গাজী সালাহউদ্দীন সেই অসামান্য সেনাপতি, অজস্র কুটিল ষড়যন্ত্র, ভয়াবহ সংঘাত আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য থেকে যিনি ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়। খ্রিস্টানরা চাচ্ছিল দুনিয়ার বুক থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে দিতে, তাদের সহযোগিতা করছিল ক্ষমতালোভী, বিলাসপ্রিয় মুসলিম আমীর ওমরারা। কৈশোরেই তিনি হাতে নিয়েছিলেন অস্ত্র, জীবন পার করেছেন এমন সব অবিশ্বাস্য ঘটনার মধ্য দিয়ে যা কল্পনা করতেও শিউরে উঠে মানুষ। বীরত্ব ও মহানুভবতার এমন সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যার কারণে শত্রুর চোখেও হয়ে উঠেছেন 'গ্রেট সালাদীন'। ইতিহাসে তাঁর সংঘাত, সংঘর্ষ ও বিজয়ের বিস্তর কাহিনী থাকলেও পাশ্চাত্য লেখকরা খ্রিস্টানদের লেলিয়ে দেয়া সেইসব গুপ্তচররূপী ছলনাময়ী রূপসী নারীদের কথা লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, যারা বার বার আঘাত হেনেছে আইয়ুবীকে। সালাউদ্দীন আইয়ুবীর সেইসব অকথিত কাহিনী এবং অবিশ্বাস্য ঘটনাবহুল জীবনের শিহরিত ও রোমাঞ্চকর বর্ণনায় ভরপুর 'ক্রুসেড' সিরিজের ভূবনে সবাইকে স্বাগতম 'ক্রুসেড' এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত বই
আসাদ বিন হাফিজ (ইংরেজি: Asad Bin Hafiz) (জন্ম: জানুয়ারী ১, ১৯৫৮) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার এবং ছড়াকার হিসেবে পরিচিত। তিনি আদর্শিক দিক দিয়ে ফররুখ আহমদের অনুসারী। তাঁর সাহিত্যে বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ এবং বিপ্লবের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সৃজনশীলতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার সাহিত্যে বিপ্লবী চিন্তা-চেতনারও প্রকাশ ঘটেছে। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রধান কবি। তিনি ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে জড়িত আছেন। আসাদ বিন হাফিজ ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত বড়গাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ হাফিজউদ্দীন মুন্সী এবং মাতা জুলেখা বেগম। কবি আসাদ বিন হাফিজ ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৩ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি বর্তমানে ‘প্রীতি প্রকাশন’ নামের প্রকাশনা সংস্থাটি পরিচালনা করছেন। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, গবেষণা, সম্পাদনা ইত্যাদি সাহিত্যের সব শাখাতেই কবি আসাদ বিন হাফিজ রেখেছেন তার অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। তিনি প্রায় ৮১টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
বইটা শুরু করার আগে জানতাম না যে ইতিহাসের সাথে মিলে না এর অনেক কিছুই । নিছকই সাহিত্য এটি । তাছাড়া নারীদেহের অত্যধিক সৌন্দর্য বর্ণনা এবং ভাষা 'ইসলামী উপন্যাসে' বড্ড বেমানান মনে হলো।
বইটি পড়ে একদম ভাল লাগেনি। কেননা, ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে লেখা বইয়ে ইতিহাসের ছিঁটেফোটা একেবারে সামান্য। লেখক হিসেবে আসাদ বিন হাফিজের নাম আছে, কেননা, তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, এই কারণে দলের কর্মী সমর্থকদের তার বই পড়তে হত। তারা আমাকেও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অনেকেই তার লেখা ক্রুসেড সিরিজের বইগুলো পড়তে উৎসাহিত করতেন—যদিও আমি তখন তার কোন বই পড়িনি। বর্তমানে ক্রুসেড সিরিজের প্রথম বইটি পড়ে বুঝেছি, বইটি লেখার উদ্দেশ্য ইতিহাস নয়, বরং তাদের কর্মীবাহিনীদের মগজধোলাই করা। লেখক, মুসলমানদের পতনের জন্য মুসলান শাসকদের নারীর লৌলুপতাকে দায়ী করেছেন— বিষয়টি কি আসলেই তাই? তাছাড়া তিনি সালাহুদ্দিনকে বারবার আইয়ূবী নামে উপস্থাপন করেছেন। সালাহুদ্দীন আইউবীর পুত্র, এবং আইউবী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা—তার নাম তো আইউবী ছিল না। বইটি পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, লেখক কি বর্তমান সময়ের এবং বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাহিনী সাজিয়েছেন? কাহিনীর বর্ণনায় এবং পরিভাষার ব্যবহার দেখে মনে হয়, সালাহুদ্দীনের যুগ সম্পর্কে লেখকের জানাশোনা খুব অল্প তাই তিনি ঘটনাকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে উপস্থাপন না করে একজন রোমাঞ্চ লেখকের মত নিজের কল্পনাকে বিস্তার করেছেন প্রতিটি অনুচ্ছেদে। যতটা নাম শোনা গেছে লেখকের, তার লেখার সাহিত্যমান ততটা উন্নত নয়।
এই সিরিজের কিছু বই পড়েছিলাম ২০১৩ তে । এটাই প্রথম বই। সে অনেক বছর আগেকার কথা । ছোট ছিলাম বলে তখন এত ঝামেলা , যুদ্ধ খুব একটা বুঝতাম নাহ। বান্ধবী সাপ্লাই দিয়েছিল এই বইটি। এই টাইপের বই তখন প্রথমবারের মতো পড়েছিলাম, তাই খুব একটা ভালো লাগে নি। আর কাহিনীও পুরোপুরি ভাবে মনে নেই এখন। গুডরিডসের ভাষায় তখন আমার কাছে এটাকে ইটস ওকে টাইপ মনে হয়েছিল। আমি পড়তে পড়তে ভাবছিলাম,'ধুর ধুর! এই কাহিনীর মধ্যে প্রেম আর মেয়ে আসে কোত্থেকে?😂😂🤣'