কাজ না থাকলে লোকে নাকি জ্যাঠাইমার গঙ্গাযাত্রা করে। আজ অফিসে কাজকর্ম বিশেষ ছিল না, তাই ওই ধরনের উৎকট কাজে নিবিষ্ট না হয়ে আমি একখানা বেশ সুশোভন, সুমুদ্রিত, এবং চটি গোছের বই ধরলাম। পরে মনে হল, এই রকম পরিস্থিতিগুলোর কথা ভেবেই বোধহয় "বাঁশ তুমি কেন ঝাড়ে, এস আমার ...." প্রবাদটা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কেন?
কাহলিল (শুদ্ধ উচ্চারণ বোধহয় খালিল, তবে আমার গোদা বাঙালি জিভে যা আসে তাই লিখছি) জিব্রানের "দ্য প্রফেট" আর "শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত" মিশিয়ে, এবং তাতে কিছু লালন, কিছু রবিঠাকুর, এসব পাঞ্চ করে যে ঘ্যাঁট এই পাতলা বইটিতে ঠুসে দেওয়া হয়েছে, তার যথাযথ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে বই-এর অর্ধেক জুড়ে হয়েছে মাথামুন্ডুহীন ছবি। এই বই নাকি বাংলাদেশে একবার প্রকাশিত হয়ে একেবারে নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার পরেও লোকের প্রচুর চাহিদা থাকায় এবার এপারে আবার ছাপা হল। তা, এই বই মার্কিন বা ইউরোপীয় বাজারে বেচে (এত উচ্চ স্তরের আঁতলামি পয়সা দিয়ে কেনার মত বোকামি আমার মত কিছু পাবলিক ছাড়া কেউ করবে বলে মনে হয়না) সৃষ্টিসুখ যদি দেশের ভাঁড়ারে চাট্টি বিদেশি মুদ্রা আনতে পারে তাহলে ভালোই। নইলে, বিশেষত এইরকম রাবিশের উৎপাদন অব্যাহত থাকলে, অবিলম্বে সৃষ্টিসুখ "আঁতেলায়তন" বলে পরিচিত হবে।