ভুল: আনিকাকে পাওয়ার জন্য আপন চাচাকে খুন করার প্ল্যান করেছে সোহেল। কিন্তু… ওয়াস্পস নেস্ট: ‘আমি আসলে এমন একটা অপরাধের তদন্ত করছি, যা এখনও সংঘটিত হয়নি, বলল এরকুল পোয়ারো ঈর্ষা: শিরিনকে খুন করেছে কবির। কেউ কিছু টের পায়নি। কিন্তু শিরিনের লেখা প্রেমপত্রটাই এলোমেলো করে দিল সব।
ডেথ বাই ড্রাউনিংঃ রোয এমটের মৃত্যু কি আত্মহত্যা, না খুন? চিরকুটে কী লিখেছেন মিস মার্পল? নেকলেস রহস্যঃ আলমারি অক্ষত , চোরের কাছে ডুপ্লিকেট চাবি নেই। তালা লাগাতেও ভুল হয়নি। তা হলে কীভাবে গায়েব হলো নেকলেসটা? দি আইডল হাউয অভ অ্যাস্টার্টে: চন্দ্রদেবীর মূর্তি প্রাণ পেয়ে হত্যা করেছে রিচার্ড হেইডনকে? মিস মার্পল মানতে নারাজ। সৈকতে সাবধান: পড়ে থাকা কিছু কাপড় অভিনব এক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলল ক্রাইম রিপোর্টার রাশেদ হায়দারকে। স্যাংচুয়ারিঃ আশ্চর্য, ভাই মরেছে, কিন্তু লাশের চেয়ে কোটের প্রতি আগ্রহ বেশি ভদ্রমহিলার। কারণ কী?
ভালোবাসা ভালো নয়ঃ কবিতার স্বামী ফয়সল নিখোঁজ। তদন্ত করতে গিয়ে উঠতে হলো রাশেদ হায়দারকে। দ্য থাম্ব অভ সেইন্ট পিটারঃ স্বামীকে নাকি বিষ খাইয়ে মেরেছে মেবল। রহস্যটার সমাধান করে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মিস মার্পল। নিশির ডাকঃ ছেলে হারানো আফরোজা ঘুমের ঘোরে মা শোনেন। মানসিক সমস্যা? তদন্ত শুরু করল রাশেন হায়দার। টেপ-মেজার মার্ডার। নিজঘরে মরে পড়ে আছেন মিসেস স্পেনলো। গ্রামবাসীর ধারণা, নির্বিকার স্বামীই খুনি। আসলেই?
সায়েম সোলায়মানের জন্ম ২৩ জুলাই, ১৯৭৯, ঢাকায়। পেশাজীবনে তিনি একজন ব্যাংকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় অনার্স এবং মৎস্যবিজ্ঞানে মাস্টার্স করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিডিআইটি সমাপ্ত করেন। এরপর একটি আইএসপি-তে কিছুদিন কাজ করার পর যোগদেন ব্যাংকে। বই কেনা ও পড়ার নেশাই তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত হতে। ছোট থেকেই নিয়মিত লিখতেন স্কুলের দেয়ালপত্রিকায় আর বার্ষিকীতে। তেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ১৯৯২ সালে, কিশোর পত্রিকায় অনুবাদ গল্পের মাধ্যমে। ২০০৪ থেকে রহস্য পত্রিকায় নিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি হাত দেন বড় কাজে।
নভেম্বর ২০০৪-এ সেব প্রকাশনীতে প্রকাশিত হয় তার প্রথম ওয়েস্টার্ন বই ‘সংকট’। ওয়েস্টার্ন বই তার কাছ থেকে আরো ৫টি পেয়েছি আমরা। একটি গল্প-সংকলন সহ অনুবাদ ও কিশোর ক্লাসিকের বই পেয়েছি ২১ এর বেশি। যার মাঝে রয়েছে আগাথা ক্রিস্টি, এইচ. জি. ওয়েলস, এরিক মারিয়া রেমার্ক, জুল ভার্ন, রাফায়েল সাবাতিনি, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর মতো বিক্ষাত লেখকদের বই।
মোট বারোটা গল্প স্থান পেয়েছে সংকলটাতে। ছয়টা অনুবাদ, দুইটা এডাপ্টেশন আর বাকী চারটা মৌলিক। গল্পগুলোর পর্যায়ক্রম:- ১। ভুল:- গল্পটা রহস্য পত্রিকায় পূর্ব প্রকাশিত। পাঠকের কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সামান্য ঘষা মাজা করা হয়ে থাকতে পারে। কাহিনি সংক্ষেপ: বাবা-মা ছাড়া এতিম সোহেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন ধনী চাচা। নিজের ছেলের মতই আদর সোহাগ দিয়ে বড় করে তুলেন তাকে। কিন্তু, একটা মেয়ের জন্য আপন চাচাকেও খুন করার প্লান আটে সোহেল। অসাধারন একটা এডাপ্টেশন, লেখকের মুন্সিয়ানায় মৌলিক বলে মনে হয়। ২। ওয়াস্প'স নেস্ট:- এরকুল পোয়ারোর কাহিনি। আগাম কোন কিছু বলা বাতুলতা। কাহিনিসংক্ষেপ: এখনো সংগঠিত হয়নি অথচ আন্দাজের উপর এমন একটি খুনেরই তদন্তে নেমেছেন এরকুল পোয়ারো। তিন গোয়েন্দা পাঠকদের কাছে নতুন নয় গল্পটা। ভলিউম বিশে খুন গল্পগ্রন্থের টাইটেল গল্পটাই এর এডাপ্টেশন। বরাবরের মতই চমৎকার অনুবাদ। ৩। ঈর্ষা:- এটিও রহস্যপত্রিকায় পুর্বপ্রকাশিত। কাহিনিসংক্ষেপ:- ইর্ষান্বিত হয়ে ভালোবাসার পাত্রীকে খুন করল কবীর, আমি না পেলে কেউ পাবে না- এই অন্ধ গোয়ার্তুমি থেকে। কিন্তু, রহস্য উন্মোচিত হতেই বুঝতে পারল কি ভুলটাই না সে করেছে! আরেকটি এডাপ্টেশন। পুর্বেরটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ৪। ডেথ বাই ড্রাউনিং:- আগাথা ক্রিস্টির অনুবাদ। মিস মার্পলের কাহিনি। কাহিনিসংক্ষেপ:- আপাতদৃস্টিতে রোয এমটের মৃত্যুটা আত্বহতা বলেই মনে হছছে। কিন্তু রহস্যের গন্ধ পেলেন স্যার হেনরি ক্লিদারিং। সাহায্য পাছছেন তীক্ষ্ণধী মিস মার্পলের। চমৎকার অনুবাদ। ৫। নেকলেস রহস্য:- রাশেদ হায়দার; সায়েম সোলায়মান সৃস্ট নিজস্ব গোয়েন্দা চরিত্র। পেশায় ক্রাইম রিপোর্টার। সিরিজের প্রথম গল্প এটি। কাহিনিসংক্ষেপ:- আলমারি অক্ষত, চোরের কাছে কোন ডুব্লিকেট চাবি নেই। তালা লাগাতেও ভুল হয়নি। তা হলে কিভাবে গায়েব হলো নেকলেসটা? তদন্তে নামল রাশেদ হায়দার। অসাধারন একটা গল্প, শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বোঝাই যায় না আসলে ঠিক কি ঘটেছিল! ৬। দি আইডল হাউজ অফ অ্যাস্টার্টে:- রহস্য পত্রিকায় পুর্বপ্রকাশিত। মিস মার্পল সিরিজের গল্প হলেও মার্পলের ভুমিকা খুবই কম এ গল্পটায়। মূলত ডক্টর পেন্ডার নামের এক বুড়ো ধর্মজাযকের আত্বস্মৃতি এটা। কাহিনিসংক্ষেপ:- চন্দ্রদেবীর মুর্তি প্রান পেয়ে খুন করেছে মিস্টার রিচার্ড হেইডেনকে? মিস মার্পল মানতে নারাজ। ৭। সৈকতে সাবধান:- রাশেদ হায়দার সিরিজের দ্বিতীয় গল্প এটা। কাহিনিসংক্ষেপ:- বন্ধুর বিয়েতে কক্সবাজারে এসেছে রাশেদ, কিন্তু এখানেও নিস্তার নেই। ঠিকই জড়িয়ে পড়ল একটা খুন রহস্যের সাথে। চমৎকার গল্প, রহস্য পত্রিকায় আজকাল এত ভালো মৌলিক গল্প ছাপা হয় না। ৮। স্যাংচুয়ারি:- এটাও আগাথা ক্রিস্টির, মিস মার্পল সিরিজের গল্প। কাহিনিসংক্ষেপ:- যাজকের বউ বাঞ্চ হার্মন গীর্জায় ফুল দিতে গিয়েই দেখে এক মুমূর্ষু লোক পরে আছে। স্পষ্টস্বরে বলছে লোকটা, স্যাংচুয়ারি। মারা যাওয়ার খবর পেতেই তরিঘরি করে এসে হাজির হলো তার বোন আর বোন জামাই। ভাবভঙ্গিতে যতটা না দুঃখ, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ মৃত লোকটার ফেলে যাওয়া সব জিনিসের প্রতি। কিন্তু কেন? জমজমাট একটা রহস্য কাহিনি। আমার মতে সংকলনের সেরা গল্প। ৯। ভালোবাসা ভালো নয়:-এটাও রাশেদ হায়দার সিরিজের গল্প। রহস্য পত্রিকায় পুর্বপ্রকাশিত অন্তর্ধান রহস্যের পরিবর্তিত নাম। কাহিনিসংক্ষেপ:- ক্রাইম রিপোর্টার রাশেদ হায়দার আবারো গোয়েন্দাসুলভ কর্মকান্ডে। সাত মাস আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কবিতার স্বামী ফয়সালের খোজে তদন্ত করতে গিয়ে চমকপ্রদ সব সত্যের মুখোমুখি হলো রাশেদ হায়দার। সংকলনের সেরা মৌলিক গল্প। ১০। দ্য থাম্ব মার্ক অভ সেইন্ট পিটার:- এটিও আত্বকথন। গল্প বলছেন মিস মার্পল.... কাহিনিসংক্ষেপ:- গ্রামবাসীরা নানা কুৎসা রটাছছে মেবলের নামে। তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর জন্য নাকি সেই দায়ী! রহস্য সমাধান করে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মিস মার্পল। ১১। নিশির ডাক:- সিরিজের শেষ গল্প। কাহিনিসংক্ষেপ:- আবারো ডাক পরেছে রাশেদ হায়দারের। এবারের রহস্য আরো বেশি গোলমেলে। সাত মাস আগে মারা যাওয়া সন্তানের মা আফরোজা গত দুই মাস ধরে "মা" ডাক শুনছেন ঘুমের মাঝে। সেই সাথে শুনছে, "আমি কিছু বলব না"। সবাই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কথা বলছে, কিন্তু সেটা মানতে নারাজ আফরোজার ভাই পুলিশ অফিসার হাফিজউদ্দিন পাটোয়ারি। দ্বিতীয় সেরা মৌলিক। অসাধারন টুইস্ট। ১২।টেপ-মেজার মার্ডার:- সংকলনের শেষ গল্প। কাহিনিসংক্ষেপ:- শান্ত নিরুপদ্রব সেইন্ট মিড মেরিতে আরেকটা খুনের ঘটনা। সবাই সন্দেহ করছে খুন হয়ে যাওয়া ভদ্রমহিলার স্বামী মিস্টার স্পেনলোকে। আসলেই কি তিনি খুনি? সংকলনের দ্বিতীয় সেরা অনুবাদ। গল্পটা এর আগেও একবার শরীফুল ইসলাম ভুঁইয়ার অনুবাদে পড়েছিলাম সেবা থেকে। আমার রেটিং: ৪.৭/৫