে হয়েছিল সমাজতান্ত্রিক দেশের কঠোর সিদ্ধান্ত, হতে হয়েছিল মৃত্যুর মুখোমুখি, বরণ করে নিতে হয়েছিল সাইবেরিয়ার কারাগারের বন্দী জীবন।
- আদালতের কাঠগড়ায় বায়রনকে দাঁড়াতে হয়নি ঠিকই কিন্তু তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁর দেশের জনগণের কাছে। আত্মপক্ষ সমর্থন না করেই নিজের পথ নিজে বেছে নিয়েছিলেন, গিয়েছিলে নির্বাসনে। এ যেন এক দুঃখী কবির অসহায় আত্মসমর্পণ।
এছাড়া, শিল্পী গগ্যাঁর নিদারুণ জীবনযাপন ও বিচারের নামে তাঁর উপর চালানো অমানবিক কীর্তিকলাপ। আরো আছে অস্কার ওয়াইল্ডের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী সেই বিচার।
সুনীল এবইটাতে বিশ্ব-বিখ্যাত কয়েকজনদের জীবন ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তারা হচ্ছেন- সক্রেটিস, যিশু, দান্তে, জোন অব আর্ক, ক্রিস্টোফার কলম্বাস, জিওর্দানো ব্রুনো, গ্যালিলিও, ওয়াল্টার র্যালি, দস্তয়ভস্কি, বায়রন, পল গগাঁ, অস্কার ওয়াইল্ড। এদের জীবনের একটা জায়গায় খুব মিল রয়েছে। তাদের সকলের প্রতিই গীর্জা- সমাজ-রাষ্ট্র ভয়াবহ রকমের অন্যায় করেছে। তাদের প্রতিভার যোগ্য সম্মান দেয়া দূরে থাক তাদের উপরে শাস্তির খারা নামিয়ে আনা হয়েছে, দেয়া হয়েছে নির্বাসন বা মুত্যুদন্ড। সুনীলের শব্দ চয়ন, গল্প বলার স্টাইল আর বিষয়বস্তু সব মিলিয়ে অত্যন্ত আকর্ষনীয় ও একটানে পড়ে ফেলার মতন বই এটা।
ররণীয় ১২ জন সাহিত্যিক-দার্শনিক-চিত্রকর-ভ্রমণশিল্পীর হাস্যকর অপ্রত্যাশিত স্মরণীয় বিচারকাহিনি সুনীলের সরস ভাষায় এই বইতে বর্ণিত হয়েছে।
মুক্তচিন্তার মানুষেরা বর্তমানকালেও এমন হাস্যকর বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বোধহয় হবে। এর থেকে মুক্তি নেই। শুধু হাসিমুখে হেমলক পান করতে হবে তাঁদের। আর সুবিধাবাদীরা সুরা পান করে হাসবে।
'নীল লোহিত' খ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের (১৯৩৪-২০১২) রচিত 'বরণীয় মানুষঃ স্মরণীয় বিচার' বইটিতে ১২ জন বিখ্যাত মানুষের বিচার সম্বন্ধে লেখা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মহাপুরুষ, দার্শনিক, কবি, বৈজ্ঞানিকসহ নানা ক্ষেত্রে খ্যাতিমান কিছু মানুষ যারা কালের বিবর্তনে খ্যাতি পেয়েছেন, কিন্তু তৎকালীন সময়ে প্রাপ্য সম্মানের বদলে পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ড। বইটির শুরু হয়েছে সক্রেটিসের বিচার দিয়ে। এরপর একে একে যীশু, দান্তে, জোয়ান অব আর্ক, কলম্বাস, জিওর্দানো ব্রুনো, গ্যালিলিও, ওয়াল্টার র্যালে, ডস্টয়েভস্কি, লর্ড বায়রন, পল গগ্যাঁ ও সবশেষে অস্কার ওয়াইল্ডের বিচার সম্পর্কে লেখা হয়েছে বইটিতে। এঁদের প্রত্যেককেই বিচারের নামে প্রহসনমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে তাঁরাই হয়েছেন বরণীয়।
সবশেষে বলব, বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হল বইটি পড়ার সময় এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্তি আসবেনা। মনে হবে বিচারগুলো যেন চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে। এখানেই লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব। আগ্রহী পাঠকদের বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানাই।
সক্রেটিস, যিশুখ্রিস্ট, দান্তে, জোয়ান অব আর্ক, কলম্বাস, ব্রুনো, গ্যালিলিও, র্যালে, দস্তয়েভস্কি, বায়রন, গগাঁ এবং অস্কার ওয়াইল্ড – প্রায় প্রতিটা নামই কম-বেশি সবার কাছে পরিচিত অর্থাৎ আমাদের কাছে বরণীয় এঁরা। আবার, এঁদের বিরুদ্ধে যদি তৎকালের বিচারের কথা বলি তাহলে যথাক্রমে পাওয়া যাবে বিষপান করে মৃত্যুদণ্ড, ক্রুশবিদ্ধ করে মৃত্যুদণ্ড, দেশ থেকে নির্বাসন, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, রাজদ্রোহের কারনে কারাদণ্ড, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, শিরশ্ছেদ, ফায়ারিং স্কোয়াড ( পরে স্থগিত), নির্বাসন, দেশদ্রোহিতার কারনে জেল এবং অশ্লীলতার কারনে কারাদণ্ড- অর্থাৎ প্রতিটা বিচারই স্মরণীয়। শিল্প-সাহিত্য-দর্শন-বিজ্ঞানে অবিস্মরণীয় অবদানের কারনে বরণীয় এইসব মানুষের স্মরণীয় সব বিচারের কথা জানাতেই লেখক লিখেছেন এই বইটি। লেখকের উদ্দেশ্য তাঁর ভূমিকাতেই পরিষ্কার; চিন্তাকে যে রুদ্ধ করা যায় না অতীত থেকে এই শ���ক্ষা নিয়ে যাতে আমরা ভবিষ্যতে কাজ করি সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
বইটা অন্তত আমার জন্য অনেক নতুন নতুন তথ্যের যোগান দিয়েছে। সক্রেটিস, যিশুখ্রিস্ট, জোয়ান, ব্রুনো বা অস্কার ওয়াইল্ডের বিচারগুলোর কথা আগে থেকে টুকটাক জানা থাকলেও বাকি ঘটনাগুলো সম্পর্কে এই প্রথম জানতে পারলাম বইটা থেকে। ফলে একদিকে যেমন স্বল্প জানা ব্যাপারগুলো বেশ পরিষ্কার হয়েছে আবার অন্যদিকে একেবারেই না জানা কিছু ব্যাপার জানতে পেরেছি। সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছি কলম্বাস এবং দস্তয়েভস্কির বিচার সম্পর্কে জেনে। কলম্বাসকে পরিব্রাজক, নতুন মহাদেশের আবিষ্কারক হিসেবেই আমরা জানি কিন্তু নিজ দেশে তিনি কি পরিমাণ নিগৃহের শিকার হয়েছেন সেটা জেনে অবাক-ই হতে হয়। একই কথা খাটে দস্তয়েভস্কির সম্পর্কেও, ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট নামক অমর উপন্যাসটা লেখার আগেই এক রাজার খেযালের কারনে মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।
লেখক যে বার্তাটা দিতে চেয়েছেন সেটা ধরতে অসুবিধা হয় না। যিশুখ্রিস্টকে ওমনভাবে মারার পরও বর্তমানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা পৃথিবীতে সর্বাধিক, ব্রুনো বা গ্যালিলিও যে কথা বলে ( পৃথিবী কেন্দ্র নয়, সূর্যই কেন্দ্র) নৃশংস মৃত্যুবরণ করলেন বা কারা প্রকোষ্ঠে দিন কাটালেন সেটা বর্তমানে পৃথিবীর সবাই মেনে নিয়েছে, কলম্বাসকে উপনিবেশ গড়ার কারিগর বলে ঘৃণা করলেও নতুন মহাদেশ আবিষ্কারের কৃতিত্ব দিতে কেউ অস্বীকার করে না, জোয়ানকে তখন ডাইনি বলে মারা হলেও তিনি বর্তমানে সেইন্ট বা সন্ত হিসেবে খ্রিস্টান বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অর্থাৎ সবার মতের বিরুদ্ধে নতুন কিছু বললেই সেটা মিথ্যা হয়ে যায় না বা আইডিয়াকে কখনও রুদ্ধ করা যায় না।
যেহেতু লেখক শুধু বিচারের উপরেই মনোযোগ দিয়েছেন তাই বইটাকে মাঝে মাঝে খুব সংক্ষিপ্ত মনে হয়। কিন্তু বুদ্ধিমানের জন্য ইঙ্গিত-ই যথেষ্ঠ, ফলে বইটা পড়ার পর এসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য প্রেরণা সৃষ্টি হবেই আর এটাই লেখকের অন্যতম কৃতিত্ব।
সুনীল বাবু এখানে ক’জন বরণীয় ব্যক্তিদের স্মরণীয় বিচারের কাহিনী বর্ননা করেছেন। যারা বরণীয়, আজকের যুগে। কিন্তু তাদেরকে তাদের সময়ে সম্মুখীন হতে হয়েছিল এমন করুন বিচারের যাকে অবিচার বলা যায়। আজকে আমরা তাদেরকে তাদের কীর্তির জন্য শ্রদ্ধা করি। কিন্তু সমকালীন সভ্যতা তাদেরকে উপহার দিয়েছিল নির্মম যন্ত্রণা বা মৃত্যুদণ্ড। যদিও এখানে সবাই কতটা বরণীয় তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। ক্রিস্টোফার কলাম্বাসকে কতটা বরণীয় ও শ্রদ্ধার চোখে দেখবো জানিনা; যে কিনা উপনিবেশবাদের বীজটি বপন করেছিল, নিরীহ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষকে দাস বানিয়েছিল। যাইহোক, এখানে যে ক’জন ব্যক্তিদের উল্লেখ আছে তারা সবাই ইতিহাস বিজ্ঞান সাহিত্য সভ্যতায় কোনো না কোনো অবদান রেখেছিলেন— কোনো সন্দেহ নেই। বইতে পশ্চিমের সেই ১২ জন মনীষীর জীবনের ট্র্যাজেডিক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। এরা হলেন: সক্রেটিস, যীশু খ্রীষ্ট, কবি দান্তে, জোন অব আর্ক, ক্রিস্টোফার কলাম্বাস, দার্শনিক ব্রুনো, বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, ওয়াল্টার র্যালে, ডস্টয়েভস্কি্, বায়রন, পল গগ্যাঁ, অস্কার ওয়াইল্ড।
এখানে আমি শুধু কয়েকজনের কাহিনী হাইলাইট করছি যাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বরণীয় বা শ্রদ্ধার চোখে দেখি:
সক্রেটিস:
সক্রেটিসের ঘটনা আমরা কমবেশি সবাই মোটামুটি জানি। আজ আমরা আধুনিক জ্ঞান ও দর্শন বলতে যা বুঝি তা অনেকখানি ঋণী সক্রেটিসের কাছে। কিন্তু প্রাচীন গ্রিস এই মূল্যবান মানুষটিকে মূল্যায়ন করতে পারেনি। তাঁকে মুখোমুখি হতে হয় (অ)বিচারের। সক্রেটিসের একটা জীবনদর্শন ছিল। তিনি জ্ঞানকে আপেক্ষিকভাবে দেখতেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতেন: “আমার কোন জ্ঞান নেই”, “সে-ই জ্ঞানী যে জানে যে তার জ্ঞান মূল্যহীন”। অর্থাৎ যে নিজেই মনে করে যে তার জ্ঞান সর্বশ্রেষ্ঠ, সে কখনো প্রকৃত জ্ঞানী হতে পারেনা। মহাবিজ্ঞানী নিউটন ও বলেছিলেন, আমি জ্ঞানের মহাসমুদ্রসৈকতে কয়েকটি নুড়ি পাথর কুড়িয়েছি মাত্র। সক্রেটিসের এই মতবাদ বা দর্শন তৎকালীন প্রভাবশালী বুর্জোয়া মহল পছন্দ করত না। সক্রেটিসকে সত্তর বছর বয়সে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তিনটি: দেশের প্রচলিত দেবতাদের উপেক্ষা, নতুন দেবতা প্রবর্তন এবং যুবকদের কলুষিত করার চেষ্টা। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগকারী ছিল তিনজন- Meletas, Lycon ও Anytus। তৎকালীন বিচারে কোনো উকিল থাকতো না, আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাক্ষ্য দিতে হতো। সক্রেটিসের আদালতে দীর্ঘ জবানবন্দি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম রচনা। তবে এটি সক্রেটিস লিখেননি। তাঁর শিষ্য প্লেটোর লিখিত। ইংরেজিতে যার নাম Apology. এটি জানার জন্য বইটি পড়ুন।
সক্রেটিস ছিলেন অত্যন্ত স্থিতধী, অবিচলিত। মৃত্যুর দিন তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, প্রফুল্ল। তাঁর মৃত্যুর দিন বন্ধু-বান্ধব-শিষ্য হা-হুতাশ করেছে, মূর্ছা গেছে। তবু তিনি ছিলেন নিরাসক্ত। জল্লাদ হেমলকের পাত্র নিয়ে এলে তিনি তা পান করে নিলেন। এভাবে এক মহামনীষীর নির্মম অবসান হলো। সক্রেটিস তার জীবনদর্শন ও বাণী লিখে যাননি এক লাইনও। আমরা সেগুলো পাই তাঁর শিষ্যদের মধ্য দিয়ে যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্লেটো ও জেনোফেন। এই মহামনীষীর একটি চিরন্তন বাণী আমাদের কাছে এখনো মুখে মুখে ফেরে: “Know Thyself”।
ক্রিস্টোফার কলাম্বাস:
যেই মহাদেশ আজ সভ্যতার পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে, পাশ্চাত্য বিশ্বের মোড়ল হয়ে উঠেছে, সেই ভূখণ্ডটি সভ্য জগতের সামনে আবিষ্কার করেন যিনি, তিনি ইতালিয়ান নাবিক ক্রিস্টোফার কলাম্বাস। তাও আবিষ্কার করেছিলেন ভূল করে! ভারত আবিষ্কার করতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেন আমেরিকা। নাম রাখেন West Indies! নানা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও কলাম্বাস সভ্যতা ও ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিত্ব কোনো সন্দেহ নেই। ইতিহাসের বিচারে তিনি নির্দোষ নন। উপনিবেশবাদের যে বীজ তিনি বপন করেছিলেন তার কুফল বহু নিরীহ দেশকে ভোগ করতে হয়েছে। তিনি নতুন কলোনি স্থাপন করে জায়গায় জায়গায় ক্রীতদাস প্রথা চালু করেছিলেন। তবে আবিষ্কারক ও ভ্রমণপিপাসু হিসেবে তিনি ইতিহাসে দখল করে আছেন বিশিষ্ট স্থান। ভারত আবিষ্কার করতে গিয়ে আমেরিকা আবিষ্কার তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। যদিও জীবনের শুরুতে কলাম্বাস অর্জন করেন প্রচুর খ্যাতি ও যশ। তবে জীবনের শেষদিকে পেয়েছিলেন অপমান। যেই রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলার পৃষ্টপোষকতায় তিনি দাপিয়ে বেরিয়েছিলেন সমুদ্র থেকে উপকূলে, তারাই তাকে শেষ সময়ে বন্দী করে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে।
ব্রুনো:
আজ আমরা সন্দেহাতীতভাবেই জানি পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। এই তত্ত্বটি প্রথম দাঁড় করিয়েছিলেন মহাবিজ্ঞানী কোপারনিকাস। কিন্তু তিনি এই কথাটি জীবদ্দশায় প্রকাশ করতে সাহস পাননি। কারণ তখন পশ্চিমে প্রবলভাবে আচ্ছন্ন ছিল পুরনো তত্ত্ব ও কুসংস্কারে। ধর্মযাজকেরা ছিল সমাজের দণ্ড-মুণ্ডের কর্তা। তাদের উপর দিয়ে কথা বলা মানেই মৃত্যুদণ্ডের সামিল। ধর্মীয় বইগুলোতে বলা ছিল সূর্যই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তাই কোপারনিকাস তাঁর তত্ত্বকে সরাসরি প্রকাশ করে যেতে পারেননি; মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছিলেন বই। তাও আবার এমন জটিল ভাষায়, যা সকলের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ তাঁর ভয় ছিল কোনোভাবে তা ধর্মযাজকদের হাতে পড়লে তা তাঁর জন্য বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সময়টা এরকমই ছিল। কোপারনিকাসই প্রথম দাঁড় করান এই 'সৌরকেন্দ্রিক তত্ব'। তিনি পৃথিবীকে কেন্দ্র থেকে বাদ দিয়ে সূর্যকে বসান। এতদিন ধরে যেই পৃথিবীকেন্দ্রিক তত্ব রাজত্ব করছিল তা ছিল টলেমির তত্ব। তারও আগে অ্যারিস্টটলও বলেছিলেন একই কথা: চন্দ্র, সূর্য, তারা সবকিছুই ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে। এই অপবিজ্ঞানের সাথে ধর্মীয় অপবিশ্বাস মিশে রাজত্ব করছিল অনেকদিন ধরে মানুষের কল্পজগতে। এটি প্রথম ভাঙলেন কোপারনিকাস। কিন্তু নীরবে।
কোপারনিকাসের এই মতগুলোকে যিনি জোরালোভাবে প্রথম প্রকাশ্যে আনলেন তিনি আরেক দার্শনিক, ব্রুনো। কোপারনিকাস ছিলেন স্থিতধী, বিনয়ী। ব্রুনো দুঃসাহসী, অকুতোভয়। তিনি কোপারনিকাসের মতকেই সমর্থন করে বললেন, সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে কতগুলি গ্রহ যার মধ্যে পৃথিবীও একটি। এমনকি সূর্যও ঘুরছে তার মেরুতে। বিশ্ব অসীম, তাই তার কেন্দ্রে কেউ থাকতে পারে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও ঔদ্ধত্যের চরম মূল্য দিতে হয়েছিল তাঁকে। সত্য ও যুক্তিশীল কথা বলার জন্য তিনি হয়ে উঠলেন ধর্মযাজকদের মহাশত্রু। ফলে তাঁকে পালিয়ে বেড়াতে হলো। কিন্তু এক কৌশলী ষড়যন্ত্রের ফলে তিনি ধরা পড়লেন। আট বৎসর তাকে বন্দী রাখা হলো। এরপর তাঁর মৃত্যুদণ্ড হলো। তার ভয়াবহ শাস্তি ইতিহাসকেও কম্পিত করে। কি নির্মমভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়! মহান এই মানুষটিকে নির্ভুল বিজ্ঞান প্রচার করতে গিয়ে গোঁড়া ও ধর্মান্ধদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হতে হয়।
গ্যালিলিও:
আধুনিক পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা মহাবিজ্ঞানী গ্যালিলিও। পদার্থবিজ্ঞানে যার অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের একটা যুগকে ডাকা হয় ‘গ্যালিলিও-নিউটনীয় যুগ’ বলে। সেই বিজ্ঞানী গ্যালিলিওকেও সমকালীন সভ্যতা নিতে পারেনি ভালোভাবে। ইতালির পিসা নগরে জন্মানো এই প্রডিজি বালক একসময় হয়ে ওঠেন বিজ্ঞানের স্তম্ভপ্রতিম ব্যক্তি। মাত্র ২০ বছর বয়সে পিসার ঝাড়লণ্ঠন দেখে তিনি আবিষ্কার করেন পর্যাবৃত্ত গতির সূত্র এবং সরল দোলক। পরে আবিষ্কার করলেন পড়ন্ত বস্তুর সূত্র। দেখালেন যে দশ পাউন্ডের এবং এক পাউন্ডের পদার্থ উপর থেকে ফেললে তারা একই সময়ে পতিত হবে। যা ছিল অ্যারিস্টটলের মতবাদের বিপরীত। তখনকার সময়ে অ্যারিস্টটলের মতবাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ধ্রুব বলে মানা হতো। ফলে গ্যালিলিও পরীক্ষা দেখিয়ে তা ভুল প্রমাণিত করলেও প্রবীণ রক্ষণশীলেরা ক্রুদ্ধ হলেন তার উপর। একের পর এক আবিষ্কার করলেন সেক্টর কম্পাস, টেলিস্কোপ। টেলিস্কোপ দিয়ে তিনি দেখালেন চাঁদকে যে এত পবিত্র ও ঐশ্বরিক ভাবা হয়, চাঁদ তেমনটা নয়। চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই। এটি নিতান্তই একটি পর্বতবহুল উপগ্রহ। এছাড়া তিনি তাঁর পূর্বসূরি কোপারনিকাসের মতবাদকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। এর ফলে তাঁকেও পোপের রোষানলে পড়তে হলো। তাঁকে এসকল বৈজ্ঞানিক মতবাদের জন্য, যা কিনা ছিল তৎকালীন রক্ষণশীল ধ্যানধারণার বিপরীত, তাঁকে জীবনের শেষ আট বছর আমৃত্যু কারাগারে কাটাতে হয়েছে। হয়েছিলেন অন্ধও। তবুও তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়নি। এই মহাবিজ্ঞানী যাঁর জন্যে আজ আমাদের বিজ্ঞান কতখানি ঋণী বলার অপেক্ষা রাখেনা, তাঁর এমন নিষ্ঠুর পরিণতি সম্পর্কে ভাবলে সত্যিই ব্যথিত ও লজ্জিত হতে হয় সভ্যতার কাছে। যে বছর গ্যালিলিওর মৃত্যু সে বছরই জন্ম আরেক মহাবিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন এর— ১৬৪২ সালে।
পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সত্য যে মানুষ জীবিতের চেয়ে মৃতের প্রতি সদয় বেশি।শুধুমাত্র সত্য কথা বলবার জন্য জীবিত অবস্থায় যাদের সমাজচ্যুত এমনকি মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হয়েছিল তার কয়েক বছর পর সে সেই সত্যের জন্যই হয়েছে পূজনীয়।এর চেয়ে হাস্যকর আর কি হতে পারে? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর লেখনী সম্পর্কে বলার কিছু নেই তবে আরেকটু বিস্তারিত হলে মনটা যেন পুরো ভরতো।
loved it --- the selection of personality and their miserable ending was extraordinary --- sunil's writing style will help you to feel their every bit of emotion , pain , suffer , purpose and determination of achieving the goal ... worth my time :)
যাদের জন্য পৃথিবী নামক এই গ্রহের আমূল পরিবর্তন সেই সব মনিষীদের জীবন সম্পর্কে জানতে স্বাভাবিক একটা কৌতুহল কাজ করে সবারই।তাদের মাঝে কিছু থাকেন যারা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা এবং সময় ও তাদের নিজেদের জাতী গোষ্ঠী যাদের মূল্যায়ন করতে পারেনি। তাদের নিয়ে লেখা এই বইটি।লেখকের নাম দেখে লোভ সংবরণ করতে পারিনি।দেখা মাত্রই কিনে নিয়েছিলাম।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।ভীষন পছন্দের একজন লেখক।বইটার নাম বরণীয় মানুষঃ স্মরণীয় বিচার।
১২ জন মহান মনিষীকে নিয়ে এই বইটি, যাদেরকে একটা সময় দাড়াতে হয়েছিল কাঠগড়ায়।কখনও রাজার কাঠগড়ায় কখনও জনতার আবার কখনও জীবনের।যারা ওইসময় হয়েছিলেন নিন্দিত পরে হয়েছেন নন্দিত। সক্রেটিস, যিশু খ্রিষ্ট,দান্তে,জোয়ান অব আর্ক,কলম্বাস,ব্রুনো,গ্যালিলিও,ওয়াল্টার র্যালে,দস্তয়ভস্কি,বায়রন,পল গগ্যা এবং অস্কার ওয়াইল্ড। নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কি ধরনের বই এটি।এরকম বই এর আসলে রিভিউ দেয়া যায় না।আমিও সেদিকে যাচ্ছি না।তবে বই থেকে দুএকজন সম্পর্কে দুএকটা কথা না বলে পারছি না।
শুরুটা এরিস্টটলকে দিয়ে।তিনি বলেছিলেন পৃথিবী স্থীর হয়ে আছে, সূর্য আর বাকি গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।শত বছর এ ধারনা নিয়েই ছিল পৃথিবী। পনেরশো শতকের পরবর্তী রোম, যারা জ্ঞান গরিমার দিক দিয়ে অন্য একটা অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল পৃথিবীকে। তখন সেখানে একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল চার্চের।তারাও এরিস্টটলের এই মতের সাথে সম্পূর্ণ একমত এবং বাইবেলের সাথে তারা মিল খুজে পেয়ে এটাকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করত।কেপারনিকাস এসময় আবিষ্কার করলেন পৃথিবী নয়,সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে পৃথিবী সহ অন্য সব গ্রহ নক্ষত্র। ওই সময়টা এমনই ঝঞ্চাবিক্ষুব্ধ ছিল যে, চার্চের মতের বিরুদ্ধে যাওয়া মানেই নিজেদের মৃত্যুকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনা।কেপারনিকাসও সেই ভয়ে নিজের এ মত প্রকাশ করতে পারলেন না।তার যেদিন মৃত্যু হয়েছিল সেদিন তার প্রকাশক বন্ধু তার এই আবিষ্কার নিয়ে লেখা কেপারনিকাসে বই ছেপেছিলেন।কিন্তু তখনও এটা পাবলিশ করার সাহস হয়নি।এরও অনেক বছর বইটার একটা পান্ডুলিপি হাতে আসল ব্রুনোর।বইটা পড়ার পর চারিত্রিক দিক দিয়ে বেপোরোয়া ব্রুনোর মাথা এলোমেলো হয়ে গেলো।সিদ্ধান্ত নিলেন সাধারনকে বুঝাতে হবে যে কেপারনিকাসই ঠিক।রাস্তা ঘাটে মানুষকে জানাতে শুরু করলেন এই মতবাদ।তার ফলাফল হলো এই যে, ধর্মযাজকদের কাছে বড় হওয়া ব্রুনো, চার্চের রোষানলে পড়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হলেন।আবার তাকে ষড়যন্ত্র করে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।ধর্ম অবমাননার জন্য তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হলো।এইদিকে ব্রুনোকে যখন পুড়িয়ে মারা হলো তখন গ্যালিলিওর বয়স মাত্র ছত্রিশ, যিনি প্রবল গতিতে পৃথিবীর আহ্নিক গতি এবং সূর্য নিয়ে গবেষনা করছেন।করছেন নিত্য নতুন আবিষ্কার।তিনিও দেখলেন কেপারনিকাসের মতবাদই সঠিক।তিনি বই লিখলেন।বলা বাহুল্য চার্চের এই বিষয়টি নজর এড়ালো না।অনেক দিন অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর গ্যালিলিওকেও দাড় করানো হলো কাঠগড়ায়।বৃদ্ধ গ্যালিলিও ভয় পেয়ে গেলেন কি না কে জানে।হয়ত ব্রুনোর আগুনে পুড়ে মারাটা চোখের সামনে ভাসছিল।তিনি অস্বীকার করলেন।তবুও বাইবেল সম্পর্কে সংশয় প্রচার এবং ধর্মবিরোধিতার জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হলো।সে সময়ের তূলনায় শাস্তিটাকে লঘুই বলা চলে।অনির্দিষ্টকাল বন্দী থাকতে হবে তাকে।বৃদ্ধ গ্যালিলিও আদেশ শুনে মাটিতে পা ঠুকে বললেন "E pur si Muove" অর্থাৎ তবুও পৃথিবী ঘুরবে।সেই বন্দী অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়েছিলো।
দস্তয়ভস্কির চ্যাপ্টার যখন পড়ছিলাম তখন বেশ কয়েকটা বই এর নাম নোট করে রেখেছি পড়ার জন্য যাদের নামই কখনো শুনিনি কিন্তু বিশ্বসাহিত্যে যাদের মূল্য নাকি অতুলনীয়। এই লেখক তার জীবনের বেশীরভাগ লেখাই লিখেছেন পেটের দায়ে, অভাবে পড়ে।কিন্তু লেখাগুলো যেনতেন না।একেকটা মাস্টারপিস।তবুও যতটুকু সমাদর পাওয়ার কথা তা তো পানই নি বরং পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে শেষজীবনে।মৃত্যুটাও হলো ধুকে ধুকে।আর আজ সেই সাহিত্যিকের লেখাগুলো আদর্শ হিসেবে ধরা হয় যাকে নিজেদের অনুপ্রেরনা মনে করে হাজার হাজার লেখক।
বলা হয়ে থাকে প্রতিভাবান মানুষ মাত্রই পাগলাটে ধরনের হয়।এরাও ছিলেন।সমাজের প্রথাগত গতানুগতিক সিস্টেম এর প্রতি হয়ত তাদের ঠিক ততোটা শ্রদ্ধাবোধ ছিলো না।এদের মাঝে কেউ তাদের লেখা দিয়ে কেউ বা কবিতা দিয়ে কেউ বা রংতুলির আচড় দিয়ে পৃথিবীকে অন্যরকম করে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন।এরা সময়ের বেশ আগে জন্মেছেন, যে কারনে হয়ত সময়ই তাদের চিনতে পারে নি।
This is one of the books, that lit the path for me of free thinking. Read it, when i was in class 7, simply but beautifully written, unique outlook on age old truths. I wish every child had access to such books!
এক বইয়ে এত ভাল ভাল মানুষের জীবনী ভাবা যায়? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঝরঝরে লেখা ভাল লাগে। দ্রুত শেষ হয়ে গেল বইটা। কবি বায়রনের জন্য খারাপ লেগেছে। ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারা হল কষ্ট পেয়েছি।